পরীক্ষা কোড: ৫০১ | প্রশ্নপত্র কোড: ৯০৪
اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة) ، لعام ۲۰۲٤
[কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২৪]
القرآن والدراسات الاسلامية
[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
أحكام القرآن
[আহকামুল কুরআন]
বিষয় কোড: ৫০১১০৪
الوقت- ٤ ساعات [সময়—৪ ঘণ্টা]
الدرجة الكاملة- ١٠٠ [পূর্ণমান—১০০]
الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)
[বিশেষ দ্রষ্টব্য: ‘ক’ বিভাগ থেকে চারটি এবং ‘খ’ বিভাগ থেকে চারটির উত্তর দাও।]
مجموعة (أ)
[ক – বিভাগ]
الدرجة- ٢٠×٤=٨٠ [মান— ২০x৪=৮০]
(اقرأ الآيات الكريمة وأجب عن الأسئلة الملحقة بها)
[পবিত্র আয়াতগুলো পড় এবং এর সাথে সংযুক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।]
١. سورة أنزلنها وفرضنها وأنزلنا فيها أيت بينت لعلكم تذكرون.
(أ) ما معنى السورة ولم ابتديت السورة بلفظ “سورة”؟
[(ক) ‘সূরা’ এর অর্থ কী এবং এই সূরাটি ‘সূরা’ শব্দ দিয়ে কেন শুরু করা হয়েছে?]
উত্তর (ক): ‘সূরা’ (سورة) শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো উচ্চ মর্যাদা, প্রাচীর বা বেষ্টনী, অথবা শহরের প্রাচীর যা শহরকে রক্ষা করে। পরিভাষায়, কুরআনের এমন একটি নির্দিষ্ট অংশকে সূরা বলা হয়, যার একটি নির্দিষ্ট শুরু ও শেষ রয়েছে এবং যা কমপক্ষে তিনটি আয়াত নিয়ে গঠিত।
সূরা আন-নূর এর শুরুতে ‘সূরা’ শব্দটি (নাকেরা বা অনির্দিষ্ট হিসেবে) ব্যবহার করার কারণ হলো এর সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধি করা (তা’যীম)। অর্থাৎ, “এটি একটি সুমহান সূরা”। এছাড়া, এই সূরায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিধি-বিধান, হুদুদ (শাস্তি) এবং সামাজিক শিষ্টাচারের কথা বর্ণিত হয়েছে, তাই একে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য স্বতন্ত্রভাবে ‘সূরা’ শব্দ দিয়ে এর সূচনা করা হয়েছে।
(ب) إذا أكره الرجل أو المرأة على الزنا فهل يحدان؟ بين بالإيضاح.
[(খ) যদি কোনো পুরুষ বা নারীকে ব্যভিচারে বাধ্য করা হয়, তবে কি তাদের উপর হদ (শাস্তি) প্রয়োগ করা হবে? বিস্তারিত বর্ণনা করো।]
উত্তর (খ): ইসলামী ফিকহে ইকরাহ বা বাধ্য করার বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর।
নারীর ক্ষেত্রে: যদি কোনো নারীকে জোরপূর্বক বা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ব্যভিচারে বাধ্য করা হয় (ধর্ষণ), তবে সর্বসম্মতভাবে ওই নারীর উপর কোনো হদ বা শাস্তি প্রয়োগ করা হবে না। কারণ সে নিরুপায়।
পুরুষের ক্ষেত্রে: ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে, যদি কোনো পুরুষকে সাধারণ কেউ বাধ্য করে তবে তার উপর হদ প্রয়োগ হবে, কিন্তু যদি রাষ্ট্রপ্রধান বা তার সমতুল্য প্রবল ক্ষমতাসম্পন্ন কেউ বাধ্য করে, তবে হদ রহিত হয়ে যাবে। তবে সাহেবাইন (ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ রহ.) এবং অন্যান্য তিন ইমামের মতে, পুরুষের ক্ষেত্রেও প্রাণনাশের পূর্ণ বাধ্যবাধকতা থাকলে হদ প্রয়োগ হবে না, কারণ বাধ্যবাধকতার কারণে ‘সন্দেহ’ (শুবহা) তৈরি হয়, আর ইসলামী আইনে সন্দেহের কারণে হদ রহিত হয়ে যায় (الحدود تدرأ بالشبهات)।
٢. والذين يرمون المحصنات ثم لم يأتوا بأربعة شهداء فاجلدوهم ثمانين جلدة ولا تقبلوا لهم شهادة أبدا ، وأولئك هم الفاسقون.
(أ) ما الإحصان؟ وما المراد برمي المحصنات؟ وهل يجب الحد في التعريض بالزنا؟ بين مفصلا.
[(ক) ইহসান কী? মুহসানাত (সতী-সাধ্বী নারী) অপবাদের উদ্দেশ্য কী? ইশারায় অপবাদ দিলে কি হদ ওয়াজিব হবে? বিস্তারিত বর্ণনা করো।]
উত্তর (ক): ‘ইহসান’ (الإحصان) এর শাব্দিক অর্থ দুর্গ বা রক্ষা করা। শরীয়তের পরিভাষায় হদ্দে কযফ (অপবাদের শাস্তি) এর ক্ষেত্রে ইহসান বলতে পাঁচটি গুণের সমাহারকে বোঝায়: ১. স্বাধীন হওয়া, ২. প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, ৩. সুস্থ মস্তিস্ক সম্পন্ন হওয়া, ৪. মুসলিম হওয়া, এবং ৫. ব্যভিচার থেকে পূত-পবিত্র হওয়া。
‘মুহসানাত অপবাদ’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কোনো সতী-সাধ্বী ও পবিত্র নারীর বিরুদ্ধে ব্যভিচারের মিথ্যা অভিযোগ আনা।
ইশারায় অপবাদ (التعريض بالزنا): হানাফি মাজহাব মতে, স্পষ্ট বাক্য ছাড়া শুধু ইশারায় বা পরোক্ষ ইঙ্গিতে ব্যভিচারের অপবাদ দিলে হদ্দে কযফ (৮০ বেত্রাঘাত) ওয়াজিব হবে না। তবে এর জন্য অপরাধীকে বিচারক তাযীর (সতর্কতামূলক শাস্তি) প্রদান করতে পারবেন। ইমাম মালিক (রহ.) এর মতে ইশারায় অপবাদ দিলেও হদ ওয়াজিব হয়।
(ب) متى تبطل شهادة القاذف؟ بين آراء الأئمة بالأدلة.
[(খ) অপবাদকারীর সাক্ষ্য কখন বাতিল হয়? প্রমাণসহ ইমামদের মতামত বর্ণনা করো।]
উত্তর (খ): কুরআনের আয়াত অনুযায়ী, যে ব্যক্তি অপবাদ দেয় তার সাক্ষ্য চিরতরে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে (“ولا تقبلوا لهم شهادة أبدا”)।
ইমামদের মতামত:
ইমাম আবু হানিফা (রহ.): তাঁর মতে, অপবাদকারীর উপর হদ প্রয়োগ হওয়ার পর তার সাক্ষ্য চিরস্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে যায়। এমনকি সে তওবা করলেও পার্থিব বিচারে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না। তবে তওবার কারণে পরকালীন শাস্তি মাফ হবে।
ইমাম শাফেঈ ও অন্যান্যরা: তাঁদের মতে, অপবাদকারী যদি খাঁটি তওবা করে এবং নিজেকে সংশোধন করে নেয়, তবে তার সাক্ষ্য পুনরায় গ্রহণ করা হবে। তাঁরা আয়াতের শেষাংশ “إلا الذين تابوا” (তবে যারা তওবা করেছে) কে সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে মনে করেন।
٣. ولا تأخذكم بهما رأفة في دين الله إن كنتم تؤمنون بالله واليوم الآخر وليشهد عذابهما طائفة من المؤمنين.
(أ) بين صفة ضرب الزاني والزانية والقاذف وشارب الخمر بالأدلة.
[(ক) ব্যভিচারী, ব্যভিচারিণী, অপবাদকারী এবং মদপানকারীকে প্রহারের ধরন প্রমাণসহ বর্ণনা করো।]
উত্তর (ক): ইসলামে হুদুদ কায়েমের ক্ষেত্রে প্রহারের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, যাতে তা অমানবিক না হয়, আবার শাস্তির উদ্দেশ্যও ব্যাহত না হয়। প্রহার এমন হতে হবে যা খুব বেশি কঠোর নয় যে হাড় ভেঙে যায়, আবার একেবারে হালকাও নয় যে ব্যথা অনুভূত হয় না।
১. ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী: এদের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোরভাবে প্রহার করা হবে। তবে মুখমণ্ডল, মাথা ও স্পর্শকাতর স্থান পরিহার করতে হবে।
২. মদপানকারী: মদপানকারীর প্রহার ব্যভিচারীর প্রহারের চেয়ে কিছুটা হালকা হবে।
৩. অপবাদকারী (কযফ): এর প্রহার সবচেয়ে হালকা হবে। হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি জল্লাদকে বলতেন, “মাথা ও মুখমণ্ডল বাঁচিয়ে মারবে এবং এমনভাবে মারবে না যাতে চামড়া ফেটে যায়।”
(ب) ما المراد ب طائفة وما أهمية إقامة الحد أمام الناس؟ بين.
[(খ) ‘ত্বয়িফাহ’ (দল) দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে এবং মানুষের সামনে হদ (শাস্তি) কায়েমের গুরুত্ব কী? বর্ণনা করো।]
উত্তর (খ): ‘ত্বয়িফাহ’ (طائفة) বলতে একদল মানুষকে বোঝায়। তাফসিরকারকদের মতে, এই দলের ন্যূনতম সংখ্যা কারো মতে ১ জন, কারো মতে ৩ জন বা ৪ জন। ইবনে আব্বাস (রা.) এর মতে চারজন হওয়া উত্তম।
মানুষের সামনে হদ কায়েমের গুরুত্ব:
১. দৃষ্টান্ত স্থাপন (عبرة): অপরাধীর শাস্তি জনসম্মুখে হলে অন্যরা তা দেখে ভয় পাবে এবং অপরাধ থেকে দূরে থাকবে।
২. লজ্জা ও মানসিক অনুশোচনা: জনসম্মুখে শাস্তি হলে অপরাধীর মনে তীব্র অনুশোচনা তৈরি হয়, যা তাকে ভবিষ্যতে অপরাধ থেকে নিবৃত্ত রাখে।
৩. সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা: প্রকাশ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন হলে জনগণের আইনের প্রতি আস্থা বাড়ে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।
٤. قل للمؤمنين يغضوا من أبصارهم ويحفظوا فروجهم ذلك أزكى لهم، إن الله خبير بما يصنعون. وقل للمؤمنات يغضضن من أبصارهن ويحفظن فروجهن ولا يبدين زينتهن إلا ما ظهر منها.
(أ) اكتب أهمية غض البصر وفوائده.
[(ক) দৃষ্টি অবনত রাখার গুরুত্ব ও উপকারিতা লেখ।]
উত্তর (ক): ইসলামে ‘গাযযুল বাসার’ বা দৃষ্টি অবনত রাখার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি আত্মশুদ্ধি এবং সমাজকে অশ্লীলতা থেকে মুক্ত রাখার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
উপকারিতা:
১. অন্তর পবিত্র থাকে এবং কুচিন্তা থেকে মুক্ত থাকে (“ذلك أزكى لهم”)।
২. এটি শয়তানের বিষাক্ত তীর থেকে মুমিনকে রক্ষা করে।
৩. ইবাদতে একাগ্রতা ও অন্তরে আল্লাহর নূর বৃদ্ধি পায়।
৪. ব্যভিচার ও সমাজে অবৈধ সম্পর্কের রাস্তা বন্ধ হয়। দৃষ্টি অবনত রাখা হলো লজ্জাস্থান হেফাজত করার প্রথম সোপান।
(ب) فسر قوله تعالى “إلا ما ظهر منها”.
[(খ) আল্লাহর বাণী “যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত” এর তাফসির করো।]
উত্তর (খ): “إلا ما ظهر منها” (যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ব্যতীত) – এর তাফসিরে মুফাসসিরদের মধ্যে চমৎকার আলোচনা রয়েছে।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.), ইবনে উমর (রা.) এবং হানাফি মাজহাবের শ্রেষ্ঠ ফকিহদের মতে, এর দ্বারা নারীর মুখমণ্ডল এবং হাতের কব্জি পর্যন্ত অংশকে বোঝানো হয়েছে। কাজের প্রয়োজনে বা স্বাভাবিক চলাফেরায় এই অংশগুলো ঢেকে রাখা কষ্টকর (হরজ), তাই শরীয়ত এগুলোর ক্ষেত্রে শিথিলতা দিয়েছে। তবে যদি ফেতনার আশঙ্কা থাকে, তবে যুবতী নারীদের জন্য মুখমণ্ডল ঢেকে রাখাও ওয়াজিব।
٥. يا ايها الذين آمنوا لا تدخلوا بيوتا غير بيوتكم حتى تستأنسوا وتسلموا على أهلها، ذلكم خير لكم لعلكم تذكرون.
(أ) اكتب آداب دخول البيت والاستئذان.
[(ক) ঘরে প্রবেশের ও অনুমতি চাওয়ার শিষ্টাচারগুলো লেখ।]
উত্তর (ক): অন্যের ঘরে প্রবেশের ইসলামী শিষ্টাচার (আদাব) অত্যন্ত সুশৃঙ্খল।
১. অন্যের ঘরে প্রবেশের আগে অবশ্যই অনুমতি চাইতে হবে।
২. দরজার ঠিক সামনে না দাঁড়িয়ে ডান বা বাম পাশে দাঁড়ানো, যাতে সরাসরি ঘরের ভেতর নজর না পড়ে।
৩. তিনবার অনুমতি চাওয়া। প্রথমবার না শুনলে দ্বিতীয়বার, না শুনলে তৃতীয়বার। এরপরও উত্তর না পেলে ফিরে আসা।
৪. প্রবেশের সময় ঘরের বাসিন্দাদের উদ্দেশ্য করে স্পষ্ট স্বরে সালাম প্রদান করা।
৫. পরিচয় জানতে চাইলে “আমি” না বলে নিজের নাম স্পষ্ট করে বলা।
(ب) اذكر أهمية الاستئذان على المحارم في ضوء القرآن والسنة.
[(খ) কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে মাহরামদের কাছে অনুমতি নেওয়ার গুরুত্ব উল্লেখ করো।]
উত্তর (খ): শুধু পরপুরুষ বা পরনারীর ঘরেই নয়, নিজ ঘরে আপন মাহরাম (যেমন- মা, বোন, প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে) এর কক্ষে প্রবেশের আগেও অনুমতি নেওয়া ইসলামী বিধান।
হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে জিজ্ঞেস করলেন, “আমি কি আমার মায়ের কাছে যাওয়ার সময়ও অনুমতি নেব?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ।” লোকটি বললো, “আমি তো তার সাথেই থাকি।” রাসূল (সা.) বললেন, “তবুও অনুমতি নাও। তুমি কি তাকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখা পছন্দ করবে?”
এর গুরুত্ব হলো মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা। মানুষ ঘরে নিজের সুবিধামতো পোশাকে ও অবস্থায় থাকতে পারে। বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করলে অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য চোখে পড়তে পারে, যা মাহরামদের মাঝেও লজ্জার কারণ হতে পারে।
٦. اكتب نبذة من حياة الإمام أبى بكر أحمد بن على الرازي الجصاص مع ذكر خصائص كتابه ‘أحكام القرآن’.
[৬. ইমাম আবু বকর আহমদ বিন আলী আল-রাযী আল-জাসসাস এর জীবনী এবং তাঁর ‘আহকামুল কুরআন’ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে একটি প্রবন্ধ লেখ।]
উত্তর: ইমাম জাসসাস (রহ.) এর জীবনী: তাঁর মূল নাম আহমদ বিন আলী। কুনিয়াত আবু বকর। তিনি ৩০৫ হিজরিতে ইরানের ‘রায’ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৭০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তিনি ছিলেন হানাফি মাজহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ এবং মুফাসসির। তিনি দীর্ঘকাল বাগদাদে অবস্থান করে জ্ঞানার্জন করেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে ইমাম আবুল হাসান কারখী অন্যতম। তিনি অত্যন্ত ইবাদতগুজার ও দুনিয়াবিমুখ ছিলেন।
‘আহকামুল কুরআন’ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য:
১. এটি হানাফি ফিকহের আলোকে কুরআনের মাসায়েল استنباط (উদ্ঘাটন) করার এক অনন্য গ্রন্থ।
২. তিনি শুধু হানাফি মাজহাবের দলিল দেননি, বরং অন্যান্য মাজহাবের মতামত তুলে ধরে শক্তিশালী যুক্তি দিয়ে হানাফি মাজহাবের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন।
৩. এটি কেবল তাফসির নয়, বরং ইসলামী আইনশাস্ত্রের (ফিকহ) একটি বিশ্বকোষ।
৪. আয়াতের শানে নুযুল, ভাষাগত বিশ্লেষণ এবং হাদিসের চুলচেরা বিশ্লেষণ এই গ্রন্থের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য।
مجموعة (ب)
[খ – বিভাগ]
(أجب عن أربعة مما يلي)
[নিচের যেকোনো চারটির উত্তর দাও]
الدرجة- ٥×٤=٢٠ [মান— ৫x৪=২০]
٧. اذكر أهمية دراسة سورة النور وتعليمها بالإيضاح.
[৭. সূরা নূরের অধ্যয়ন এবং এটি শিক্ষার গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করো।]
উত্তর: সূরা আন-নূর একটি মাদানী সূরা, যাতে ইসলামী সমাজের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের বহু মৌলিক বিধান নাযিল হয়েছে। হজরত উমর (রা.) মহিলাদেরকে সূরা নূর শিক্ষা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। কারণ এতে পর্দা, দৃষ্টি অবনত রাখা, ব্যভিচারের শাস্তি, অপবাদের শাস্তি, লিআন এবং অন্যের ঘরে প্রবেশের শিষ্টাচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধান রয়েছে, যা একটি নিষ্কলুষ ও পবিত্র সমাজ গঠনের জন্য অত্যাবশ্যক।
٨. لم قدمت الزانية على الزاني في الآية الكريمة؟
[৮. আয়াতে কারীমায় ব্যভিচারিণীর কথা ব্যভিচারীর আগে কেন আনা হয়েছে?]
উত্তর: কুরআনে চুরির ক্ষেত্রে পুরুষের কথা আগে এসেছে, কিন্তু ব্যভিচারের ক্ষেত্রে “الزانية والزاني” (ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী) অর্থাৎ নারীর কথা আগে আনা হয়েছে। এর কারণ হলো, ব্যভিচারের অপরাধে নারীর ভূমিকা এবং তার সম্মতির বিষয়টি মুখ্য। নারীর ইশারা বা সম্মতি ছাড়া এই অপরাধ সংঘটিত হওয়া প্রায় অসম্ভব। এছাড়া ব্যভিচারের ফলে সৃষ্ট গর্ভধারণ ও বংশ পরিচয়ের বিভ্রান্তির কলঙ্ক নারীর উপরই বেশি বর্তায়। তাই সতর্ক করার জন্য তার কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে।
٩. هل النكاح بين الخبيث والطيب حرام؟ اشرح.
[৯. দুশ্চরিত্র ও সৎচরিত্রের মধ্যে বিবাহ কি হারাম? ব্যাখ্যা করো।]
উত্তর: সূরা নূরের ৩নং আয়াতে বলা হয়েছে, “ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণীকেই বিয়ে করে…”। অধিকাংশ মুফাসসিরদের মতে এই আয়াতে ‘حرام’ (হারাম) দ্বারা আইনগত হারাম বোঝানো হয়নি, বরং প্রকৃতি ও স্বভাবের কথা বোঝানো হয়েছে। একজন পবিত্র ও সতী মানুষ স্বভাবগতভাবেই একজন অপবিত্র ও দুশ্চরিত্র মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে অপছন্দ করে। তবে যদি কোনো দুশ্চরিত্র ব্যক্তি তওবা করে ফিরে আসে, তবে তার সাথে বিবাহ ইসলামী শরীয়তে বৈধ (হালাল)।
١٠. ما علامة بلوغ الأطفال؟ أوضح بالأدلة.
[১০. শিশুদের বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছানোর লক্ষণ কী? প্রমাণসহ স্পষ্ট করো।]
উত্তর: ইসলামী ফিকহ অনুযায়ী ছেলে ও মেয়েদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার (বুলুগত) কিছু প্রাকৃতিক লক্ষণ আছে। ছেলেদের ক্ষেত্রে স্বপ্নদোষ হওয়া (ইহতিলাম), আর মেয়েদের ক্ষেত্রে মাসিক (হায়েজ) শুরু হওয়া বা গর্ভধারণের সক্ষমতা অর্জন করা। যদি এসব প্রাকৃতিক লক্ষণ প্রকাশ না পায়, তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর মতে ১৫ বছর বয়স পূর্ণ হলে (মতান্তরে ১৮ ও ১৭) উভয়কে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে গণ্য করা হবে। শরীয়তের সকল হুকুম তখন থেকে তাদের ওপর বর্তাবে।
١١. فسر قوله تعالى : وليضربن بخمرهن على جيوبهن.
[১১. আল্লাহর বাণী “তারা যেন তাদের ওড়না বক্ষদেশে ফেলে রাখে” এর তাফসির করো।]
উত্তর: এই আয়াতে মহিলাদের পর্দার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান দেওয়া হয়েছে। জাহেলী যুগে মহিলারা মাথা ঢাকলেও তাদের ঘাড়, গলা এবং বুকের উপরের অংশ খোলা থাকত। তাই ইসলাম নির্দেশ দিয়েছে যে, মহিলারা যেন তাদের মাথার ওড়না (খিমার) এমনভাবে বুকের উপর (জাইয়ুব) টেনে দেয় যাতে মাথা, কান, ঘাড় এবং বক্ষদেশ সম্পূর্ণরূপে আবৃত থাকে। এটি মহিলাদের সম্মান ও শালীনতা রক্ষার চূড়ান্ত নির্দেশ।
١٢. اذكر سبب نزول قوله تعالى : ولا يأتل أولوا الفضل منكم والسعة أن يؤتوا أولي القربى.
[১২. আল্লাহর বাণী “তোমাদের মধ্যে যারা মর্যাদা ও প্রাচুর্যের অধিকারী তারা যেন নিকটাত্মীয়দের… না দেওয়ার শপথ না করে” এর শানে নুযুল (অবতীর্ণের প্রেক্ষাপট) উল্লেখ করো।]
উত্তর: এই আয়াতটি হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) এবং তাঁর আত্মীয় মিস্তাহ (রা.) এর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। মিস্তাহ (রা.) দরিদ্র ছিলেন এবং আবু বকর (রা.) তাকে নিয়মিত আর্থিক সাহায্য করতেন। কিন্তু যখন মুনাফিকরা হযরত আয়েশা (রা.) এর ওপর মিথ্যা অপবাদ (ইফকের ঘটনা) ছড়ায়, তখন মিস্তাহ না বুঝে তাতে জড়িয়ে পড়েন। এতে কষ্ট পেয়ে আবু বকর (রা.) শপথ করেন যে তিনি আর মিস্তাহকে সাহায্য করবেন না। তখন আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করে ক্ষমাশীল হওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর আবু বকর (রা.) তাঁর শপথ ভেঙে পুনরায় সাহায্য শুরু করেন।