কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৩: দিরাসাত আত-তাফসীর-২ (৫০১১০২) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2023 Dirasat At-Tafsir-2 (501102) Question & Answer

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৩: দিরাসাত আত-তাফসীর-২ (৫০১১০২) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2023 Dirasat At-Tafsir-2 (501102) Question & Answer
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)
اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة) ، لعام ٢٠٢٣
[কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২৩]
القرآن والدراسات الإسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
دراسة التفسير-٢
[দিরাসাত আত-তাফসীর-২]
বিষয় কোড: ৫ ০ ১ ১ ০ ২
الوقت—٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা]
الدرجة الكاملة—١٠٠ [পূর্ণমান—১০০]
[الملاحظة: الأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة]

مجموعة (أ)—تفسير البيضاوى
[ক বিভাগ: তাফসীরে বায়যাবী]

١- ترجم اثنتين من القطعات التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما :
[১. নিচের যে কোনো দুটি অনুচ্ছেদের অনুবাদ কর এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]

الدرجة— ٢٠×٢ = ٤٠ [মান— ২x২০ = ৪০]

(أ)
الم- ذلك الكتب لا ريب فيه؛ هدى للمتقين- الذين يؤمنون بالغيب ويقيمون الصلاة ومما رزقنهم ينفقون- والذين يؤمنون بما انزل اليك وما انزل من قبلك، وبالاخرة هم يوقنون- أولئك على هدى من ربهم وأولئك هم المفلحون-
(١) بأى سبب ذكرت حروف المقطعات فى أوائل بعض السور؟ بين موضحا-
[(১) কী কারণে কিছু সূরার শুরুতে হুরুফে মুকাত্তা’আত উল্লেখ করা হয়েছে? বুঝিয়ে লেখ।]
উত্তর: হুরুফে মুকাত্তা’আত কুরআনের একটি বড় মুজিযা। এগুলো উল্লেখ করার প্রধান কারণ হলো তৎকালীন আরবের শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদদের চ্যালেঞ্জ করা যে, কুরআন তাদের পরিচিত বর্ণমালা দিয়েই গঠিত, তবুও তারা এর মতো একটি সূরা রচনা করতে অক্ষম। এছাড়া মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং এগুলো আল্লাহর একান্ত রহস্য (সিরে ইলাহী) বোঝানোও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
(٢) ما معنى الهداية لغة وشرعاً؟ ولم قال الله سبحانه وتعالى : هدى للمتقين دون هدى للناس؟ بين-
[(২) হিদায়াতের আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? আল্লাহ তায়ালা ‘হুদাল লিন্নাস’ না বলে ‘হুদাল লিলমুত্তাকীন’ কেন বলেছেন? বর্ণনা কর।]
উত্তর: হিদায়াতের আভিধানিক অর্থ: পথপ্রদর্শন করা, গন্তব্যে পৌঁছানোর রাস্তা দেখানো। পারিভাষিক অর্থ: সত্য ও ন্যায়ের পথ (ইসলাম) দেখানো যা জান্নাতে নিয়ে যায়।
‘হুদাল লিলমুত্তাকীন’ বলার কারণ: যদিও কুরআন সমগ্র মানবজাতির জন্য হিদায়াত, কিন্তু মূলত এর দ্বারা কেবল মুত্তাকী বা আল্লাহভীরুরাই উপকৃত হয়। যারা অহংকারী ও অবিশ্বাসী তারা হিদায়াত গ্রহণ করে না, তাই বিশেষ মর্যাদার্থে মুত্তাকীদের কথা বলা হয়েছে।
(٣) أذكر فوائد الإنفاق فى سبيل الله والتصدق على الفقراء، بضوء القرآن والسنة-
[(৩) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা এবং দরিদ্রদের দান করার উপকারিতা উল্লেখ কর।]
উত্তর: আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার প্রধান উপকারিতা হলো: ১. মালের পবিত্রতা ও প্রবৃদ্ধি ঘটে। ২. আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত অর্জিত হয়। ৩. কিয়ামতের দিন দানকারীর জন্য এটি ছায়া হিসেবে কাজ করবে। ৪. সমাজের দারিদ্র্য দূর হয় এবং পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি পায়। ৫. বালা-মুসিবত ও জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।


(ب)
إن الذين كفروا لن تغنى عنهم أموالهم ولا أولادهم من الله شيئا وأولئك هم وقود النار- كدأب آل فرعون والذين من قبلهم كذبوا بآياتنا فأخذهم الله بذنوبهم والله شديد العقاب-
(١) ما المراد بآل فرعون؟ اكتب نبذا من تاريخهم-
[(১) ‘আলে ফিরাউন’ দ্বারা কাদের বোঝানো হয়েছে? তাদের ইতিহাসের একটি সারাংশ লেখ।]
উত্তর: ‘আলে ফিরাউন’ বলতে ফিরাউন, তার অনুসারী, পারিষদবর্গ এবং তার স্বজাতি ক্বিবতীদের বোঝানো হয়েছে।
ইতিহাস: তারা মিসরে বসবাস করত এবং বনী ইসরাইলকে দাস বানিয়ে রেখেছিল। তারা আল্লাহকে অস্বীকার করে ফিরাউনকে প্রভু মানতো। মুসা (আ.) তাদের কাছে তাওহীদের দাওয়াত এবং মুজিযা নিয়ে গেলে তারা তা প্রত্যাখ্যান করে। পরিণামে আল্লাহ তাদের লোহিত সাগরে ডুবিয়ে ধ্বংস করেন।
(٢) من هم المراد “الذين من قبلهم”؟ أذكر دأبهم وأحوالهم بالتفصيل-
[(২) ‘আল্লাযীনা মিন কাবলিহিম’ দ্বারা কাদের বোঝানো হয়েছে? তাদের অভ্যাস ও অবস্থাসমূহ বিস্তারিত উল্লেখ কর।]
উত্তর: এর দ্বারা ফিরাউনের পূর্ববর্তী অবিশ্বাসী জাতিসমূহকে বোঝানো হয়েছে, যেমন—আদ, সামুদ, লুত (আ.) ও নূহ (আ.)-এর কওম।
তাদের অভ্যাস: তাদের কাছে যখন নবীরা আল্লাহর নিদর্শন নিয়ে আসতেন, তারা অহংকারবশত তা অস্বীকার করত, নবীদের মিথ্যাবাদী বলতো এবং কুফরি ও পাপাচার নিয়ে মত্ত থাকতো। ফলে আল্লাহ তাদের বিভিন্ন আযাব (বন্যা, ঝড়, ভূমিকম্প) দিয়ে সমূলে বিনাশ করেছেন।
(٣) ماذا وقع في التركيب قوله تعالى: “شيئا”؟
[(৩) আল্লাহ তায়ালার বাণী ‘শাইআন’ (شيئا) তারকীবে কী হয়েছে?]
উত্তর: আয়াতে “شيئا” শব্দটি ব্যাকরণগত তারকীবে ‘মাফউলে মুতলাক’ (مفعول مطلق) হয়েছে। এর অন্তর্নিহিত অর্থ হলো- ‘لن تغني عنهم إغناءً شيئاً’ (তাদের সম্পদ ও সন্তান আল্লাহর শাস্তির মোকাবিলায় বিন্দুমাত্র কাজে আসবে না)। কেউ কেউ এটিকে ‘মাফউলে বিহি’ হিসেবেও গণ্য করেছেন।


(ج)
شهد الله أنه لا إله إلا هو والملائكة وأولوا العلم قائما بالقسط لا إله إلا هو العزيز الحكيم- إن الدين عند الله الإسلام وما اختلف الذين أوتوا الكتاب إلا من بعد ماجاءهم العلم بغيا بينهم ومن يكفر بآيات الله فإن الله سريع الحساب-
(١) ما معنى الشهادة؟ هل من فرق بين شهادة الله وشهادة الملائكة وشهادة أولى العلم؟ بين-
[(১) শাহাদাত-এর অর্থ কী? আল্লাহর সাক্ষ্য, ফেরেশতাদের সাক্ষ্য এবং জ্ঞানীদের সাক্ষ্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি? বর্ণনা কর।]
উত্তর: শাহাদাত অর্থ: সাক্ষ্য দেওয়া বা অকাট্য প্রমাণ পেশ করা।
পার্থক্য: আল্লাহর সাক্ষ্য হলো তাঁর সৃষ্টি ও অকাট্য দলিলের মাধ্যমে নিজের একত্ববাদের প্রকাশ। ফেরেশতাদের সাক্ষ্য হলো আল্লাহর একত্ববাদকে স্বীকার করে নেওয়া এবং তাঁর তাসবীহ পাঠ করা। আর আলেম বা জ্ঞানীদের সাক্ষ্য হলো দৃঢ় বিশ্বাস ও যুক্তির মাধ্যমে মানুষের কাছে তাওহীদের প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করা।
(٢) بين شأن نزول الآية الكريمة-
[(২) এ পবিত্র আয়াতের শানে নুযূল বর্ণনা কর।]
উত্তর: শামের (সিরিয়া) দুজন ইহুদি পন্ডিত মদিনায় এসে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে পরীক্ষা করার জন্য প্রশ্ন করেন, “কুরআনে সবচেয়ে বড় সাক্ষ্য কোনটি?” তখন নবীজি (সা.) নীরব ছিলেন। এর পরপরই আল্লাহ তায়ালা তাওহীদের সর্বশ্রেষ্ঠ সাক্ষ্য সম্বলিত এই মহিমান্বিত আয়াতটি নাজিল করেন, যা শুনে ওই পন্ডিতদ্বয় ইসলাম গ্রহণ করেন।
(٣) من المراد بالذين أوتوا الكتاب وما هو إختلافهم؟ بين موضحاً-
[(৩) ‘আল্লাযীনা ঊতুল কিতাব’ দ্বারা কাদের বোঝানো হয়েছে এবং তাদের মতবিরোধ কী? বুঝিয়ে লেখ।]
উত্তর: ‘আল্লাযীনা ঊতুল কিতাব’ (যাদের কিতাব দেওয়া হয়েছে) দ্বারা ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের (আহলে কিতাব) বোঝানো হয়েছে।
তাদের মতবিরোধ: তাদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জিলের সঠিক জ্ঞান আসার পরও তারা কেবল পারস্পরিক হিংসা, অহংকার ও দুনিয়াবী স্বার্থের কারণে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়াত অস্বীকার করে এবং নিজেদের ধর্মের আকিদা নিয়ে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে।


٢- أجب عن واحد مما يلي:
[(নিচের যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:)]
الدرجة— ١٠×١ = ١٠ [মান— ১x১০ = ১০]
(أ) اكتب ترجمة الإمام ناصر الدين البيضاوي رحمه الله-
[(ক) ইমাম নাসিরুদ্দীন বায়যাবী (রহ.) এর জীবনী লেখ।]
উত্তর: ইমাম নাসিরুদ্দীন আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আল-বায়যাবী (রহ.) হিজরী সপ্তম শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত মুফাসসির, ফকীহ ও উসূলবিদ। তিনি ইরানের শিরাজের নিকটবর্তী বায়যা নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শাফেয়ী মাজহাবের অনুসারী ছিলেন এবং শিরাজ প্রদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর রচিত তাফসীর গ্রন্থ ‘আনোয়ারুত তানযীল ওয়া আসরারুত তাবীলাত’ ইসলামী জগতে অত্যন্ত সমাদৃত। ৬৮৫ হিজরীতে তিনি ইন্তেকাল করেন।
(ب) اكتب خصائص تفسير البيضاوي ومنزلته بين كتب التفسير-
[(খ) তাফসীরে বায়যাবীর বৈশিষ্ট্যসমূহ এবং তাফসীর গ্রন্থসমূহের মধ্যে এর মর্যাদা লেখ।]
উত্তর: তাফসীরে বায়যাবীর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ তথ্যবহুল। এতে ভাষা, অলংকারশাস্ত্র (বালাগাত) এবং ফিকহী মাসআলার গভীর আলোচনা রয়েছে। ইমাম বায়যাবী মূলত ‘তাফসীরে কাশশাফ’ থেকে ভাষাতাত্ত্বিক বিষয়গুলো গ্রহণ করেছেন তবে মুতাযিলা আকিদা বর্জন করে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা প্রতিষ্ঠা করেছেন।
মর্যাদা: ইলমী জগতে এটি পাঠ্যপুস্তক হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত এবং এর ওপর শত শত হাশিয়া (টীকা) লেখা হয়েছে।

مجموعة (ب)—تفسير الكشاف
[খ বিভাগ: তাফসীরে কাশশাফ]

٣- ترجم اثنتين من القطعات التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما :
[৩. নিচের যে কোনো দুটি অনুচ্ছেদের অনুবাদ কর এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:]

الدرجة— ٢٠×٢ = ٤٠ [মান— ২x২০ = ৪০]

(أ)
ملك يوم الدين- إياك نعبد وإياك نستعين- اهدنا الصراط المستقيم- صراط الذين أنعمت عليهم- غير المغضوب عليهم ولا الضالين-
(١) “إن الله تعالى مالك كل شيئ” فما الحكمة بتخصيص ملكه بيوم الدين فقط؟ بين-
[(১) “নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বকিছুর মালিক”, তাহলে কেবল বিচার দিবসের মালিকানার সাথে খাস করার হিকমত কী? বর্ণনা কর।]
উত্তর: আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাত সবকিছুর মালিক। কিন্তু দুনিয়াতে তিনি মানুষকে রূপকভাবে কিছু মালিকানা ও ক্ষমতা দিয়েছেন, ফলে অনেকে অহংকার করে। কিন্তু ‘ইয়াওমুদ্দীন’ বা বিচার দিবসে সমস্ত রূপক মালিকানা শেষ হয়ে যাবে এবং একমাত্র আল্লাহর একক কর্তৃত্ব ও প্রতাপ দৃশ্যমান হবে। সেই দিনের চরম ভয়াবহতা ও আল্লাহর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা বোঝাতেই বিচার দিবসের সাথে নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
(٢) ما الحكمة في تقديم المفعول فى قوله تعالى “إياك نعبد وإياك نستعين”؟
[(২) আল্লাহ তায়ালার বাণী ‘ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তায়ীন’-এ মাফউলকে (কর্মপদকে) আগে আনার কারণ কী?]
উত্তর: আরবি ব্যাকরণে ক্রিয়ার আগে কর্ম (মাফউল) বসানোর প্রধান হিকমত হলো ‘হাসর’ বা নির্দিষ্টকরণ। এখানে ‘ইয়্যাকা’ (কেবল আপনারই) আগে এনে বোঝানো হয়েছে যে, আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি অন্য কারো নয়, এবং কেবল আপনার কাছেই সাহায্য চাই অন্য কারো কাছে নয়। এটি তাওহীদের চূড়ান্ত প্রকাশ।
(٣) كيف صح أن يقع كلمة “غير” صفة للمعرفة وهو لا يتعرف وإن أضيف إلى المعرفة؟
[(৩) ‘গাইর’ (غير) শব্দটি কীভাবে মারেফা (নির্দিষ্ট বিশেষ্য) এর সিফাত হতে পারে, অথচ এটি মারেফার দিকে ইযাফত হলেও মারেফা হয় না?]
উত্তর: সাধারণত ‘غير’ শব্দটি নির্দিষ্ট হয় না। কিন্তু এখানে ‘الذين’ (যারা) শব্দটি মারেফা হলেও অর্থের দিক থেকে এটি জিনস বা ব্যাপক অর্থ প্রদান করছে (যেকোনো পুরস্কৃত ব্যক্তি)। যেহেতু মাওসুফ (الذين) অর্থে ব্যাপকতা রয়েছে, তাই এর সিফাত হিসেবে ‘غير’-এর ব্যবহার ব্যাকরণগতভাবে সম্পূর্ণ শুদ্ধ হয়েছে।


(ب)
وإذ قال ربك للملائكة إنى جاعل فى الأرض خليفة- قالوا أتجعل فيها من يفسد فيها ويسفك الدماء، ونحن نسبح بحمدك ونقدس لك، قال إنى أعلم ما لا تعلمون- وعلم آدم الأسماء كلها ثم عرضهم على الملائكة فقال أنبئونى بأسماء هؤلاء إن كنتم صادقين-
(١) ما معنى الخليفة ومن أريد به؟ بين-
[(১) খলীফা এর অর্থ কী এবং এর দ্বারা কাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে? বর্ণনা কর।]
উত্তর: খলীফা অর্থ: প্রতিনিধি, স্থলাভিষিক্ত বা যে অন্যের অবর্তমানে তার দায়িত্ব পালন করে।
উদ্দেশ্য: এখানে খলীফা বলতে প্রথমত হযরত আদম (আ.)-কে বোঝানো হয়েছে, যিনি পৃথিবীতে আল্লাহর বিধিবিধান বাস্তবায়নের প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন। ব্যাপক অর্থে সমগ্র মানবজাতিও আল্লাহর খলীফা।
(٢) كيف قالت الملائكة إن ذرية آدم تفسد في الأرض رغم أنهم لا يعلمون الغيب؟
[(২) ফেরেশতারা গায়েব না জানা সত্ত্বেও কীভাবে বলল যে আদমের বংশধররা পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করবে?]
উত্তর: ফেরেশতারা গায়েব জানতো না, তবে তারা এটি অনুমান করেছিল কয়েকটি কারণে: ১. মানুষের সৃষ্টির উপাদান ‘মাটি’ (যা পরিবর্তনশীল ও বৈপরীত্যের সমাহার), তাই তাদের স্বভাবের মধ্যে সংঘাত থাকতে পারে। ২. আদম (আ.)-এর পূর্বে পৃথিবীতে জিনদের বসবাস ছিল যারা ব্যাপক রক্তপাত করেছিল, ফেরেশতারা সেই অভিজ্ঞতার আলোকে অনুমান করেছিল। ৩. আল্লাহ হয়তো ফেরেশতাদের আগে থেকেই জানিয়েছিলেন।
(٣) ما المراد بقوله تعالى “الأسماء كلها”؟ بين-
[(৩) আল্লাহ তায়ালার বাণী ‘আল-আসমাআ কুল্লাহা’ দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? বর্ণনা কর।]
উত্তর: ‘আল-আসমাআ কুল্লাহা’ বা সমস্ত নাম দ্বারা বোঝানো হয়েছে পৃথিবীর সমুদয় বস্তু, প্রাণী, উদ্ভিদ, তাদের নাম, প্রকৃতি, গুণাগুণ এবং সেগুলোর ব্যবহারিক জ্ঞান। আল্লাহ আদম (আ.)-এর অন্তরে ইলহামের মাধ্যমে সবকিছুর জ্ঞান ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন যা ফেরেশতাদের দেওয়া হয়নি।


(ج)
يبنى إسرائيل اذكروا نعمتى التى أنعمت عليكم وأوفوا بعهدى أوف بعهدكم وإياى فارهبون- وآمنوا بما أنزلت مصدقا لما معكم ولا تكونوا أول كافر به- ولا تشتروا بآياتى ثمنا قليلا وإياى فاتقون- ولا تلبسوا الحق بالباطل وتكتموا الحق وأنتم تعلمون-
(١) من بنوا إسرائيل؟ بين-
[(১) বনী ইসরাইল কারা? বর্ণনা কর।]
উত্তর: ‘ইসরাইল’ হলো হযরত ইয়াকুব (আ.)-এর উপাধি। তাঁর ১২ জন পুত্র থেকে যে বংশধারার বিস্তার ঘটেছে, তাদেরকে বনী ইসরাইল বলা হয়। ইতিহাস বিখ্যাত জাতি ইহুদিরা মূলত এই বনী ইসরাইল বংশোদ্ভূত।
(٢) ما المواثيق يبنى إسرائيل؟ بين موضحا-
[(২) বনী ইসরাইলের প্রতি অঙ্গীকারসমূহ কী কী? বুঝিয়ে লেখ।]
উত্তর: বনী ইসরাইলের কাছ থেকে আল্লাহ যে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন তা হলো— তারা কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করবে, তাওরাত অনুযায়ী জীবনযাপন করবে, শেষ নবীর (মুহাম্মদ সা.) আগমন হলে তাঁর প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে। এর বিনিময়ে আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করার অঙ্গীকার করেছিলেন।
(٣) ما المراد بقوله تعالى “ولا تلبسوا الحق بالباطل وتكتموا الحق”؟
[(৩) আল্লাহ তায়ালার বাণী ‘ওয়ালা তালবিসুল হাক্কা বিল বাতিল ওয়া তাকতুমুল হাক্ক’ দ্বারা কী উদ্দেশ্য?]
উত্তর: এর অর্থ হলো “তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনেশুনে সত্য গোপন করো না।” ইহুদি আলেমদের অভ্যাস ছিল তারা তাওরাতের কিছু সঠিক কথার সাথে নিজেদের মনগড়া মিথ্যা কথা জুড়ে দিত এবং শেষ নবী (সা.)-এর আগমনের যে স্পষ্ট নিদর্শন তাদের কিতাবে ছিল, তা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে গোপন রাখতো। আল্লাহ এই জঘন্য কাজ থেকে তাদের নিষেধ করেছেন।


٤- أجب عن واحد مما يلى:
[(নিচের যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:)]
الدرجة— ١٠×١ = ١٠ [মান— ১x১০ = ১০]
(أ) اكتب ترجمة صاحب الكشاف ومساهمته فى علم التفسير-
[(ক) ‘সাহেবুল কাশশাফ’-এর জীবনী এবং ইলমে তাফসীরে তাঁর অবদান লেখ।]
উত্তর: ‘সাহেবুল কাশশাফ’ হলেন আল্লামা আবুল কাসিম মাহমুদ ইবনে উমর আল-যামাখশারি। তিনি ৪৬৭ হিজরীতে খাওয়ারিজমের ‘যামাখশার’ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আরবি ভাষা, নাহু, এবং বালাগাতে অদ্বিতীয় পন্ডিত ছিলেন।
তাফসীরে অবদান: তাঁর রচিত ‘তাফসীরে কাশশাফ’ ইলমে বালাগাত ও কুরআনের অলৌকিকতা (ইজাযুল কুরআন) প্রমাণের ক্ষেত্রে একটি অমর কীর্তি। ভাষা ও ব্যাকরণগত বিশ্লেষণে এই তাফসীরের কোনো বিকল্প নেই। তবে তিনি আকিদাগতভাবে মুতাযিলা ছিলেন বিধায় তাফসীরে এর প্রভাব রয়েছে।
(ب) اكتب إسم تفسير الكشاف وخصائصه ومنزلته بين كتب التفسير-
[(খ) তাফসীরে কাশশাফের পূর্ণ নাম, এর বৈশিষ্ট্য এবং তাফসীর গ্রন্থসমূহের মধ্যে এর মর্যাদা লেখ।]
উত্তর: তাফসীরে কাশশাফের পূর্ণ নাম: ‘الکشاف عن حقائق غوامض التنزیل وعيون الأقاويل في وجوه التأويل’ (আল-কাশশাফ আন হাকায়িকি গাওয়ামিযিত তানযীল ওয়া উয়ূনিল আকাওয়ীল ফী উজুহিত তাবীলাত)।
বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদা: এই তাফসীরটি তাফসীর বির-রায় বা যৌক্তিক তাফসীরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। কুরআনের শব্দচয়ন, অলংকারশাস্ত্র এবং বাক্যালংকারের চমৎকার বিশ্লেষণ এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য। আকিদাগত কিছু ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও কেবল ভাষাতাত্ত্বিক উৎকর্ষের কারণে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মুফাসসির এই গ্রন্থ থেকে সাহায্য গ্রহণ করেছেন, যা এর আকাশচুম্বী প্রমাণ করে।

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now