اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة)، لعام ٢٠٢٣م
[কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদী) পরীক্ষা, ২০২৩]
الحديث والدراسات الإسلامية [আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]
تاريخ الحضارة الإسلامية [তারিখুল হাদারাতিল ইসলামিয়্যাহ]
বিষয় কোড: 502106 | সময় : ৪ ঘণ্টা | পূর্ণমান : ১০০
الملاحظة : أجب عن اربعة من مجموعة (الف) وعن اربعة من مجموعة (ب) –
[দ্রষ্টব্য : (الف) অংশ হতে চারটি এবং (ب) অংশ হতে চারটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
مجموعة (الف)
[গ্রুপ (ক) – মান: ৪ × ২০ = ৮০]
١- تحدث عن النظام الاقتصادى والإدارى فى عهد الخليفة الثالث عثمان بن عفان رضى الله عنه ـ
[তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান বিন আফফান (রা)-এর শাসনকালে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে আলোচনা কর।]
প্রশাসনিক ব্যবস্থা: হযরত উসমান (রা) হযরত উমর (রা)-এর প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনিক কাঠামো বজায় রেখেছিলেন। তিনি বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি প্রদেশে ভাগ করে গভর্নর (আমির) নিয়োগ করেন। তাঁর মজলিসে শূরা বা পরামর্শ সভা ছিল। তিনি সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনকে সুসংহত করেন। তবে তাঁর শাসনামলের শেষ দিকে কিছু প্রাদেশিক গভর্নরের স্বজনপ্রীতির অভিযোগে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।
অর্থনৈতিক ব্যবস্থা: তাঁর সময়ে ইসলামী রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি চরম শিখরে পৌঁছায়। বায়তুল মালের আয় ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। তিনি সাহাবিদের ভাতা বৃদ্ধি করেন। কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বাঁধ নির্মাণ ও খাল খনন করা হয়। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছিল।
٢- ما المراد بالجزيرة العربية؟ تحدث عن الأوضاع السياسية للجزيرة العربية قبل ظهور الإسلام ـ
[জাযিরাতুল আরব বলতে কী বুঝায়? ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বে জাযিরাতুল আরব এর রাজনৈতিক অবস্থা বিস্তারিত আলোচনা কর।]
জাযিরাতুল আরব: ‘জাযিরা’ অর্থ দ্বীপ বা উপদ্বীপ। জাযিরাতুল আরব বলতে আরব উপদ্বীপকে বোঝায়, যার পূর্বে পারস্য উপসাগর, পশ্চিমে লোহিত সাগর এবং দক্ষিণে আরব সাগর অবস্থিত। তিন দিক জলবেষ্টিত হওয়ায় একে উপদ্বীপ বলা হয়।
রাজনৈতিক অবস্থা: প্রাক-ইসলামিক যুগে (আইয়্যামে জাহিলিয়া) আরবে কোনো কেন্দ্রীয় সরকার বা রাষ্ট্রব্যবস্থা ছিল না। সমাজ ছিল গোত্রভিত্তিক (কাবিলা)। প্রতিটি গোত্রের একজন নেতা থাকতেন যাকে ‘শায়েখ’ বলা হতো। গোত্রপ্রীতি (আসাবিয়্যাহ) ছিল চরম। সামান্য কারণে গোত্রগুলোর মধ্যে বছরের পর বছর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলত (যেমন- বুয়াস ও বাসুসের যুদ্ধ)। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বলতে কিছুই ছিল না, জোর যার মুল্লুক তার—এটাই ছিল নীতি।
٣- من هو آخر الخلفاء الأمويين؟ وماذا كان مصيره؟ اذكر أسباب انحطاط الأمويين ـ
[সর্বশেষ উমাইয়া খলিফা কে? তাঁর পরিণতি কী হয়েছিল? উমাইয়াদের পতনের কারণসমূহ আলোচনা কর।]
সর্বশেষ খলিফা ও পরিণতি: সর্বশেষ উমাইয়া খলিফা ছিলেন দ্বিতীয় মারওয়ান (মারওয়ান বিন মুহাম্মদ)। ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে জাবের যুদ্ধে আব্বাসীয় বাহিনীর হাতে তিনি চরমভাবে পরাজিত হন। এরপর তিনি মিশরে পালিয়ে যান এবং সেখানে তাকে হত্যা করা হয়।
পতনের কারণসমূহ: ১. অযোগ্য ও বিলাসী খলিফাদের শাসন, ২. উত্তরাধিকার দ্বন্দ্ব, ৩. আরবদের গোত্রীয় কোন্দল (মুদারিয় ও হিময়ারিয় দ্বন্দ্ব), ৪. মাওয়ালিদের (অনারব মুসলিম) প্রতি বৈষম্যমূলক ও দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের আচরণ, ৫. শিয়া ও খারিজিদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্রোহ, এবং ৬. আবু মুসলিম খুরাসানির নেতৃত্বে আব্বাসীয়দের সফল ও সংঘবদ্ধ প্রচার-প্রচারণা (দাওয়াহ)।
٤- ما الإصلاحات التي جاء بها الخليفة الأموى عبد الملك بن مروان؟ بين مفصلا ـ
[আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান উমাইয়া কর্তৃক আনীত সংস্কারসমূহ কী? বিস্তারিত আলোচনা কর।]
১. প্রশাসনের আরবিকরণ: তিনি সকল সরকারি দাপ্তরিক কাজ (দিওয়ান) গ্রিক ও ফারসির পরিবর্তে আরবি ভাষায় করার নির্দেশ দেন।
২. মুদ্রা সংস্কার: তিনিই প্রথম সম্পূর্ণ ইসলামী মুদ্রার (স্বর্ণের দিনার ও রৌপ্যের দিরহাম) প্রবর্তন করেন, যেখানে খলিফার নাম ও কালেমা খোদাই করা ছিল।
৩. ডাক ব্যবস্থা (বারিদি): সাম্রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত করার জন্য ঘোড়ার মাধ্যমে উন্নত ডাক ব্যবস্থা চালু করেন।
৪. কুরআনের সংস্কার: অনারবদের সুবিধার্থে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের মাধ্যমে কুরআনে নুকতা (বিন্দু) ও হরকত (যের, যবর, পেশ) সংযোজনের ব্যবস্থা করেন।
৫. স্থাপত্য: জেরুজালেমে বিশ্ববিখ্যাত ‘কুব্বাতুস সাখরা’ (Dome of the Rock) নির্মাণ করেন।
٥- اكتب نبذة من حياة أبي بكر الصديق رضى الله عنه ثم بين جهوده ومساهمته في حماية الإسلام والمسلمين ـ
[হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা)-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ। অতঃপর ইসলাম ও মুসলমানদের সুরক্ষায় তাঁর অবদান বর্ণনা কর।]
সংক্ষিপ্ত জীবনী: হযরত আবু বকর (রা) ছিলেন ইসলামের প্রথম খলিফা এবং রাসূল (সা)-এর শ্রেষ্ঠ সাহাবি। তাঁর আসল নাম আব্দুল্লাহ ইবনে উসমান। তিনি ৫৭৩ খ্রিস্টাব্দে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। পুরুষদের মধ্যে তিনি সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন এবং হিজরতের সময় রাসূল (সা)-এর সঙ্গী ছিলেন। ১৩ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন।
অবদান: রাসূল (সা)-এর ওফাতের পর আরবে যখন বিদ্রোহ ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, তখন তিনি পাহাড়ের মতো অটল থেকে ইসলামকে রক্ষা করেন। তাঁর প্রধান অবদানগুলো হলো: ১. ভণ্ড নবীদের (যেমন- মুসায়লামা কাজ্জাব) কঠোর হস্তে দমন করা, ২. জাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা (রিদ্দার যুদ্ধ), ৩. পবিত্র কুরআন গ্রন্থাকারে (মুসহাফ) সংকলন করা, ৪. সিরিয়া ও ইরাকে ইসলামী সাম্রাজ্য সম্প্রসারণের সূচনা করা।
٦- بين تأثير الحضارة الأندلسية العربية في أوربا في العصور الوسطى ـ
[মধ্যযুগে ইউরোপের উপর স্পেনীয় আরব সভ্যতার প্রভাব আলোচনা কর।]
প্রভাব: ১. কর্ডোভা, টলেডো ও গ্রানাডা ছিল বিশ্বজ্ঞানের কেন্দ্র। ইউরোপের খ্রিস্টান শিক্ষার্থীরা সেখানে এসে পড়াশোনা করত। ২. ইবনে সিনা, আল-জাহরাবী, এবং ইবনে রুশদ-এর চিকিৎসা, বিজ্ঞান ও দর্শনের বইগুলো আরবি থেকে ল্যাটিনে অনূদিত হয়ে ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যসূচি হয়। ৩. আরবদের গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার প্রযুক্তি ইউরোপ গ্রহণ করে। বস্তুত, স্পেনের আরব সভ্যতাই ইউরোপীয় রেনেসাঁ বা নবজাগরণের প্রধান ভিত্তি তৈরি করেছিল।
مجموعة (ب)
[গ্রুপ (খ) – মান: ৪ × ৫ = ২০]
٧- كيف تولى معاوية بن أبي سفيان رضى الله عنه الخلافة؟ اكتب مختصرا ـ
[হযরত মুয়াবিয়া (রা) কীভাবে খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন? সংক্ষেপে লেখ।]
٨- من هم الفاطميون فى مصر؟ اذكر أسباب انحطاط المسلمين فى مصر ـ
[মিশরে ফাতিমিয়্যুন কারা? তাদের পতনের কারণগুলো বর্ণনা কর।]
ফাতিমিয়্যুন: ফাতিমীয়রা হলো একটি ইসমাইলী শিয়া রাজবংশ, যারা রাসূল (সা)-এর কন্যা ফাতিমা (রা)-এর বংশধর বলে দাবি করত। তারা উত্তর আফ্রিকা ও মিশরে একটি শক্তিশালী খিলাফত প্রতিষ্ঠা করে (৯৬৯-১১৭১ খ্রি.)। তারা কায়রো শহর এবং আল-আজহার মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে।
পতনের কারণ: ১. পরবর্তী খলিফাদের দুর্বলতা ও অযোগ্যতা, ২. উজির বা মন্ত্রীদের ক্ষমতা দখল ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ৩. সেনাদলে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর (সুদানি, তুর্কি, বারবার) মধ্যে সংঘাত, ৪. দুর্ভিক্ষ ও অর্থনৈতিক মহামারি, ৫. ক্রুসেডারদের আক্রমণ। চূড়ান্তভাবে সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবী ১১৭১ খ্রিস্টাব্দে এই বংশের পতন ঘটিয়ে মিশরে পুনরায় সুন্নি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
٩- كيف تطورت الحضارة الإسلامية فى عهد العباسيين؟
[আব্বাসীয় যুগে ইসলামি সভ্যতা কীভাবে বিস্তারলাভ করেছিল আলোচনা কর।]
١٠- ما الصوفية؟ تحدث عن انتشار الصوفية فى العهد العباسي ـ
[সুফীবাদ কী? আব্বাসী যুগে সুফীবাদের বিকাশ আলোচনা কর।]
সুফীবাদ: সুফীবাদ বা তাসাওউফ হলো ইসলামের আধ্যাত্মিক দিক, যার মূল লক্ষ্য হলো নফসের পরিশুদ্ধি, দুনিয়ার মোহ ত্যাগ (যুহদ) এবং আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন।
আব্বাসী যুগে বিকাশ: উমাইয়া যুগের শেষভাগে ব্যক্তিগত ইবাদত ও বৈরাগ্যবাদ হিসেবে এর শুরু হলেও, আব্বাসীয় যুগে সুফীবাদ একটি সুশৃঙ্খল ও তাত্বিক রূপ লাভ করে। এ যুগে হাসান বসরী, রাবেয়া বসরী, জুনায়েদ বাগদাদী এবং মনসুর হাল্লাজের মতো বিখ্যাত সুফিদের আবির্ভাব ঘটে। পরবর্তীতে ইমাম গাজ্জালী (রহ) সুফীবাদের সাথে শরীয়তের অপূর্ব সমন্বয় সাধন করেন এবং বিভিন্ন সুফি তরিকা (যেমন- কাদিরিয়া) সংগঠিত হতে শুরু করে।
١١- اذكر أثر الخلاف بين المسلمين بعد استشهاد الخليفة عثمان بن عفان رضى الله عنه ـ
[খলিফা উসমান বিন আফফান (রা)-এর শাহাদাতের পরে মুসলমানদের মাঝে মতপার্থক্যের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত কর।]
১. গৃহযুদ্ধ: মুসলমানদের মধ্যে উটের যুদ্ধ (জঙ্গে জামাল) এবং সিফফিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যেখানে হাজার হাজার মুসলমান নিহত হন।
২. রাজনৈতিক বিভাজন: মুসলিম উম্মাহ আলী (রা) এবং মুয়াবিয়া (রা)-এর শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
৩. নতুন সম্প্রদায়ের উদ্ভব: রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ফলে খারিজি এবং শিয়া নামক নতুন দুটি কট্টর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দলের সৃষ্টি হয়, যা চিরকালের জন্য মুসলিম উম্মাহর ঐক্যে ফাটল ধরায়।
١٢- ما المراد ‘بالموالى’؟ اذكر دورهم فى العهد الأموى ـ
[الموالى বলতে কী বুঝায়? উমাইয়া যুগে তাদের ভূমিকা বর্ণনা কর।]
মাওয়ালি: ‘মাওয়ালি’ বহুবচন, একবচনে ‘মাওলা’। ইসলামী ইতিহাসের পরিভাষায়, অনারব মুসলিমদের (যেমন- পারসিক, তুর্কি, বারবার ও মিসরীয়) মাওয়ালি বলা হতো।
উমাইয়া যুগে ভূমিকা: ইসলামে আরব-অনারব সমান হলেও উমাইয়া যুগে আরবদের শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হতো এবং মাওয়ালিদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হতো। তাদের থেকে অনেক সময় জিজিয়া করও আদায় করা হতো। এই চরম বৈষম্য ও বঞ্চনার কারণে মাওয়ালিরা উমাইয়াদের প্রতি তীব্র ক্ষুব্ধ হয় এবং পরবর্তীতে আব্বাসীয়দের গোপন প্রচারণায় ব্যাপকভাবে যোগ দেয়। বস্তুত, মাওয়ালিরাই উমাইয়া বংশের পতনের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছিল।



