ফিকহুল হাদিস (৫০২১০৪) প্রশ্ন ও সমাধান – কামিল মাস্টার্স (আল হাদীস) পরীক্ষা ২০২৪ | Fiqhul Hadith (502104) QnA – Kamil Hadith 2024

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
Fiqhul Hadith QnA Kamil Masters 2024
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

১৫৬

পরীক্ষা কোড: ৫০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ১১১ | বিষয় কোড: ৫০২১٠٤

اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة) لعام ٢٠٢٤

[কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২৪]

الحديث والدراسات الإسلامية

[আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

فقه الحديث

[ফিকহুল হাদিস]

الوقت – ٤ ساعات [সময় – ৪ ঘণ্টা] | الدرجة الكاملة – ١٠٠ [পূর্ণমান – ১০০]

[الملاحظة: أجب عن خمسة من مجموعة (أ) وعن اثنين من مجموعة (ب).]
[বিঃদ্রঃ: ‘ক’ বিভাগ থেকে ৫টি এবং ‘খ’ বিভাগ থেকে ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]

مجموعة (أ) [ক-বিভাগ]

الدرجة – ١٦x٥ = ٨٠ [মান: ১৬x৫ = ৮০]

(ترجم خمسة من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بها)
(নিচের যেকোনো ৫টি হাদিসের অনুবাদ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও)

١. عن ابن عمرو رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: وقت الظهر إذا زالت الشمس، وكان ظل الرجل كطوله ما لم تحضر العصر ووقت العصر ما لم تصفر الشمس، ووقت صلاة المغرب ما لم يغب الشفق ووقت صلاة العشاء إلى نصف الليل الأوسط ووقت صلاة الصبح من طلوع الفجر ما لم تطلع الشمس.

(أ) اذكر اختلاف الأئمة في انتهاء وقت الظهر وابتداء وقت العصر، بين بالأدلة.

(ب) اكتب نبذة عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنه.
(১. আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জোহরের ওয়াক্ত হলো যখন সূর্য হেলে পড়ে এবং মানুষের ছায়া তার সমপরিমাণ হয়, যতক্ষণ না আসরের ওয়াক্ত উপস্থিত হয়। আসরের ওয়াক্ত থাকে সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ না করা পর্যন্ত। মাগরিবের ওয়াক্ত থাকে শفق (গোধূলি) অদৃশ্য না হওয়া পর্যন্ত। এশার ওয়াক্ত থাকে মধ্যরাত পর্যন্ত। আর ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয় সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত।

(ক) জোহরের ওয়াক্ত শেষ হওয়া এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হওয়া সম্পর্কে ইমামদের মতভেদ দলিলসহ বর্ণনা করো।

(খ) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা.-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখো।)
রচনামূলক উত্তর:
(ক) জোহর শেষ ও আসর শুরু হওয়ার ব্যাপারে ইমামদের মতভেদ:
জোহরের শেষ এবং আসরের শুরু নিয়ে ফিকহবিদদের মাঝে মতভেদ রয়েছে।

১. ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মত: তাঁর মতে, জোহরের ওয়াক্ত শেষ হয় যখন কোনো বস্তুর ছায়া (দুপুরের আসল ছায়া বাদে) তার দ্বিগুণ হয়। তখন আসর শুরু হয়। তাঁর দলিল হলো, রাসূল (সা.) বলেছেন, “গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের শ্বাস-প্রশ্বাসের কারণে হয়, তাই তোমরা গরমের সময় জোহর দেরিতে পড়ো।” আর আরবে ছায়া দ্বিগুণ হওয়ার আগে রোদ বা গরম কমে না।

২. জমহুর ওলামার মত: ইমাম শাফেয়ী, মালেক, আহমাদ এবং সাহিবাইন (ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ.)-এর মতে, বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হলেই জোহরের ওয়াক্ত শেষ এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়। তাদের শক্তিশালী দলিল হলো স্বয়ং জিব্রাইল (আ.)-এর ইমামতি সংক্রান্ত হাদিস এবং এই উল্লিখিত আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের হাদিসটি, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে “ছায়া সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত জোহরের ওয়াক্ত থাকে।”

(খ) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রা.-এর জীবনী:
তাঁর নাম আব্দুল্লাহ, পিতার নাম আমর ইবনুল আস (রা.)। তিনি কুরাইশ বংশের সাহাবি ছিলেন এবং তাঁর পিতার আগেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি রাসূল (সা.)-এর হাদিসসমূহ নিজ হাতে লিখে রাখতেন, তার সেই সংকলনের নাম ছিল ‘আস-সহিফাহ আস-সাদিকাহ’। তিনি অত্যন্ত ইবাদতগুজার ছিলেন, প্রতিদিন রোজা রাখতেন এবং প্রতি রাতে কুরআন খতম করতেন (পরে রাসূল সা.-এর নির্দেশে তা কমান)। তিনি ৬৫ হিজরিতে (মতান্তরে ৭২ হিজরিতে) ইন্তেকাল করেন।

٢. عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: لا صلاة بعد الصبح حتى تطلع الشمس، ولا صلاة بعد العصر حتى تغيب الشمس.

(أ) اكتب مواقيت الصلوات الخمس بالأدلة.

(ب) بين الأوقات المنهية فيها الصلوات.
(২. আবু সাঈদ খুদরী রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত কোনো নামাজ নেই, এবং আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো নামাজ নেই।

(ক) দলিলসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সীমা লেখো।

(খ) নামাজ পড়ার নিষিদ্ধ সময়গুলো বর্ণনা করো।)
রচনামূলক উত্তর:
(ক) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সীমা:
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) এবং জিব্রাইল (আ.)-এর ইমামতি সংক্রান্ত হাদিসগুলো নামাজের সময়ের মূল দলিল।

১. ফজর: সুবহে সাদিক (ভোরের আলো) থেকে শুরু করে সূর্যোদয়ের আগ পর্যন্ত।

২. জোহর: সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার (জাওয়াল) পর থেকে শুরু করে বস্তুর ছায়া একগুণ (জমহুরের মতে) বা দ্বিগুণ (ইমাম আবু হানিফার মতে) হওয়া পর্যন্ত।

৩. আসর: জোহরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। তবে সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করার পর পড়া মাকরুহ।

৪. মাগরিব: সূর্যাস্তের পর থেকে শফক (পশ্চিমাকাশের লাল বা সাদা আভা) দূর হওয়া পর্যন্ত।

৫. এশা: শফক দূর হওয়ার পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত। তবে মধ্যরাতের আগে পড়া উত্তম।

(খ) নিষিদ্ধ সময়:
নামাজ পড়ার নিষিদ্ধ সময়গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

মাকরুহে তাহরিমি (সম্পূর্ণ হারাম): ৩টি সময়ে যেকোনো (ফরজ, নফল, কাজা, জানাজা) নামাজ পড়া নিষেধ। ১. ঠিক সূর্যোদয়ের সময়, ২. সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপর থাকে (জাওয়ালের সময়), এবং ৩. সূর্যাস্তের সময় (তবে ওই দিনের আসর পড়া না থাকলে পড়া যাবে)।

নফল নামাজ নিষিদ্ধ: উল্লেখিত হাদিস অনুযায়ী ফজরের নামাজের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের নামাজের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেকোনো নফল নামাজ পড়া নিষেধ, তবে এই সময়ে কাজা নামাজ পড়া যাবে।

٣. عن سمرة بن جندب رضي الله عنه قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا صلى صلاة أقبل علينا بوجهه. أخرجه البخاري. ولمسلم عن أنس رضي الله عنه قال: أكثر ما رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم ينصرف عن يمينه. وللبخاري عن ابن مسعود رضي الله عنه قال: لقد رأيت النبي صلى الله عليه وسلم كثيرا ينصرف عن يساره.

(أ) تحدث عن الأذكار الواردة بعد التسليم من الفرض.

(ب) هل يجب للمفترض أن يتحول في مكانه للتطوع؟ بين.
(৩. সামুরা ইবনে জুনদুব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী কারীম (সা.) যখন নামাজ শেষ করতেন তখন আমাদের দিকে চেহারা ফিরিয়ে বসতেন… (বুখারি, মুসলিম ও ইবনে মাসউদের বর্ণনাসহ)।

(ক) ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর পঠিতব্য জিকিরসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করো।

(খ) ফরজ আদায়কারীর জন্য কি নফল পড়ার নিমিত্তে স্থান পরিবর্তন করা ওয়াজিব? বর্ণনা করো।)
রচনামূলক উত্তর:
(ক) ফরজ নামাজের পরের জিকিরসমূহ:
ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর রাসূল (সা.) থেকে বিভিন্ন জিকির ও দোয়া প্রমাণিত রয়েছে। যেমন:

১. সালাম ফেরানোর পরপরই একবার ‘আল্লাহু আকবার’ এবং তিনবার ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ পড়া।

২. এরপর পড়া: “আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম।”

৩. আয়াতুল কুরসি পাঠ করা (হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পড়বে, তার জান্নাতে যাওয়ার মাঝে কেবল মৃত্যু বাধা হয়ে থাকে)।

৪. তাসবিহে ফাতেমি পাঠ করা: ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ, ৩৩ বা ৩৪ বার আল্লাহু আকবার এবং শেষে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু…’ পড়া।

(খ) নফলের জন্য স্থান পরিবর্তনের বিধান:
ফরজ নামাজের পর সুন্নত বা নফল আদায়ের জন্য স্থান পরিবর্তন করা ওয়াজিব বা ফরজ নয়, তবে এটি মুস্তাহাব (উত্তম) ও সুন্নাত। এর সপক্ষে যুক্তি ও দলিল হলো:

১. মুয়াবিয়া (রা.) নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, ফরজ নামাজের সাথে নফলকে যেন যুক্ত না করা হয়, যতক্ষণ না কথা বলা হয় বা স্থান পরিবর্তন করা হয়।

২. এর একটি হেকমত হলো জমিনের বিভিন্ন স্থান যেন কেয়ামতের দিন সেজদাকারীর পক্ষে বেশি বেশি সাক্ষ্য দেয়।

৩. এতে করে ফরজ এবং নফলের মাঝে সুস্পষ্ট পার্থক্য সৃষ্টি হয়, যা শরিয়তের কাম্য।

٤. عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعا: صل الصبح بغلس فإنه أعظم للأجر. وعن رافع بن خديج رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: أسفروا بالفجر فإنه أعظم للأجر.

(أ) الحديثان متعارضان فكيف التطبيق بينهما؟

(ب) اكتب نبذة عن أبي هريرة رضي الله عنه.
(৪. আবু হুরায়রা রা. হতে মারফু সূত্রে বর্ণিত: তোমরা ফজর নামাজ অন্ধকারে (গালাস) পড়ো, কারণ এতে সওয়াব বেশি। এবং রাফে ইবনে খাদিজ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন: ফজর নামাজ ফর্সা করে পড়ো, কারণ এতে সওয়াব বেশি।

(ক) হাদিস দুটির মাঝে বাহ্যিক বৈপরীত্য রয়েছে, এর সমন্বয় কীভাবে করবে?

(খ) আবু হুরায়রা রা.-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখো।)
রচনামূলক উত্তর:
(ক) হাদিসের মাঝে সমন্বয়:
ফজরের নামাজ অন্ধকারে শুরু করা উত্তম নাকি ফর্সা করে পড়া উত্তম, তা নিয়ে ফকিহদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। শাফেয়ী ও মালেকী মাজহাবে ‘গালাস’ বা অন্ধকারে পড়া উত্তম, আর হানাফী মাজহাবে ‘ইসফার’ বা ফর্সা করে পড়া উত্তম। এই বাহ্যিক বৈপরীত্যের সমন্বয় এভাবে করা যায়:

১. হানাফী আলেমদের মতে, ফজরের নামাজ শুরু করতে হবে অন্ধকারে (গালাসে) এবং সুন্নাত অনুযায়ী দীর্ঘ কেরাত পাঠ করে নামাজ শেষ করতে করতে চারপাশ ফর্সা (ইসফার) হয়ে যাবে। এতে করে উভয় হাদিসের ওপর আমল হয়ে যায়।

২. মুজদালিফায় হাজিদের জন্য ফজর অন্ধকারে পড়া উত্তম, আর অন্যান্য স্থানে জামায়াতের সাথে ফর্সা করে পড়া উত্তম।

(খ) আবু হুরায়রা রা.-এর জীবনী:
তাঁর আসল নাম আব্দুর রহমান ইবনে সাখর আদ-দাওসি। ইসলাম গ্রহণের আগে তাঁর নাম ছিল আবদে শামস। তিনি একটি বিড়াল ছানা সাথে রাখতেন বলে রাসূল (সা.) তাঁকে ‘আবু হুরায়রা’ (বিড়াল ছানার পিতা) বলে ডাকতেন। তিনি ৭ম হিজরিতে খায়বার যুদ্ধের সময় ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি আসহাবে সুফফার সদস্য ছিলেন এবং দিনরাত রাসূল (সা.)-এর সাহচর্যে থেকে সর্বাধিক ৫,৩৭৪ টি হাদিস বর্ণনা করেন। রাসূল (সা.)-এর দোয়ায় তাঁর স্মরণশক্তি প্রখর হয়েছিল। তিনি ৫৭ বা ৫৯ হিজরিতে মদিনায় ইন্তেকাল করেন।

٥. عن أبي أمامة رضي الله عنه: قيل يا رسول الله! أي الدعاء أسمع؟ قال: جوف الليل الآخر ودبر الصلوات المكتوبات. وعن الفضل مرفوعا: الصلوة مثنى مثنى تشهد في كل ركعتين وتخشع وتضرع وتسكن وتقنع يديك يقول: ترفعهما إلى ربك مستقبلا ببطونهما وجهك وتقول: يا رب يا رب، من لم يفعل ذلك فهي كذا وكذا وفي لفظ فهو خداج.

(أ) ما حكم رفع اليدين دبر الصلوات المكتوبة بالدعاء؟ بين.

(ب) اكتب آداب الدعاء إلى الله تعالى.
(৫. আবু উমামা রা. হতে বর্ণিত: বলা হলো ইয়া রাসূলুল্লাহ! কোন দোয়া সবচেয়ে বেশি কবুল হয়? তিনি বললেন: রাতের শেষভাগের দোয়া এবং ফরজ নামাজের পরের দোয়া। ফজল রা. থেকে বর্ণিত… হাত তুলে দোয়া করার পদ্ধতি… যে এমন করে না তার নামাজ অসম্পূর্ণ।

(ক) ফরজ নামাজের পর হাত তুলে দোয়া করার বিধান কী? বর্ণনা করো।

(খ) আল্লাহ তায়ালার নিকট দোয়া করার আদবসমূহ লেখো।)
রচনামূলক উত্তর:
(ক) ফরজ নামাজের পর হাত তুলে দোয়ার বিধান:
ফরজ নামাজের পর হাত তুলে দোয়া করা একটি মুস্তাহাব আমল। বিভিন্ন সহিহ হাদিস থেকে প্রমাণিত যে রাসূল (সা.) দোয়ার সময় হাত উত্তোলন করতেন। ইমাম বুখারি (রহ.) ‘আদাবুল মুফরাদ’ গ্রন্থে এবং ইমাম নববী (রহ.) এ ব্যাপারে ইতিবাচক অভিমত দিয়েছেন। তবে নামাজের পর প্রচলিত সম্মিলিত মোনাজাতকে অনেক আলেম বিদআত বললেও, ব্যক্তিগতভাবে হাত তুলে দোয়া করা সর্বসম্মতভাবে উত্তম ও সুন্নাত সম্মত একটি আমল।

(খ) দোয়ার আদবসমূহ:
দোয়া কবুলের জন্য বেশ কিছু আদব রয়েছে:
১. হালাল উপার্জন এবং হালাল খাদ্য ভক্ষণ করা (এটি দোয়া কবুলের পূর্বশর্ত)।
২. ওজু অবস্থায় কেবলামুখী হওয়া।
৩. আল্লাহর দরবারে বিনয়ের সাথে উভয় হাত বুক পর্যন্ত উত্তোলন করা।
৪. দোয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা (হামদ) ও রাসূল (সা.)-এর ওপর দুরুদ পাঠ করা এবং শেষেও দুরুদ পড়া।
৫. কাকুতি-মিনতি, বিনয় এবং দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে আল্লাহর কাছে চাওয়া।
৬. নিচু ও মোলায়েম স্বরে দোয়া করা।

٦. وعن ابن عمر رضي الله عنه قال: إذا رعف الرجل في الصلاة أو ذرعه القيء أو وجد مذيا فإنه ينصرف فليتوضأ ثم ليرجع فليتم ما بقي على ما مضى. وعن عائشة رضي الله عنها مرفوعا: إذا صلى أحدكم فأحدث فليمسك على أنفه ثم لينصرف.

(أ) ما هي نواقض الصلاة؟ بين.

(ب) هل الإشارة في الصلوة تفسد الصلوة؟ بين في ضوء الحديث.
(৬. ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত: যদি নামাজের ভেতর কারও নাক দিয়ে রক্ত ঝরে, বা বমি আসে বা মজি বের হয় তবে সে যেন ফিরে গিয়ে ওজু করে আসে এবং অবশিষ্ট নামাজ পূর্ণ করে। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত… কেউ অপবিত্র হলে নাক চেপে ধরে বেরিয়ে যাবে।

(ক) নামাজ ভঙ্গের কারণগুলো কী কী? বর্ণনা করো।

(খ) নামাজে ইশারা করলে কি নামাজ নষ্ট হয়? হাদিসের আলোকে বর্ণনা করো।)
রচনামূলক উত্তর:
(ক) নামাজ ভঙ্গের কারণ (নাওয়াকিজুস সালাহ):
যেসব কারণে নামাজ ভেঙে যায় বা বাতিল হয়ে যায়:
১. নামাজে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় কথা বলা।
২. নামাজে শব্দ করে হাসা (এতে ওজুও ভেঙে যায়)।
৩. আমলে কাসির (এমন বড় কাজ করা যা দেখলে মনে হয় ব্যক্তি নামাজে নেই)।
৪. পানাহার করা বা চিবানো।
৫. বিনা ওজরে কিবলা থেকে বুক ঘুরে যাওয়া।
৬. সতর খুলে যাওয়া এবং তা এক রোকন পরিমাণ সময় খোলা থাকা।
৭. ওজু ভেঙে যাওয়া (তবে মাসআলা অনুযায়ী ওজু করে এসে বাকি নামাজ পূর্ণ করার নিয়মও আছে)।

(খ) নামাজে ইশারার বিধান:
নামাজে সামান্য ইশারা বা সংকেত দিলে (যাকে আমলে কালিল বলা হয়) নামাজ নষ্ট হয় না। সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূল (সা.) নামাজরত অবস্থায় সালামের উত্তরে হাত বা আঙুল দিয়ে ইশারা করেছেন। জাবের (রা.)-এর হাদিসেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে অপ্রয়োজনে বা খেলাচ্ছলে ইশারা করা মাকরুহ। যদি ইশারা এত বেশি হয় যা ‘আমলে কাসির’ এর পর্যায়ে পড়ে, তবে নামাজ ভেঙে যাবে।

٧. عن أبي محذورة رضي الله أن النبي صلى الله عليه وسلم علمه الأذان فذكر فيه الترجيع. وعن أنس رضي الله عنه قال: أمر بلال أن يشفع الأذان ويوتر الإقامة وزاد البخاري: إلا الإقامة يعني قد قامت الصلوة.

(أ) ما المراد بالترجيع؟ وما حكمه؟ بين بالأدلة.

(ب) هل الإقامة مفردة أم مثنى؟ وضح مع اختلاف الأئمة بالدلائل.
(৭. আবু মাহজুরা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী (সা.) তাকে আজান শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাতে তারজি-এর উল্লেখ করেছেন। আনাস রা. থেকে বর্ণিত, বিলাল রা.-কে আজান জোড় শব্দে এবং একামত বেজোড় শব্দে বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল…

(ক) তারজি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? এর হুকুম কী? দলিলসহ লেখো।

(খ) একামত কি বেজোড় শব্দে হবে নাকি জোড় শব্দে? ইমামদের মতভেদ ও দলিলসহ স্পষ্ট করো।)
রচনামূলক উত্তর:
(ক) তারজি-এর পরিচয় ও বিধান:
‘তারজি’ অর্থ পুনরাবৃত্তি করা। আজানের ক্ষেত্রে শাহাদাতাইন (আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ) প্রথমে নিচু স্বরে দুবার পড়া এবং এরপর আবার উচ্চ স্বরে দুবার পাঠ করাকে ‘তারজি’ বলে।
হুকুম: ইমাম শাফেয়ী ও মালেক (রহ.)-এর মতে তারজি করা সুন্নাত (আবু মাহজুরার হাদিস এর দলিল)। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে এটি সুন্নাত নয়; তাঁর যুক্তি হলো, বেলাল (রা.)-এর নিয়মিত আজানে তারজি ছিল না, আবু মাহজুরাকে শেখানোর জন্য রাসূল (সা.) হয়তো পুনরাবৃত্তি করেছিলেন।

(খ) একামতের শব্দ: জোড় না বেজোড়?
এ বিষয়ে ইমামদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে:

১. ইমাম আবু হানিফার মত: আজানের মতো একামতের বাক্যগুলোও জোড় জোড় (দুইবার করে) বলতে হবে। তাদের দলিল হলো আনাস (রা.)-এর অপর বর্ণনা এবং আবু মাহজুরা (রা.)-এর একামতের বর্ণনা যেখানে ১৫টি বাক্য রয়েছে।

২. ইমাম শাফেয়ী ও হাম্বলির মত: তাদের মতে একামতের বাক্যগুলো বেজোড় (একবার করে) বলতে হবে, শুধু ‘কাদ কামাতিস সালাহ’ দুইবার বলতে হবে। উল্লিখিত আনাস (রা.)-এর হাদিস (أمر بلال أن يشفع الأذان ويوتر الإقامة) তাদের মূল দলিল।

٨. عن عمران بن حصين رضي الله عنه قال: كانت بي بواسير، فسألت النبي صلى الله عليه وسلم فقال: صل قائما فإن لم تستطع فقاعدا فإن لم تستطع فعلى جنب. وعن عائشة رضي الله عنها قالت: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يصلي متربعا.

(أ) متى يجوز للمريض أن يصلي جالسا على الكرسي؟

(ب) تحدث عن الأعذار التي يجوز لها تأخير الصلاة.
(৮. ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার অর্শ রোগ ছিল, আমি নবী (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো, না পারলে বসে, তা-ও না পারলে শুয়ে পড়ো। আয়েশা রা. বলেন: আমি রাসূল (সা.)-কে চারজানু হয়ে বসে নামাজ পড়তে দেখেছি।

(ক) অসুস্থ ব্যক্তির জন্য কখন চেয়ারে বসে নামাজ পড়া জায়েজ?

(খ) যেসব ওজরের কারণে নামাজ দেরিতে পড়া জায়েজ, তা আলোচনা করো।)
রচনামূলক উত্তর:
(ক) চেয়ারে বসে নামাজ পড়ার বিধান:
মূল নিয়ম হলো, ফরজ নামাজে দাঁড়ানো (কিয়াম) ফরজ। যদি কোনো অসুস্থ ব্যক্তির দাঁড়াতে তীব্র কষ্ট হয়, তবে সে মাটিতে বসে (চারজানু বা তাশাহহুদের মতো) রুকু-সেজদা করে নামাজ পড়বে। যদি মাটিতে বসেও স্বাভাবিক রুকু-সেজদা করতে না পারে, তবে মাটিতে বসেই ইশারায় রুকু-সেজদা করবে। যদি ফ্লোরে/মাটিতে বসতে একেবারেই অক্ষম হয় (যেমন- হাঁটু ভাঁজ করতে না পারা), তবেই কেবল তার জন্য চেয়ারে বসে নামাজ পড়া এবং ইশারায় রুকু-সেজদা করা জায়েজ। সামান্য ব্যথায় অযথা চেয়ারে বসা বৈধ নয়।

(খ) নামাজ দেরিতে পড়ার ওজর:
ইসলামি শরিয়তে সাধারণ অবস্থায় ওয়াক্তমতো নামাজ পড়া ফরজ। তবে কিছু ওজরের কারণে নামাজ বিলম্বিত বা কাজা হয়ে গেলে তা মার্জনীয় (পরে কাজা করে নিতে হয়):
১. ঘুমিয়ে পড়া: যদি কেউ নামাজের ওয়াক্ত হওয়ার আগে ঘুমিয়ে পড়ে এবং ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর জাগে।
২. ভুলে যাওয়া (নিসয়ান): নামাজের কথা একেবারেই ভুলে গেলে স্মরণ হওয়ামাত্র পড়তে হবে।
৩. তীব্র ভয় বা যুদ্ধ (সালাতুল খাউফ): শত্রুর আক্রমণ বা যুদ্ধের ময়দানে জীবননাশের তীব্র আশঙ্কায় নামাজ বিলম্ব করা যায় (যেমন খন্দকের যুদ্ধে রাসূল সা. আসরের নামাজ দেরিতে পড়েছিলেন)।


مجموعة (ب) [খ-বিভাগ]

الدرجة – ١٠x٢ = ٢٠ [মান: ১০x২ = ২০]

(أجب عن اثنين من الأسئلة الآتية) (নিচের যেকোনো ২টি প্রশ্নের উত্তর দাও)

٩. اكتب ترجمة المفتي عميم الإحسان البركتي رحمه الله مع بيان مساهمته في علم الحديث.
(৯. মুফতি আমিমুল ইহসান আল-বারকাতী (রহ.)-এর জীবনী এবং ইলমে হাদিসে তাঁর অবদান বর্ণনা করো।)
রচনামূলক উত্তর:
মুফতি সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আমিমুল ইহসান মুজাদ্দেদী বারকাতী (রহ.) ছিলেন উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ, ফকিহ এবং মুহাদ্দিস।

জীবনী: তিনি ১৯১১ সালে ভারতের বিহারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তীতে সেখানেই শিক্ষকতা করেন। দেশভাগের পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হেড মাওলানা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের প্রথম খতিব ছিলেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন।

ইলমে হাদিসে অবদান: ইলমে হাদিসে তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে। তিনি হানাফি ফিকহের স্বপক্ষে হাদিসের প্রমাণাদি অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে “ফিকহ আস-সুনান ওয়াল আসার” নামক অনবদ্য গ্রন্থ রচনা করেন। এছাড়া তিনি “কাওয়ায়িদুল ফিকহ”, “ফতোয়ায়ে বারকাতিয়া” সহ অনেক গ্রন্থ রচনা, সম্পাদনা ও অনুবাদ করেছেন। হাদিস শাস্ত্রে তাঁর পান্ডিত্য ছিল সর্বজনস্বীকৃত।

١٠. بين خصائص وميزات فقه السنن والآثار.
(১০. ‘ফিকহুস সুনান ওয়াল আসার’ গ্রন্থটির বৈশিষ্ট্য ও স্বাতন্ত্র্য বর্ণনা করো।)
রচনামূলক উত্তর:
‘ফিকহ আস-সুনান ওয়াল আসার’ গ্রন্থটি মুফতি আমিমুল ইহসান (রহ.) রচিত একটি কালজয়ী কিতাব। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

১. হাদিস ও ফিকহের সমন্বয়: এই গ্রন্থে হানাফি ফিকহের মাসয়ালাগুলোকে সহিহ হাদিস দ্বারা অত্যন্ত সাবলীলভাবে প্রমাণ করা হয়েছে।

২. অধ্যায়ভিত্তিক বিন্যাস: ফিকহের অন্যান্য কিতাবের মতো এটি কিতাবুত তাহারাত, সালাত, জিকাত ইত্যাদি অধ্যায়ে সুবিন্যস্ত, যা থেকে মাসয়ালা খুঁজে বের করা অত্যন্ত সহজ।

৩. সনদ ও মতন বিশ্লেষণ: প্রতিটি মাসয়ালার স্বপক্ষে ব্যবহৃত হাদিসের সনদ (বর্ণনাকারী সূত্র) অত্যন্ত শক্তিশালী এবং গ্রহণযোগ্য।

৪. ভ্রান্ত ধারণার নিরসন: হানাফি মাজহাবের অনেক মাসয়ালা নিয়ে যে বিভ্রান্তি বা প্রশ্ন তোলা হয়, এই কিতাবে শক্ত হাদিস দিয়ে তার দালিলিক জবাব দেওয়া হয়েছে। এটি উপমহাদেশে হানাফি আলেমদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত।

١١. من أحق بالإمامة؟ اذكر الصفات اللازمة للإمام وواجباته نحو المجتمع.
(১১. ইমামতির সবচেয়ে বেশি হকদার কে? ইমামের প্রয়োজনীয় গুণাবলি এবং সমাজের প্রতি তাঁর দায়িত্ব উল্লেখ করো।)
রচনামূলক উত্তর:
ইমামতির হকদার: হাদিস অনুযায়ী ইমামতির সবচেয়ে বেশি হকদার সেই ব্যক্তি, যিনি আল্লাহর কিতাব (কুরআন) সবচেয়ে ভালো পড়তে পারেন এবং জানেন। যদি এতে কয়েকজন সমান হয়, তবে যে সুন্নাহ সম্পর্কে বেশি জ্ঞানী। এতেও সমান হলে যে আগে হিজরত করেছে এবং সর্বশেষ বয়সে যে বড়।

ইমামের গুণাবলি: একজন আদর্শ ইমামের মধ্যে তাকওয়া (আল্লাহভীতি), বিশুদ্ধ তিলাওয়াত, ফিকহ ও মাসয়ালার গভীর জ্ঞান, উত্তম চরিত্র, ধৈর্য এবং সামাজিক নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।

সমাজের প্রতি দায়িত্ব: ইমাম কেবল মসজিদে নামাজ পড়াবেন না, বরং তিনি সমাজের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করবেন। সামাজিক কুসংস্কার দূর করা, দ্বীনি শিক্ষার প্রসার ঘটানো, সমাজের মানুষের মাঝে বিবাদ মীমাংসা করা এবং ন্যায়ের পথে সমাজকে পরিচালিত করা তাঁর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

١٢. علق على اثنين مما يلي:

(أ) سجود السهو؛

(ب) شروط الصلاة وأركانها؛

(ج) صفة المؤذن وفضله؛

(د) شرائط وجوب الجمعة وأدائها.
(১২. নিচের যেকোনো দুটির উপর টীকা লেখো:

(ক) সিজদায়ে সাহু;

(খ) নামাজের শর্ত ও রোকনসমূহ;

(গ) মুয়াজ্জিনের গুণাবলি ও ফজিলত;

(ঘ) জুমার ওয়াজিব হওয়ার এবং আদায়ের শর্তাবলি।)
রচনামূলক উত্তর:
(ক) সিজদায়ে সাহু: নামাজে ভুলক্রমে কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে বা ফরজ আদায়ে বিলম্ব হলে (যেমন প্রথম বৈঠক ভুলে যাওয়া) নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ে ডান দিকে সালাম ফিরিয়ে অতিরিক্ত দুটি সিজদা দিতে হয়, তাকে সিজদায়ে সাহু বলে। এরপর পুনরায় তাশাহহুদ, দুরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে দুই দিকে সালাম ফেরাতে হয়। এটি নামাজের ত্রুটি দূর করে নামাজকে পূর্ণতা দান করে।

(খ) নামাজের শর্ত ও রোকন:
নামাজের বাইরে যে ফরজ কাজগুলো করতে হয় তাকে শর্ত (শুরুত) বলে। এগুলো ৭টি: শরীর পবিত্র হওয়া, কাপড় পবিত্র হওয়া, জায়গা পবিত্র হওয়া, সতর ঢাকা, কেবলামুখী হওয়া, ওয়াক্ত হওয়া এবং নিয়ত করা।
আর নামাজের ভেতরে যে ফরজ কাজগুলো তাকে রোকন (আরকান) বলে। এগুলো ৬টি: তাকবিরে তাহরিমা বলা, দাঁড়িয়ে নামাজ পড়া (কিয়াম), কেরাত পড়া, রুকু করা, দুই সিজদা করা এবং শেষ বৈঠক করা。

(গ) মুয়াজ্জিনের গুণাবলি ও ফজিলত:
গুণাবলি: আজান দেওয়ার জন্য মুয়াজ্জিনকে অবশ্যই মুসলিম, বিবেকবান (আকেল) এবং পুরুষ হতে হবে (মহিলাদের আজান দেওয়া মাকরুহ)। মুয়াজ্জিনের সুকণ্ঠের অধিকারী, তাকওয়াবান (পরহেজগার) এবং নামাজের সময়সূচি সম্পর্কে সুপরিচিত হওয়া মুস্তাহাব। এছাড়া আজান দেওয়ার সময় ওজু অবস্থায় থাকা এবং কেবলামুখী হওয়া আজানের অন্যতম আদব।
ফজিলত: হাদিস শরিফে মুয়াজ্জিনের অশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “কেয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনদের ঘাড় সবচেয়ে লম্বা হবে” (অর্থাৎ তারা বিশেষ সম্মানের অধিকারী হবে)। অন্য হাদিসে এসেছে, মুয়াজ্জিনের আওয়াজ যতদূর পর্যন্ত পৌঁছায় এবং যেসব জিন, মানুষ বা জড় পদার্থ তা শোনে, তারা সবাই কেয়ামতের দিন ওই মুয়াজ্জিনের পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। এছাড়া মুয়াজ্জিনের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার সুসংবাদও হাদিসে এসেছে。

(ঘ) জুমার ওয়াজিব হওয়ার এবং আদায়ের শর্তাবলি:
জুমার নামাজ সহিহভাবে আদায় হওয়ার জন্য ইসলামি ফিকহে দুই ধরনের শর্তের কথা বলা হয়েছে:
১. জুমার নামাজ ওয়াজিব (ফরজ) হওয়ার শর্ত:
কারো ওপর জুমার নামাজ ফরজ হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত বিষয়গুলো থাকা জরুরি: (i) পুরুষ হওয়া (মহিলাদের ওপর জুমা ফরজ নয়), (ii) স্বাধীন হওয়া (ক্রীতদাস না হওয়া), (iii) মুকিম হওয়া (মুসাফির না হওয়া), (iv) সুস্থ হওয়া (এমন অসুস্থ না হওয়া যাতে মসজিদে যেতে তীব্র কষ্ট হয়), (v) দৃষ্টিশক্তি থাকা (অন্ধ না হওয়া) এবং (vi) মসজিদে হেঁটে যাওয়ার সক্ষমতা থাকা।
২. জুমা আদায়ের (সহিহ হওয়ার) শর্ত:
জুমা আদায় শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্তাবলি হলো: (i) শহর, শহরতলি বা বড় গ্রাম হওয়া (একেবারে ছোট পল্লীতে জুমা জায়েজ নয়), (ii) জোহরের ওয়াক্ত হওয়া, (iii) নামাজের পূর্বে খুতবা প্রদান করা, (iv) জামায়াত হওয়া (হানাফি মাজহাব মতে ইমাম ছাড়া কমপক্ষে ৩ জন বালেক পুরুষ মুক্তাদি উপস্থিত থাকা), এবং (v) ইজনে আম বা সর্বসাধারণের প্রবেশের উন্মুক্ত অনুমতি থাকা (কোনো আবদ্ধ বা ব্যক্তিগত স্থানে জুমা পড়া সহিহ নয়)।

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now