مجموعة (أ) — سنن أبي داود (الدرجة — ٥٠)
(ক বিভাগ — সুনানে আবু দাউদ) [মান — ৫০]
١. ترجم اثنين من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما : (٤٠ = ٢×٢٠)
(১. নিচের যেকোনো দুটি হাদিসের অনুবাদ করো এবং তৎসংলগ্ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:)
নির্দেশিকা: পরীক্ষায় যেকোনো দুটি হাদিসের অনুবাদ ও প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। নিচে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সবগুলো হাদিস ও প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।
(أ)
عن أبى هريرة رضى الله عنه قال لما توفى رسول الله ﷺ واستخلف أبو بكر بعده وكفر من كفر من العرب قال عمر بن الخطاب رضى الله عنه لأبى بكر رضى الله عنه كيف تقال الناس وقد قال رسول الله ﷺ أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا لا إله إلا الله فمن قال لا إله إلا الله عصم منى ماله ونفسه إلا بحقه وحسابه على الله عز وجل؟ فقال ابو بكر والله لأقاتلن من فرَّق بين الصلاة والزكاة. فإن الزكاة حق المال والله لو منعونى عقالا كانوا يؤدونه إلى رسول الله ﷺ لقاتلتهم على منعه فقال عمر بن الخطاب فوالله ما هو إلا أن رأيت الله عز وجل قد شرح صدر أبى بكر للقتال فعرفت أنه الحق. (٥)
(আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলেন এবং তাঁর পর আবু বকর খলিফা নিযুক্ত হলেন, আর আরবদের মধ্যে যারা কুফরি করার তারা কুফরি করল (মুরতাদ হলো), তখন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেন: আপনি কীভাবে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন? অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে। যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, সে আমার হাত থেকে তার জান ও মাল রক্ষা করে নিল, তবে ইসলামের হক ব্যতীত। আর তার অভ্যন্তরীণ হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।” তখন আবু বকর বললেন: “আল্লাহর কসম! যারা সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। কেননা যাকাত হলো সম্পদের হক। আল্লাহর কসম! তারা যদি আমাকে একটি উটের রশিও দিতে অস্বীকার করে যা তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দিত, তবে আমি তা অস্বীকার করার কারণে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।” উমর ইবনুল খাত্তাব বলেন, “আল্লাহর কসম! এটা আর কিছুই নয়, আমি দেখলাম আল্লাহ তাআলা আবু বকরের বক্ষ যুদ্ধের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছেন, তখন আমি বুঝতে পারলাম যে এটাই সত্য।”)
(١) ما معنى الزكاة لغة وشرعاً ؟ ومتى وأين فرضت الزكاة ؟ (٥)
(১. আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে যাকাত কী? যাকাত কখন এবং কোথায় ফরজ করা হয়?)
উত্তর:
আভিধানিক অর্থ: যাকাত (الزكاة) শব্দের অর্থ হলো পবিত্রতা, বৃদ্ধি পাওয়া, বরকত ও প্রশংসা।
পারিভাষিক অর্থ: শরিয়তের পরিভাষায়, নিসাব পরিমাণ সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট খাতের অভাবগ্রস্তদের মাঝে শর্তসাপেক্ষে মালিক বানিয়ে দেওয়াকে যাকাত বলে।
কখন ও কোথায় ফরজ হয়: যাকাত দ্বিতীয় হিজরিতে মদিনায় ফরজ করা হয়।
(٢) بين أهمية الزكاة فى ضوء القران والسنة. (٥)
(২. কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে যাকাতের গুরুত্ব বর্ণনা করো।)
উত্তর:
কুরআনের আলোকে: যাকাত ইসলামের পাঁচটি মূলস্তম্ভের একটি। পবিত্র কুরআনে সালাতের পাশাপাশি বহু স্থানে যাকাত আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, “তোমরা সালাত কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো” (সূরা আল-বাকারাহ: ৪৩)। যাকাত সম্পদকে পবিত্র করে।
সুন্নাহর আলোকে: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “ইসলাম পাঁচটি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত… তার মধ্যে একটি হলো যাকাত প্রদান করা” (বুখারি ও মুসলিম)। যাকাত অস্বীকারকারীকে কাফির এবং কৃপণকে জাহান্নামি বলে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে।
(٣) وضح قول أبى هريرة “كفر من كفر من العرب”. (٥)
(৩. আবু হুরায়রা (রা.) এর উক্তি “আরবদের মধ্যে যারা কুফরি করার তারা কুফরি করল”- এর ব্যাখ্যা করো।)
উত্তর: রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের পর আরব উপদ্বীপের কিছু গোত্র ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায়। এদের মধ্যে তিনটি শ্রেণি ছিল: ১. যারা সম্পূর্ণ ইসলাম ত্যাগ করে মূর্তিপূজায় ফিরে যায়। ২. যারা নবুয়তের মিথ্যা দাবিদারদের (যেমন মুসায়লামা কাজ্জাব) অনুসরণ করে। ৩. যারা সালাত আদায় করত কিন্তু যাকাত দিতে অস্বীকার করে বলত যে, যাকাত কেবল নবীকেই দেওয়া যেত। আবু হুরায়রা (রা.) এই বাক্য দ্বারা সেই উদ্ভূত ধর্মত্যাগের ফিতনা বা রিদ্দার ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেছেন।
(ب)
عن معاذ رضى الله عنه أن النبى ﷺ لما وجهه إلى اليمن أمره ان يأخذ من البقر من كل ثلاثين تبيعا أو تبيعة ومن كل أربعين سنة ومن كان حالم يعنى محتلما دينارا أو عدله من المغافر ثياب تكون باليمن . (٥)
(মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাঁকে ইয়েমেনে প্রেরণ করেন, তখন তাঁকে নির্দেশ দেন যেন তিনি গরু থেকে (যাকাত হিসেবে) প্রতি ত্রিশটির জন্য একটি ‘তাবি’ বা ‘তাবিআহ’ (এক বছর বয়সী গরুর বাছুর) গ্রহণ করেন, এবং প্রতি চল্লিশটির জন্য একটি ‘মুসিন্নাহ’ (দুই বছর বয়সী গরু) গ্রহণ করেন। আর যে ব্যক্তি সাবালক অর্থাৎ বয়ঃপ্রাপ্ত হয়েছে, তার থেকে (জিজিয়া হিসেবে) এক দিনার অথবা তার সমমূল্যের ‘মাআফির’ অর্থাৎ ইয়েমেনি কাপড় গ্রহণ করেন।)
(١) بين زكاة الإبل والبقر والغنم. (٥)
(১. উট, গরু ও ছাগলের যাকাতের নিসাব বর্ণনা করো।)
উত্তর:
উটের নিসাব: উটের নিসাব শুরু হয় ৫টি থেকে। ৫টি উটে ১টি ছাগল, ১০টিতে ২টি ছাগল… ২৫টি হলে ১টি এক বছর বয়সী উটের মাদী বাছুর (বিন্তে মাখাজ) দিতে হয়।
গরুর নিসাব: নিসাব ৩০টি থেকে শুরু। ৩০টি গরুতে ১ বছর বয়সী একটি বাছুর (তাবি/তাবিআহ) এবং ৪০টিতে ২ বছর বয়সী একটি বাছুর (মুসিন্নাহ) দিতে হয়।
ছাগল/ভেড়ার নিসাব: নিসাব ৪০টি থেকে শুরু। ৪০-১২০টি পর্যন্ত ১টি ছাগল, ১২১-২০০টি পর্যন্ত ২টি ছাগল এবং ২০১-৩৯৯টি পর্যন্ত ৩টি ছাগল যাকাত দিতে হয়।
(٢) بين حكمة مشروعية الزكاة مفصلا. (٥)
(২. যাকাত বিধিবদ্ধ করার হিকমত বা যৌক্তিকতা বিস্তারিত বর্ণনা করো।)
উত্তর: যাকাত বিধিবদ্ধ হওয়ার প্রধান হিকমতসমূহ হলো:
১. আত্মশুদ্ধি: মানুষের অন্তর থেকে কৃপণতা ও সম্পদের লোভ দূর করে আত্মাকে পবিত্র করা।
২. সম্পদের সুষম বণ্টন: সম্পদ যেন কেবল ধনীদের হাতে কুক্ষিগত না থাকে, তা নিশ্চিত করা।
৩. দারিদ্র্য বিমোচন: সমাজের অভাবী ও দরিদ্রদের প্রয়োজন পূরণ করা এবং তাদের স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করা।
৪. ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি: ধনী ও গরিবের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহানুভূতি বৃদ্ধি করা।
(٣) بين مصارف الزكاة مفصلا. (٥)
(৩. যাকাতের খাতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করো।)
উত্তর: সূরা আত-তাওবার ৬০ নম্বর আয়াত অনুযায়ী যাকাতের খাত ৮টি:
১. ফকির (দরিদ্র): যার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই।
২. মিসকিন: যে চরম অভাবগ্রস্ত।
৩. যাকাত আদায়কারী: যাকাত সংগ্রহ ও বণ্টনের কাজে নিয়োজিত কর্মচারী।
৪. মন জয় করার জন্য: ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করতে বা নবদীক্ষিত মুসলিমকে।
৫. দাস মুক্তি: চুক্তিবদ্ধ দাসকে স্বাধীন করার জন্য।
৬. ঋণগ্রস্ত: যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধে অক্ষম।
٧. ফি সাবিলিল্লাহ: আল্লাহর রাস্তায় জিহাদরত ব্যক্তি বা দ্বীনের কাজে নিয়োজিতদের জন্য।
৮. মুসাফির: সফরে গিয়ে যিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
(ج)
عن إبن عمر رضى الله عنه قال قال رسول الله ﷺ : الشهر تسع وعشرون فلا تصوموا حتى تروه ولا تفطروا حتى تروه . فإن غم عليكم فاقدروا له ثلاثين . (٥)
(ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মাস ঊনত্রিশ দিনেরও হয়। সুতরাং তোমরা চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোজা রেখো না এবং চাঁদ না দেখা পর্যন্ত রোজা ভেঙো না (ঈদ করো না)। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তবে ত্রিশ দিন পূর্ণ করবে।”)
(١) ما الاختلاف بين الأئمة فى إعتبار إختلاف المطالع ؟ بين. (٥)
(১. ইখতিলাফুল মাতালে’ (উদয়স্থলের ভিন্নতা) ধর্তব্য হওয়ার ব্যাপারে ইমামদের মাঝে কী মতবিরোধ রয়েছে? বর্ণনা করো।)
উত্তর: ‘ইখতিলাফুল মাতালে’ বা বিভিন্ন দেশের আকাশে ভিন্ন ভিন্ন দিনে চাঁদ ওঠার বিষয়টি ধর্তব্য কিনা তা নিয়ে ইমামদের মাঝে মতভেদ রয়েছে:
হানাফি, মালকি ও হাম্বলি মত: সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে উদয়স্থলের ভিন্নতা ধর্তব্য নয়। পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে চাঁদ দেখা গেলে এবং তা নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রমাণিত হলে, সকল মুসলিমের ওপর রোজা রাখা বা ঈদ করা ওয়াজিব।
শাফেয়ি মত: তাদের মতে উদয়স্থলের ভিন্নতা ধর্তব্য। প্রতিটি ভৌগোলিক অঞ্চলের জন্য নিজেদের চাঁদ দেখা প্রযোজ্য। দূরবর্তী কোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলে তা অন্য দেশের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
(٢) على من يجب الصوم وعلى من لا؟ بين مدللا. (٥)
(২. কার ওপর রোজা ফরজ এবং কার ওপর নয়? দলিলসহ বর্ণনা করো।)
উত্তর:
যাদের ওপর রোজা ফরজ: প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন, মুকিম (স্থায়ী বাসিন্দা) ও রোজা রাখতে শারীরিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর ওপর রোজা ফরজ। দলিল: “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাস পাবে সে যেন রোজা রাখে” (সূরা বাকারাহ: ১৮৫)।
যাদের ওপর ফরজ নয়: পাগল, অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি (যার রোজা রাখলে ক্ষতি হবে), মুসাফির (ভ্রমণকারী), ঋতুবতী ও নেফাসওয়ালী নারী এবং অতি বৃদ্ধ বা স্থায়ী অক্ষম ব্যক্তি। তবে মুসাফির, অসুস্থ এবং ঋতুবতী নারীদের পরবর্তীতে তা কাজা করতে হয় এবং অতি বৃদ্ধদের ফিদিয়া দিতে হয়।
(٣) أذكر نبذة من حياة إبن عمر رضى الله عنه . (٥)
(৩. ইবনে উমর (রা.) এর জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি উল্লেখ করো।)
উত্তর: তাঁর মূল নাম আবদুল্লাহ, পিতা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)। তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন এবং অল্প বয়সেই পিতার সাথে ইসলাম গ্রহণ ও হিজরত করেন। তিনি সুন্নাহর চরম অনুসারী ছিলেন এবং রাসূল (সা.)-এর পদাঙ্ক হুবহু অনুকরণের চেষ্টা করতেন। তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি (২৬৩০টি হাদিস)। ৭৩ হিজরিতে তিনি মক্কায় ইন্তেকাল করেন।
(د)
عن عائشة رضى الله عنها قالت كان يوم عاشوراء يوم تصومه قريش فى الجاهلية وكان رسول الله ﷺ يصومه فى الجاهلية فلما قدم رسول الله ﷺ المدينة صامه وأمر بصيامه فلما فرض رمضان كان هو الفريضة وترك عاشوراء فمن شاء صامه ومن شاء تركه . (٥)
(আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জাহিলি যুগে কুরাইশরা আশুরার দিন রোজা রাখত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও জাহিলি যুগে এ দিন রোজা রাখতেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় আগমন করলেন, তখন তিনি নিজে এই রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরও রাখার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর যখন রমজানের রোজা ফরজ করা হলো, তখন সেটিই ফরজ হিসেবে সাব্যস্ত হলো এবং আশুরার রোজা (আবশ্যিকতা) ছেড়ে দেওয়া হলো। সুতরাং যার ইচ্ছা সে এটি রাখবে আর যার ইচ্ছা সে ছেড়ে দেবে।)
(١) ما معنى الصوم ؟ وكم قسماً له ؟ بين ممثلاً. (٥)
(১. সাওম-এর অর্থ কী? এর প্রকারভেদ কয়টি? উদাহরণসহ বর্ণনা করো।)
উত্তর:
সাওমের অর্থ: আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। শরিয়তের পরিভাষায়, সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহ পানাহার ও স্ত্রী-সহবাস থেকে বিরত থাকাকে সাওম বা রোজা বলে।
প্রকারভেদ: সাওম প্রধানত ৫ প্রকার। ১. ফরজ: যেমন- রমজান মাসের রোজা। ২. ওয়াজিব: মান্নতের রোজা বা কাজা রোজা। ৩. সুন্নাত: আশুরা বা আরাফার দিনের রোজা। ৪. নফল/মুস্তাহাব: প্রতি মাসে আইয়ামে বিজ বা সোম-বৃহস্পতিবারের রোজা। ৫. মাকরুহ: শুধু জুমার দিন বা ঈদের দিন রোজা রাখা (হারাম/তাহরিমি)।
(٢) ما المراد بعاشوراء ؟ وما حكم صيامه؟ بين مع ذكر فضله. (٥)
(২. আশুরা দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? এর রোজার হুকুম কী? এর ফজিলত উল্লেখপূর্বক বর্ণনা করো।)
উত্তর:
আশুরা: আরবি ‘আশার’ শব্দ থেকে নির্গত, এর অর্থ দশম। ইসলামি পরিভাষায় মহররম মাসের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়।
রোজার হুকুম: বর্তমানে আশুরার রোজা রাখা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বা মুস্তাহাব। ইহুদিদের বিরোধিতার জন্য ৯ বা ১১ মহররম মিলিয়ে দুটি রোজা রাখা উত্তম।
ফজিলত: রাসূল (সা.) বলেছেন, “আমি আল্লাহর নিকট আশা করি, আশুরার রোজা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ (সগিরা) মোচন করে দেবে” (মুসলিম)।
(٣) أكتب نبذة من حياة عائشة رضى الله عنها مع ذكر خدماتها للحديث. (٥)
(৩. আয়েশা (রা.) এর জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি লেখ এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর অবদান উল্লেখ করো।)
উত্তর: উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) ছিলেন আবু বকর (রা.)-এর কন্যা এবং রাসূল (সা.)-এর প্রিয়তমা স্ত্রী। তিনি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারিণী ছিলেন।
হাদিসে অবদান: তিনি সাহাবিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফিকহবিদ এবং সর্বোচ্চ হাদিস বর্ণনাকারীদের একজন। তিনি ২২১০টি হাদিস বর্ণনা করেছেন। রাসূল (সা.)-এর পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনের অসংখ্য বিধান উম্মত তাঁর মাধ্যমেই জানতে পেরেছে। ৫৮ হিজরিতে তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন।
٢. أجب عن واحد مما يلى : (١٠ = ١×١٠)
(২. নিচের যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:)
(أ) أكتب نبذة من حياة الإمام أبى داؤد سليمان بن أشعث السجستانى (رح) مع ذكر خدماته لعلم الحديث .
(ক. ইমাম আবু দাউদ সুলায়মান বিন আশআস আস-সিজিস্তানি (রহ.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর অবদান উল্লেখ করো।)
উত্তর:
জীবনী: তাঁর পুরো নাম সুলায়মান ইবনে আশআস ইবনে ইসহাক আস-সিজিস্তানি। তিনি ২০২ হিজরিতে সিজিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। ইলমে হাদিসের সন্ধানে তিনি ইরাক, মিশর, সিরিয়া ও হিজাজ ভ্রমণ করেন। ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহ.) ছিলেন তাঁর অন্যতম প্রধান উস্তাদ। তিনি ২৭৫ হিজরিতে বসরায় ইন্তেকাল করেন।
হাদিসে অবদান: তিনি সিহাহ সিত্তার অন্যতম গ্রন্থ ‘সুনানে আবু দাউদ’ সংকলন করেন। তিনি পাঁচ লক্ষ হাদিস থেকে বাছাই করে প্রায় ৪৮০০টি হাদিস এতে স্থান দিয়েছেন, যা ফিকহি মাসআলা ও আহকামের জন্য এক অমূল্য রত্নভাণ্ডার।
(ب) أكتب خصائص سنن أبى داؤد مع بيان منزلته بين كتب الحديث .
(খ. সুনানে আবু দাউদের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ এবং হাদিস গ্রন্থসমূহের মাঝে এর মর্যাদা বর্ণনা করো।)
উত্তর:
বৈশিষ্ট্য: ১. এটি মূলতঃ আহকাম বা ফিকহি বিধান সম্পর্কিত হাদিসের সংকলন। ২. ইমাম আবু দাউদ এতে ফিকহ অধ্যায় অনুসারে হাদিস সাজিয়েছেন। ৩. তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিশুদ্ধ হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং কোনো দুর্বলতা থাকলে তা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন।
মর্যাদা: সিহাহ সিত্তার (বিশুদ্ধ ছয়টি হাদিস গ্রন্থ) মধ্যে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের পরই সুনানে আবু দাউদের স্থান। ফকিহদের নিকট এটি সবচেয়ে বেশি সমাদৃত, কারণ এটি আইনি বিধান আহরণের প্রধান উৎস।
مجموعة (ب) — شرح معانى الآثار (الدرجة — ٥٠)
(খ বিভাগ — শরহু মাআনিল আসার) [মান — ৫০]
٣. ترجم اثنين من الأحاديث التالية ثم أجب عن الأسئلة الملحقة بهما : (٤٠ = ٢×٢٠)
(৩. নিচের যেকোনো দুটি হাদিসের অনুবাদ করো এবং তৎসংলগ্ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:)
(أ)
حدثنا نصر بن مرزوق قال ثنا على بن معبد قال ثنا إسماعيل بن جعفر عن عبد الله بن دينار عن إبن عمر رضى الله عنهما عن النبى ﷺ أنه قال لا تبيعوا الثمر حتى يبدو صلاحه ؛ (٥)
(নাসর বিন মারযুক … ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা ফল পাকতে শুরু করার আগে তা বিক্রি কোরো না।”)
(١) اكتب تأويلين لهذا الحديث ذكرهما الطحاوى رحمه الله. (٥)
(১. ইমাম তাহাবি (রহ.) কর্তৃক উল্লেখিত এই হাদিসের দুটি ব্যাখ্যা লেখ।)
উত্তর: ইমাম তাহাবি (রহ.) এই হাদিসের দুটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন:
১. ফল পাকার আগে এই শর্তে বিক্রি করা নিষেধ যে, ক্রেতা তা গাছেই রেখে দেবে। কারণ এতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফল নষ্ট হলে বিবাদের সৃষ্টি হতে পারে।
২. অপর ব্যাখ্যা হলো, এটি মূলত অপছন্দনীয় বা মাকরুহ হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, পুরোপুরি হারাম অর্থে নয়, যাতে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে ঝগড়া এড়ানো যায়।
(٢) يجيز أبو حنيفة وأبو يوسف رحمهما الله بيع الثمر بعد ظهوره بأدلة ، أذكر بعضا منها . (٥)
(২. ইমাম আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ (রহ.) ফল প্রকাশের পর তা বিক্রির বৈধতা দেন প্রমাণসহ, তার কিছু উল্লেখ করো।)
উত্তর: ইমাম আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতে, গাছে ফল প্রকাশ পাওয়ার পর তা পাকার আগেও বিক্রি করা বৈধ, শর্ত হলো ক্রেতাকে তা সাথে সাথে কেটে নিতে হবে। এর দলিল হলো: যখন ফল অস্তিত্ব লাভ করে, তখন তা একটি মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়। আর যেকোনো বিদ্যমান ও হস্তান্তরযোগ্য হালাল সম্পদ বিক্রি করা ইসলামি আইনে বৈধ। হাদিসের নিষেধাজ্ঞা কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন গাছে রেখে দেওয়ার শর্ত করা হয়।
(٣) اكتب ما روى عن زيد بن ثابت رضى الله عنه حول بدو صلاح الثمر . (٥)
(৩. ফল পাকার প্রকাশ সম্পর্কে যায়েদ বিন সাবিত (রা.) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা লেখ।)
উত্তর: যায়দ বিন সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি সুরাইয়া (কৃত্তিকা) নক্ষত্র উদিত হওয়ার পূর্বে ফল বিক্রি করা নিষেধ করতেন। কারণ আরবে সুরাইয়া নক্ষত্র উদিত হওয়ার সময়টাতে ফলের মহামারি বা রোগবালাই (আফাত) দূর হয়ে যায় এবং ফল নিরাপদভাবে পাকতে শুরু করে বলে ধরা হতো।
(ب)
عن عائشة رضى الله عنها أنها أرادت أن تشترى بريرة فتعتقها فاشترط مواليها ولاءها فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال إشتريها فأعتقيها فإنما الولاء لمن أعتق . (٥)
(আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, তিনি বারীরাকে কিনে স্বাধীন করে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলেন। কিন্তু তার মালিকেরা শর্ত জুড়ে দিল যে তার ‘ওয়ালা’ (উত্তরাধিকার স্বত্ব) তাদেরই থাকবে। আয়েশা (রা.) বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানালেন। তখন তিনি বললেন, “তুমি তাকে কিনে নাও এবং স্বাধীন করে দাও। কেননা ‘ওয়ালা’ তো তারই প্রাপ্য যে স্বাধীন করে।”)
(١) أوضح قوله ﷺ “الولاء لمن أعتق” . (٥)
(১. রাসূল (সা.) এর বাণী “ওয়ালা তার জন্য যে স্বাধীন করে”- এর অর্থ স্পষ্ট করো।)
উত্তর: ‘ওয়ালা’ হলো ইসলামি আইনের একটি বিধান, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি তার দাসকে স্বাধীন করলে, সেই স্বাধীনকৃত দাসের কোনো উত্তরাধিকারী না থাকলে স্বাধীনকারী ব্যক্তি তার সম্পদের উত্তরাধিকারী হয়। রাসূল (সা.) এই বাক্যের মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, এই অধিকার আল্লাহ নির্ধারণ করেছেন এবং শর্ত দিয়ে এটি বাতিল বা পরিবর্তন করা যায় না। যে ব্যক্তি অর্থ ব্যয় করে মুক্ত করবে, উত্তরাধিকারের অধিকার কেবল তারই।
(٢) اكتب قصة بريرة رضى الله عنها مفصلا . (٥)
(২. বারীরা (রা.) এর ঘটনাটি বিস্তারিত লেখ।)
উত্তর: বারীরা (রা.) ছিলেন একজন দাসী, যিনি তার মুক্তির জন্য মালিকদের সাথে মুকাতাবা (চুক্তি) করেছিলেন। তিনি সাহায্য চাইতে আয়েশা (রা.) এর কাছে আসেন। আয়েশা (রা.) পুরো মূল্য দিয়ে তাকে কিনে মুক্ত করতে চাইলেন, কিন্তু তার মালিকেরা শর্ত দিল যে মুক্তির পর তার ‘ওয়ালা’ বা উত্তরাধিকার স্বত্ব তাদের থাকবে। রাসূল (সা.) আয়েশাকে শর্তটি অগ্রাহ্য করে তাকে কিনতে বলেন, কারণ শরিয়ত বিরোধী শর্ত বাতিলযোগ্য। স্বাধীন হওয়ার পর বারীরাকে তার স্বামী মুগীস (যিনি তখনো দাস ছিলেন)-এর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ থাকার বা বিচ্ছেদের এখতিয়ার দেওয়া হয়, এবং তিনি বিচ্ছেদ বেছে নেন।
(٣) حلل الكلمات : أرادت ، تشترى ، موالى ، أعتق. (٥)
(৩. শব্দ বিশ্লেষণ করো: أرادت, تشترى, موالى, أعتق)
উত্তর:
أرادت (আরাদাত): ছিগাহ: ওয়াহিদ মুয়ান্নাস গায়েব, বহস: ইসবাত ফেলে মাজি মারুফ, বাব: ইফআল, অর্থ: সে (নারী) চাইল বা ইচ্ছা করল।
تشترى (তাশতারি): ছিগাহ: ওয়াহিদ মুয়ান্নাস গায়েব (বা ওয়াহিদ মুজাক্কার হাজির), বহস: ফেলে মুজারে মারুফ, বাব: ইফতিআল, অর্থ: সে ক্রয় করবে।
موالى (মাওয়ালি): এটি বহুবচন (জমে মুকাসসার), একবচনে مولى (মাওলা)। অর্থ: মনিবগণ বা অভিভাবকগণ।
أعتق (আ’তাকা): ছিগাহ: ওয়াহিদ মুজাক্কার গায়েব, বহস: ইসবাত ফেলে মাজি মারুফ, বাব: ইফআল, অর্থ: সে স্বাধীন করেছে।
(ج)
عن عطاء أن ابا سعيد الخدرى لقى إبن عباس رضى الله عنهما فقال أرأيت اى أخبرنى قولك فى الصرف يعنى الذهب بالذهب وبينهما فضل أثئ سمعته عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أو شيئ وجدته فى كتاب الله ؟ فقال إبن عباس أمّا كتاب الله فلا أعلمه وأمّا رسول الله ﷺ فأنتم أعلم به منى ولكن حدثنى أسامة بن زيد أن رسول الله ﷺ قال إنما الربا فى النسيئة. (٥)
(আতা থেকে বর্ণিত, আবু সাঈদ খুদরী (রা.) ইবনে আব্বাস (রা.) এর সাথে সাক্ষাৎ করে বললেন, “আমাকে বলুন, ‘সরফ’ অর্থাৎ স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ কমবেশি করে বিক্রির বিষয়ে আপনার এই মতটি কি এমন কিছু যা আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন, নাকি আল্লাহর কিতাবে পেয়েছেন?” তখন ইবনে আব্বাস বললেন, “আল্লাহর কিতাবে তো আমি এমনটি পাইনি, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আপনারা আমার চেয়ে বেশি জানেন। তবে উসামা বিন যায়েদ আমাকে হাদিস শুনিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই রিবা (সুদ) কেবল বাকির (মেয়াদ বৃদ্ধির) ক্ষেত্রেই হয়।”)
(١) ما معنى الربا ؟ وكم قسماً له ؟ بين. (٥)
(১. রিবা (সুদ)-এর অর্থ কী? এর প্রকারভেদ কয়টি? বর্ণনা করো।)
উত্তর:
অর্থ: রিবা শব্দের আভিধানিক অর্থ বৃদ্ধি, আধিক্য বা প্রবৃদ্ধি। পরিভাষায়, ঋণ চুক্তিতে বা নির্দিষ্ট সমজাতীয় পণ্য বিনিময়ে শর্তসাপেক্ষে অতিরিক্ত যে অংশ নেওয়া হয় তাকে রিবা বা সুদ বলে।
প্রকারভেদ: রিবা প্রধানত দুই প্রকার: ১. রিবা আন-নাসিয়াহ: ঋণের বিপরীতে সময়ের ভিত্তিতে যে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। ২. রিবা আল-ফজল: একই জাতীয় পণ্যের (যেমন- চাল, স্বর্ণ) নগদ বিনিময়ে ওজনে বা পরিমাণে কমবেশি করা।
(٢) هل تجوز المعاملة الربوية مع البنك ؟ بين. (٥)
(২. ব্যাংকের সাথে সুদি লেনদেন কি জায়েজ? বর্ণনা করো।)
উত্তর: কনভেনশনাল ব্যাংকের সাথে সুদি লেনদেন ইসলামী শরিয়তে সম্পূর্ণ হারাম। আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থায় ঋণের ওপর যে নির্দিষ্ট হারে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া বা দেওয়া হয়, তা সরাসরি ‘রিবা আন-নাসিয়াহ’ এর অন্তর্ভুক্ত, যা কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা অকাট্যভাবে নিষিদ্ধ। তবে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় মুদারাবা বা মুশারাকা ভিত্তিক শরিয়াহসম্মত লেনদেন বৈধ।
(٣) وضح قول النبى ﷺ إنما الربوا فى النسيئة. (٥)
(৩. নবী (সা.) এর বাণী “নিশ্চয়ই রিবা কেবল নাসিয়াহ (বাকি/মেয়াদ)-এর ক্ষেত্রে হয়” – এর ব্যাখ্যা করো।)
উত্তর: প্রথম দিকে ইবনে আব্বাস (রা.) উসামা (রা.) এর এই হাদিসের ভিত্তিতে মনে করতেন যে, হাতে হাতে নগদে কমবেশি করে পণ্য বদল করলে সুদ হয় না, সুদ কেবল বাকিতে হয়। কিন্তু পরে যখন অন্যান্য সাহাবিগণ (যেমন আবু সাঈদ খুদরি রা.) তাকে ‘রিবা আল-ফজল’ (নগদ বিনিময়ে কমবেশি হওয়ার সুদ) সম্পর্কিত অন্যান্য হাদিস শোনান, তখন তিনি তাঁর মত পরিবর্তন করেন। মূলত ওই হাদিসের অর্থ ছিল, জাহিলি যুগের সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রচলিত সুদ ছিল নাসিয়াহ বা সময়ের বিনিময়ে বৃদ্ধি, তাই এর ভয়াবহতা বোঝাতে বাক্যটি বলা হয়েছিল।
(د)
عن زيد بن أسلم عن أبيه قال سمعت عمر بن الخطاب رضى الله عنه يقول حملت على فرس فى سبيل الله فأضاعه الذى كان عنده فأردت أن أبتاعه منه وظننت أنه بائعه برخص هو ضد الغلاء فسألت عن ذلك رسول الله ﷺ فقال لا تبتعه وإن أعطاکه بدرهم ولا تعد فى صدقتك فإن العائد فى صدقته كالكلب يعود فى قيئه . (٥)
(যায়দ বিন আসলাম তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি: “আমি আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদের জন্য) একজনকে একটি ঘোড়ায় আরোহণ করিয়েছিলাম (দান করেছিলাম)। কিন্তু যার কাছে সেটি ছিল সে তার যত্ন নেয়নি। তখন আমি তা তার কাছ থেকে কিনে নেওয়ার ইচ্ছা করলাম, আর ভাবলাম সে এটি সস্তায় বিক্রি করবে। এ বিষয়ে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ‘তুমি তা কিনো না, যদিও সে তোমাকে এক দিরহামের বিনিময়ে দেয়, এবং তোমার সদকায় ফেরত যেও না। কারণ, যে ব্যক্তি নিজের সদকা ফিরিয়ে নেয় সে ওই কুকুরের মতো, যে নিজের বমি পুনরায় ভক্ষণ করে।'”)
(١) عرف الهبة لغة وشرعاً . (٥)
(১. হিবা-এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা দাও।)
উত্তর:
আভিধানিক অর্থ: হিবা (الهبة) অর্থ দান করা, উপহার দেওয়া বা বিনা বিনিময়ে কিছু প্রদান করা।
পারিভাষিক অর্থ: শরিয়তের পরিভাষায়, জীবিত অবস্থায় সুস্থ মস্তিষ্কে নিজের কোনো সম্পদের মালিকানা বিনা বিনিময়ে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য কাউকে হস্তান্তর করাকে হিবা বলে।
(٢) تحدث عن الفرق بين الهبة والصدقة والهدية. (٥)
(২. হিবা, সদকা এবং হাদিয়া-এর মধ্যকার পার্থক্য আলোচনা করো।)
উত্তর:
হিবা: সাধারণ দান, যা যে কাউকেই দেওয়া যায়, উদ্দেশ্য হতে পারে কেবল মালিকানা হস্তান্তর।
সদকা: কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পরকালে সওয়াবের আশায় অভাবী ও দরিদ্রদের যা দান করা হয়।
হাদিয়া: সম্মান প্রদর্শন, ভালোবাসা বৃদ্ধি বা সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে কাউকে (বিশেষ করে সমমনা বা সম্মানিত ব্যক্তিকে) যে উপহার দেওয়া হয়।
(٣) هل يجوز الرجوع فى الهبة والصدقة ؟ بين مع ذكر أراء العلماء موجزًا . (٥)
(৩. হিবা ও সদকা করে তা ফিরিয়ে নেওয়া কি বৈধ? আলেমদের মতামত সংক্ষেপে উল্লেখপূর্বক বর্ণনা করো।)
উত্তর:
সদকা ফিরিয়ে নেওয়া: সর্বসম্মতভাবে হারাম। কারণ তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দেওয়া হয়েছে।
হিবা ফিরিয়ে নেওয়া: এ বিষয়ে মতভেদ আছে। হানাফি মাজহাব মতে, হিবা ফিরিয়ে নেওয়া মাকরুহে তাহরিমি, তবে আদালতের রায়ের মাধ্যমে বা পারস্পরিক সম্মতিতে তা ফিরিয়ে নেওয়া বৈধ হতে পারে (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া যেমন রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়কে দিলে)। অন্যদিকে শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাব মতে, হিবা ফিরিয়ে নেওয়া সম্পূর্ণ হারাম, তবে পিতা তার সন্তানকে যা হিবা করেছে তা ফিরিয়ে নিতে পারে।
٤. أجب عن واحد مما يلى : (١٠ = ١×١٠)
(৪. নিচের যেকোনো একটি প্রশ্নের উত্তর দাও:)
(أ) اكتب ترجمة الإمام أبى جعفر الطحاوى رحمه الله مع ذكر مساهمته فى علم الحديث .
(ক. ইমাম আবু জাফর আত-তাহাবি (রহ.)-এর জীবনী লেখ এবং ইলমে হাদিসে তাঁর অবদান উল্লেখ করো।)
উত্তর:
জীবনী: ইমাম আবু জাফর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আত-তাহাবি ২৩৯ হিজরিতে মিশরের ত্বাহা নামক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথম জীবনে তিনি শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন (তাঁর মামা ইমাম মুজানির প্রভাবে), পরে হানাফি মাজহাব গ্রহণ করেন এবং এই মাজহাবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ ও মুহাদ্দিসে পরিণত হন। ৩২১ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন।
হাদিসে অবদান: তিনি হাদিস ও ফিকহের সমন্বয়ে অসামান্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। এর মধ্যে ‘শরহু মাআনিল আসার’ এবং ‘শরহু মুশকিলিল আসার’ অন্যতম। বাহ্যিক সাংঘর্ষিক হাদিসগুলোর চমৎকার ফিকহি সমাধান তিনি তাঁর গ্রন্থগুলোতে উপস্থাপন করেছেন।
(ب) تحدث عن خصائص شرح معانى الاثار مع ذكر منزلته بين كتب الحديث .
(খ. ‘শরহু মাআনিল আসার’ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো এবং হাদিস গ্রন্থসমূহের মাঝে এর মর্যাদা উল্লেখ করো।)
উত্তর:
বৈশিষ্ট্য: ১. এটি আহকামুল কুরআন ও আহকামুল হাদিসের এক চমৎকার সংকলন। ২. ইমাম তাহাবি এতে পরস্পর বিরোধী মনে হওয়া হাদিসগুলোর (মুতায়ারিদ) অসাধারণ সমন্বয় সাধন করেছেন। ৩. ফিকহে হানাফির দলিলসমূহ অত্যন্ত যুক্তিযুক্তভাবে ও সনদসহ উপস্থাপন করেছেন।
মর্যাদা: হানাফি মাজহাবের দলিল-প্রমাণ জানার জন্য এটি একটি বিশ্বকোষ সমতুল্য। মুহাদ্দিস ও ফকিহদের নিকট সিহাহ সিত্তার পরেই এই গ্রন্থের অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ়। বিশেষত ফিকহি ইখতিলাফ (মতবিরোধ) নিরসনে এর জুড়ি মেলা ভার।