اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة) ، لعام ٢٠٢٢
[কামিল মাস্টার্স (এক বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২২]
الحديث والدراسات الإسلامية [আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
علوم الحديث [উলূমুল হাদীস] | বিষয় কোড: ۵ ۰ ۲ ۱ ۰ ۳
الوقت— ٤ ساعات [সময়— ৪ ঘণ্টা] | الدرجة الكاملة— ١٠٠ [পূর্ণমান— ১০০]
الملاحظة : أجب عن ثلاثة من مجموعة (أ) وعن ثلاثة من مجموعة (ب) وعن اثنين من مجموعة (ج)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ হতে ৩টি, (খ) বিভাগ হতে ৩টি এবং (গ) বিভাগ হতে ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (أ)—أسماء الرجال [ক-বিভাগ: আসমাউর রিজাল] (الدرجة— ٣×١٥=٤٥)
١- ما المراد بـ ‘علم الرجال’ و ‘علم طبقات الرجال’ و ‘علم تواريخ الرجال’؟ تحدث عن موضوع الكتاب ‘التاريخ الكبير’ للبخاري ومنهجه-
[علم الرجال বলতে কী বোঝায়? ইমাম বুখারী রচিত التاريخ الكبير এর বিষয়বস্তু ও পদ্ধতি আলোচনা কর।]
ইলমুর রিজালের পরিচয়: ‘علم الرجال’ হলো এমন একটি শাস্ত্র যেখানে হাদীস বর্ণনাকারীদের (রাবীদের) জীবনী, তাদের গুণাবলি, সত্যবাদিতা এবং দোষত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা হয়। ‘طبقات الرجال’ বলতে রাবীদের সমসাময়িক স্তর বা জেনারেশন (যেমন- সাহাবা, তাবেয়ী) বোঝায়। আর ‘تواريخ الرجال’ হলো তাদের জন্ম, মৃত্যু, সফর ও ইলম অর্জনের সময়কাল সংক্রান্ত জ্ঞান।
‘আত-তারীখুল কাবীর’ এর বিষয়বস্তু ও পদ্ধতি: এটি ইমাম বুখারী (রহ.) রচিত আসমাউর রিজাল শাস্ত্রের একটি আকর গ্রন্থ। এর বিষয়বস্তু হলো সাহাবা, তাবেয়ী ও পরবর্তী বর্ণনাকারীদের জীবনী। এর পদ্ধতি হলো বর্ণনাকারীদের নাম বর্ণনাক্রম (হুরূফুল মু’জাম বা আলফাবেটিক) অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। তবে বরকতের আশায় মুহাম্মদ (সা.)-এর নামের অধিকারীদের প্রথমে স্থান দেওয়া হয়েছে।
٢- عرف الإسناد ثم بين أهميته وضرورته في رواية الحديث النبوي-
[الإسناد এর সংজ্ঞা দাও। অতঃপর হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর।]
সনদের পরিচয়: الإسناد অর্থ সূত্র বা মাধ্যম। পরিভাষায়- “طريق المتن” অর্থাৎ হাদীসের মূল বক্তব্য (মতন) পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য বর্ণনাকারীদের ধারাবাহিক মাধ্যমকে সনদ বলে।
সনদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা: ইসলামী শরীয়তের বিশুদ্ধতা রক্ষায় সনদের গুরুত্ব অপরিসীম। সনদ ছাড়া হাদীস ভিত্তিহীন। বিখ্যাত তাবে-তাবেয়ী আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.) বলেছেন: (الإسْنَادُ مِنَ الدِّينِ، وَلَوْلَا الإسْنَادُ لَقَالَ مَنْ شَاءَ مَا شَاءَ) “সনদ হচ্ছে দ্বীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যদি সনদ না থাকত, তবে যার যা ইচ্ছা তা-ই বলত।” (সহীহ মুসলিম, মুকাদ্দামা)। জাল হাদীস থেকে শরীয়তকে মুক্ত রাখতেই সনদের উদ্ভব।
٣- اكتب ترجمة الخطيب البغدادي ثم اذكر مساهمته في علم الرجال والتاريخ الإسلامي-
[খতীব বাগদাদীর জীবনী লেখ। অতঃপর علم الرجال ও ইসলামের ইতিহাসে তাঁর অবদান আলোচনা কর।]
খতীব বাগদাদী (রহ.)-এর জীবনী: তাঁর পুরো নাম আহমাদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত, উপাধি আবু বকর এবং ‘খতীব বাগদাদী’ নামে তিনি মশহুর। তিনি ৩৯২ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৬৩ হিজরীতে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।
তাঁর অবদান: ইলমুর রিজাল ও উলূমুল হাদীসে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। হাদীস শাস্ত্রের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে তাঁর লেখা গ্রন্থ নেই। তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হলো “تاريخ بغداد” (তারীখু বাগদাদ), যা ১৪ খণ্ডে সমাপ্ত এবং এতে বাগদাদের ৭৮৩১ জন পণ্ডিত ও মুহাদ্দিসের জীবনী সংকলিত হয়েছে। ‘আল-কিফায়াহ ফি ইলমির রিওয়ায়াহ’ তাঁর অপর অনবদ্য সৃষ্টি।
٤- ما المراد بالمكثرين والمقلين في علم طبقات الرجال؟ اكتب نبذة من حياة أبي بكر الصديق (رض) مع تحديد طبقته بين الرواة-
[طبقات الرجال শাস্ত্রে المقلون ও المكثرون বলতে কী বোঝায়? হাদিস বর্ণনাকারীদের মধ্যে হযরত আবু বكر (রা) এর স্তর নির্ণয়পূর্বক তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]
আল-মুকসিরুন ও আল-মুকিললুন: ‘المكثرون’ (অধিক বর্ণনাকারী) বলা হয় সেসব সাহাবীদের যারা ১,০০০ (এক হাজার) বা তার বেশি হাদীস বর্ণনা করেছেন (যেমন: আবু হুরায়রা, ইবনে উমর, আয়েশা রা.)। আর ‘المقلون’ (স্বল্প বর্ণনাকারী) হলেন তাঁরা যারা অল্প সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবু বকর (রা.)-এর জীবনী ও স্তর: তিনি ইসলামের প্রথম খলিফা এবং উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় অতি ব্যস্ততা এবং দ্রুত ইন্তেকালের কারণে তিনি হাদীস বর্ণনায় ‘মুকিললুন’ (المقلون) বা স্বল্প বর্ণনাকারীদের স্তরে অন্তর্ভুক্ত। তাঁর থেকে সর্বমোট মাত্র ১৪২টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
٥- من الإمام محمد بن شهاب الزهري؟ بين دوره في رواية الحديث وتدوينه-
[ইমাম মুহাম্মদ বিন শিহাব আয-যুহরী (রহ) কে? হাদিস বর্ণনা ও সংকলনে তাঁর ভূমিকা বর্ণনা কর।]
ইমাম যুহরী (রহ.): তাঁর পুরো নাম মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন উবাইদুল্লাহ বিন শিহাব আয-যুহরী। তিনি মদিনার শ্রেষ্ঠ তাবেয়ীদের অন্যতম এবং হাদীস শাস্ত্রের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন।
হাদীস সংকলনে ভূমিকা: ইসলামের ইতিহাসে তিনিই সর্বপ্রথম রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আনুষ্ঠানিকভাবে হাদীস সংকলনের কাজ শুরু করেন। খলিফা উমর বিন আবদুল আজিজ (রহ.) হাদীস বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় ইমাম যুহরীকে হাদীস সংকলনের নির্দেশ দিলে তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরে হাদীস সংগ্রহ করেন। তিনিই সর্বপ্রথম ইলমে হাদীসকে লিখিত রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশাল অবদান রাখেন।
٦- عرف الصحابة والتابعين وأتباع التابعين ثم اكتب ترجمة أحد التابعين-
[সাহাবা, তাবেয়ীন ও আতবায়ে তাবেয়ীন এর সংজ্ঞা দাও। অতঃপর যে কোনো একজন তাবেয়ীর জীবনী লেখ।]
সংজ্ঞা:
১. সাহাবী: যিনি ঈমানের সাথে রাসূল (সা.)-কে দেখেছেন এবং মুমিন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
২. তাবেয়ী: যিনি ঈমানের সাথে কোনো সাহাবীর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ঈমানের সাথে ইন্তেকাল করেছেন।
৩. আতবাউত তাবেয়ীন: যিনি ঈমানের সাথে কোনো তাবেয়ীর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ঐ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন।
একজন তাবেয়ীর জীবনী (সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব রহ.): তিনি ১৫ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মদিনার ‘ফুকাহায়ে সাবয়া’ বা শীর্ষ সাত ফকীহের অন্যতম ছিলেন। তিনি উমর (রা.)-এর ফতোয়াগুলো সবচেয়ে বেশি জানতেন। ৯৪ হিজরীতে তিনি ইন্তেকাল করেন।
مجموعة (ب)—علم الجرح والتعديل [খ-বিভাগ: ইলমুল জারহ ওয়াত তা’দীল] (الدرجة— ٣×١٥=٤٥)
٧- ما أهمية الجرح والتعديل للأحاديث المدونة؟ وهل جرح الرواة من الغيبة المحرمة؟ بين موضحاً-
[সংকলিত হাদিসের ক্ষেত্রে الجرح والتعديل এর গুরুত্ব কী? হাদিস বর্ণনাকারীদের দোষত্রুটি বর্ণনা করা কি হারাম গীবতের অন্তর্ভুক্ত? বিশদভাবে বর্ণনা কর।]
জারহ ও তা’দীলের গুরুত্ব: ‘জারহ’ অর্থ রাবীর দোষ বর্ণনা করে তাকে অগ্রহণযোগ্য প্রমাণ করা, আর ‘তা’দীল’ অর্থ রাবীকে ন্যায়পরায়ণ ও নির্ভরযোগ্য ঘোষণা করা। এর মাধ্যমেই সহীহ হাদীসকে যঈফ ও জাল হাদীস থেকে আলাদা করা সম্ভব হয়েছে।
রাবীর দোষ বর্ণনা কি হারাম গীবত? না, এটি হারাম গীবত নয়। ইমাম নববী (রহ.) এবং উলামায়ে কেরাম একমত যে, দ্বীনের হিফাজত ও শরীয়তের সুরক্ষার স্বার্থে বর্ণনাকারীর দোষ-ত্রুটি জনসমক্ষে প্রকাশ করা শুধু জায়েজ নয়, বরং ওয়াজিব (فرض كفاية)। এটি ইসলামী শরীয়তে (الدين النصيحة) বা কল্যাণকামিতার অন্তর্ভুক্ত, ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়।
٨- ما معنى العدالة؟ وما هى طرق معرفتها؟ أوضح مفهوم عدالة الصحابة-
[العدالة অর্থ কী? সে সম্পর্কে অবগত হওয়ার পদ্ধতিগুলো কী কী? عدالة الصحابة এর মর্ম বিশদভাবে আলোচনা কর।]
আদালতের অর্থ: ‘আদালত’ (العدالة) অর্থ ন্যায়পরায়ণতা, তাকওয়া ও সদাচরণ। অর্থাৎ রাবীকে অবশ্যই মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন হতে হবে এবং কবীরা গুনাহ ও শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ থেকে মুক্ত থাকতে হবে। এর পদ্ধতি হলো: সমসাময়িক আলেমদের স্বীকৃতি (تزكية) অথবা সমাজে তার ব্যাপক সুখ্যাতি (الاستفاضة)।
সাহাবাদের আদালত: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা হলো- সমস্ত সাহাবী সত্যবাদী ও ন্যায়পরায়ণ (الصحابة كلهم عدول)। তাদের কারো সমালোচনা করা জায়েজ নেই। কুরআন সাক্ষ্য দেয়: (رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ) “আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট।”
٩- ما معنى الضبط؟ وما هى طرق معرفة الضبط عند الصحابة؟ اذكر الجروح المتعلقة بالضبط-
[الضبط অর্থ কী? সাহাবিদের নিকট الضبط চেনার উপায় কী? الضبط সংশ্লিষ্ট جروح আলোচনা কর।]
দ্বাবত-এর অর্থ: ‘দ্বাবত’ (الضبط) অর্থ সংরক্ষণ ক্ষমতা বা প্রবল স্মরণশক্তি। অর্থাৎ হাদীস শোনার পর থেকে তা অন্যের কাছে বর্ণনা করা পর্যন্ত হুবহু মুখস্থ রাখতে পারা অথবা নিখুঁতভাবে লিখে সংরক্ষণ করা।
দ্বাবত চেনার উপায়: রাবীর বর্ণিত হাদীসগুলো অন্যান্য নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবীদের বর্ণনার সাথে মিলিয়ে দেখা। যদি বেশিরভাগ মিলে যায় তবে তিনি দ্বাবিত বলে গণ্য হবেন।
দ্বাবত সংশ্লিষ্ট জারহ (দোষত্রুটি): এর অন্তর্ভুক্ত হলো ৫টি ত্রুটি: কাসরাতুল গালাত (অধিক ভুল করা), ফারতুল গাফলাহ (চরম অসতর্কতা), ওয়াহাম (বিভ্রান্ত হওয়া), মুখালাফাতুস সিকাহ (নির্ভরযোগ্যদের বিরোধিতা করা) এবং সু-উল হিফয (স্মরণশক্তি লোপ পাওয়া)।
١٠- اذكر الجروح الناشئة الإختلال العدالة والجروح المتعلقة بالضبط-
[العدالة বিনষ্টকারী ও الضبط সংশ্লিষ্ট جروح উল্লেখ কর।]
রাবীদের দোষত্রুটি (জারহ) মূলত ১০টি। এর মধ্যে ৫টি ‘আদালত’ বিনষ্টকারী এবং ৫টি ‘দ্বাবত’ সংশ্লিষ্ট।
আদালত বিনষ্টকারী ৫টি জারহ: ১. আল-কাযিব (মিথ্যুক হওয়া), ২. তুহমাতু বিল-কাযিব (মিথ্যার অপবাদ থাকা), ৩. আল-ফিসক (প্রকাশ্যে পাপাচার), ৪. আল-বিদআত (ধর্মের নামে নতুন প্রথা মানা), ৫. আল-জাহালাত (রাবীর পরিচয় অজ্ঞাত থাকা)।
দ্বাবত সংশ্লিষ্ট ৫টি জারহ: ১. অধিক ভুল করা (كثرة الغلط), ২. চরম উদাসীনতা (فرط الغفلة), ৩. বিভ্রম (الوهم), ৪. সিকাহ রাবীদের বিরোধিতা (مخالفة الثقات), ৫. স্মরণশক্তি খারাপ হওয়া (سوء الحفظ)।
١١- اكتب صور علم الجرح والتعديل في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وعصر الصحابة مفصلا-
[রাসূল (স) ও সাহাবাগণের সময়কালে علم الجرح والتعديل এর চিত্রসমূহ বিস্তারিতভাবে লেখ।]
রাসূল (সা.)-এর যুগে: জারহ-তা’দীল শাস্ত্রের বীজ রাসূল (সা.)-এর যুগেই রোপিত হয়েছিল। রাসূল (সা.) নিজেই প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তির প্রশংসা বা সমালোচনা করেছেন। যেমন, তা’দীল (প্রশংসা) হিসেবে তিনি বলেছেন: (نِعْمَ الرَّجُلُ عَبْدُ اللَّهِ) “আবদুল্লাহ কতই না উত্তম ব্যক্তি!” আবার জারহ (সমালোচনা) হিসেবে বলেছেন: (بِئْسَ أَخُو الْعَشِيرَةِ) “সে তার গোত্রের কতই না নিকৃষ্ট ভাই!”
সাহাবাদের যুগে: রাসূল (সা.)-এর ইন্তেকালের পর মিথ্যাবাদীদের আনাগোনা বাড়লে সাহাবাগণ হাদীস গ্রহণে কঠোরতা আরোপ করেন। বিশেষ করে ফিতনার পর ইবনে সিরীন (রহ.) ঘোষণা করেন: (سَمُّوا لَنَا رِجَالَكُمْ) “আমাদের নিকট তোমাদের রাবীদের নাম বলো।” এভাবেই সাহাবাদের যুগে সনদ ও রাবী যাচাইয়ের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ শুরু হয়।
١٢- اكتب نبذة من حياة الإمام الذهبي ثم بين خصائص كتابه “ميزان الاعتدال في نقد الرجال”-
[ইমাম যাহাবি (রহ) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ। অতঃপর তাঁর রচিত ميزان الاعتدال في نقد الرجال গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যাবলি বর্ণনা কর।]
ইমাম যাহাবী (রহ.)-এর জীবনী: তাঁর নাম মুহাম্মদ বিন আহমাদ, উপাধি শামসুদ্দীন আয-যাহাবী। তিনি ৬৭৩ হিজরীতে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইলমুর রিজাল এবং ইসলামী ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ স্কলারদের একজন। ৭৪৮ হিজরীতে তিনি ইন্তেকাল করেন।
‘মীযানুল ইতিদাল’ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য: এটি ইলমুল জারহ ওয়াত তা’দীলের ক্ষেত্রে একটি বিশ্বকোষ। এই গ্রন্থে তিনি শুধুমাত্র সেইসব বর্ণনাকারীদের জীবনী এনেছেন, যাদের ওপর কোনো না কোনোভাবে সমালোচনা (জারহ) করা হয়েছে। এতে প্রায় ১১ হাজারের বেশি যঈফ, মিথ্যুক ও সমালোচিত রাবীর নাম বর্ণনাক্রম অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। এটি হাদীসের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ে এক অমূল্য সম্পদ।
مجموعة (ج) [গ-বিভাগ] (الدرجة— ٢×٥=١٠)
١٣- علق على اثنين فقط :
- (أ) الطبقات الكبرى لابن سعد؛
- (ب) حكم رواية الحديث الضعيف؛
- (ج) معرفة الأسماء والكنى والألقاب؛
- (د) حكم الحديث الموضوع-
[১৩. যেকোনো দুটির ওপর টীকা লেখ: (ক) ইবনে সা’দ রচিত আত-তাবাকাতুল কুবরা, (খ) যঈফ হাদীস বর্ণনার বিধান, (গ) নাম, কুনিয়াত ও উপাধি সম্পর্কে জ্ঞান, (ঘ) মাওজু বা জাল হাদীসের বিধান।]
(খ) যঈফ হাদীস বর্ণনার বিধান: ইসলামী আকাইদ ও হালাল-হারামের ক্ষেত্রে যঈফ হাদীস দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ফাযায়েলে আমল (আমলের ফজিলত) এর ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসীনদের শর্তসাপেক্ষে যঈফ হাদীস বর্ণনা করা ও আমল করা জায়েজ।
(ঘ) মাওজু হাদীসের বিধান: মাওজু বা বানোয়াট হাদীসকে রাসূল (সা.)-এর নামে বর্ণনা করা সম্পূর্ণ হারাম। নবীজি বলেছেন: (مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ) “যে আমার ওপর ইচ্ছাকৃত মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।” তবে মানুষের সামনে এর জালিয়াতি স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে এটি বর্ণনা করা জায়েজ।




