Qawaid Al-Lughah Al-Arabiyyah (Code: 201203) – ২০২৩ প্রশ্ন ও উত্তর
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২৩ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের قواعد اللغة العربية (আরবি ব্যাকরণ) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।
বিঃদ্রঃ পরীক্ষার্থীদের আগামী পরীক্ষার সর্বোচ্চ প্রস্তুতির সুবিধার্থে মূল প্রশ্নপত্রের বিকল্প সবগুলোর (অথবা) প্রশ্নের ১০০% নির্ভুল ও তথ্যবহুল উত্তর বিস্তারিতভাবে নিচে দেওয়া হলো।
প্রশ্ন ১: أجب عن ثلاثة من الأسئلة التالية: [যেকোনো ৩টি প্রশ্নের উত্তর দাও]
[ইলমুন নাহু এর পরিচয় দাও। অতঃপর এর আলোচ্য বিষয়, উদ্দেশ্য ও উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।]
علم النحو (ইলমুন নাহু) এর পরিচয়:
النحو শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো: দিক, ইচ্ছা করা, পরিমাণ বা পথ।
পারিভাষিক অর্থ: ইলমুন নাহু হলো এমন একটি শাস্ত্র বা নিয়মকানুনের সমষ্টি, যার মাধ্যমে আরবি শব্দগুলোর শেষ অক্ষরের অবস্থা (ইরাব ও বিনা) জানা যায় এবং বাক্যে একটি শব্দের সাথে অপর একটি শব্দকে কীভাবে মেলাতে হবে বা বাক্য গঠন করতে হবে, তা জানা যায়।
موضوعه (আলোচ্য বিষয়):
ইলমুন নাহুর মূল আলোচ্য বিষয় হলো الكلمة والكلام (কালিমা ও কালাম)। অর্থাৎ আরবি শব্দাবলি এবং সেসব শব্দ দ্বারা গঠিত বাক্য নিয়েই এই শাস্ত্র আলোচনা করে।
غرضه (উদ্দেশ্য):
ইলমুন নাহু অধ্যয়নের প্রধান উদ্দেশ্য হলো صيانة اللسان عن الخطإ في الكلام العربي (আরবি ভাষায় কথা বলা বা পড়ার সময় ভাষাগত ও ব্যাকরণগত ভুলভ্রান্তি থেকে নিজেকে রক্ষা করা)।
فائدته (উপকারিতা):
১. কুরআন ও হাদিস বোঝা: পবিত্র কুরআন ও হাদিস আরবি ভাষায় অবতীর্ণ। তাই এগুলোর সঠিক অর্থ ও মর্ম অনুধাবন করতে হলে নাহু শাস্ত্রের জ্ঞান থাকা অপরিহার্য।
২. ভুল উচ্চারণ থেকে রক্ষা: ইরাব বা যের-যবর-পেশ এর ভুলের কারণে অনেক সময় শব্দের অর্থ সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়ে যায়, এমনকি কুফরিও হতে পারে। নাহু শাস্ত্রের মাধ্যমে এই ভুল থেকে বেঁচে থাকা যায়।
৩. আরবি সাহিত্য রচনা: শুদ্ধভাবে আরবি লিখতে, পড়তে ও বলতে পারার জন্য এই শাস্ত্র একটি নিয়ামক হিসেবে কাজ করে।
[কালিমাহ কাকে বলে? তা কত প্রকার? ইসমের আলামত উল্লেখপূর্বক প্রত্যেক প্রকারের উদাহরণসহ সংজ্ঞা দাও।]
الكلمة (কালিমা) এর পরিচয়:
الكلمة لفظ وضع لمعنى مفرد অর্থাৎ, কালিমা হলো এমন একক অর্থবোধক শব্দ, যা একটি নির্দিষ্ট অর্থের জন্য গঠন করা হয়েছে। যেমন: رَجُلٌ (একজন পুরুষ), كَتَبَ (সে লিখল)।
প্রকারভেদ (أقسام الكلمة):
কালিমা প্রধানত ৩ প্রকার: ১. الاسم (ইসিম), ২. الفعل (ফিল) এবং ৩. الحرف (হরফ)।
প্রত্যেক প্রকারের পরিচয় ও উদাহরণ:
১. الاسم (বিশেষ্য): যে কালিমা নিজের অর্থ নিজেই প্রকাশ করতে পারে এবং যার অর্থের সাথে তিন কালের (অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ) কোনো কাল যুক্ত থাকে না, তাকে ইসিম বলে। যেমন: زَيْدٌ (যায়েদ), مَسْجِدٌ (মসজিদ), عِلْمٌ (জ্ঞান)।
২. الفعل (ক্রিয়া): যে কালিমা নিজের অর্থ নিজেই প্রকাশ করতে পারে এবং যার অর্থের সাথে তিন কালের যেকোনো একটি কাল যুক্ত থাকে, তাকে ফিল বলে। যেমন: ضَرَبَ (সে প্রহার করেছে – অতীতকাল), يَضْرِبُ (সে প্রহার করছে বা করবে – বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল)।
৩. الحرف (অব্যয়): যে কালিমা অন্য কোনো ইসিম বা ফিলের সাথে মিলিত না হয়ে নিজের পূর্ণ অর্থ স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারে না, তাকে হরফ বলে। যেমন: مِنْ (হতে), فِى (মধ্যে), وَ (এবং)।
علامات الاسم (ইসিম চেনার আলামতসমূহ):
কোনো শব্দ ইসিম কি না, তা চেনার জন্য নাহুবিশারদগণ বেশ কিছু আলামত বা চিহ্ন উল্লেখ করেছেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
১. শব্দের শুরুতে ال (আলিফ-লাম) যুক্ত হওয়া। যেমন: الْحَمْدُ
২. শব্দের শেষে তানউইন (দুই যবর, দুই যের, দুই পেশ) হওয়া। যেমন: كِتَابٌ
৩. শব্দের শুরুতে حرف جر (হরফে জার) যুক্ত হওয়া। যেমন: بِزَيْدٍ
৪. শব্দের শেষে গোল তা (ة) থাকা। যেমন: مَدْرَسَةٌ
৫. মুযাফ বা সম্বন্ধিত হওয়া। যেমন: غُلَامُ زَيْدٍ
৬. তাসগির (ক্ষুদ্রতা বা আদর বোঝানো) হওয়া। যেমন: رُجَيْلٌ (ছোট পুরুষ)
৭. শব্দটির শেষে ইয়া নিসবতি (সম্পৃক্ততামূলক ইয়া) যুক্ত হওয়া। যেমন: بَغْدَادِيٌّ (বাগদাদি)
[মা’রিফা ও নাকিরার সংজ্ঞা দাও। অতঃপর মা’রিফার প্রকারগুলো বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
المعرفة (মারিফা) এর পরিচয়:
المعرفة (নির্দিষ্ট বিশেষ্য) হলো এমন ইসিম, যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা জায়গাকে বোঝায়। যেমন: زَيْدٌ (যায়েদ), مَكَّةُ (মক্কা), اَلرَّجُلُ (লোকটি)।
النكرة (নাকিরা) এর পরিচয়:
النكرة (অনির্দিষ্ট বিশেষ্য) হলো এমন ইসিম, যা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুকে না বুঝিয়ে অনির্দিষ্ট কোনো সাধারণ ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়। যেমন: رَجُلٌ (যেকোনো একজন পুরুষ), كِتَابٌ (যেকোনো একটি বই)।
أقسام المعرفة (মারিফার প্রকারভেদ):
মারিফা বা নির্দিষ্ট বিশেষ্য প্রধানত ৭ প্রকার:
১. المضمرات (সর্বনামসমূহ): যেমন- هُوَ (সে), أَنْتَ (তুমি), أَنَا (আমি)। এগুলো সবচেয়ে শক্তিশালী মারিফা।
২. الأعلام (নামবাচক বিশেষ্য): কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা স্থানের নাম। যেমন- زَيْدٌ (যায়েদ), فَاطِمَةُ (ফাতিমা), دَاكَا (ঢাকা)।
৩. أسماء الإشارة (ইঙ্গিতবাচক সর্বনাম): কোনো কিছু নির্দিষ্ট করে দেখানোর জন্য ব্যবহৃত ইসিম। যেমন- هٰذَا (এটি), ذٰلِكَ (ওটি)।
৪. الموصولات (সম্বন্ধবাচক সর্বনাম): বাক্যের একাংশের সাথে অন্য অংশের সম্পর্ক স্থাপনকারী ইসিম। যেমন- اَلَّذِى (যে), اَلَّتِى (যারা)।
۵. المعرف باللام (আলিফ-লাম যুক্ত শব্দ): নাকিরা শব্দের শুরুতে ال যুক্ত করে তাকে নির্দিষ্ট করা হয়। যেমন- اَلْكِتَابُ (বইটি), اَلرَّجُلُ (লোকটি)।
৬. المضاف إلى أحد المعارف (মারিফার দিকে মুযাফ বা সম্বন্ধিত শব্দ): যদি কোনো নাকিরা শব্দ ওপরের ৫টি মারিফার যেকোনো একটির দিকে সম্বন্ধিত হয়, তবে সেটিও মারিফা হয়ে যায়। যেমন- كِتَابُ زَيْدٍ (যায়েদের বই), قَلَمُهُ (তার কলম)।
৭. المعرف بالنداء (আহ্বান বা সম্বোধনকৃত শব্দ): কাউকে ডাকার মাধ্যমে যখন নির্দিষ্ট করা হয়। যেমন- يَا رَجُلُ (হে লোকটি!)।
[ই’রাব কী? ইসমের ই’রাব কত প্রকার? ইসম মাকসূর এবং ইসম মানকূসের ই’রাব উদাহরণসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
الإعراب (ইরাব) এর পরিচয়:
আভিধানিক অর্থ: প্রকাশ করা বা স্পষ্ট করা।
পারিভাষিক অর্থ: عامل (আমেল বা প্রভাব বিস্তারকারী শব্দ) এর ভিন্নতার কারণে কোনো كَلِمَة (শব্দ) এর শেষাক্ষরে যে পরিবর্তন সাধিত হয় (তা যবর, যের, পেশ বা হরফের মাধ্যমে হোক), সেই পরিবর্তনকেই ‘ইরাব’ বলে।
ইসিমের ইরাবের প্রকারভেদ:
ইসিম মু’রাব এর ইরাব প্রধানত ৩ প্রকার: ১. الرفع (রফা বা পেশ অবস্থা), ۲. النصب (নসব বা যবর অবস্থা) এবং ۳. الجر (জর বা যের অবস্থা)।
الاسم المقصور (ইসমে মাকসুর) এর ইরাব:
যে ইসিমের শেষে একটি আলিফে মাকসুরা (الف مقصورة) বা খাড়া যবর থাকে, তাকে ইসমে মাকসুর বলে। যেমন- اَلْمُصْطَفٰى, مُوسٰى, عِيسٰى।
এর ইরাব: ইসমে মাকসুরের রফা, নসব এবং জর—তিনটি অবস্থাই تقديراً বা উহ্য থাকে। অর্থাৎ, কোনো অবস্থাতেই এর শেষে বাহ্যিক কোনো যের-যবর-পেশ দেখা যায় না, বরং তা মেনে নেওয়া হয়।
উদাহরণ:
رَفع অবস্থা: جَاءَ مُوْسٰى (মুসা আসল। এখানে মুসা فاعل হওয়ার কারণে تقديرى পেশ হয়েছে)।
نصب অবস্থা: رَأَيْتُ مُوْسٰى (আমি মুসাকে দেখলাম। مفعول হওয়ার কারণে تقديرى যবর হয়েছে)।
جر অবস্থা: مَرَرْتُ بِمُوْسٰى (আমি মুসার পাশ দিয়ে গেলাম। مجرور হওয়ার কারণে تقديرى যের হয়েছে)।
الاسم المنقوص (ইসমে মানকুস) এর ইরাব:
যে ইসিমের শেষে একটি إسمي ইয়া (ي) থাকে এবং তার আগের অক্ষরে কাসরা (জের) থাকে, তাকে ইসমে মানকুস বলে। যেমন- اَلْقَاضِي, اَلدَّاعِي।
এর ইরাব: ইসমে মানকুসের রফা এবং জর অবস্থা تقديراً (উহ্য) থাকে, কিন্তু নসব অবস্থাটি لفظاً (প্রকাশ্য) যবর দ্বারা হয়।
উদাহরণ:
رَفع অবস্থা: جَاءَ الْقَاضِي (কাজী সাহেব আসলেন। পেশ উহ্য রয়েছে)।
نصب অবস্থা: رَأَيْتُ الْقَاضِيَ (আমি কাজী সাহেবকে দেখলাম। এখানে যবরটি স্পষ্টভাবে উচ্চারণ হচ্ছে)।
جر অবস্থা: مَرَرْتُ بِالْقَاضِي (আমি কাজী সাহেবের পাশ দিয়ে গেলাম। যের উহ্য রয়েছে)।
[মুবতাদা ও খবরের সংজ্ঞা দাও। এদের আসল রূপ কী? নাকিরার মাধ্যমে মুবতাদা শুরু হওয়ার বৈধতার ক্ষেত্রগুলো উদাহরণসহ আলোচনা কর।]
المبتدأ (মুবতাদা) এর পরিচয়:
مبتدأ হলো এমন একটি اسم مجرد عن العوامل اللفظية (বাহ্যিক আমেলমুক্ত স্বাধীন ইসিম), যার সম্পর্কে বাক্যে কোনো সংবাদ বা তথ্য দেওয়া হয়। এটি সাধারণত বাক্যের শুরুতে বসে এবং পেশযুক্ত (مرفوع) হয়। যেমন- زَيْدٌ عَالِمٌ (যায়েদ জ্ঞানী)। এখানে ‘যায়েদ’ হলো মুবতাদা।
الخبر (খবর) এর পরিচয়:
খবর হলো এমন শব্দ বা বাক্যাংশ, যার মাধ্যমে মুবতাদা সম্পর্কে কোনো সংবাদ, গুণ বা পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রদান করা হয়। এটি মুবতাদার সাথে যুক্ত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য (জুমলা ইসমিয়া) গঠন করে এবং এটিও مرفوع (পেশযুক্ত) হয়। যেমন- زَيْدٌ عَالِمٌ (যায়েদ জ্ঞানী)। এখানে ‘জ্ঞানী’ হলো খবর।
তাদের উভয়ের মাঝে الأصل (মূল নিয়ম):
নাহুর নিয়ম অনুযায়ী মুবতাদা এবং খবরের মাঝে মূল বা আসল বিধান হলো—মুবতাদা সর্বদা المعرفة (নির্দিষ্ট বিশেষ্য) হবে, আর খবর সর্বদা النكرة (অনির্দিষ্ট বিশেষ্য) হবে। কারণ, যার সম্পর্কে খবর দেওয়া হচ্ছে (মুবতাদা), সে যদি অজ্ঞাত বা অনির্দিষ্ট হয়, তবে শ্রোতা খবরের দ্বারা প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে পারবে না।
مسوغات الابتداء بالنكرة (নাকিরা দ্বারা মুবতাদা হওয়ার বৈধতাসমূহ):
যদিও মুবতাদা মারিফা হওয়াই মূল নিয়ম, তবে কিছু বিশেষ শর্ত বা কারণ (مسوغات) থাকলে নাকিরা (অনির্দিষ্ট) শব্দ দিয়েও মুবতাদা শুরু করা বৈধ। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি কারণ নিচে দেওয়া হলো:
১. নাকিরা শব্দটি বিশেষিত (موصوفة) হলে: যদি নাকিরা ইসিমটির সাথে কোনো গুণবাচক শব্দ বা সিফাত যুক্ত থাকে, তখন তার দ্বারা মুবতাদা শুরু করা যায়। যেমন: عَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ (একজন মুমিন দাস মুশরিকের চেয়ে উত্তম)।
২. নাকিরা শব্দটি খবরের পর আসলে এবং খবরটি যরফ বা জার-মাজরুর হলে: যেমন: فِي الدَّارِ رَجُلٌ (বাড়িতে একজন লোক আছে) অথবা عِنْدِى كِتَابٌ (আমার কাছে একটি বই আছে)।
৩. নাকিরা শব্দটি الاستفهام (প্রশ্নবাচক) হরফের পর আসলে: যেমন: هَلْ فَتًى فِيكُمْ؟ (তোমাদের মাঝে কি কোনো যুবক আছে?)।
৪. নাকিরা শব্দটি نفي (নেতিবাচক) হরফের পর আসলে: যেমন: مَا أَحَدٌ خَيْرٌ مِنْكَ (কেউ তোমার চেয়ে উত্তম নয়)।
৫. নাকিরা শব্দটি دعاء (দোয়া বা বদদোয়া) অর্থে ব্যবহৃত হলে: যেমন: سَلَامٌ عَلَيْكُمْ (তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) অথবা وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ (দুর্ভোগ ওজনে কম দানকারীদের জন্য)।
৬. نكرة শব্দটি عموم (ব্যাপকতা) বোঝালে: যেমন: كُلٌّ يَمُوتُ (প্রত্যেকেই মৃত্যুবরণ করবে)।
[না’ত কী? তা কত প্রকার? না’ত ও মানউত এর মাঝে কোন বিষয়গুলোতে মিল থাকা আবশ্যক? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
النعت (না’ত বা সিফাত) এর পরিচয়:
النعت হলো এমন তাবে (تابع বা অনুগামী শব্দ), যা তার পূর্ববর্তী শব্দ তথা المنعوت (বিশেষ্য বা মানউত)-এর কোনো গুণ, দোষ, অবস্থা বা বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে। যেমন: جَاءَ رَجُلٌ عَالِمٌ (একজন জ্ঞানী লোক আসলো)। এখানে ‘عَالِمٌ’ হলো النعت (বিশেষণ), যা পূর্ববর্তী শব্দ ‘رَجُلٌ’ এর গুণ বর্ণনা করছে।
النعت এর প্রকারভেদ:
النعت প্রধানত ২ প্রকার:
১. النعت الحقيقي (প্রকৃত বিশেষণ): যে না’ত সরাসরি তার মানউতের নিজের গুণ বর্ণনা করে। যেমন: جَاءَ زَيْدٌ الْعَالِمُ (জ্ঞানী যায়েদ আসলো)।
২. النعت السببي (কারণবাচক বিশেষণ): যে না’ত তার মানউতের নিজের গুণ বর্ণনা না করে, বরং মানউতের সাথে সম্পর্কিত অন্য কোনো জিনিসের গুণ বর্ণনা করে। যেমন: جَاءَ رَجُلٌ عَالِمٌ أَبُوهُ (এমন একজন লোক আসলো, যার পিতা জ্ঞানী)।
النعت এবং المنعوت এর মাঝে التطابق (মিল বা সামঞ্জস্য):
আরবি ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী النعت الحقيقي এর ক্ষেত্রে النعت এবং المنعوت এর মাঝে দশটি জিনিসের মধ্যে ৪টি বিষয়ে অবশ্যই মিল বা সামঞ্জস্য (التطابق) থাকতে হবে। দশটি বিষয় হলো:
* ইরাব ৩টি: الرفع (পেশ), النصب (যবর), الجر (যের)।
* লিঙ্গ ২টি: التذكير (পুংলিঙ্গ), التأنيث (স্ত্রীলিঙ্গ)।
* বচন ৩টি: الإفراد (একবচন), التثنية (দ্বিবচন), الجمع (বহুবচন)।
* নির্দিষ্টতা ২টি: التعريف (মারিফা বা নির্দিষ্ট), التنكير (নাকিরা বা অনির্দিষ্ট)।
এই দশটি বিষয়ের মধ্য থেকে যেকোনো ৪টি বিষয়ে (অর্থাৎ ইরাব থেকে ১টি, লিঙ্গ থেকে ১টি, বচন থেকে ১টি এবং নির্দিষ্টতা থেকে ১টি) উভয়ের মাঝে মিল থাকা অপরিহার্য।
উদাহরণ: جَاءَ الرَّجُلُ الْعَالِمُ (জ্ঞানী লোকটি আসলো)।
এখানে الرَّجُلُ (মানউত) এবং الْعَالِمُ (না’ত) উভয়ের মাঝে ৪টি বিষয়ে মিল রয়েছে: ১. উভয়টি مذكر (পুংলিঙ্গ), ২. مفرد (একবচন), ৩. معرفة (নির্দিষ্ট), এবং ৪. مرفوع (পেশযুক্ত)।
প্রশ্ন ২: أجب عن اثنين من الأسئلة التالية: [যেকোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও]
[ফেল বা ক্রিয়া কাকে বলে? কালভেদে তা কত প্রকার? প্রত্যেক প্রকারের সংজ্ঞা দাও এবং মুযারে গঠনের নিয়ম স্পষ্ট কর।]
الفعل (ফিল) এর পরিচয়:
যে শব্দ নিজের অর্থ নিজেই প্রকাশ করতে পারে এবং যার অর্থের মধ্যে অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ—এই তিনটি কালের কোনো একটি কাল অবশ্যই বিদ্যমান থাকে, তাকে الفعل (ক্রিয়া) বলে। যেমন: نَصَرَ (সে সাহায্য করল), يَنْصُرُ (সে সাহায্য করছে/করবে)।
زمن (কাল) এর দিক থেকে প্রকারভেদ:
সময়ের দিক থেকে الفعل প্রধানত তিন প্রকার: ১. الماضي (অতীতকাল), ২. المضارع (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল), ৩. الأمر (আদেশবাচক)।
প্রত্যেক প্রকারের পরিচয়:
১. الفعل الماضي (অতীতকাল): যে ক্রিয়া দ্বারা অতীতকালে বা গত হওয়া সময়ে কোনো কাজ করা বা হওয়া বোঝায়। যেমন: كَتَبَ (সে লিখেছে), عَلِمَ (সে জেনেছে)।
২. الفعل المضارع (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকাল): যে ক্রিয়া দ্বারা বর্তমানকালে বা ভবিষ্যৎকালে কোনো কাজ করা হচ্ছে বা হবে বোঝায়। আরবিতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালের জন্য একই শব্দ ব্যবহৃত হয়। যেমন: يَكْتُبُ (সে লিখছে বা লিখবে)।
৩. فعل الأمر (আদেশবাচক ক্রিয়া): যে ক্রিয়া দ্বারা কাউকে ভবিষ্যৎকালে কোনো কাজ করার জন্য আদেশ বা অনুরোধ করা বোঝায়। যেমন: اِكْتُبْ (তুমি লেখ!), اِقْرَأْ (তুমি পড়!)।
صياغة الفعل المضارع (ফেলুল মুযারি গঠনের নিয়মাবলি):
الفعل المضارع সর্বদা الفعل الماضي (অতীতকালীন ক্রিয়া) এর মূল রূপ থেকে গঠন করা হয়। মুযারি গঠনের নিয়মাবলি নিচে দেওয়া হলো:
১. প্রথমে মাজি এর واحد مذكر غائب (নামপুরুষ একবচন) এর সিগাহ বা রূপটি নিতে হবে। (যেমন: فَعَلَ)।
২. এরপর এর শুরুতে ‘আলামতে মুযারি’ (علامات المضارع) অর্থাৎ أ, ت, ي, ن (যাকে একত্রে ‘أَتَيْنَ’ বলা হয়) হরফগুলোর মধ্য থেকে সিগাহ অনুযায়ী যেকোনো একটি হরফ যুক্ত করতে হবে।
৩. আলামতে মুযারির হরফটিতে সাধারণত ফাতহাহ (যবর) দিতে হয়। (তবে চার অক্ষরবিশিষ্ট فِعْل তথা باب افعال, تفعيل, مفاعلة এর ক্ষেত্রে আলামতে মুযারিতে পেশ বা يرفُع হয়)।
৪. আলামতে মুযারির পরের অক্ষরটি (অর্থাৎ ফা কালিমা) কে সাকিন (জযম) করতে হবে।
৫. এরপরের অক্ষরটি (আইন কালিমা) বাব বা নিয়ম অনুযায়ী যবর, যের বা পেশ যেকোনোটি গ্রহণ করতে পারে।
৬. সর্বশেষ অক্ষরে (লাম কালিমা) দম্মাহ (পেশ) দিতে হবে।
উদাহরণ: كَتَبَ (সে লিখেছিল) থেকে يَكْتُبُ (সে লিখছে)। এখানে শুরুতে يَ যুক্ত হয়েছে, ك সাকিন হয়েছে এবং শেষে পেশ হয়েছে।
[সুলাসি ও রুবায়ি ফেলের সংজ্ঞা দাও। অতঃপর সুলাসি ও রুবায়ি মাযিদ ফীহ এর ওযনসমূহ উল্লেখপূর্বক প্রত্যেকটির দুটি করে উদাহরণ দাও।]
الفعل الثلاثي (ত্রিবর্ণিক ক্রিয়া):
যে ফেল বা ক্রিয়ার মূল অক্ষরে (مادة) শুধুমাত্র তিনটি হরফ (ফা, আইন এবং লাম কালিমা) থাকে, তাকে الفعل الثلاثي বলে। যেমন: نَصَرَ (নুন, সোয়াদ, রা), ضَرَبَ।
الفعل الرباعي (চতুবর্ণিক ক্রিয়া):
যে ফেল বা ক্রিয়ার মূল অক্ষরে চারটি হরফ থাকে, তাকে الفعل الرباعي বলে। যেমন: دَحْرَجَ (দাল, হা, রা, জিম), زَلْزَلَ।
الثلاثي المزيد فيه (অতিরিক্ত অক্ষরযুক্ত ত্রিবর্ণিক ক্রিয়া) এর ওযনসমূহ:
যেসব সুলাসি ক্রিয়ার মূল তিন অক্ষরের সাথে এক বা একাধিক অতিরিক্ত অক্ষর যুক্ত হয়ে নতুন অর্থ প্রদান করে, তাকে সুলাসি মাজিদ ফিহ বলে। এর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ওযন (باب) ও উদাহরণ হলো:
১. اِفْعَالٌ (ইফআ’ল): মূল অক্ষরের শুরুতে একটি অতিরিক্ত হামযা আসে। উদাহরণ: أَكْرَمَ يُكْرِمُ إِكْرَامًا (সম্মান করা), أَسْلَمَ يُسْلِمُ إِسْلَامًا (আত্মসমর্পণ করা)।
২. تَفْعِيْلٌ (তাফয়ীল): আইন কালিমাকে দ্বিত্ব (তাশদিদ) করা হয়। উদাহরণ: عَلَّمَ يُعَلِّمُ تَعْلِيمًا (শিক্ষা দেওয়া), سَبَّحَ يُسَبِّحُ تَسْبِيحًا (পবিত্রতা বর্ণনা করা)।
৩. مُفَاعَلَةٌ (মুফা’আলাহ): ফা এবং আইন কালিমার মাঝে একটি আলিফ আসে। উদাহরণ: قَاتَلَ يُقَاتِلُ مُقَاتَلَةً (যুদ্ধ করা), جَاهَدَ يُجَاهِدُ مُجَاهَدَةً (সংগ্রাম করা)।
৪. اِفْتِعَالٌ (ইফতিয়াল): শুরুতে হামযা এবং ফা ও আইন কালিমার মাঝে তা আসে। উদাহরণ: اِجْتَمَعَ يَجْتَمِعُ اِجْتِمَاعًا (একত্রিত হওয়া), اِكْتَسَبَ يَكْتَسِبُ اِكْتِسَابًا (অর্জন করা)।
الرباعي المزيد فيه (অতিরিক্ত অক্ষরযুক্ত চতুবর্ণিক ক্রিয়া) এর ওযনসমূহ:
এর প্রধান ওযন তিনটি:
১. تَفَعْلُلٌ (তাফা’লুল): শুরুতে একটি অতিরিক্ত ‘তা’ (ت) যুক্ত হয়। উদাহরণ: تَدَحْرَجَ يَتَدَحْرَجُ تَدَحْرُجًا (গড়িয়ে পড়া), تَزَلْزَلَ يَتَزَلْزَلُ تَزَلْزُلًا (প্রকম্পিত হওয়া)।
২. اِفْعِنْلَالٌ (ইফয়িনলাল): শুরুতে হামযা এবং মাঝে একটি নুন যুক্ত হয়। উদাহরণ: اِحْرَنْجَمَ يَحْرَنْجِمُ اِحْرِنْجَامًا (ভিড় করা), اِفْرَنْقَعَ يَفْرَنْقِعُ اِفْرِنْقَاعًا (ছড়িয়ে পড়া)।
৩. اِفْعِلَّالٌ (ইফয়িললাল): শুরুতে হামযা এবং শেষ অক্ষরটি দ্বিত্ব হয়। উদাহরণ: اِقْشَعَرَّ يَقْشَعِرُّ اِقْشِعْرَارًا (শিহরিত হওয়া), اِطْمَأَنَّ يَطْمَئِنُّ اِطْمِئْنَانًا (প্রশান্ত হওয়া)।
[ইবদান ও ই’লাল কী? উভয়ের মাঝে পার্থক্য কী? ওয়াও ও ইয়া বিলুপ্ত হওয়ার স্থানগুলো উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]
الإبدال (ইবদাল) এর পরিচয়:
আরবি ইলমুস সরফের পরিভাষায়, শব্দের উচ্চারণে সহজবোধ্যতা আনার জন্য কোনো একটি সঠিক বা সুস্থ হরফ (حرف صحيح) কে পরিবর্তন করে তার স্থানে অন্য কোনো হরফ বসানোকে الإبدال বলে। যেমন: اِصْتَبَرَ (ইছতাবার) শব্দটিতে ‘ت’ কে পরিবর্তন করে ‘ط’ বসিয়ে اِصْطَبَرَ (ইছতাবার) বানানো হয়েছে।
الإعلال (ইলাল) এর পরিচয়:
ইলমুস সরফের পরিভাষায়, উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের মধ্যে থাকা কোনো হরফে ইল্লত বা অসুস্থ হরফ (ا, و, ي) কে পরিবর্তন করে অন্য কোনো হরফে ইল্লত দ্বারা বদল করা, অথবা তাকে সাকিন (জযম) করা, অথবা তাকে বিলুপ্ত (حذف) করে দেওয়াকে الإعلال বলে। যেমন: قَوَلَ থেকে قَالَ (ক্বালা) বানানো হয়েছে ‘ওয়াও’ কে ‘আলিফ’ দ্বারা পরিবর্তন করে।
উভয়ের মাঝে পার্থক্য:
১. ইলাল শুধুমাত্র হরফে ইল্লত (ا, و, ي) এবং হামযার (ء) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। কিন্তু ইবদাল হরফে ইল্লত এবং হরফে সহিহ (সুস্থ হরফ)—উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে।
২. প্রতিটি ইলাল-ই এক প্রকারের ইবদাল, কিন্তু প্রতিটি ইবদাল ইলাল নয়।
واو (ওয়াও) এবং ياء (ইয়া) বিলুপ্ত (হযফ) হওয়ার কিছু স্থান:
১. ফেলে মুযারির শুরুতে: যদি কোনো ফেলে মুযারির শুরুতে ‘ওয়াও’ থাকে এবং তার পরের অক্ষরে কাসরা (জের) থাকে, তবে উচ্চারণের সুবিধার জন্য ‘ওয়াও’ টি বিলুপ্ত হয়ে যায়। যেমন: يَوْعِدُ (ইয়াউয়িদু) থেকে يَعِدُ (ইয়ায়িদু) হয়েছে।
২. ফেলে আমরের শেষে: যদি কোনো নাকেস (যার শেষ অক্ষরে হরফে ইল্লত থাকে) শব্দের ফেলে আমর গঠন করা হয়, তবে তার শেষের হরফে ইল্লত (ا, و, ي) বিলুপ্ত হয়ে যায়। যেমন: تَدْعُو (তাদউ’) থেকে আমর হবে اُدْعُ (উদউ’) [ওয়াও বিলুপ্ত]। تَرْمِي (তারমী) থেকে আমর হবে اِرْمِ (ইরমি) [ইয়া বিলুপ্ত]।
৩. ইসমে ফায়েল এর শেষে: যদি ইসমে ফায়েল মানকুস (শেষে ইয়া যুক্ত) হয় এবং তা রফা বা জর অবস্থায় নাকিরা থাকে, তবে শেষের ‘ইয়া’ বিলুপ্ত হয়ে তার আগের অক্ষরে দুই জের হয়। যেমন: قَاضِيٌ (কাদিয়ুন) থেকে قَاضٍ (কাদিন) হয়েছে।
[মাঝের হামযা ও শেষের হামযা লেখার নিয়ম এবং ইসম, ফেল ও হরফে আলিফে লাইয়্যিনাহ লেখার নিয়মকানুন লেখ।]
الهمزة المتوسطة (শব্দের মাঝখানে হামযা) লেখার নিয়ম:
শব্দের মাঝখানে হামযা লেখার ক্ষেত্রে হামযার নিজের হরকত (যবর, যের, পেশ) এবং তার পূর্ববর্তী অক্ষরের হরকতের মধ্যে তুলনামূলক শক্তিশালী হরকত অনুযায়ী হামযা লেখা হয়। আরবিতে হরকতের শক্তির ক্রম হলো: ১. কাসরা (জের) > ২. দম্মাহ (পেশ) > ৩. ফাতহাহ (যবর) > ৪. সুকুন (জযম)।
* যদি কাসরা (জের) শক্তিশালী হয়, তবে হামযা ‘ইয়া’ (ئ) এর ওপর লেখা হয়। যেমন: بِئْرٌ (বি’রুন), سُئِلَ (সুয়িলা)।
* যদি দম্মাহ (পেশ) শক্তিশালী হয়, তবে হামযা ‘ওয়াও’ (ؤ) এর ওপর লেখা হয়। যেমন: مُؤْمِنٌ (মুমিনুন), رُؤْيَةٌ (রু’ইয়াতুন)।
* যদি ফাতহাহ (যবর) শক্তিশালী হয়, তবে হামযা ‘আলিফ’ (أ) এর ওপর লেখা হয়। যেমন: سَأَلَ (সায়ালা), مَسْأَلَةٌ (মাসয়ালাহ)।
الهمزة المتطرفة (শব্দের শেষে হামযা) লেখার নিয়ম:
শব্দের শেষে হামযা লেখার ক্ষেত্রে হামযার নিজের হরকত বিবেচনা করা হয় না, বরং ঠিক তার আগের অক্ষরের হরকতের ওপর ভিত্তি করে হামযা লেখা হয়:
* আগের অক্ষরে কাসরা (জের) থাকলে হামযা ‘ইয়া’ (ئ) এর ওপর লেখা হয়। যেমন: قَارِئٌ (কারি’উন)।
* আগের অক্ষরে দম্মাহ (পেশ) থাকলে হামযা ‘ওয়াও’ (ؤ) এর ওপর লেখা হয়। যেমন: تَجَرُّؤٌ (তাজাররু’উন)।
* আগের অক্ষরে ফাতহাহ (যবর) থাকলে হামযা ‘আলিফ’ (أ) এর ওপর লেখা হয়। যেমন: قَرَأَ (কারা’আ)।
* আগের অক্ষরে সুকুন (জযম) বা দীর্ঘ স্বর থাকলে হামযা আলাদাভাবে (ء) লাইনের ওপর লেখা হয়। যেমন: شَيْءٌ (শাই’উন), مَاءٌ (মা’উন)।
الألف اللينة (আলিফে লায়্যিনাহ) লেখার নিয়ম:
আলিফে লায়্যিনাহ হলো এমন আলিফ যা শব্দের শেষে আসে। এটি দুইভাবে লেখা যায়: ১. সোজা আলিফ (ا) এবং ২. খাড়া যবরযুক্ত ইয়ার মতো (ى বা الف مقصورة)।
* ফেল এবং ইসিমের ক্ষেত্রে: শব্দটি যদি তিন অক্ষরবিশিষ্ট হয় এবং আলিফটির মূল রূপ ‘ওয়াও’ (و) হয়, তবে সোজা আলিফ (ا) লেখা হয়। যেমন: دَعَا (মূলত دَعَوَ), عَصَا (মূলত عَصَو)। আর যদি আলিফটির মূল রূপ ‘ইয়া’ (ي) হয়, তবে (ى) লেখা হয়। যেমন: رَمَى (মূলত رَمَيَ), هُدَى (মূলত هُدَي)। শব্দটি তিন অক্ষরের বেশি হলে সাধারণত (ى) লেখা হয়। যেমন: مُصْطَفَى, اِسْتَدْعَى।
* হরফের ক্ষেত্রে: আরবি হরফগুলোর শেষে সাধারণত সোজা আলিফ (ا) লেখা হয়। যেমন: لَا, مَا, يَا, إِذَا। তবে মাত্র ৪টি হরফের শেষে (ى) লেখা হয়: إِلَى (দিকে), عَلَى (ওপর), بَلَى (হ্যাঁ), এবং حَتَّى (পর্যন্ত)।
প্রশ্ন ৩: ترجم النص الآتى إلى العربية الفصحى: [নিচের অনুচ্ছেদটি আরবিতে অনুবাদ কর]
আল-কুরআন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব। এটি একসাথে অবতীর্ণ হয়নি। বরং বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে তেইশ বছর ধরে অবতীর্ণ হয়েছে। কুরআন তেলাওয়াত অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত। প্রত্যেক হরফ তেলাওয়াতের বিনিময়ে আল্লাহ তা’য়ালা দশটি নেকী দান করবেন। কুরআন শেখা ও শিখানো উত্তম কাজ। নবি (স) বলেছেন—“তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম, যে কুরআন শিখে এবং শিখায়।”
الترجمة (অনুবাদ):
প্রশ্ন ৪: আবেদনপত্র অথবা পত্র লিখন (যেকোনো ১টি)
[অধ্যক্ষের কাছে প্রভাষক পদে নিয়োগ চেয়ে আবেদনপত্র লেখ।]
التاريخ: ١٢ جمادى الأولى ١٤٤٥ هـ
إلى،
فضيلة رئيس المدرسة (المدير)،
المدرسة الإسلامية العالية، دكا.
الموضوع: طلب التعيين في وظيفة محاضر للغة العربية.
سيدي المحترم،
أقدم لكم أطيب التحيات وبعد. لقد اطلعت على إعلانكم المنشور في صحيفة يومية حول حاجتكم إلى محاضر للغة العربية في مدرستكم الموقرة. لذا، يسعدني أن أقدم طلب تعييني لهذه الوظيفة.
أحيطكم علما بأنني حصلت على شهادة الماجستير في قسم اللغة العربية والأدب بتقدير ممتاز من الجامعة الإسلامية. ولدي خبرة في التدريس لمدة ثلاث سنوات في مدرسة ثانوية. أعتقد أن كفاءتي وخبرتي ستساعدني في أداء الواجبات المطلوبة بكفاءة وإخلاص.
مرفق طيه سيرتي الذاتية وجميع الشهادات الأكاديمية للنظر فيها.
لذا، أرجو من سيادتكم التكرم بقبول طلبي هذا وإتاحة الفرصة لي لخدمة مؤسستكم الموقرة.
وتفضلوا بقبول فائق الاحترام والتقدير.
المخلص لكم،
محمد عبد الله
دكا، بنغلاديش.
[তোমার ছোট ভাইকে আরবি ভাষা শেখার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে একটি চিঠি লেখ।]
دكا، بنغلاديش
١٥ جمادى الأولى ١٤٤٥ هـ
أخي الحبيب،
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته،
أتمنى أن تكون بصحة جيدة ودراستك تسير على أحسن ما يرام. أكتب إليك هذه الرسالة لأحدثك عن موضوع غاية في الأهمية، ألا وهو تعلم اللغة العربية.
يا أخي، إن اللغة العربية ليست مجرد لغة عادية، بل هي لغة القرآن الكريم ولغة نبينا محمد صلى الله عليه وسلم. من خلال فهمها، يمكنك تدبر آيات الله وفهم أحاديث الرسول بكل يسر وعمق. إضافة إلى ذلك، فإنها تفتح لك أبواب المعرفة في العلوم الإسلامية والتاريخ الإسلامي العريق.
أوصيك بأن تخصص وقتا كل يوم لتعلم مفرداتها وقواعدها، وأن تقرأ الكتب وتستمع إلى البرامج المفيدة باللغة العربية. واعلم أن إتقانها سيزيدك علما ونورا في حياتك.
أسأل الله أن يوفقك في مسيرتك العلمية وأن يجعلك من حملة لغة الضاد النابغين.
أبلغ سلامي إلى جميع الأهل.
والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
أخوك المحب،
عبد الرحمن
প্রশ্ন ৫: اكتب مقالة عربية حول أحد الموضوعات التالية: [যেকোনো ১টি বিষয়ে প্রবন্ধ লেখ]
[সময়ের মূল্য]
قِيمَةُ الْوَقْتِ (সময়ের মূল্য)
الوقت هو أثمن شيء في حياة الإنسان. إنه كالسيف، إن لم تقطعه قطعك. الوقت الذي يمر لا يعود أبدا، ولذلك يجب علينا أن نقدر قيمته ونستخدمه في الأعمال المفيدة والنافعة.
لقد أعطى الإسلام أهمية كبرى للوقت. أقسم الله تعالى في القرآن الكريم بأوقات مختلفة مثل العصر والفجر والليل والضحى، مما يدل على عظمة الوقت وأهميته في حياة المؤمن. قال الله تعالى: “وَالْعَصْرِ، إِنَّ الْإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ”. وفي الحديث الشريف، حذرنا النبي صلى الله عليه وسلم من تضييع الوقت قائلا: “نعمتان مغبون فيهما كثير من الناس: الصحة والفراغ”.
النجاح في الحياة يعتمد بشكل أساسي على حسن إدارة الوقت. كل من العظماء والعلماء في التاريخ الإسلامي وفي العالم بأسره كانوا يعرفون قيمة وقتهم. كانوا لا يضيعون دقيقة واحدة في اللهو واللعب، بل كانوا يكرسون أوقاتهم للتعلم، والعمل، واختراع أشياء جديدة تفيد البشرية.
الطالب الذي ينظم وقته للدراسة واللعب والراحة هو الذي يحقق النجاح والتفوق في امتحاناته. أما الذي يضيع وقته في الكسل ومشاهدة التلفاز واستخدام الهواتف الذكية بلا فائدة، فإنه يندم في المستقبل عندما لا ينفع الندم.
خلاصة القول، الوقت هو الحياة الحقيقية. كل لحظة تمر تأخذ جزءا من أعمارنا. لذا، يجب علينا أن نستغل أوقاتنا في عبادة الله، وفي طلب العلم، وفي خدمة المجتمع والأمة، حتى نفوز في الدنيا والآخرة.
[উত্তম চরিত্র]
الخُلُقُ الحَسَنُ (উত্তম চরিত্র)
الخلق الحسن هو زينة الإنسان وتاج وقاره في الدنيا والآخرة. وقد بعث الله نبيه محمدا صلى الله عليه وسلم ليتمم مكارم الأخلاق، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: “إنما بعثت لأتمم مكارم الأخلاق”.
المسلم ذو الخلق الحسن يحبه الله والناس، فهو صادق في حديثه، أمين في تعامله، رحيم بالضعفاء، ومحترم للكبار. وقد سئل النبي صلى الله عليه وسلم عن أكثر ما يدخل الناس الجنة، فقال: “تقوى الله وحسن الخلق”.
الخلق الحسن لا يقتصر على المعاملة الطيبة مع الناس فقط، بل يشمل الإحسان إلى الحيوان والبيئة. والمجتمع الذي تسوده الأخلاق الحسنة هو مجتمع قوي، ومترابط، وخال من الجرائم والفساد. أما إذا ضاعت الأخلاق، انهارت الأمم وساد التخلف.
لذا، يجب علينا جميعا أن نتحلى بالأخلاق الفاضلة، مقتدين بسيد المرسلين الذي قال عنه ربه: “وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ”.
[ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা]
الجَامِعَةُ الإِسْلَامِيَّةُ العَرَبِيَّةُ بِدَاكَا (ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়)
الجامعة الإسلامية العربية في داكا هي منارة العلم والدين في بنغلاديش. تأسست هذه الجامعة المباركة لتلبية احتياجات الأمة الإسلامية في نشر التعليم الإسلامي المعتدل وتطوير اللغة العربية والعلوم الشرعية في البلاد.
تضم الجامعة العديد من الأقسام التي تدرس القرآن الكريم، والحديث النبوي الشريف، والفقه الإسلامي، واللغة العربية بآدابها. وتشرف الجامعة على جميع المدارس العالية (الفاضل والكامل) في بنغلاديش، مما يجعلها المركز الرئيسي للتعليم الديني العالي.
تلعب الجامعة دورا هاما في إعداد دعاة وعلماء مخلصين يساهمون في بناء المجتمع على أسس إسلامية صحيحة بعيدا عن التطرف والجهل. كما توفر بيئة أكاديمية تشجع على البحث العلمي والدراسات الإسلامية المعاصرة.
نرجو من الله سبحانه وتعالى أن يحفظ هذه المؤسسة العظيمة، وأن يوفق أساتذتها وطلابها لخدمة الإسلام والمسلمين، وأن يجعلها دائما نبراسا يضيء طريق الحق والهداية في بنغلاديش والعالم.






