Qawaidul Lughatil Arabiyyah (Code: 201203) – ২০২২ প্রশ্ন ও উত্তর
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২২ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের قواعد اللغة العربية (আরবি ব্যাকরণ) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।
বিঃদ্রঃ পরীক্ষার্থীদের আগামী পরীক্ষার সর্বোচ্চ প্রস্তুতির সুবিধার্থে মূল প্রশ্নপত্রের বিকল্প সবগুলোর (অথবা) প্রশ্নের ১০০% নির্ভুল উত্তর বিস্তারিতভাবে নিচে দেওয়া হলো।
السؤال الأول (১ নং প্রশ্ন) [যেকোনো তিনটি]
[ইসম এর পরিচয় দাও এবং তার আলামতগুলো বর্ণনা কর। লিঙ্গ (মুজাক্কার-মুয়ান্নাস) এবং নির্দিষ্টতা (মারেফা-নাকিরা) হিসেবে এর প্রকারভেদ উদাহরণসহ বিস্তারিত লেখ।]
الإسم (ইসম) এর পরিচয়:
* আভিধানিক অর্থ: নাম, বিশেষ্য বা উচ্চতা।
* পারিভাষিক অর্থ: নাহু শাস্ত্রের পরিভাষায় ইসম হলো এমন একটি কালিমা বা শব্দ, যা অন্য কোনো শব্দের সাহায্য ছাড়াই নিজের অর্থ নিজে পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করতে পারে এবং এর অর্থের মধ্যে অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ—এই তিন কালের কোনো কালের সাথেই সম্পর্ক থাকে না। যেমন: رَجُلٌ (মানুষ), عِلْمٌ (জ্ঞান), مَكَّةُ (মক্কা)।
ইসমের আলামতসমূহ (علامات الاسم):
কোনো শব্দ ইসম কি না, তা চেনার জন্য বেশ কিছু আলামত বা চিহ্ন রয়েছে। প্রধান আলামতগুলো হলো:
১. শব্দের শুরুতে আলিফ-লাম (ال) যুক্ত হওয়া। (যেমন: الحَمْدُ)।
২. শব্দের শেষে তানভীন (দুই যবর, দুই জের, দুই পেশ) হওয়া। (যেমন: زَيْدٌ)।
৩. শব্দের শুরুতে হারফে জার হওয়া। (যেমন: بِزَيْدٍ)।
৪. শব্দটি মুযাফ (সম্বন্ধিত) হওয়া। (যেমন: غُلَامُ زَيْدٍ – যাইদের গোলাম)।
৫. শব্দের শেষে গোল তা (ة) হওয়া। (যেমন: رَحْمَةٌ)।
৬. মুসনাদ ইলাইহি (উদ্দেশ্য বা কর্তা) হওয়া।
৭. শব্দের শেষে ইয়ায়ে নিসবতি হওয়া। (যেমন: بَغْدَادِيٌّ – বাগদাদী)।
৮. তাসনিয়া (দ্বিবচন) বা জমা (বহুবচন) হওয়া। (যেমন: مُسْلِمَانِ, مُسْلِمُوْنَ)।
৯. তাসগীর (ক্ষুদ্রতাজ্ঞাপক) হওয়া। (যেমন: قُرَيْشٌ)।
১০. মুনাদা (যাকে ডাকা হয়) হওয়া। (যেমন: يَا زَيْدُ)।
التذكير والتأنيث (লিঙ্গ) হিসেবে ইসমের প্রকারভেদ:
লিঙ্গভেদে ইসম ২ প্রকার:
১. المذكر (পুংলিঙ্গ): যে ইসম দ্বারা পুরুষবাচক কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায় এবং যার শেষে মুয়ান্নাসের কোনো আলামত থাকে না। যেমন: رَجُلٌ (একজন পুরুষ), كِتَابٌ (বই)।
২. المؤنث (স্ত্রীলিঙ্গ): যে ইসম দ্বারা নারীবাচক কোনো ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায় এবং যার শেষে সাধারণত মুয়ান্নাসের কোনো আলামত (যেমন- ة, اء, ى) থাকে। যেমন: امْرَأَةٌ (একজন নারী), فَاطِمَةُ (ফাতেমা), بُشْرَى (সুসংবাদ)।
التعريف والتنكير (নির্দিষ্টতা ও অনির্দিষ্টতা) হিসেবে ইসমের প্রকারভেদ:
নির্দিষ্টতার দিক থেকে ইসম ২ প্রকার:
১. المعرفة (নির্দিষ্ট বিশেষ্য): যে ইসম দ্বারা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা স্থানকে বোঝায়। এটি ৭ প্রকার: যমীর (সর্বনাম), আলাম (নাম), ইসম ইশারা (ইঙ্গিতবাচক), ইসম মাউসুল (সংযোজক), মু’আররাফ বিল লাম (ال যুক্ত শব্দ), মুযাফ ইলাল মারেফা (মারেফার দিকে সম্বন্ধিত) এবং মুনাদা (আহ্বানকৃত)। যেমন: الرَّجُلُ (নির্দিষ্ট লোকটি), زَيْدٌ (যাইদ)।
২. النكرة (অনির্দিষ্ট বিশেষ্য): যে ইসম দ্বারা কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীকে বোঝায়। এর দ্বারা নির্দিষ্ট কাউকে না বুঝিয়ে ওই জাতির যেকোনো একজনকে বোঝায়। যেমন: رَجُلٌ (যেকোনো একজন পুরুষ), كِتَابٌ (যেকোনো একটি বই)।
[জমা বা বহুবচন এর পরিচয় দাও। অতঃপর জমায়ে মুকাস্সার, জমায়ে মুজাক্কার সালিম এবং জমায়ে মুয়ান্নাস সালিম এর ই’রাব উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]
الجمع (জমা) এর পরিচয়:
আরবি ব্যাকরণে যে শব্দ দ্বারা দুইয়ের অধিক ব্যক্তি বা বস্তুকে বোঝায়, তাকে جمع (বহুবচন) বলে। যেমন: مُسْلِمُوْنَ (অনেক মুসলিম), رِجَالٌ (অনেক পুরুষ)।
বিভিন্ন প্রকার জমার ই’রাব (إعراب):
১. جمع التكسير (জমায়ে মুকাস্সার / ভাঙা বহুবচন) এর ই’রাব:
যে বহুবচন গঠনের সময় একবচনের মূল কাঠামো ঠিক থাকে না, বরং ভেঙে যায়, তাকে জমায়ে মুকাস্সার বলে। এর ই’রাব হয় হরকত দ্বারা। অর্থাৎ হালতে রফাতে (কর্তৃকারকে) যম্মা বা পেশ, হালতে নসবে (কর্মকারকে) ফাতহা বা যবর এবং হালতে জরে (সম্বন্ধ পদে) কাসরা বা জের হয়।
উদাহরণ:
* রফা: جَاءَ رِجَالٌ (পুরুষেরা এসেছে) [رِجَالٌ ফায়েল, তাই পেশ হয়েছে]।
* নসব: رَأَيْتُ رِجَالاً (আমি পুরুষদের দেখলাম) [رِجَالاً মফউল, তাই যবর হয়েছে]।
* জর: مَرَرْتُ بِرِجَالٍ (আমি পুরুষদের পাশ দিয়ে গেলাম) [بِ হরফে জরের কারণে জের হয়েছে]。
২. جمع المذكر السالم (জমায়ে মুজাক্কার সালিম) এর ই’রাব:
যে পুংলিঙ্গবাচক বহুবচনের একবচনের কাঠামো ঠিক থাকে এবং শেষে واو ও نون অথবা ياء ও نون যুক্ত হয়। এর ই’রাব হয় হরফ দ্বারা। অর্থাৎ হালতে রফাতে واو মা-কাবল মাযমুম (পেশযুক্ত অক্ষরের পর ওয়াও) এবং নুন মাফতুহ দ্বারা। আর হালতে নসবে ও জরে ياء মা-কাবল مكسور (জেরযুক্ত অক্ষরের পর ইয়া) এবং নুন মাফতুহ দ্বারা হয়।
উদাহরণ:
* রফা: جَاءَ مُسْلِمُوْنَ (মুসলিমরা এসেছে)।
* নসব: رَأَيْتُ مُسْلِمِيْنَ (আমি মুসলিমদের দেখলাম)।
* জর: مَرَرْتُ بِمُسْلِمِيْنَ (আমি মুসলিমদের পাশ দিয়ে গেলাম)।
৩. جمع المؤنث السالم (জমায়ে মুয়ান্নাস সালিম) এর ই’রাব:
যে স্ত্রীলিঙ্গবাচক বহুবচনের শেষে الف ও লম্বা تاء যুক্ত হয়। এর ই’রাব হয় হরকত দ্বারা। হালতে রফাতে যম্মা বা পেশ হয়, আর হালতে নসবে ও জরে কাসরা বা জের হয়। (মনে রাখতে হবে, এর নসব বা জবর অবস্থা কখনো ফাতহা দ্বারা হয় না, জের দ্বারাই হয়)।
উদাহরণ:
* রফা: جَاءَتْ مُسْلِمَاتٌ (মুসলিম নারীরা এসেছে)।
* নসব: رَأَيْتُ مُسْلِمَاتٍ (আমি মুসলিম নারীদের দেখলাম)।
* জর: مَرَرْتُ بِمُسْلِمَاتٍ (আমি মুসলিম নারীদের পাশ দিয়ে গেলাম)।
[ইসমুল মু’রাব এর পরিচয় দাও। অতঃপর এর প্রকারগুলো উদাহরণসহ বিস্তারিত লেখ।]
الإسم المعرب (ইসমুল মু’রাব) এর পরিচয়:
ইসমুল মু’রাব বলতে এমন ইসমকে বোঝায়, যা বাক্যে অন্য কোনো শব্দের সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে এবং আমিল (যে শব্দ ই’রাব পরিবর্তন করে) এর পরিবর্তনের কারণে এর শেষ অক্ষরের হরকত বা ই’রাব পরিবর্তন হয়। একে ‘ইসম মুতামাক্কিন’ও বলা হয়। এর বিপরীত হলো মাবনি, যার শেষ অবস্থা সবসময় অপরিবর্তিত থাকে।
الإسم المعرب এর প্রকারভেদ:
ইসমুল মু’রাব বা মুতামাক্কিন প্রধানত ১৬ প্রকার (ই’রাবের ধরন অনুযায়ী)। তবে ই’রাব গ্রহণ করার দিক থেকে এগুলো মূলত ২টি বড় ভাগে বিভক্ত:
১. المنصرف (মুনসারিফ):
যে ইসমের শেষে তানভীন ও কাসরা (জের) গ্রহণ করতে কোনো বাধা নেই। এটি ইসমুল মু’রাবের মূল রূপ। একে মুতামাক্কিন আমকানও বলা হয়। আরবি ভাষার অধিকাংশ ইসমই মুনসারিফ।
উদাহরণ: زَيْدٌ, رَجُلٌ, كِتَابٌ।
جَاءَ زَيْدٌ (রফা), رَأَيْتُ زَيْدًا (নসব), مَرَرْتُ بِزَيْدٍ (জর – এখানে তানভীন ও জের হয়েছে)।
২. غير المنصرف (গাইর মুনসারিফ):
যে ইসমের শেষে তানভীন ও কাসরা (জের) গ্রহণ করতে বাধা থাকে (অর্থাৎ এর শেষে পেশ বা যবর হয়, কিন্তু জের বা তানভীন হয় না)। এর মধ্যে গাইর মুনসারিফের ৯টি আসবাব বা কারণের (আদল, ওয়াসফ, তানিস, মারেফা, উজমা, জমা, তরকিব, আলিফ ও নুন যায়িদাতান এবং ওজনে ফেল) যেকোনো দুটি বা দুটির সমকক্ষ একটি কারণ পাওয়া যায়।
এর ই’রাব হলো: হালতে রফাতে পেশ হয়, আর হালতে নসব ও জরে যবর হয় (অর্থাৎ জরের স্থানে জেরের বদলে যবর হয়)।
উদাহরণ: عُمَرُ (ওমর), أَحْمَدُ (আহমাদ), عَائِشَةُ (আয়েশা), مَسَاجِدُ (মসজিদসমূহ)।
جَاءَ أَحْمَدُ (রফা), رَأَيْتُ أَحْمَدَ (নসব), مَرَرْتُ بِأَحْمَدَ (জর – এখানে আহমাদ গাইর মুনসারিফ হওয়ায় بِ হরফে জর থাকা সত্ত্বেও জেরের পরিবর্তে যবর হয়েছে)।
[الجملة (বাক্য) কাকে বলে? এটি কত প্রকার? উদাহরণসহ স্পষ্ট করে বর্ণনা কর।]
الجملة (জুমলা) এর পরিচয়:
একাধিক শব্দের (কালিমার) সমন্বয়ে গঠিত এমন একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য, যা দ্বারা বক্তার মনের সম্পূর্ণ ভাব প্রকাশ পায় এবং শ্রোতা শুনে একটি পূর্ণ অর্থ বুঝতে পারে, তাকে আরবি ব্যাকরণে الجملة (জুমলা) বা الْكَلَامُ (কালাম) বলা হয়। যেমন: زَيْدٌ قَائِمٌ (যাইদ দণ্ডায়মান), يَقْرَأُ الطَّالِبُ (ছাত্রটি পড়ছে)।
الجملة এর প্রকারভেদ:
গঠনগত দিক থেকে জুমলা প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত:
১. الجملة الاسمية (জুমলা ইসমিয়্যাহ / নামবাচক বাক্য):
যে জুমলার প্রথম অংশটি الإسم (বিশেষ্য) হয়, তাকে জুমলা ইসমিয়্যাহ বলে। এর দুটি মূল অংশ থাকে- মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং খবর (বিধেয়)।
উদাহরণ: اللَّهُ أَكْبَرُ (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ), مُحَمَّدٌ رَسُولٌ (মুহাম্মদ একজন রাসুল)। هنا মুহামমাদ (মুবতাদা) এবং রাসুল (খবর) মিলে জুমলা ইসমিয়্যাহ হয়েছে।
২. الجملة الفعلية (জুমলা ফিয়েলিয়্যাহ / ক্রিয়াবাচক বাক্য):
যে জুমলার প্রথম অংশটি الفعل (ক্রিয়া) হয়, তাকে জুমলা ফিয়েলিয়্যাহ বলে। এর দুটি মূল অংশ থাকে- ফিয়েল (ক্রিয়া) এবং ফায়েল (কর্তা)। ক্ষেত্রবিশেষে মফউলও (কর্ম) থাকে।
উদাহরণ: ضَرَبَ زَيْدٌ عَمْرًا (যাইদ আমরকে প্রহার করেছে), جَاءَ خَالِدٌ (খালিদ এসেছে)। এখানে جاء (ফিয়েল) এবং খালিদ (ফায়েল) মিলে জুমলা ফিয়েলিয়্যাহ হয়েছে।
বিঃদ্রঃ অর্থগত দিক থেকে জুমলা আবার ২ প্রকার: الجملة الخبرية (বিবৃতিমূলক বাক্য, যাকে সত্য বা মিথ্যা বলা যেতে পারে) এবং الجملة الإنشائية (নির্দেশ, নিষেধ বা প্রশ্নবোধক বাক্য, যাকে সত্য বা মিথ্যা বলা যায় না)।
[التوابع (তাবিসমূহ) কী? এগুলো কত প্রকার? البدل এর প্রকারগুলো উদাহরণসহ উল্লেখ কর।]
التوابع (তাওয়াবি) এর পরিচয়:
التوابع শব্দটি التابع এর বহুবচন। এর আভিধানিক অর্থ অনুসারী বা পশ্চাদগামী। নাহু বা ব্যাকরণের পরিভাষায়: التابع হলো এমন ইসম, যার নিজের কোনো স্বাধীন ই’রাব (পেশ, যবর বা জের) থাকে না, বরং সে একই আমিলের অধীনে তার পূর্ববর্তী শব্দের (যাকে মাতবু’ বলা হয়) ই’রাবকে হুবহু অনুসরণ করে।
التوابع এর প্রকারভেদ:
তাওয়াবি মোট ৫ প্রকার: ১. النعت (সিফাত বা গুণ), ২. العطف بحرف (হরফের মাধ্যমে সংযোজন), ৩. التأكيد (তাকিদ বা দৃঢ়তা), ৪. البدل (বদল বা পরিবর্ত), ৫. عطف البيان (আতফে বয়ান বা ব্যাখ্যামূলক সংযোজন)।
البدل (বদল) এর প্রকারসমূহ:
যে তাবে’ দ্বারা মূল উদ্দেশ্য ব্যক্ত করা হয় এবং পূর্ববর্তী শব্দ (মুবদাল মিনহু) কেবল একটি ভূমিকা হিসেবে আসে, তাকে বদল বলে। البدل প্রধানত ৪ প্রকার:
১. بدل الكل (বদলুল কুল): যেখানে মাতবু’ ও তাবে’ (মুবদাল মিনহু ও বদল) উভয়ে হুবহু একই সত্তা বা জিনিসকে বোঝায়। যেমন: جَاءَ أَخُوكَ زَيْدٌ (তোমার ভাই যাইদ এসেছে)। এখানে ভাই এবং যাইদ একই ব্যক্তি।
২. بدل البعض (বদলুল বা’য): যেখানে বদলটি মুবদাল মিনহুর একটি অংশমাত্র হয়। যেমন: ضُرِبَ زَيْدٌ رَأْسُهُ (যাইদের মাথায় প্রহার করা হয়েছে)। মাথা যাইদের একটি অংশ।
৩. بدل الاشتمال (বদলুল ইশতিমাল): যেখানে বদলটি মুবদাল মিনহুর কোনো গুণ অথবা সংশ্লিষ্ট বিষয় হয় (অংশ নয়)। যেমন: سُلِبَ زَيْدٌ ثَوْبُهُ (যাইদের কাপড় ছিনতাই হয়েছে)। কাপড় যাইদের অংশ নয়, তবে তার সাথে সংশ্লিষ্ট।
৪. بدل الغلط (বদলুল গালাত): যেখানে মুবদাল মিনহু ভুলবশত উচ্চারিত হয় এবং বদল দ্বারা তা সাথে সাথে সংশোধন করা হয়। যেমন: جَاءَنِي رَجُلٌ حِمَارٌ (আমার কাছে এক লোক, না না গাধা এসেছে)।
[الأسماء المرفوعات (পেশবিশিষ্ট ইসম) কী? এর প্রতিটি প্রকার উদাহরণসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
الأسماء المرفوعات এর পরিচয়:
যে সমস্ত ইসম বাক্যে আমিলের কারণে পেশ (যম্মা) বা পেশের স্থলাভিষিক্ত কোনো চিহ্ন (যেমন- ওয়াও, আলিফ) গ্রহণ করে, তাদেরকে الأسماء المرفوعات (মারফূয়াত বা পেশপ্রাপ্ত ইসম) বলা হয়।
الأسماء المرفوعات এর প্রকারভেদ:
মারফূয়াত মোট ৮ প্রকার। যথা:
১. الفاعل (ফায়েল বা কর্তা): বাক্যে যে ইসমটি ফিয়েল বা ক্রিয়ার কাজটি সম্পন্ন করে। যেমন: قَامَ زَيْدٌ (যাইদ দাঁড়াল – এখানে যাইদ فاعل)।
২. نائب الفاعل (নায়েবে ফায়েল): ফিয়েল মাজহুল (কর্মবাচ্য) এর ক্ষেত্রে আসল ফায়েল অজানা থাকায় মফউল (কর্ম) ফায়েলের স্থানে বসে পেশ গ্রহণ করে। একে المفعول الذي لم يسم فاعله ও বলা হয়। যেমন: ضُرِبَ زَيْدٌ (যাইদকে প্রহার করা হয়েছে)।
৩. المبتدأ (মুবতাদা): জুমলা ইসমিয়্যাহর প্রথম অংশ বা উদ্দেশ্য, যার সম্পর্কে বাক্যে কিছু বলা হয়। এটি সাধারণত মারেফা হয়। যেমন: زَيْدٌ قَائِمٌ (যাইদ দাঁড়ানো – এখানে زَيْدٌ مبتدأ)।
৪. الخبر (খবর): জুমলা ইসমিয়্যাহর দ্বিতীয় অংশ বা বিধেয়, যা মুবতাদা সম্পর্কে নতুন তথ্য দেয়। যেমন: زَيْدٌ قَائِمٌ (এখানে قَائِمٌ خبر)।
৫. اسم كان وأخواتها (কানা ও তার সমগোত্রীয়দের ইসম): ‘কানা’ (كَانَ) ও তার সমগোত্রীয় আফআলে নাকিছাহ বাক্যের শুরুতে এসে মুবতাদাকে পেশ দেয়, যা তাদের ইসম নামে পরিচিত হয়। যেমন: كَانَ زَيْدٌ عَالِمًا (যাইদ জ্ঞানী ছিল)।
৬. خبر إن وأخواتها (ইন্না ও তার সমগোত্রীয়দের খবর): ‘ইন্না’ (إِنَّ) ও তার সমগোত্রীয় হরুফে মুশাব্বাহ বিল ফিয়েল বাক্যের শুরুতে এসে তাদের খবরকে পেশ দেয়। যেমন: إِنَّ زَيْدًا عَالِمٌ (নিশ্চয়ই যাইদ জ্ঞানী)।
৭. اسم ما ولا المشبهتين بليس (‘মা’ ও ‘লা’ এর ইসম): লাইসা এর সদৃশ نفى (নেতিবাচক) ما ও لا বাক্যের শুরুতে এসে তাদের ইসমকে পেশ দেয়। যেমন: مَا زَيْدٌ قَائِمًا (যাইদ দাঁড়ানো নয়)।
৮. خبر لا النافية للجنس (লা নফী জিনসের খবর): যে لا সম্পূর্ণ জিনসকে নেতিবাচক করতে আসে, তার খবর পেশপ্রাপ্ত হয়। যেমন: لَا رَجُلَ قَائِمٌ (কোনো লোকই দাঁড়ানো নয়)।
السؤال الثانى (২ নং প্রশ্ন) [যেকোনো দুটি]
* تعريف علم الصرف لغة واصطلاحا
* واضع علم الصرف
* ثمرة علم الصرف
* المراد بالميزان الصرفي
[ইলমুস সরফ এর মূলনীতিসমূহ নিচের পয়েন্টগুলোর আলোকে আলোচনা কর: * শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা * এর প্রবর্তক * এর উপকারিতা * মীযানুস সরফী দ্বারা উদ্দেশ্য।]
১. علم الصرف এর সংজ্ঞা (تعريف علم الصرف):
* শাব্দিক অর্থ (لغة): الصرف শব্দের অর্থ হলো পরিবর্তন করা, রূপান্তর করা, ঘোরানো বা এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় ফেরানো।
* পারিভাষিক অর্থ (اصطلاحا): ইলমুস সরফ হলো আরবি ব্যাকরণের এমন একটি মৌলিক শাখা, যার মাধ্যমে আরবি শব্দাবলিকে (বিশেষত ফিয়েল ও ইসমুল মুশতাক) একটি মূল রূপ (মাসদার বা মূলক্ষর) থেকে বিভিন্ন অর্থে প্রকাশের জন্য বিভিন্ন রূপ বা সিগাহতে পরিবর্তন করার নিয়মাবলি জানা যায়।
২. واضع علم الصرف (ইলমুস সরফের প্রবর্তক):
ইলমুস সরফ শাস্ত্রের প্রথম প্রবর্তক কে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। তবে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য মত হলো, প্রখ্যাত সাহাবি হযরত আলী (রা.) এর নির্দেশক্রমে আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালী (রহ.) সর্বপ্রথম নাহু ও সরফের নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ করেন। পরবর্তীতে মুয়াজ বিন মুসলিম আল-হাররা (রহ.) একে নাহু থেকে পৃথক করে একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে পূর্ণাঙ্গ রূপ দান করেন।
৩. ثمرة علم الصرف (ইলমুস সরফ শিক্ষার উপকারিতা অথবা ফল):
ইলমুস সরফ শিক্ষার প্রধান উপকারিতাগুলো হলো:
* আরবি ভাষার শব্দগঠন ও রূপান্তর সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান লাভ করা।
* কুরআন ও হাদিসের শব্দগুলোর সঠিক অর্থ ও সিগাহ নিখুঁতভাবে বুঝতে পারা।
* আরবিতে কথা বলা অথবা লেখার সময় শব্দের উচ্চারণ ও গঠনে ভুলত্রুটি থেকে নিজেকে রক্ষা করা।
* আরবি অভিধান (ডিকশনারি) থেকে যেকোনো শব্দের মূল ধাতু (ماڈہ / মাদ্দা) বের করে সহজে তার অর্থ খোঁজার পদ্ধতি আয়ত্ত করা।
৪. المراد بالميزان الصرفي (মীযানুস সরফী দ্বারা উদ্দেশ্য):
الميزان الصرفي (সরফি ওজন অথবা পাল্লা) বলতে বোঝায় আরবি শব্দের মূল অক্ষরগুলোকে মাপার অথবা ওজন করার মানদণ্ড। আরবি ভাষার অধিকাংশ শব্দের মূল অক্ষর তিনটি। তাই সরফবিদগণ শব্দের মূল অক্ষরগুলোকে মাপার জন্য ‘ف’ (ফা), ‘ع’ (আইন) এবং ‘ل’ (লাম) – এই তিনটি অক্ষরকে একত্রে (فعل) মানদণ্ড বা ওজন হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। শব্দের প্রথম মূল অক্ষরকে ‘ফা-কালিমা’, দ্বিতীয়টিকে ‘আইন-কালিমা’ এবং তৃতীয়টিকে ‘লাম-কালিমা’ বলা হয়। যেমন- ‘ضَرَبَ’ শব্দটি ‘فَعَلَ’ এর ওজনে গঠিত এবং ‘عَالِمٌ’ শব্দটি ‘فَاعِلٌ’ এর ওজনে গঠিত।
[ফিয়েল এর পরিচয় দাও। অতঃপর তাজরীদ, যিয়াদাহ, জামিদ ও ইশতিকাক এর দিক থেকে এর প্রকারভেদ বর্ণনা কর।]
الفعل (ফিয়েল অথবা ক্রিয়া) এর পরিচয়:
ফিয়েল এমন একটি কালিমা (শব্দ), যা অন্য কোনো শব্দের সাহায্য ছাড়াই নিজের অর্থ নিজে পূর্ণরূপে প্রকাশ করতে পারে এবং যার অর্থের মধ্যে অতীত, বর্তমান অথবা ভবিষ্যৎ – এই তিন কালের যেকোনো একটি কাল অবশ্যই পাওয়া যায়। যেমন: ضَرَبَ (সে প্রহার করল – অতীত কাল), يَضْرِبُ (সে প্রহার করছে/করবে – বর্তমান/ভবিষ্যৎ কাল)।
التجرد والزيادة (মূল অক্ষর ও অতিরিক্ত অক্ষর) হিসেবে ফিয়েলের প্রকারভেদ:
১. الفعل المجرد (আল-ফিয়েলুল মুজাররাদ): যে ফিয়েলের মূলরূপে (অর্থাৎ মাজীর প্রথম সিগাহে) মূল অক্ষর ছাড়া অন্য কোনো অতিরিক্ত অক্ষর থাকে না। এটি দুই প্রকার:
* ثلاثي مجرد (সুলাসি মুজাররাদ): যার মূল অক্ষর ৩টি। যেমন: نَصَرَ, ضَرَبَ।
* رباعي مجرد (রুবায়ি মুজাররাদ): যার মূল অক্ষর ৪টি। যেমন: دَحْرَجَ (সে গড়াল), زَلْزَلَ।
২. الفعل المزيد (আল-ফিয়েলুল মাযীদ): যে ফিয়েলের মূলরূপে মূল অক্ষরের পাশাপাশি এক অথবা একাধিক অতিরিক্ত অক্ষর যুক্ত থাকে। এটি দুই প্রকার:
* ثلاثي مزيد فيه (সুলাসি মাযীদ ফিহি): ৩টি মূল অক্ষরের সাথে অতিরিক্ত অক্ষর থাকে। যেমন: أَكْرَمَ (মূল ك-ر-م, অতিরিক্ত أ)।
* رباعي مزيد فيه (রুবায়ি মাযীদ ফিহি): ৪টি মূল অক্ষরের সাথে অতিরিক্ত অক্ষর থাকে। যেমন: تَدَحْرَجَ (মূল د-ح-ر-ج, ت অতিরিক্ত)।
الجمود والاشتقاق (রূপান্তর বা শব্দ নির্গমন) হিসেবে ফিয়েলের প্রকারভেদ:
১. الفعل الجامد (আল-ফিয়েলুল জামিদ): যে ফিয়েল সবসময় একটি নির্দিষ্ট রূপে (সাধারণত মাজী বা অতীতকালের রূপেই) ব্যবহৃত হয় এবং যা থেকে মুযারে বা আমর এর সিগাহ রূপান্তরিত বা গঠিত হয় না। যেমন: لَيْسَ (সে নয়), عَسَى (সম্ভবত), نِعْمَ (কতই না উত্তম)।
২. الفعل المشتق / المتصرف (আল-ফিয়েলুল মুশতাক বা মুতাসাররিফ): যে ফিয়েল থেকে অন্যান্য সিগাহ (যেমন- মাজী, মুযারে, আমর, নহি ইত্যাদি) রূপান্তরিত অথবা নির্গত হয়। যেমন: كَتَبَ থেকে يَكْتُبُ, اُكْتُبْ لَا تَكْتُبْ ইত্যাদি গঠিত হয়। এটিই আরবি ভাষার সিংহভাগ ফিয়েলের বৈশিষ্ট্য।
[ই’লাল এর পরিচয় দাও এবং এর প্রকারভেদ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
الإعلال (ই’লাল) এর পরিচয়:
الإعلال শব্দের আভিধানিক অর্থ রোগাক্রান্ত করা বা ত্রুটিযুক্ত করা। সরফ শাস্ত্রের পরিভাষায়: আরবি শব্দের মধ্যে থাকা হরফে ইল্লত অথবা দুর্বল অক্ষরগুলোকে (আলিফ ا, ওয়াও و, ইয়া ي) উচ্চারণের সুবিধার্থে এবং শব্দকে হালকা ও সহজ করার উদ্দেশ্যে বিশেষ নিয়ম অনুযায়ী পরিবর্তন করা, বিলুপ্ত করা বা সাকিন করাকে الإعلال (ই’লাল) বলে। যেমন: ‘قَوَلَ’ (কাওয়ালা) শব্দটি পড়তে কঠিন, তাই ই’লাল করে একে ‘قَالَ’ (কালা) করা হয়েছে।
الإعلال এর প্রকারভেদ:
হরফে ইল্লতকে সহজ করার ধরন অনুযায়ী الإعلال প্রধানত ৩ প্রকার:
১. الإعلال بالقلب (পরিবর্তনের মাধ্যমে ই’লাল):
যেখানে উচ্চারণের সুবিধার্থে একটি হরফে ইল্লতকে অন্য একটি হরফে ইল্লত বা অন্য কোনো অক্ষরে পরিণত করা হয়।
উদাহরণ: ‘قَوَلَ’ (কাওয়ালা) এবং ‘بَيَعَ’ (বাইয়ায়া) এর ওয়াও ও ইয়া-কে আলিফে পরিবর্তন করে যথাক্রমে ‘قَالَ’ (কালা) এবং ‘بَاعَ’ (বাআ) করা হয়েছে।
২. الإعلال بالتسكين / بالنقل (সাকিন বা হরকত স্থানান্তরের মাধ্যমে ই’লাল):
যেখানে হরফে ইল্লতের ওপর পেশ বা জের পড়া কঠিন হওয়ায় তার হরকত পূর্বের সাকিন অক্ষরে স্থানান্তর করে হরফে ইল্লতকে সাকিন করা হয়।
উদাহরণ: ‘يَقْوُلُ’ (ইয়াক্বউলু) এর ওয়াও এর পেশ পূর্বের ক্বাফ-কে দিয়ে ওয়াও-কে সাকিন করে ‘يَقُوْلُ’ (ইয়াক্বূলু) করা হয়েছে।
৩. الإعلال بالحذف (বিলুপ্তির মাধ্যমে ই’লাল):
যেখানে উচ্চারণের সুবিধার্থে অথবা ব্যাকরণের বিশেষ নিয়মের কারণে হরফে ইল্লতকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত বা ফেলে দেওয়া হয়।
উদাহরণ: ‘يَوْعِدُ’ (ইয়াউয়িদু) শব্দে দুটি সাকিন একত্রিত হওয়ার ভয়ে ওয়াও-কে বিলুপ্ত করে ‘يَعِدُ’ (ইয়ায়িদু) করা হয়েছে। একইভাবে আমরের সিগাহ ‘قُوْلْ’ থেকে দুটি সাকিন একত্রিত হওয়ায় (ইলতিকায়ে সাকিনাইন) ওয়াও বিলুপ্ত করে ‘قُلْ’ (কুল) করা হয়েছে।
[হামজাতুল ক্বতা এবং হামজাতুল ওয়াসল ব্যবহারের স্থানসমূহ উদাহরণসহ লেখ।]
همزة الوصل (হামজাতুল ওয়াসল) ব্যবহারের স্থানসমূহ:
হামজাতুল ওয়াসল হলো সেই হামজা, যা বাক্যের শুরুতে থাকলে উচ্চারিত হয়, কিন্তু বাক্যের মাঝে পূর্ববর্তী শব্দের সাথে মিলিয়ে পড়ার সময় তা উচ্চারণে আসে না (উহ্য থাকে)। এর স্থানসমূহ হলো:
১. ال (আল) এর হামজা: যেকোনো ইসমকে নির্দিষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত ال এর হামজা। যেমন: الرَّجُلُ, মিলিয়ে পড়লে: وَالرَّجُلُ।
২. امر حاضر এর হামজা: সুলাসি মুজাররাদ থেকে গঠিত আমরে হাযিরের শুরুতে আসা হামজা। যেমন: اِضْرِبْ (ইদরিব), اِقْرَأْ (ইকরা)।
৩. বিশেষ কিছু ইসমের হামজা: আরবিতে ১০টি নির্দিষ্ট ইসম রয়েছে যাদের প্রথম হামজা ওয়াসল। যেমন: اسم (ইসম), ابن (ইবন), ابنة (ইবনাতুন), امرؤ (ইমরাউন), امرأة (ইমরাআতুন), اثنان (ইসনান), اثنتان (ইসনাতান)।
৪. মাযীদ ফিহি এর হামজা: বাবে افتعال (ইফতিআল), انفعال (ইনফিআল), এবং استفعال (ইস্তফআল) এর মাজী, আমর ও মাসদারের হামজা। যেমন: اِجْتَمَعَ, اِنْقَطَعَ, اِسْتَغْفَرَ।
همزة القطع (হামজাতুল ক্বতা) ব্যবহারের স্থানসমূহ:
হামজাতুল ক্বতা হলো সেই হামজা, যা বাক্যের শুরুতে অথবা মাঝে সর্বাবস্থায় উচ্চারিত হয় এবং কখনো বিলুপ্ত হয় না। এর স্থানসমূহ হলো:
১. بابة إفعال (বাবে ইফআল) এর হামজা: বাবে ইফআলের মাজী, আমর এবং মাসদারের হামজা। যেমন: أَكْرَمَ (আকরাম), أَكْرِمْ (আকরিম), إِكْرَام (ইকরাম)।
২. মুযারে এর আলামত: ওয়াহিদ মুতাকাল্লিম (উত্তম পুরুষ একবচন) এর সিগাহর শুরুতে আসা হামজা। যেমন: أَكْتُبُ (আকুতুবু – আমি লিখি), أَشْرَبُ (আশরাবু – আমি পান করি)।
৩. সকল হরফের হামজা: ال ছাড়া আরবি ভাষার সকল হরফের হামজা ক্বতা। যেমন: إِنَّ (ইন্না), أَنَّ (আন্না), أَوْ (আও), إِلَى (ইলা)।
৪. অন্যান্য সকল ইসম ও ফিয়েল: হামজাতুল ওয়াসলের উল্লেখিত সুনির্দিষ্ট স্থানগুলো ব্যতীত বাকি সকল সাধারণ ইসম (যেমন: أَحْمَد, أَب, أَخ) এবং ফিয়েলের (যেমন: أَخَذَ, أَمَرَ) হামজাই হলো হামজাতুল ক্বতা।
السؤال الثالث (৩ নং প্রশ্ন)
[নিচের অনুচ্ছেদটিকে বিশুদ্ধ আরবিতে অনুবাদ কর:]
الترجمة العربية (আরবি অনুবাদ):
السؤال الرابع (৪ নং প্রশ্ন) [যেকোনো একটি]
أو
اكتب طلبا إلى مدير المدرسة تطلب منه الإجازة لأداء العمرة-
[পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় তোমার বন্ধুকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি চিঠি লেখ।
অথবা
ওমরাহ পালনের জন্য ছুটি চেয়ে মাদরাসার অধ্যক্ষের নিকট একটি দরখাস্ত লেখ।]
উত্তর (চিঠি): رسالة تهنئة إلى صديق بالنجاح في الاختبار
المكان: دكا، بنغلاديش
أخي العزيز / صديقي الحبيب، (اسم الصديق)
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته،
تحية طيبة وبعد،
لقد تلقيت ببالغ السرور والفرح خبر نجاحك الباهر في الاختبارات النهائية وحصولك على درجات ممتازة. أبعث إليك بأحر التهاني والتبريكات بمناسبة هذا النجاح والتفوق.
إن هذا النجاح لم يأت من فراغ، بل هو ثمرة جهدك المتواصل وسهرك الطويل ومثابرتك المستمرة. أسأل الله العلي القدير أن يوفقك دائما ويسدد خطاك في مسيرتك العلمية والعملية، وأن يجعلك فخرا لوالديك ولنا جميعا.
أتمنى لك مستقبلا مشرقا ومزيدا من التفوق والنجاح.
أخوك المحب،
(اسمك)
উত্তর (দরখাস্ত): طلب إجازة لأداء العمرة
إلى السيد المحترم / مدير المدرسة
المدرسة الفاضلة، (اسم المدرسة)
الموضوع: طلب إجازة لأداء مناسك العمرة.
سيدي المحترم،
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته، وبعد:
بكل احترام وتقدير، أرفع إليكم طلبي هذا راجيا من سيادتكم الموافقة على منحي إجازة لمدة (أسبوعين)، وذلك ابتداءً من تاريخ (٢٠ يونيو) إلى (٤ يوليو)، والسبب في ذلك هو رغبتي في السفر إلى الأراضي المقدسة لأداء مناسك العمرة مع أسرتي.
وأتعهد لسيادتكم بتعويض ما يفوتني من دروس ومحاضرات فور عودتي إن شاء الله.
وتفضلوا بقبول فائق الاحترام والتقدير.
مقدم الطلب:
الطالب: (اسمك)
الصف: (الثاني فضل)
الرقم: (١٢)
السؤال الخامس (৫ নং প্রশ্ন) [যেকোনো একটি]
(الف) اليوم العالمى للغة العربية؛
(ب) واجبات الطلاب؛
(ج) مطالعة الكتب-
[নিচের যেকোনো একটি বিষয়ের ওপর আরবিতে প্রবন্ধ লেখ: (ক) আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা দিবস (খ) ছাত্রদের দায়িত্ব ও কর্তব্য (গ) বই পড়া]
বিকল্প উত্তর: مقالة: اليوم العالمى للغة العربية (প্রবন্ধ: আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা দিবস)
اللغة العربية هي لغة القرآن الكريم ولغة أهل الجنة، وهي من أقدم اللغات وأكثرها انتشاراً وجمالاً في العالم. وتقديراً لأهمية هذه اللغة العظيمة ومكانتها السامية، تحتفل الأمم المتحدة والمنظمات الدولية باليوم العالمي للغة العربية في الثامن عشر من شهر ديسمبر من كل عام. هذا اليوم هو فرصة عظيمة للاحتفاء بجماليات لغة الضاد وإسهاماتها الكبيرة في بناء الحضارة الإنسانية عبر التاريخ.
أهمية اللغة العربية:
تتميز اللغة العربية بثرائها اللغوي والمفرداتي الهائل، وقدرتها الفائقة على التعبير عن أدق المعاني والمشاعر بأسلوب بلاغي ساحر. كما أنها لغة الدين الإسلامي الخاتم، فلا يمكن للمسلم أن يفهم دينه ومصادره بشكل كامل أو يؤدي صلواته وعباداته إلا بها. علاوة على ذلك، كانت اللغة العربية لغة العلم والأدب والفلسفة والطب في العصور الوسطى، وقد حفظت التراث الإنساني القديم ونقلته بأمانة إلى العصر الحديث.
الاحتفال باليوم العالمي:
في هذا اليوم المميز، تُنظم العديد من الفعاليات والمؤتمرات والندوات الثقافية في المدارس والجامعات والمراكز حول العالم. يتم التركيز في هذه الفعاليات على تعزيز انتشار اللغة العربية، وتشجيع الشباب على القراءة والكتابة والتحدث بها، وتطوير أساليب تدريسها للناطقين بغيرها. كما يتم تكريم الأدباء والعلماء والشعراء الذين ساهموا في إثراء المحتوى العربي والحفاظ على هويته.
خاتمة:
إن الاحتفال باليوم العالمي للغة العربية ليس مجرد يوم عابر في السنة، بل هو تذكير دائم بضرورة الاعتزاز بلغتنا وهويتنا وتراثنا. من واجبنا جميعاً، حكومات وأفراداً ومؤسسات تعليمية، أن نعمل يداً بيد للحفاظ على لغتنا الأم، وحمايتها من التهميش في عصر العولمة، والعمل بجد على نشرها لتظل دائماً لغة حية ومشرقة ورائدة في سماء الثقافة العالمية.
বিকল্প উত্তর: مقالة: واجبات الطلاب (প্রবন্ধ: ছাত্রদের দায়িত্ব ও কর্তব্য)
الطلاب هم أمل الأمة وعماد المستقبل، وبناة حضارتها المشرقة. على أكتافهم تبنى الحضارات وتتقدم المجتمعات وتنهض الأوطان. ولذلك، فإن مرحلة الشباب والطلب هي من أهم مراحل الحياة، فهي مرحلة التأسيس والبناء. ولكي يحقق الطالب أهدافه النبيلة ويصبح عضوا نافعاً وفعالاً في مجتمعه، لا بد أن يلتزم بمجموعة من الواجبات الأساسية التي تضمن له التفوق والنجاح.
الواجبات تجاه الله والنفس:
أول وأهم واجب على الطالب هو إخلاص النية لله تعالى في طلب العلم، لأن طلب العلم فريضة وعبادة يتقرب بها الإنسان إلى خالقه. كما يجب عليه المحافظة على أداء الصلوات في أوقاتها والالتزام بالأخلاق الفاضلة والآداب الإسلامية. ومن واجبه تجاه نفسه أن يحافظ على صحته الجسدية والعقلية، ويتجنب كل ما يضر بها. وعليه أن ينظم وقته بشكل جيد ومدروس بين الدراسة والراحة والعبادة، لأن الوقت كالسيف إن لم تقطعه قطعك، والوقت الضائع لا يعود أبداً.
الواجبات تجاه الوالدين والمعلمين:
الوالدان هما السبب المباشر في وجود الطالب، وهما من يضحيان براحتهما ومالهما من أجل تعليمه وتوفير سبل الراحة له. لذا يجب عليه طاعتهما، واحترامهما، والدعاء لهما، وإدخال السرور على قلوبهما بنجاحه. أما المعلمون فهم ورثة الأنبياء في نشر العلم، وهم الشموع التي تحترق لتضيء درب الآخرين. ومن واجب الطالب أن يستمع إليهم بانتباه شديد، ويحترمهم ويوقرهم، ولا يرفع صوته فوق صوتهم، وأن يسألهم بأدب وتواضع عما خفي عليه فهمه.
الواجبات تجاه الدراسة والمجتمع:
يجب على الطالب أن يجتهد في دراسته، ويواظب على الحضور إلى المدرسة والمطالعة المستمرة، ولا يؤجل عمل اليوم إلى الغد. وعليه أن يبتعد تماماً عن الغش في الامتحانات لأنه خيانة للأمانة وتدمير للمستقبل. كما يجب عليه الحفاظ على ممتلكات المدرسة ونظافتها. وبالنسبة للمجتمع، يجب على الطالب المشاركة في الأنشطة المفيدة التي تخدم وطنه ومجتمعه، وأن يكون قدوة حسنة للآخرين في سلوكه وأخلاقه، وأن يسعى دائماً لنشر الخير والمحبة بين الناس.
خاتمة:
إن التزام الطالب بواجباته المتعددة هو مفتاح النجاح والفلاح في الدنيا والآخرة. وإذا قام كل طالب بدوره على أكمل وجه، وتحمل مسؤوليته بصدق وأمانة، فإن أمتنا ستستعيد مجدها التليد وتصبح في طليعة الأمم المتقدمة. فالعلم هو النور الذي يضيء طريق المستقبل، والطلاب هم حاملو شعلة هذا النور.
বিকল্প উত্তর: مقالة: مطالعة الكتب (প্রবন্ধ: বই পড়া)
تعتبر المطالعة وقراءة الكتب من أهم الركائز الأساسية التي تبنى عليها شخصية الإنسان وتتوسع مداركه وثقافته. إن الكتاب هو خير جليس في الزمان، وهو النافذة الواسعة التي نطل منها على عقول المفكرين والعلماء وعلى حضارات وثقافات الأمم المختلفة. المطالعة ليست مجرد هواية بسيطة لتمضية وقت الفراغ، بل هي ضرورة ملحة وغذاء للروح لكل إنسان يسعى للرقي وتطوير ذاته في هذا العصر الذي يعتمد بشكل كلي على المعرفة.
فوائد مطالعة الكتب:
لمطالعة الكتب فوائد عظيمة لا تعد ولا تحصى. فمن الناحية العقلية، تعمل القراءة على تنشيط الدماغ وتحسين الذاكرة وزيادة القدرة على التركيز والتحليل والتفكير النقدي. ومن الناحية الثقافية، تزود الإنسان بالمعلومات الغزيرة وتوسع آفاق تفكيره، وتجعله قادراً على الحوار والنقاش بثقة وقوة إقناع. كما أن القراءة المستمرة تحسن من مهارات اللغة والتعبير وتثري الحصيلة اللغوية للقارئ بشكل ملحوظ.
اختيار الكتب المفيدة:
لا شك أن المطالعة مفيدة جداً، ولكن يجب على القارئ، وخاصة الشباب والطلاب، أن يحسنوا اختيار الكتب التي يطالعونها. يجب توجيه الاهتمام نحو الكتب العلمية والتاريخية والدينية والأدبية التي تبني العقل وتهذب النفس وتغرس القيم النبيلة. وفي المقابل، يجب الحذر والابتعاد عن الكتب التي تروج للأفكار الهدامة أو تضيع الوقت والجهد بلا أي فائدة ترجى.
خاتمة:
إن الأمة التي تقرأ هي أمة تقود وتتقدم وتصنع التاريخ. يجب علينا أن نجعل من مطالعة الكتب عادة يومية متأصلة في حياتنا، وأن نشجع أبناءنا منذ الصغر على حب القراءة واقتناء الكتب وتكوين مكتبة منزلية. فالكتاب هو النور الذي يبدد ظلام الجهل، وهو الصديق الوفي والمخلص الذي لا يبخل عليك بنصيحة أو معلومة متى ما احتجت إليها.






