Fazil Honors 3rd Year Al Quran Question Papers 2022 (All 8 Subjects) | ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষের আল-কুরআন বিভাগের ৮টি বিষয়ের সম্পূর্ণ প্রশ্ন ও সমাধান

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
Fazil Honors 3rd Year Al Quran Question Papers 2022 (All 8 Subjects) | ফাজিল অনার্স ৩য় বর্ষের আল-কুরআন বিভাগের ৮টি বিষয়ের সম্পূর্ণ প্রশ্ন ও সমাধান
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

ফাযিল স্নাতক (সম্মান) ৩য় বর্ষ পরীক্ষা, ২০২২ – সম্পূর্ণ প্রশ্ন ও সমাধান

القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

التفسير بالسند [আত-তাফসীর বিস-সানাদ] – বিষয় কোড: ۲۰۱۳۰١ (201301)

مجموعة (الف) [ক-বিভাগ]

١- الر- كتاب أحكمت آياته ثم فصلت من لدن حكيم خبير- ألا تعبدوا إلا الله… (الف) ما المراد بقوله تعالى: “يمتعكم متاعاً حسناً إلى أجل مسمى”؟ (ب) لم قدم الاستغفار على التوبة؟

[১. (ক) “তিনি তোমাদেরকে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত উত্তম জীবনোপকরণ দান করবেন”- এ আয়াতাংশ দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? (খ) তওবার আগে ইস্তিগফারকে কেন উল্লেখ করা হয়েছে?]

উত্তর (ক): “উত্তম জীবনোপকরণ দান করবেন” দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, যারা আল্লাহর ইবাদত করবে এবং ক্ষমা চাইবে, আল্লাহ তাদেরকে পৃথিবীতে মৃত্যু নামক নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত পবিত্র, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সম্মানজনক জীবন দান করবেন。

উত্তর (খ): ‘ইস্তিগফার’ হলো অতীতের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া, যা অন্তরকে পরিষ্কার করে (তাখলিয়া)। আর ‘তওবা’ হলো ভবিষ্যতে গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প করে আল্লাহমুখী হওয়া, যা অন্তরকে সজ্জিত করে (তাহলিয়া)। নিয়ম হলো আগে ময়লা পরিষ্কার করতে হয়, তারপর সজ্জিত করতে হয়, তাই ইস্তিগফার আগে এসেছে।

٢- وهو الذى خلق السموات والأرض فى ستة أيام وكان عرشه على الماء… (الف) متى وكيف بدأ الله خلق السموات والأرض؟ (ب) ما المراد بـ “أمة معدودة”؟

[২. (ক) কখন ও কীভাবে আল্লাহ আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন? (খ) ‘উম্মাতিন মা’দুদাহ’ দ্বারা উদ্দেশ্য কী?]

উত্তর (ক): আল্লাহ আসমান ও যমীন ৬ দিনে সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টির শুরুতে আল্লাহর আরশ পানির ওপর ছিল। তাঁর অসীম কুদরতে তিনি শূন্য থেকে এই বিশাল সৃষ্টিজগত অস্তিত্বে এনেছেন।

উত্তর (খ): ‘উম্মাতিন মা’দুদাহ’ শব্দের আক্ষরিক অর্থ গণনাকৃত দল বা সম্প্রদায়, তবে আয়াতে এর উদ্দেশ্য হলো একটি নির্দিষ্ট ও সীমিত সময়কাল।

٣- لقد كان في يوسف وإخوته آيات للسائلين… (الف) ما الآيات في يوسف وإخوته للسائلين؟ (ب) ما معنى العصبة في الآية وما الفرق بين نفر وطائفة؟

[৩. (ক) ইউসুফ ও তাঁর ভাইদের ঘটনায় জিজ্ঞাসাকারীদের জন্য কী কী নিদর্শন রয়েছে? (খ) আয়াতে ‘উসবাহ’ এর অর্থ কী এবং নফর ও ত্বায়িফাহ এর মধ্যে পার্থক্য কী?]

উত্তর (ক): ইউসুফ (আ.) এর ঘটনায় অনেক নিদর্শন রয়েছে। যেমন— আল্লাহর ফায়সালাই চূড়ান্ত, ষড়যন্ত্র করে কেউ কাউকে আটকাতে পারে না, বিপদে ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দেন এবং হিংসার পরিণতি সর্বদা ভয়াবহ হয়।

উত্তর (খ): ‘উসবাহ’ অর্থ ১০-৪০ জনের একটি শক্তিশালী দল। ‘নফর’ হলো ৩ থেকে ১০ জনের ছোট দল, আর ‘ত্বায়িফাহ’ বলতে যেকোনো আকারের একটি দল বা সম্প্রদায়কে বোঝায়।

٤- وجاءوا على قميصه بدم كذب… (الف) اشرح قوله تعالى: “بل سولت لكم انفسكم امرا”. (ب) ما معنى السيارة؟ وما المراد بـ ‘سيارة’ فى الأية؟

[৪. (ক) “বরং তোমাদের মন একটি মনগড়া কাহিনী সাজিয়েছে”- ব্যাখ্যা কর। (খ) সায়্যারাহ এর অর্থ কী? আয়াতে এটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?]

উত্তর (ক): ইউসুফের ভাইয়েরা যখন ইউসুফ (আ.) এর জামায় মিথ্যা রক্ত মাখিয়ে এনে বলল যে তাকে বাঘে খেয়েছে, তখন ইয়াকুব (আ.) জামাটি অক্ষত দেখে বুঝতে পেরেছিলেন যে এটি তাদের ষড়যন্ত্র। তাই তিনি তাদের কথায় বিশ্বাস না করে উক্ত কথাটি বলেছিলেন।

উত্তর (খ): ‘সায়্যারাহ’ অর্থ ভ্রমণকারী কাফেলা বা পথিকদল। আয়াতে এটি দ্বারা সিরিয়া থেকে মিশরগামী একটি বণিক কাফেলাকে বোঝানো হয়েছে, যারা পানি সংগ্রহ করতে এসে কুয়ায় ইউসুফ (আ.) কে পেয়েছিল।

٥- المر – تلك آيات الكتاب… (الف) ما معنى الرعد؟ بين وجه تسمية لسورة الرعد. (ب) فسر قوله تعالى: “وسخر الشمس والقمر، كل يجرى لأجل مسمى”.

[৫. (ক) রা’দ এর অর্থ কী? সূরাটির নাম ‘রা’দ’ রাখার কারণ কী? (খ) “তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়মাধীন করেছেন, প্রত্যেকেই নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত চলবে”- তাফসীর কর।]

উত্তর (ক): ‘রা’দ’ অর্থ মেঘের গর্জন। এ সূরায় মেঘের গর্জনের মাধ্যমে আল্লাহর তাসবীহ পাঠ এবং তাঁর অসীম ক্ষমতার নিদর্শন বর্ণিত হয়েছে বলে এর নাম ‘সূরা আর-রা’দ’ রাখা হয়েছে।

উত্তর (খ): এর অর্থ আল্লাহ সূর্য ও চন্দ্রকে মানুষের কল্যাণে এমন এক নিয়মের অধীন করেছেন যে, এরা একটি নির্দিষ্ট সময় বা কিয়ামত পর্যন্ত নিজ নিজ কক্ষপথে অবিরাম চলতে থাকবে। কেউ এর বিন্দুমাত্র ব্যতিক্রম করতে পারবে না।

٦- وفي الارض قطع متجاورات وجنات من أعناب… (الف) فسر قوله تعالى: “وفى الأرض قطع متجاورات”. (ب) ما المراد بقوله تعالى: “صنوان وغير صنوان”؟

[৬. (ক) “পৃথিবীতে রয়েছে পরস্পর সংযুক্ত বিভিন্ন ভূখণ্ড”- তাফসীর কর। (খ) “সিনওয়ান ও গাইরু সিনওয়ান” দ্বারা উদ্দেশ্য কী?]

উত্তর (ক): এই আয়াতাংশে আল্লাহর সৃষ্টির বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে। পৃথিবীতে বিভিন্ন ভূখণ্ড পাশাপাশি অবস্থিত, কিন্তু তাদের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন। কোনটি উর্বর, কোনটি অনুর্বর, কোনটি বালুকাময়— এটি আল্লাহর অসীম কুদরতের প্রমাণ।

উত্তর (খ): ‘সিনওয়ান’ অর্থ যমজ বা একাধিক গাছ যা একই মূল বা শিকড় থেকে উৎপন্ন হয়। আর ‘গাইরু সিনওয়ান’ অর্থ এমন গাছ যা একটি মূল থেকে একাই জন্মায়।

٧- الر- كتاب أنزلناه إليك لتخرج الناس من الظلمات إلى النور… (الف) بين حكمة ذكر الحروف المقطعات فى القرآن الكريم. (ب) فسر قوله تعالى: “الذين يستحبون الحياة الدنيا على الأخرة”.

[৭. (ক) কুরআনে হুরুফে মুকাত্তাআত উল্লেখের হিকমত বর্ণনা কর। (খ) “যারা আখেরাতের চেয়ে দুনিয়ার জীবনকে বেশি ভালোবাসে”- তাফসীর কর।]

উত্তর (ক): ‘হুরুফে মুকাত্তাআত’ (যেমন আলিফ-লাম-মীম, আলিফ-লাম-রা) এর প্রকৃত অর্থ একমাত্র আল্লাহই জানেন। এর হিকমত হলো— তৎকালীন আরবদের ভাষাগত অহংকার চূর্ণ করা এবং এটি প্রমাণ করা যে কুরআন এই সাধারণ আরবি অক্ষর দিয়েই তৈরি, তবুও তারা এর মতো একটি সূরা বানাতে অক্ষম।

উত্তর (খ): এখানে কাফির ও অবাধ্যদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে, যারা ক্ষণস্থায়ী পার্থিব ভোগ-বিলাসকে চিরস্থায়ী আখেরাতের ওপর প্রাধান্য দেয় এবং আল্লাহর পথ থেকে মানুষকে বাধা দেয়।

٨- وإذ قال موسى لقومه اذكروا نعمة الله عليكم إذ أنجاكم من آل فرعون… (الف) إلى اية واقعة اشيرت بقوله تعالى: “إذ انجاكم من آل فرعون”. (ب) لماذا يذبحون الأبناء ويستحيون النساء؟

[৮. (ক) “যখন তিনি তোমাদেরকে ফেরাউনের দল থেকে রক্ষা করেছিলেন”- এখানে কোন ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? (খ) কেন তারা পুত্রদের হত্যা করত এবং নারীদের বাঁচিয়ে রাখত?]

উত্তর (ক): এখানে আল্লাহ কর্তৃক বনী ইসরাইলকে ফেরাউনের দীর্ঘ দাসত্ব ও মর্মান্তিক অত্যাচার থেকে মুক্ত করে লোহিত সাগর পার করার বিস্ময়কর ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

উত্তর (খ): ফেরাউন স্বপ্ন দেখেছিল যে বনী ইসরাইলের এক নবজাতক পুত্রের হাতে তার পতন হবে। এই ভয়ে সে বনী ইসরাইলের পুত্রসন্তানদের নির্মমভাবে হত্যা করত এবং দাসীবৃত্তির জন্য নারীদের বাঁচিয়ে রাখত।

٩- وما أهلكنا من قرية إلا ولها كتاب معلوم… (الف) فسر قوله تعالى: “وما أهلكنا من قرية إلا ولها كتاب معلوم”. (ب) ما معنى الذكر؟ وما المراد بالذكر فى هذه الأيات الكريمة؟

[৯. (ক) “আমি কোনো জনপদকে ধ্বংস করিনি, তবে তার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ফয়সালা ছিল”- তাফসীর কর। (খ) ‘যিকির’ এর অর্থ কী এবং আয়াতে এর দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?]

উত্তর (ক): এর তাফসীর হলো, আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে সাথে সাথেই শাস্তি দেন না, বরং তাদের সংশোধনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় (লাওহে মাহফুজে লিখিত) পর্যন্ত সুযোগ দেন। সে সময় পূর্ণ হলেই আযাব অবতীর্ণ হয়।

উত্তর (খ): ‘যিকির’ অর্থ স্মরণ বা উপদেশ। এই আয়াতে যিকির দ্বারা পবিত্র কুরআনকে বোঝানো হয়েছে, যা মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় উপদেশ।

١٠- ولقد جعلنا فى السماء بروجا وزيناها للناظرين… (الف) ما معنى البروج؟ وما المراد به هنا؟ (ب) فسر قوله تعالى: “وأنبتنا فيها من كل شيئ موزون”.

[১০. (ক) ‘বুরুজ’ এর অর্থ কী? এখানে এর দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? (খ) “আমি তাতে প্রত্যেক বস্তু পরিমিত পরিমাণে উৎপন্ন করেছি”- তাফসীর কর।]

উত্তর (ক): ‘বুরুজ’ এর আভিধানিক অর্থ মজবুত দুর্গ। এখানে বুরুজ দ্বারা আকাশের বিশাল নক্ষত্ররাজি বা রাশিচক্রকে বোঝানো হয়েছে, যা আকাশকে সুসজ্জিত করেছে।

উত্তর (খ): আল্লাহ পৃথিবীতে গাছপালা, ফলমূল ও খনিজ সম্পদ মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী নিখুঁত ভারসাম্য ও পরিমিত পরিমাণে সৃষ্টি করেছেন, যাতে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় থাকে।

مجموعة (ب) [খ-বিভাগ]

١١- ماذا تفهم عن التفسير بالسند؟ اذكر أنواعه وقواعده مفصلا-

[১১. আত-তাফসীর বিস-সানাদ বলতে কী বুঝ? এর প্রকারভেদ ও নিয়মাবলি বিস্তারিত লেখ।]

উত্তর: ‘তাফসীর বিস-সানাদ’ বা তাফসীর বিল-মা’সুর বলতে এমন তাফসীরকে বোঝায়, যা বর্ণনাকারীদের সনদের মাধ্যমে কুরআন, হাদিস বা সাহাবীদের উক্তি দ্বারা করা হয়।

প্রকারভেদ: এটি প্রধানত চার প্রকার: ১. কুরআন দ্বারা কুরআনের তাফসীর, ২. হাদিস দ্বারা তাফসীর, ৩. সাহাবীদের উক্তি দ্বারা তাফসীর এবং ৪. তাবেঈদের উক্তি দ্বারা তাফসীর।

নিয়মাবলি: মুফাসসির প্রথমে কুরআনের অন্য আয়াতের সাহায্য নেবেন। সেখানে না পেলে বিশুদ্ধ হাদিসের শরণাপন্ন হবেন। হাদিসেও না পেলে সাহাবীদের ব্যাখ্যা গ্রহণ করবেন, কারণ তারা ওহী অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট সরাসরি দেখেছেন।

١٢- اذكر نبذة من حياة الشوكاني صاحب تفسير “فتح القدير” ثم بين مناهجه وخصائص تفسيره المذكور-

[১২. “ফাতহুল ক্বাদীর” এর রচয়িতা ইমাম শাওকানী এর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ এবং তাঁর তাফসীরের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।]

উত্তর:
জীবনী: তাঁর পুরো নাম মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আশ-শাওকানী। তিনি ১১৭৩ হিজরিতে ইয়েমেনের শাওকান নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে মুফাসসির, মুহাদ্দিস ও ফকিহ ছিলেন। তিনি ১২৫০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তাফসীরের বৈশিষ্ট্য: তাঁর তাফসীর গ্রন্থ “ফাতহুল ক্বাদীর” মূলত রিওয়ায়াত (সনদভিত্তিক) এবং দিরায়াত (যৌক্তিক ব্যাখ্যা)-এর এক অপূর্ব সমন্বয়। এতে তিনি প্রতিটি আয়াতের শাব্দিক ও ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ করেছেন, ফিকহি মাসআলাগুলো দলিলের আলোকে আলোচনা করেছেন এবং অন্ধ অনুকরণ (তাকলিদ) পরিহার করে স্বাধীন মত প্রকাশ করেছেন।


القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

التفسير بدون السند-٢ [আত-তাফসীর বিদুনিল সানাদ-২] – বিষয় কোড: ۲۰۱۳۰٢ (201302)

مجموعة (الف) [ক-বিভাগ]

١- والأنعام خلقها (ج) لكم فيها دفء ومنافع ومنها تأكلون- ولكم فيها جمال حين تريحون وحين تسرحون… (الف) ترجم الأيات الكريمة- (ب) بين فوائد الأنعام في ضوء سورة النحل- (ج) فسر قوله تعالى: “ويخلق ما لا تعلمون”-

[১. (ক) আয়াতগুলোর অনুবাদ কর। (খ) সূরা নাহলের আলোকে গবাদিপশুর উপকারিতা বর্ণনা কর। (গ) “এবং তিনি এমন কিছু সৃষ্টি করেন যা তোমরা জানো না”- তাফসীর কর।]

উত্তর (ক) অনুবাদ: “এবং তিনি গবাদিপশু সৃষ্টি করেছেন, এতে তোমাদের জন্য রয়েছে শীত নিবারক উপকরণ ও বহু উপকারিতা; আর তা থেকে তোমরা আহার করে থাকো। যখন তোমরা সন্ধ্যায় এদেরকে ঘরে ফিরিয়ে আনো এবং সকালে চারণভূমিতে নিয়ে যাও, তখন এতে তোমাদের জন্য সৌন্দর্য রয়েছে।”

উত্তর (খ) উপকারিতা: গবাদিপশুর প্রধান উপকারিতা হলো: ১. শীত নিবারণের পোশাক (পশম থেকে তৈরি), ২. সুস্বাদু খাদ্য (মাংস ও দুধ), ৩. ভারী বোঝা বহন করা এবং ৪. দূরবর্তী স্থানে যাতায়াতের বাহন হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া।

উত্তর (গ) তাফসীর: তৎকালীন যুগে মানুষ উট, ঘোড়া বা গাধা ছাড়া অন্য কোনো বাহন চিনত না। আল্লাহ এই আয়াতে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে মানুষের কল্যাণের জন্য তিনি আরও অনেক উন্নত বাহন (যেমন- গাড়ি, ট্রেন, বিমান) ও জিনিস সৃষ্টি করবেন, যা তৎকালীন মানুষের কল্পনার বাইরে ছিল।

٢- هو الذى أنزل من السماء ماء لكم منه شراب ومنه شجر فيه تسيمون… (الف) ترجم الأيات الكريمة- (ب) فسر قوله تعالى: “ومنه شجر فيه تسيمون”- (ج) فسر قوله تعالى: “إن فى ذلك لآية لقوم يعقلون”-

[২. (ক) আয়াতগুলোর অনুবাদ কর। (খ) “এবং তা থেকে এমন গাছপালা উৎপন্ন হয়, যাতে তোমরা পশু চারণ করে থাকো”- তাফসীর কর। (গ) “নিশ্চয়ই এর মধ্যে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রয়েছে”- তাফসীর কর।]

উত্তর (ক) অনুবাদ: “তিনিই আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, তা থেকে তোমরা পান করো এবং তা থেকে জন্মে গাছপালা, যাতে তোমরা পশু চারণ করো।”

উত্তর (খ) তাফসীর: বৃষ্টির পানির উপকারিতা শুধু মানুষের পানের জন্যই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এই পানি দিয়ে আল্লাহ যমীনকে সজীব করেন এবং নানা রকম ঘাস ও গাছপালা উৎপন্ন করেন, যা মানুষের গবাদিপশুর খাদ্যের সংস্থান করে। এটি আল্লাহর এক বিরাট অনুগ্রহ।

উত্তর (গ) তাফসীর: আল্লাহ তাআলা বৃষ্টি বর্ষণ, শস্য উৎপাদন এবং রাত-দিন পরিবর্তনের যে সুশৃঙ্খল নিয়ম তৈরি করেছেন, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারে না। যারা জ্ঞানী ও চিন্তাশীল, তারা এই নিখুঁত ব্যবস্থাপনার মধ্যে একজন সর্বশক্তিমান স্রষ্টার অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ খুঁজে পায়।

٣- وجعلنا اليل والنهار أيتين فمحونا أية اليل وجعلنا أية النهار مبصرة… وكل إنسان ألزمناه طائره فى عنقه… (الف) ترجم الأيات الكريمة- (ب) اعرب “وكل شيئ فصلناه تفصيلا”- (ج) فسر قوله تعالى: “وكل إنسان ألزمناه طائره فى عنقه”-

[৩. (ক) আয়াতগুলোর অনুবাদ কর। (খ) “ওয়া কুল্লা শাইয়িন ফাসসালনাহু তাফসিলা”- এর তারকিব (ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ) কর। (গ) “আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মফল তার গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছি”- তাফসীর কর।]

উত্তর (ক) অনুবাদ: “আমি রাত ও দিনকে দুটি নিদর্শন করেছি; অতঃপর রাতের নিদর্শনকে আলোহীন করেছি এবং দিনের নিদর্শনকে করেছি আলোকোজ্জ্বল… আর আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মফল তার গলায় ঝুলিয়ে দিয়েছি।”

উত্তর (খ) তারকিব: الواو (عاطفة বা استئنافية)। كل (مفعول به لفعل محذوف يفسره المذكور، منصوب)। شيئ (مضاف اليه، مجرور)। فصلناه (فصل فعل ماض، نا ضمير متصل فاعل، والهاء ضمير متصل مفعول به)। تفصيلا (مفعول مطلق منصوب)।

উত্তর (গ) তাফসীর: ‘ত্বায়ির’ শব্দের অর্থ পাখি বা ভাগ্য। আরবরা পাখি উড়িয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করত। আল্লাহ এখানে বুঝিয়েছেন যে মানুষের ভালো-মন্দের ভাগ্য তার নিজের কর্মের ওপর নির্ভরশীল। তার জীবনের সমস্ত কৃতকর্ম বা আমলনামা গলার হারের মতো তার সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে যুক্ত থাকবে, কিয়ামতের দিন কেউ তা অস্বীকার করতে পারবে না।

٤- وقضى ربك ألا تعبدوا إلا إياه وبالوالدين إحسانا… (الف) ترجم الأيات الكريمة- (ب) فسر قوله تعالى: “وقضى ربك ألا تعبدوا إلا إياه وبالوالدين إحسانا”- (ج) ما معنى قوله تعالى: “جناح الذل”؟ وكم وجها فيه؟

[৪. (ক) আয়াতগুলোর অনুবাদ কর। (খ) “তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো”- তাফসীর কর। (গ) আয়াতে “জানাহায যুল্ল” এর অর্থ কী? এবং এতে কতটি দিক রয়েছে?]

উত্তর (ক) অনুবাদ: “তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের একজন বা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তাদেরকে ‘উফ’ শব্দটি পর্যন্ত বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; বরং তাদের সাথে সম্মানজনক কথা বলো। আর দয়াপরবশ হয়ে তাদের সামনে বিনয়ের ডানা অবনত করো।”

উত্তর (খ) তাফসীর: এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা নিজের ইবাদতের (তাওহীদের) ঠিক পরেই পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন, যা ইসলামে পিতা-মাতার মর্যাদার প্রমাণ। আল্লাহর পর মানুষের ওপর সবচেয়ে বেশি অধিকার হলো পিতা-মাতার।

উত্তর (গ) অর্থ ও দিক: ‘জানাহায যুল্ল’ অর্থ বিনয়ের ডানা। এটি একটি চমৎকার রূপক (ইস্তিয়ারা)। পাখি যেমন তার বাচ্চাদের স্নেহের সাথে ডানা দিয়ে ঢেকে রাখে, সন্তানকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পিতা-মাতার সামনে অহংকার ত্যাগ করে অত্যন্ত বিনয়ী, নমনীয় এবং অনুগত থাকার।

٥- فضربنا على أذانهم فى الكهف سنين عددًا- ثم بعثنهم لنعلم أى الحزبين أحصى لما لبثوا أمدًا… (الف) ترجم الأيات الكريمة- (ب) فسر قوله تعالى: “إنهم فتية أمنوا بربهم وزدنهم هدى”- (ج) ما الفرق بين الكهف والرقيم؟

[৫. (ক) পবিত্র আয়াতগুলোর অনুবাদ কর। (খ) “নিশ্চয়ই তারা ছিল কয়েকজন যুবক, যারা তাদের রবের প্রতি ঈমান এনেছিল…”- তাফসীর কর। (গ) ‘কাহফ’ ও ‘রাকীম’ এর মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর।]

উত্তর (ক) অনুবাদ: “অতঃপর আমি গুহায় কয়েক বছর তাদের কান বন্ধ করে দিলাম (গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন করলাম)। তারপর আমি তাদেরকে জাগিয়ে তুললাম, যাতে আমি জানতে পারি দুই দলের মধ্যে কোনটি তাদের অবস্থানকাল সম্পর্কে সঠিকভাবে হিসাব রাখতে পেরেছে…”

উত্তর (খ) তাফসীর: এখানে আসহাবে কাহফের যুবকদের ঈমানি দৃঢ়তার প্রশংসা করা হয়েছে। তারা শিরকপূর্ণ সমাজ ছেড়ে এক আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করেছিল। আল্লাহ তাদের অন্তরে এমন প্রশান্তি দিয়েছিলেন যে তারা রাজার সামনেও নির্ভয়ে তাওহীদের ঘোষণা দিয়েছিল।

উত্তর (গ) পার্থক্য: ‘কাহফ’ বলতে পাহাড়ের প্রশস্ত গুহাকে বোঝায়, যেখানে যুবকরা আশ্রয় নিয়েছিল। আর ‘রাকীম’ শব্দের অর্থ হলো লিখিত ফলক। যুবকদের নাম ও ঘটনা খোদাই করে গুহার মুখে যে ফলকটি রাখা হয়েছিল, তাকেই রাকীম বলা হয়।

٦- وتحسبهم أيقاظا وهم رقود… لو اطلعت عليهم لوليت منهم فرارا ولملئت منهم رعبا- (الف) ترجم الأيات الكريمة- (ب) فسر قوله تعالى: “لو اطلعت عليهم لوليت منهم فرارًا”- (ج) لم سميت السورة بسورة الكهف؟ وما فضائلها؟

[৬. (ক) পবিত্র আয়াতগুলোর অনুবাদ কর। (খ) “যদি তুমি উঁকি দিয়ে তাদের দেখতে, তবে তুমি পিছন ফিরে পালাতে…”- তাফসীর কর। (গ) এ সূরার নাম ‘সূরা কাহফ’ রাখা হয়েছে কেন? এর কী ফজিলত রয়েছে?]

উত্তর (ক) অনুবাদ: “তুমি মনে করবে তারা জাগ্রত, অথচ তারা ঘুমন্ত। আমি তাদেরকে ডান ও বাম পাশে উল্টেপাল্টে দিই এবং তাদের কুকুরটি গুহামুখে তার দুই সামনের পা প্রসারিত করে আছে…”

উত্তর (খ) তাফসীর: আল্লাহ তাআলা তাদের এমন এক অলৌকিক ও গম্ভীর অবস্থায় ঘুম পাড়িয়ে রেখেছিলেন এবং চোখগুলো খোলা ছিল যে, যে কেউ দেখলে ভয়ে পালিয়ে যেত। এটি ছিল তাদের பாதுகாক্ষার জন্য আল্লাহর একটি বিশেষ ব্যবস্থা।

উত্তর (গ): এ সূরায় আসহাবে কাহফ বা গুহাবাসীর ঈমানদীপ্ত ও বিস্ময়কর ঘটনা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে বলে এর নাম ‘সূরা আল-কাহফ’ রাখা হয়েছে। ফজিলত: রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত নূর বিচ্ছুরিত হবে।”

٧- يزكريا إنا نبشرك بغلم اسمه يحيى لم نجعل له من قبل سميا… (الف) ترجم الأيات الكريمة- (ب) من هو يحيى عليه السلام؟ بين معجزاته- (ج) اكتب وجه تسمية السورة ب ‘مريم’-

[৭. (ক) পবিত্র আয়াতগুলোর অনুবাদ কর। (খ) ইয়াহইয়া (আ.) কে? তাঁর মুজিযাসমূহ বর্ণনা কর। (গ) সূরাটির নাম ‘মারইয়াম’ রাখার কারণ লেখ।]

উত্তর (ক) অনুবাদ: “(আল্লাহ বললেন) হে জাকারিয়া! আমি তোমাকে এক পুত্রসন্তানের সুসংবাদ দিচ্ছি, যার নাম হবে ইয়াহইয়া। এর আগে আমি এ নামে কারো নামকরণ করিনি…”

উত্তর (খ): হযরত ইয়াহইয়া (আ.) হলেন আল্লাহর একজন সম্মানিত নবী এবং হযরত জাকারিয়া (আ.)-এর পুত্র। তাঁর মুজিযা: চরম বৃদ্ধ পিতা এবং বন্ধ্যা মায়ের ঘরে অলৌকিকভাবে তাঁর জন্ম হওয়া। এছাড়া তিনি ছোটবেলাতেই নবুওয়াত, প্রজ্ঞা ও কিতাবের জ্ঞান লাভ করেছিলেন।

উত্তর (গ): পবিত্র কুরআনের এই সূরায় হযরত ঈসা (আ.)-এর মাতা কুমারী মারইয়ামের সতীত্ব এবং কোনো পুরুষের স্পর্শ ছাড়া আল্লাহর কুদরতে অলৌকিকভাবে সন্তান লাভের ঘটনা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে। তাই সম্মানস্বরূপ এ সূরার নাম ‘সূরা মারইয়াম’ রাখা হয়েছে।

٨- قال إنما أنا رسول ربك (ق) لأهب لك غلما زكيا… (الف) ترجم الأيات الكريمة- (ب) من هو مريم عليها السلام ؟ بين الواقعة المتعلقة بالأية- (ج) فسر قوله تعالى: “ولنجعله أية للناس”-

[৮. (ক) পবিত্র আয়াতগুলোর অনুবাদ কর। (খ) মারইয়াম (আ.) কে? আয়াতের সাথে সম্পর্কিত ঘটনাটি বর্ণনা কর। (গ) “যাতে আমি তাকে মানুষের জন্য একটি নিদর্শন বানাতে পারি”- তাফসীর কর।]

উত্তর (ক) অনুবাদ: “সে (ফেরেশতা) বলল, আমি তো তোমার রবের প্রেরিত রাসূল, যাতে তোমাকে এক পবিত্র পুত্রসন্তান দান করতে পারি। মারইয়াম বলল, কীভাবে আমার পুত্রসন্তান হবে, অথচ কোনো পুরুষ আমাকে স্পর্শ করেনি…”

উত্তর (খ): মারইয়াম (আ.) হলেন ইমরানের কন্যা এবং হযরত ঈসা (আ.)-এর মাতা। ঘটনা: মারইয়াম (আ.) যখন মসজিদে ইবাদতে মগ্ন ছিলেন, তখন জিবরাঈল (আ.) একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের রূপ ধারণ করে তাঁর কাছে আসেন এবং একটি পুত্রসন্তানের সুসংবাদ দেন, যা শুনে তিনি অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছিলেন।

উত্তর (গ) তাফসীর: আল্লাহ পিতা ছাড়া শুধুমাত্র তাঁর আদেশে (‘কুন’ বা ‘হও’ শব্দ দ্বারা) ঈসা (আ.)-কে সৃষ্টি করে সমগ্র মানবজাতির সামনে তাঁর অসীম ক্ষমতার এক মহানিদর্শন স্থাপন করতে চেয়েছেন, এটিই এ আয়াতে বলা হয়েছে।

٩- طه- ما أنزلنا عليك القرآن لتشقى… الرحمن على العرش استوى- (الف) ترجم الأيات الكريمة- (ب) فسر قوله تعالى: “الرحمن على العرش استوى”- (ج) ما الفرق بين الإنزال والتنزيل؟

[৯. (ক) পবিত্র আয়াতগুলোর অনুবাদ কর। (খ) “দয়াময় আল্লাহ আরশের ওপর সমাসীন হয়েছেন”- তাফসীর কর। (গ) ‘ইনযাল’ এবং ‘তানযীল’ এর মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর।]

উত্তর (ক) অনুবাদ: “ত্বা-হা। আমি তোমার ওপর কুরআন এ জন্য অবতীর্ণ করিনি যে তুমি কষ্ট পাবে; বরং যে ভয় করে তার জন্য উপদেশস্বরূপ। এটি তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, যিনি যমীন ও সুউচ্চ আসমানসমূহ সৃষ্টি করেছেন।”

উত্তর (খ) তাফসীর: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা হলো, আল্লাহ আরশে সমাসীন, তবে এর ধরন ও প্রকৃতি আমাদের চিন্তার বাইরে। এর কোনো বাহ্যিক ব্যাখ্যা বা তাবিল না করে এর ওপর সরাসরি ঈমান আনতে হবে।

উত্তর (গ) পার্থক্য: ‘ইনযাল’ বলতে কোনো কিছু একবারে সম্পূর্ণ অবতীর্ণ করাকে বোঝায় (যেমন লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে পুরো কুরআন একবারে নাযিল হওয়া)। আর ‘তানযীল’ মানে হলো পরিস্থিতি ও প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘ সময় ধরে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ করা (যেমন ২৩ বছর ধরে রাসূলের ওপর নাযিল হওয়া)।

١٠- سنة من قد أرسلنا قبلك من رسلنا… أقم الصلاة لدلوك الشمس إلى غسق اليل وقرآن الفجر… (الف) ترجم الأيات الكريمة- (ب) فسر قوله تعالى: “إن قرآن الفجر كان مشهودًا”- (ج) ما مواقيت الصلاة المشار إليها فى الآية الكريمة؟

[১০. (ক) পবিত্র আয়াতগুলোর অনুবাদ কর। (খ) “নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন পাঠ ফেরেশতাদের উপস্থিতির সময়”- তাফসীর কর। (গ) এই আয়াতে নামাজের কোন কোন ওয়াক্তের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে?]

উত্তর (ক) অনুবাদ: “তোমার পূর্বে আমি যত রাসূল পাঠিয়েছি, তাদের ক্ষেত্রেও এটাই ছিল নিয়ম… সূর্য হেলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম কর এবং ফজরের কুরআন পাঠ (নামাজ)…”

উত্তর (খ) তাফসীর: মুফাসসিরদের মতে, ফজরের নামাজের সময় দিন ও রাতের দায়িত্ব পালনকারী উভয় দলের ফেরেশতারা একত্রে উপস্থিত হন এবং আল্লাহর কাছে বান্দার আমলের সাক্ষ্য দেন।

উত্তর (গ): এই আয়াতে মূলত ৫ ওয়াক্ত নামাজের কথা বলা হয়েছে। “দুলুকিশ শামস” (সূর্য হেলে পড়া) দ্বারা জোহর ও আসর, “গাসাক্বিল লাইল” (রাতের অন্ধকার) দ্বারা মাগরিব ও ইশা এবং “কুরআনাল ফাজর” দ্বারা ফজরের নামাজ বোঝানো হয়েছে।

مجموعة (ب) [খ-বিভাগ]

١١- اكتب نبذة من حياة لابن عطية الأندلسي (رح) ومزايا تفسيره “المحرر الوجيز في تفسير الكتاب العزيز”-

[১১. ইবনে আতিয়্যা আল-আন্দালুসি (রহ.) এর জীবনী এবং তাঁর তাফসীর গ্রন্থ “আল-মুহাররার আল-ওয়াজীয” এর বৈশিষ্ট্য লেখ।]

উত্তর:
জীবনী: তাঁর পুরো নাম আবু মুহাম্মদ আব্দুল হক ইবনে আতিয়্যা। তিনি ৪৮১ হিজরিতে স্পেনের (আন্দালুস) গ্রানাডায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকিহ এবং ভাষাবিদ ছিলেন। তিনি ৫৪৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন。

তাফসীরের বৈশিষ্ট্য: তাঁর “আল-মুহাররার আল-ওয়াজীয” গ্রন্থটি তাফসীর বিল মাতসুর (সনদভিত্তিক) এবং তাফসীর বির রায় (যৌক্তিক ব্যাখ্যা)-এর একটি অনন্য সমন্বয়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এতে ইসরাইলি রেওয়াত (ভিত্তিহীন কাহিনী) কঠোরভাবে বর্জন করা হয়েছে এবং ব্যাকরণ ও ভাষাগত অলংকারশাস্ত্রের ওপর গভীর আলোচনা করা হয়েছে।

١٢- ما الفرق بين التفسير والتأويل؟ تحدث عن التفسير بدون السند مع بيان شروطه وحكمه-

[১২. তাফসীর ও তাবীল এর মধ্যে পার্থক্য কী? তাফসীর বিদুনিল সানাদ সম্পর্কে আলোচনা কর এবং এর শর্ত ও হুকুম বর্ণনা কর।]

উত্তর:
পার্থক্য: ‘তাফসীর’ হলো আয়াতের বাহ্যিক ও শাব্দিক অর্থ সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণনা করা। অন্যদিকে ‘তাবীল’ হলো আয়াতের একাধিক সম্ভাব্য অর্থ থেকে প্রাসঙ্গিক ও যুক্তিসঙ্গত অন্তর্নিহিত অর্থ বের করা।

তাফসীর বিদুনিল সানাদ: রাবীদের বা বর্ণনাকারীদের সনদ উল্লেখ না করে সরাসরি কুরআন, হাদিস বা যুক্তির মাধ্যমে কুরআনের যে ব্যাখ্যা করা হয়, তাকে তাফসীর বিদুনিল সানাদ বা তাফসীর বির-রায় বলে।

শর্ত ও হুকুম: এর শর্ত হলো মুফাসসিরকে আরবি ভাষা, ব্যাকরণ, শানে নুযুল ও ইসলামি শরিয়তের জ্ঞানে অগাধ পণ্ডিত হতে হবে এবং তাফসীরটি কুরআন বা সুন্নাহর সাথে সাংঘর্ষিক হওয়া যাবে না। এই শর্তগুলো মেনে তাফসীর করা জায়েজ (মাহমুদ), কিন্তু অজ্ঞতার সাথে নিজের মনগড়া ব্যাখ্যা করা সম্পূর্ণ হারাম (মাযমুম)।


القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

علوم الحديث [উলুমুল হাদিস] – বিষয় কোড: ۲۰۱۳۰۳ (201303)

مجموعة (الف) [ক-বিভাগ]

١- عرف علم مصطلح الحديث- ثم بين نشأته وتطوره مفصلا-

[১. علم مصطلح الحديث এর সংজ্ঞা দাও। এই শাস্ত্রের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

উত্তর:
সংজ্ঞা: ইলমুল মুসতালাহুল হাদিস হলো এমন কিছু নিয়ম-নীতির জ্ঞান, যার মাধ্যমে রাবী (বর্ণনাকারী) এবং মারবী (বর্ণিত বিষয় বা মতন) এর অবস্থা জানা যায়, যাতে হাদিসটি গ্রহণ বা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ: রাসূল (সা.)-এর যুগে হাদিস যাচাইয়ের খুব বেশি প্রয়োজন ছিল না। তবে ফিতনা দেখা দেওয়ার পর সনদ যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। প্রথমে তাফসির ও ফিকহের অংশ হিসেবে হাদিসের মূলনীতিগুলো বিক্ষিপ্তভাবে আলোচিত হতো। পরবর্তীতে হিজরি চতুর্থ শতাব্দীতে কাজী আবু মুহাম্মদ রামাহুরমুযি (রহ.) “আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল” গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে এটিকে সর্বপ্রথম একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে রূপ দেন।

٢- عرف الخبر المتواتر – ثم بين شروطه وأقسامه وأشهر المصنفات فيه-

[২. الخبر المتواتر এর সংজ্ঞা দাও। খবর মুতাওয়াতির এর শর্ত, প্রকারভেদ ও সে বিষয়ে রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর বিবরণ দাও।]

উত্তর:
সংজ্ঞা: যে হাদিস প্রত্যেক যুগে এত অধিক সংখ্যক রাবী বর্ণনা করেছেন যে, তাদের মিথ্যার ওপর একমত হওয়া জ্ঞানত ও কার্যত অসম্ভব, তাকে খবারে মুতাওয়াতির বলে।

শর্ত: ১. প্রত্যেক স্তরে রাবীর সংখ্যা অনেক হওয়া। ২. এই সংখ্যা সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিদ্যমান থাকা। ৩. তাদের বর্ণনা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বা চাক্ষুষ অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল হওয়া।

প্রকারভেদ ও গ্রন্থ: এটি দুই প্রকার- ১. মুতাওয়াতির লাফযি (শব্দগত) ও ২. মুতাওয়াতির মানবী (অর্থগত)। এ বিষয়ে হাফিজ সুয়ুতী (রহ.)-এর লেখা “আল-আযহারুল মুতানাছিরাহ فীল আখবারিল মুতাওয়াতিরাহ” একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ।

٣- عرف الخبر الغريب- ثم بين أقسامه بالأمثلة-

[৩. الخبر الغريب এর সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]

উত্তর:
সংজ্ঞা: যে হাদিসের সনদের কোনো এক স্তরে বা সকল স্তরে বর্ণনাকারীর সংখ্যা মাত্র একজনে নেমে আসে, তাকে খবারে গরীব বলে।

প্রকারভেদ ও উদাহরণ: এটি দুই প্রকার। ১. গরীবুল মুতলাক (সনদের মূল বা প্রথম স্তরে রাবী একজন হওয়া)। উদাহরণ: “ইন্নামাল আ’মালু বিন নিয়্যাত” হাদিসটি সাহাবী স্তরে কেবল উমর (রা.) বর্ণনা করেছেন। ২. গরীবুন নিসবি (সনদের মাঝখানের কোনো স্তরে রাবী একজন হওয়া)। উদাহরণ: মালিক-যুহরী-আনাস সূত্রে বর্ণিত একটি হাদিস, যা যুহরীর পর অন্য কেউ বর্ণনা করেনি।

٤- عرف الصحيح مع شرح تعريفه ومثاله وحكمه ثم اذكر خمسة مصنفات فيه-

[৪. الصحيح এর সংজ্ঞা, উদাহরণ ও হুকুম লেখ। এ বিষয়ে রচিত পাঁচটি গ্রন্থের বর্ণনা দাও।]

উত্তর:
সংজ্ঞা ও উদাহরণ: যে হাদিসের সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ স্মরণশক্তিসম্পন্ন ও আদিল (ন্যায়পরায়ণ) রাবী পরস্পর মিলিত সনদে বর্ণনা করেছেন এবং এতে কোনো শায (বিরলতা) বা সূক্ষ্ম ত্রুটি নেই, তাকে সহীহ হাদিস বলে। উদাহরণ: ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, “বুনিয়াল ইসলামু আলা খামসিন…” হাদিসটি।

হুকুম ও গ্রন্থ: সর্বসম্মতিক্রমে সহীহ হাদিসের ওপর আমল করা ওয়াজিব। পাঁচটি গ্রন্থ হলো: ১. সহীহ বুখারী, ২. সহীহ মুসলিম, ৩. সহীহ ইবনে খুযাইমা, ৪. সহীহ ইবনে হিব্বান এবং ৫. আল-মুসতাদরাক আলাস সহীহাইন।

٥- ما المراد بالسقط من الإسناد؟ وما هى أنواع السقط؟ تحدث عن المعلق ممثلا-

[৫. السقط من الإسناد দ্বারা উদ্দেশ্য কী? এর প্রকারগুলো কী কী? উদাহরণসহ المعلق এর আলোচনা কর।]

উত্তর:
উদ্দেশ্য ও প্রকারভেদ: ‘সাক্ত মিনাল ইসনাদ’ বলতে সনদের কোনো স্তর থেকে এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়াকে বোঝায়। এটি প্রধানত দুই প্রকার: ক. সুস্পষ্ট (যেমন: মুআল্লাক, মুরসাল, মু’দাল, মুনকাতি) এবং খ. অস্পষ্ট (যেমন: মুদাল্লাস, মুরসাল খফি)।

আল-মুআল্লাক: যে হাদিসের সনদের শুরু থেকে (গ্রন্থকারের দিক থেকে) এক বা একাধিক রাবীকে বাদ দেওয়া হয়, তাকে মুআল্লাক বলে। উদাহরণ: বুখারী শরীফে ইমাম বুখারী অনেক জায়গায় নিজের সরাসরি উস্তাদদের নাম বাদ দিয়ে বলেছেন “আবু মুসা (রা.) নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন…” এটি মুআল্লাক হাদিসের উদাহরণ।

٦- ما المراد بالطعن فى الراوى؟ وما أسباب الطعن؟ بين مفصلا وممثلا-

[৬. الطعن في الراوى দ্বারা উদ্দেশ্য কী? এর কারণগুলো কী কী? উদাহরণসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

উত্তর:
উদ্দেশ্য: ‘রাবীর ওপর তা’ন’ বলতে বর্ণনাকারীর দ্বীনদারি (আদালত) কিংবা স্মরণশক্তিতে (যবত) এমন কোনো ত্রুটি সাব্যস্ত হওয়াকে বোঝায়, যার কারণে তার বর্ণিত হাদিস অগ্রহণযোগ্য হয়ে যায়।

কারণসমূহ: এর ১০টি কারণ রয়েছে। ৫টি আদালত সম্পর্কিত (যথা: মিথ্যা বলা, মিথ্যার অভিযোগ থাকা, ফিসক বা পাপাচার, বিদআত এবং রাবীর অজ্ঞতা)। আর ৫টি যবত সম্পর্কিত (যথা: মারাত্মক ভুল করা, মুখস্থ বিদ্যায় দুর্বলতা, গাফলাত, বেশি বেশি সন্দেহ করা এবং বিশ্বস্ত রাবীর বিরোধিতা করা)। উদাহরণ: যদি কোনো রাবীর বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তার হাদিস ‘মাতরূক’ হিসেবে গণ্য হবে।

٧- عرف الموضوع ثم بين حكم روايته وكيفية معرفته ودواعى الوضع مفصلا-

[৭. الموضوع এর সংজ্ঞা দাও। এটি বর্ণনার হুকুম, চেনার উপায় ও হাদিস জালকরণের কারণ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

উত্তর:
সংজ্ঞা ও হুকুম: মাওযু বা জাল হাদিস হলো এমন কথা বা কাজ যা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নামে মিথ্যাভাবে রটানো বা তৈরি করা হয়েছে। এটি বর্ণনা করা সম্পূর্ণ হারাম, তবে কেবল মানুষকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে বর্ণনা করা জায়েজ।

চেনার উপায় ও কারণ: চেনার উপায় হলো— জালকারীর নিজের স্বীকারোক্তি, ভাষার দুর্বলতা এবং কুরআন বা সুন্নাহর অকাট্য প্রমাণের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক হওয়া। হাদিস জালকরণের মূল কারণগুলো হলো— রাজনৈতিক মতভেদ (যেমন শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব), নিজেদের ভ্রান্ত আকিদার প্রসার, শাসকদের মন জয় করার চেষ্টা এবং মানুষকে ইবাদতে উৎসাহী করার মিথ্যা ধারণা।

٨- ما هى شروط قبول الراوى؟ وكيف تثبت هذه الشروط؟ بين مفصلا-

[৮. ‘রাবী’ গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য শর্তগুলো কী কী এবং শর্তগুলো কীভাবে প্রমাণিত হয়? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

উত্তর:
শর্তসমূহ: রাবীর হাদিস গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য মূল শর্ত দুটি: ১. ‘আদালত’ (রাবীকে মুসলিম, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্ক এবং পাপ ও শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ থেকে মুক্ত হতে হবে) এবং ২. ‘যবত’ (বুক বা মস্তিষ্কে হাদিস মুখস্থ রাখা এবং প্রয়োজনমতো তা সঠিকভাবে উপস্থাপন করার অটুট ক্ষমতা থাকতে হবে)।

প্রমাণিত হওয়ার উপায়: রাবীর ‘আদালত’ প্রমাণিত হয় বড় মুহাদ্দিসদের দ্বারা তার প্রশংসা (তা’দীল) করার মাধ্যমে অথবা সমাজে তিনি সৎ হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করার মাধ্যমে। আর ‘যবত’ প্রমাণিত হয় তার বর্ণিত হাদিসগুলোকে অন্যান্য বিশ্বস্ত রাবীদের বর্ণনার সাথে মিলিয়ে দেখার মাধ্যমে।

مجموعة (ب) [খ-বিভাগ]

٩- اكتب مراتب الصحيح-

[৯. الصحيح এর স্তরগুলো লেখ।]

উত্তর: সনদের শক্তি এবং গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে সহীহ হাদিসের ৭টি স্তর রয়েছে: ১. যা বুখারী ও মুসলিম উভয়ে বর্ণনা করেছেন (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। ২. যা কেবল বুখারী বর্ণনা করেছেন। ৩. যা কেবল মুসলিম বর্ণনা করেছেন। ۴. যা উভয়ের শর্তানুযায়ী সহীহ, কিন্তু তারা বর্ণনা করেননি। ৫. যা কেবল বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ। ৬. যা কেবল মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। ৭. যা অন্যান্য ইমামদের শর্তানুযায়ী সহীহ।

١٠- ما شروط الشيخين فى رواية الحديث؟

[১০. হাদিস বর্ণনায় ইমাম বুখারী ও মুসলিমের শর্তগুলো কী কী?]

উত্তর: শাইখাইনের (ইমাম বুখারী ও মুসলিম) সাধারণ শর্ত হলো রাবীর পূর্ণ বিশ্বস্ততা ও সনদের ধারাবাহিকতা। তবে ‘মুআনআন’ (عن শব্দ দ্বারা বর্ণিত) হাদিসের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত রয়েছে। ইমাম বুখারীর শর্ত হলো: বর্ণনাকারী ও তার উস্তাদের সমসাময়িক হওয়ার পাশাপাশি জীবনে অন্তত একবার তাদের সাক্ষাৎ প্রমাণিত হতে হবে। আর ইমাম মুসলিমের শর্ত হলো: সমসাময়িক হওয়া এবং সাক্ষাতের সম্ভাবনা থাকাই যথেষ্ট।

١١- ما هى ألفاظ التعديل؟

[১১. التعديل এর শব্দগুলো কী কী?]

উত্তর: রাবীর সততা ও বিশ্বস্ততা প্রমাণের জন্য মুহাদ্দিসগণ যেসব শব্দ ব্যবহার করেন, সেগুলোকে ‘আলফাজুত তাদীল’ বলে। এর কয়েকটি স্তর ও শব্দ হলো: ১. সর্বোচ্চ স্তর: أوثق الناس (সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য)। ২. দ্বিতীয় স্তর: ثقة ثقة (অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য)। ৩. তৃতীয় স্তর: ثقة (নির্ভরযোগ্য), متقن (মজবুত)। ۴. সাধারণ স্তর: صدوق (সত্যবাদী)।

١٢- ما هى طرق تحمل الحديث؟

[১২. হাদিস গ্রহণ করার পদ্ধতিগুলো কী কী?]

উত্তর: মুহাদ্দিসদের মতে উস্তাদের কাছ থেকে হাদিস গ্রহণ (তাহাম্মুলুল হাদিস) করার পদ্ধতি ৮টি: ১. সামা’ (উস্তাদের মুখে শোনা), ২. কিরাআত (উস্তাদের সামনে নিজে পাঠ করা), ৩. ইজাযাত (অনুমতি দেওয়া), ৪. মুনাওয়ালাহ (কিতাব হাতে তুলে দেওয়া), ৫. কিতাবাত (লিখে দেওয়া), ৬. ই’লাম (উস্তাদের শুধু জানিয়ে দেওয়া), ৭. ওয়াসিয়্যাত (উইল করে যাওয়া) এবং ৮. উইজাদাহ (উস্তাদের লিখিত কিতাব প্রাপ্ত হওয়া)।

١٣- ما هى شروط قبول المعنعن؟

[১৩. معنعن হাদিস গ্রহণযোগ্য হওয়ার শর্তগুলো কী কী?]

উত্তর: যে সনদে عن (অমুক থেকে) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তাকে ‘মুআনআন’ হাদিস বলে। এটি গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য ২টি শর্ত রয়েছে: ১. বর্ণনাকারী রাবীর ‘মুদাল্লিস’ (দোষ গোপনকারী) হওয়ার অভ্যাস না থাকা। ২. বর্ণনাকারী এবং যার থেকে বর্ণনা করছেন, উভয়ের সমসাময়িক হওয়া এবং একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ হওয়া প্রমাণিত বা অন্তত সম্ভবপর হওয়া।

١٤- اكتب أسماء خمسة مصنفات فى علوم الحديث مع ذكر مؤلفيها-

[১৪. উলুমুল হাদিস বিষয়ে রচিত পাঁচটি গ্রন্থ এবং এগুলোর সংকলকের নাম লেখ।]

উত্তর: উলুমুল হাদিস বিষয়ে রচিত পাঁচটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো: ১. মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ — লেখক: হাফিজ আবু আমর ইবনুস সালাহ, ২. তাদরীবুর রাবী — লেখক: হাফিজ জালালুদ্দীন সুয়ুতী, ৩. নুযহাতুন নাযার — লেখক: হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানী, ۴. আল-বায়িসুল হাসিস — লেখক: হাফিজ ইবনে কাসীর এবং ৫. তাইসীরু মুসতালাহিল হাদিস — লেখক: ড. মাহমুদ তাহহান।

١٥- هات مثالين للتوابع والشواهد-

[১৫. التوابع ও الشواهد এর দুটি উদাহরণ দাও।]

উত্তর:
তাবে’ এর উদাহরণ: শাফেয়ী (রহ.) মালিক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন দ্বীনার থেকে, তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে রমজানের চাঁদ দেখা সম্পর্কে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। এই একই হাদিসটি শাফেয়ীর সাথে আব্দুল্লাহ বিন মাসলামাও মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন, তাই এটি একটি ‘তাবে’ বা মুতাবায়াত।
শাহিদ এর উদাহরণ: উপরোক্ত ইবনে উমর (রা.) এর হাদিসটির মূল অর্থ ঠিক রেখে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও সম্পূর্ণ অন্য একটি সনদে হাদিস বর্ণিত হয়েছে, তাই ইবনে আব্বাস (রা.) এর হাদিসটি প্রথম হাদিসের জন্য একটি ‘শাহিদ’।

١٦- علق على اثنين من التالية: المسند (بكسر النون)، المحدث، الحافظ، الحاكم-

[১৬. নিচের যে কোনো দুটি বিষয়ে টীকা লেখ: المُسنِد, المُحَدِّث, الحافظ, الحاكم।]

উত্তর (যে কোনো দুটি):
১. আল-হাফিজ (الحافظ): হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষায় হাফিজ বলা হয় সেই ব্যক্তিকে যিনি অন্তত এক লক্ষ হাদিস এর সনদ ও মতন (মূল পাঠ) সহ মুখস্থ রাখেন এবং রাবীদের দোষ-গুণ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখেন।
২. আল-হাকিম (الحاكم): যিনি সমস্ত বর্ণিত হাদিসের ওপর এমনভাবে পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন যে, হাদিসের খুব সামান্য অংশই তার জ্ঞানের বাইরে রয়েছে এবং তিনি ইলমে হাদিসের প্রতিটি শাখায় অগাধ জ্ঞানের অধিকারী।

القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

دراسة الحديث [দিরাসাতুল হাদীস] – বিষয় কোড: ۲۰۱۳۰٤ (201304)

مجموعة (الف) [ক-বিভাগ]

١- حدثنا الحميدي قال حدثنا سفيان… إنما الأعمال بالنيات وإنما لامرئ ما نوى… (الف) بين أقسام الوحي وصوره ممثلا- (ب) ما معنى النية؟ هل النية شرط لكل عمل؟ بين-

[১. (ক) ওহীর প্রকার ও অবতীর্ণ হওয়ার ধরনগুলো উদাহরণসহ বর্ণনা কর। (খ) নিয়ত এর অর্থ কী? নিয়ত কি সকল আমলের জন্য শর্ত? বর্ণনা কর।]

উত্তর (ক): ওহী প্রধানত দু’প্রকার: ১. ওহীয়ে মাতলু (কুরআন) এবং ২. ওহীয়ে গায়রে মাতলু (হাদিস)। ওহী আসার বিভিন্ন ধরন বা সুরত রয়েছে: ক. ঘণ্টার ধ্বনির মতো আওয়াজ হয়ে আসা (সালসালাতুল জারাস), খ. জিবরাঈল (আ.) এর মানুষের রূপ ধারণ করে আসা, গ. নবীদের সত্য স্বপ্ন এবং ঘ. সরাসরি অন্তরে কোনো বিষয় প্রক্ষিপ্ত হওয়া (ইলহাম)।

উত্তর (খ): ‘নিয়ত’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ইচ্ছা বা সংকল্প করা। পরিভাষায়, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো ইবাদত পালনের সংকল্পকে নিয়ত বলে। নিয়ত সব আমলের জন্য শর্ত কি না এ নিয়ে ফকিহদের মতভেদ রয়েছে। হানাফী মাযহাব মতে সালাত, সাওম, হজ ইত্যাদি মূল ইবাদতের জন্য নিয়ত শর্ত, তবে ওযু-গোসল ইত্যাদি পবিত্রতা অর্জনের জন্য নিয়ত শর্ত নয় (বরং সুন্নত)। কিন্তু শাফেয়ী মাযহাব মতে ওযু-গোসলসহ সকল ইবাদতের জন্যই নিয়ত ফরজ বা শর্ত।

٢- حدثنا موسى قال حدثنا أبو عوانة… من كذب على متعمدا فليتبوأ مقعده من النار- (الف) ما الإختلاف فى التسمية بإسم النبي صلى الله عليه وسلم وبكنيته؟ فصل- (ب) ما هو الحديث المتواتر؟ هل هذا الحديث متواتر أم لا؟ أوضح-

[২. (ক) নবী (সা.) এর নামে নাম রাখা এবং তাঁর কুনিয়াত রাখা সম্পর্কে মতভেদ বিস্তারিত লেখ। (খ) মুতাওয়াতির হাদিস কী? এই হাদিসটি কি মুতাওয়াতির? স্পষ্ট কর।]

উত্তর (ক): নবী (সা.) এর নামে (যেমন: মুহাম্মদ, আহমাদ) নাম রাখা সর্বসম্মতিক্রমে জায়েজ এবং বরকতময়। কিন্তু তাঁর কুনিয়াত বা উপনাম (আবুল কাসিম) রাখা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। শাফেয়ীগণের মতে এটি সর্বদাই হারাম। তবে হানাফীগণের বিশুদ্ধ মত হলো— রাসূল (সা.) এর জীবদ্দশায় এই কুনিয়াত রাখা নিষেধ ছিল, কিন্তু তাঁর ইন্তেকালের পর উম্মতের জন্য ‘আবুল কাসিম’ উপনাম রাখা জায়েজ।

উত্তর (খ): যে হাদিসটি প্রত্যেক যুগে এত বিপুল সংখ্যক বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন যে, তাদের মিথ্যার ওপর একমত হওয়া অসম্ভব, তাকে মুতাওয়াতির হাদিস বলে। হ্যাঁ, “যে ব্যক্তি আমার ওপর ইচ্ছাকৃত মিথ্যা আরোপ করবে…” এই হাদিসটি একটি মুতাওয়াতির হাদিস, কারণ প্রায় ৭০ জনেরও বেশি সাহাবী এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

٣- عن أبى هريرة (رض) أن أعرابيا جاء إلى رسول الله… (الف) لم لم يذكر الشهادة والحج فى الحديث مع أنهما من أركان الايمان؟ (ب) عرف الشرك مع بيان أقسامه مفصلا-

[৩. (ক) সাহাদাত ও হজ ইসলামের রুকন হওয়া সত্ত্বেও এই হাদিসে তা উল্লেখ করা হয়নি কেন? (খ) শিরকের পরিচয় ও প্রকারভেদ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

উত্তর (ক): এক বেদুইন সাহাবী জান্নাতে যাওয়ার আমল সম্পর্কে জানতে চাইলে রাসূল (সা.) নামাজ, রোজা ও যাকাতের কথা বলেন। এখানে ঈমানের সাক্ষ্য (শাহাদাত) উল্লেখ করা হয়নি কারণ ওই সাহাবী আগে থেকেই মুমিন ছিলেন। আর হজের কথা উল্লেখ করা হয়নি কারণ তখনো হজ ফরজ হয়নি অথবা প্রশ্নকারীর আর্থিক সামর্থ্য ছিল না বলে রাসূল (সা.) তা এড়িয়ে গেছেন।

উত্তর (খ): আল্লাহর সত্তা, গুণাবলি বা ইবাদতে অন্য কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে শিরক বলে। এটি প্রধানত তিন প্রকার: ১. শিরকে আকবর (বড় শিরক)— যেমন মূর্তিপূজা করা বা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে দোয়া করা। এটি মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। ২. শিরকে আসগর (ছোট শিরক)— যেমন লোক দেখানো ইবাদত (রিয়া)। ৩. শিরকে খফি (গোপন শিরক)— যা মানুষের অন্তরে লুকিয়ে থাকে।

٤- عن أبى هريرة (رض) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم الإيمان بضع وسبعون… (الف) ما معنى الإيمان لغة وشرعا؟ وما الاختلاف فى حد الإيمان بين علماء الإسلام؟ (ب) ما معنى الحياء لغة وشرعا؟ هل الحياء محمود فى جميع الأمور والأحيان؟

[৪. (ক) ঈমানের আভিধানিক ও শরয়ি অর্থ কী? ঈমানের সংজ্ঞা নিয়ে ইসলামি স্কলারদের মাঝে মতভেদ কী? (খ) হায়া বা লজ্জার অর্থ কী? এটি কি সব ক্ষেত্রে প্রশংসনীয়?]

উত্তর (ক): ‘ঈমান’ অর্থ বিশ্বাস স্থাপন করা, স্বীকৃতি দেওয়া। শরয়ি অর্থে: “অন্তরে বিশ্বাস, মুখে স্বীকৃতি এবং কাজে পরিণত করার নামই ঈমান।” মতভেদ: মু’তাযিলা ও খারিজিদের মতে আমল ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ, আমল না করলে মানুষ কাফির হয়ে যায়। কিন্তু আহলে সুন্নাতের মতে, আমল ঈমানের পূর্ণতা দানকারী অংশ (কামালাত), মূল অংশ নয়। মুমিন ব্যক্তি কবিরা গুনাহ করলেও সে কাফির হয় না, বরং ফাসিক হয়।

উত্তর (খ): ‘হায়া’ অর্থ লজ্জা বা শালীনতা। শরয়ি পরিভাষায়, হায়া হলো এমন এক চমৎকার গুণ, যা মানুষকে সব ধরনের পাপাচার ও অশ্লীলতা থেকে বিরত রাখে এবং হকদারের হক আদায়ে উদ্বুদ্ধ করে। হ্যাঁ, প্রকৃত হায়া সর্বদাই প্রশংসনীয়। তবে যে লজ্জা মানুষকে দ্বীন শিক্ষা করা বা সত্য কথা বলা থেকে বিরত রাখে, তা প্রকৃত হায়া নয়, বরং তা হলো হীনমন্যতা (খাজাল), যা নিন্দনীয়।

٥- عن ابن عباس (رض) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم بعث معاذا إلى اليمن… (الف) ما معنى الزكوة لغة وشرعاً؟ ومتى فرضت الزكوة؟ (ب) تحدث عن أسلوب الدعوة إلى الله فى ضوء هذا الحديث-

[৫. (ক) যাকাতের আভিধানিক ও শরয়ি অর্থ কী? এটি কখন ফরজ হয়? (খ) এই হাদিসের আলোকে আল্লাহর পথে দাওয়াতের পদ্ধতি আলোচনা কর।]

উত্তর (ক): ‘যাকাত’ অর্থ পবিত্র হওয়া বা বৃদ্ধি পাওয়া। পরিভাষায়: শরীয়ত নির্ধারিত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে, বছরান্তে তার নির্দিষ্ট অংশ (আড়াই শতাংশ) গরিব-দুঃখীদের মাঝে বণ্টন করে দেওয়াকে যাকাত বলে। এটি দ্বিতীয় হিজরিতে ফরজ হয়।

উত্তর (খ) দাওয়াতের পদ্ধতি: এই হাদিসে রাসূল (সা.) মুআয (রা.)-কে একটি চমৎকার পদ্ধতি শিখিয়েছেন। তা হলো ‘তাদরীজ’ বা পর্যায়ক্রমিক দাওয়াত। তিনি প্রথমে তাদের তাওহীদ ও রিসালাতের (কালিমা) দাওয়াত দিতে বলেন। তারা তা মানলে এরপর ৫ ওয়াক্ত নামাজের কথা বলতে বলেন। নামাজ পড়লে তারপর যাকাতের কথা বলতে বলেন। একসাথে সব চাপিয়ে না দিয়ে ধাপে ধাপে দ্বীনের পথে ডাকা হলো সর্বোত্তম দাওয়াতের পদ্ধতি।

٦- عن أبى هريرة (رض) عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال العجماء جرحها جبار… (الف) حلل الكلمات: الركاز، المعدن، والكنز- (ب) ما المراد بقوله عليه السلام: “فى المعدن جبار وفى الركاز خمس”؟

[৬. (ক) রিকায, মা’দান ও কানয শব্দগুলোর বিশ্লেষণ কর। (খ) “খনি খননে কেউ মারা গেলে ক্ষতিপূরণ নেই এবং রিকাযে খুমুস দিতে হবে”— এর দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?]

উত্তর (ক): ১. রিকায: প্রাচীনকালের মানুষদের দ্বারা মাটির নিচে পুঁতে রাখা সম্পদ। ২. মা’দান: খনিজ সম্পদ, যা প্রাকৃতিকভাবে মাটির নিচে বা পাহাড়ে সৃষ্টি হয় (যেমন সোনা, রূপা)। ৩. কানয: কোনো ব্যক্তির নিজের জমানো সঞ্চিত সম্পদ।

উত্তর (খ): এর অর্থ হলো— যদি কেউ নিজের জমিতে খনি বা কূয়া খননের জন্য শ্রমিক নিয়োগ করে এবং খননকালে মাটি ধসে শ্রমিকের মৃত্যু হয়, তবে মালিকের ওপর কোনো জরিমানা বা রক্তপণ (দিয়াত) ওয়াজিব হবে না। আর যদি কেউ মাটির নিচে প্রোথিত কোনো গুপ্তধন (রিকায) পায়, তবে তার এক-পঞ্চমাংশ (খুমুস বা ২০%) রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া ওয়াজিব।

٧- عن عبد الله بن المغفل أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر بقتل الكلاب… (الف) كيف يطهر الإناء إذا ولغ الكلب فيه؟ وما الاختلاف فيه بين العلماء؟ (ب) عرف الكلب المعلم- وما هي شروط الكلب المعلم؟

[৭. (ক) কুকুর পাত্রে মুখ দিলে তা কীভাবে পবিত্র করতে হবে? এ বিষয়ে উলামাদের মতভেদ কী? (খ) শিকারি কুকুর (কালবুল মুআল্লাম) এর পরিচয় ও শর্তগুলো কী কী?]

উত্তর (ক): হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী কুকুর পাত্রে মুখ দিলে তা ৭ বার পানি দিয়ে এবং ১ বার মাটি দিয়ে ধুতে হবে। মতভেদ: শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাব মতে ৭ বার ধোয়া এবং মাটি ব্যবহার করা ওয়াজিব। কিন্তু হানাফী মাযহাব মতে, এটি নাপাকির একটি সাধারণ বিধান; তাই পাত্রটি ৩ বার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেললেই পবিত্র হয়ে যাবে, মাটি দিয়ে ধোয়া ওয়াজিব নয়।

উত্তর (খ): যে কুকুরকে বন্যপ্রাণী শিকার করার জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তাকে ‘কালবুল মুআল্লাম’ বা শিকারি কুকুর বলে। এর শর্ত ৩টি: ১. তাকে ইশারা করলে বা ছেড়ে দিলে সে শিকারের দিকে ছুটবে। ২. তাকে ডাক দিলে বা নিষেধ করলে সে ফিরে আসবে। ৩. সে শিকার ধরে মালিকের জন্য রেখে দেবে, নিজে তা থেকে মাংস খাবে না।

٨- عن أبى هريرة (رض) أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لولا أن أشق على أمتى لأمرتهم بالسواك عند كل صلوة- (الف) ما معنى السواك؟ وما هى الأحوال التى يستحب فيها السواك؟ (ب) هل السواك سنن الوضوء أم الصلوة؟ بين فضائله-

[৮. (ক) ‘মিসওয়াক’ এর অর্থ কী? কোন কোন অবস্থায় মিসওয়াক করা মুস্তাহাব? (খ) মিসওয়াক কি ওযুর সুন্নত নাকি নামাজের সুন্নত? এর ফজিলত বর্ণনা কর।]

উত্তর (ক): ‘মিসওয়াক’ শব্দের অর্থ দাঁত পরিষ্কার করার বস্তু বা কাঠি (যেমন নিম বা জয়তুনের ডাল)। যেসব অবস্থায় এটি মুস্তাহাব: ১. ওযু করার সময়, ২. ঘুম থেকে ওঠার পর, ৩. মুখের স্বাদ বা গন্ধে পরিবর্তন এলে এবং ৪. কুরআন তিলাওয়াত বা নামাজে দাঁড়ানোর পূর্বে।

উত্তর (খ): মিসওয়াক মূলত ওযুর একটি সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। তবে যদি কেউ ওযুর সময় মিসওয়াক না করে, তবে নামাজের আগে তা করা আলাদাভাবে সুন্নত। ফজিলত: রাসূল (সা.) বলেছেন, “মিসওয়াক হলো মুখমণ্ডল পবিত্রকারী এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকারী।” মিসওয়াক করে নামাজ পড়লে তার সওয়াব সত্তর গুণ বৃদ্ধি পায়।

٩- عن عائشة (رض) أنها قالت أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ليصلى الصبح فينصرف النساء متلفعات بمروطهن ما يعرفن من الغلس- (الف) بين إختلاف الأئمة فى أفضلية الإسفار أو الغلس بالفجر مدللا- (ب) أذكر حكم قراءة سورة الفاتحة فى الصلوة-

[৯. (ক) ফজরের নামাজ ইসফার (ফর্সা করে) নাকি গালাস (অন্ধকারে) পড়া উত্তম, এ বিষয়ে ইমামদের মতভেদ দলিলসহ বর্ণনা কর। (খ) নামাজে সূরা ফাতেহা পড়ার হুকুম উল্লেখ কর।]

উত্তর (ক): হানাফী মাযহাব মতে, চারপাশ ফর্সা হওয়ার পর (ইসফার) ফজরের নামাজ পড়া উত্তম। দলিল: রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমরা ফর্সা করে ফজর পড়ো, এতে সাওয়াব বেশি।” অন্যদিকে শাফেয়ী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাব মতে, রাতের শেষে অন্ধকারে (গালাস) পড়া উত্তম। তাদের দলিল হলো উল্লেখিত আয়েশা (রা.) এর হাদিসটি।

উত্তর (খ): ইমাম এবং একাকী নামাজীর জন্য নামাজে সূরা ফাতেহা পড়া ওয়াজিব। তবে জামাতে নামাজের ক্ষেত্রে মুক্তাদির সূরা ফাতেহা পড়ার বিষয়ে মতভেদ আছে। শাফেয়ী মতে মুক্তাদিকেও পড়তে হবে। কিন্তু হানাফী মতে মুক্তাদির জন্য সূরা ফাতেহা পড়া মাকরুহে তাহরীমী, কারণ ইমামের কিরাআতই মুক্তাদির জন্য যথেষ্ট।

١٠- عن الزهرى عن سالم بن عبد الله عن ابن عمر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا رأيتم الهلال فصوموا وإذا رأيتموه فأفطروا… (الف) ما معنى الصوم لغة وشرعا؟ وما الحكمة فى فرضية الصوم؟ (ب) ما هو يوم الشك؟ وما حكم الصوم فيه؟

[১০. (ক) সাওম বা রোজা এর আভিধানিক ও শরয়ি অর্থ কী? রোজা ফরজ করার হিকমত কী? (খ) ইয়াউমুশ শাক কী? এই দিনে রোজা রাখার হুকুম কী?]

উত্তর (ক): ‘সাওম’ শব্দের আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। শরীয়তের পরিভাষায়, সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় পানাহার ও যৌনাচার থেকে নিয়তসহ বিরত থাকার নামই সাওম। হিকমত: মানুষের পাশবিক প্রবৃত্তিকে দমন করা এবং অন্তরে তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন করা।

উত্তর (খ): শাবান মাসের ৩০ তারিখে যদি আকাশ মেঘলা থাকে এবং রমজানের চাঁদ দেখা না যায়, তবে সে দিনটিকে ‘ইয়াউমুশ শাক’ বা সন্দেহের দিন বলা হয়। হুকুম: এই দিন রমজানের নিয়তে রোজা রাখা মাকরুহ। তবে কেউ যদি নফল রোজা রাখে বা তার আগের অভ্যাসমতো রোজা রাখে, তবে তা জায়েজ। ইবনে উমর (রা.) সতর্কতামূলক যে রোজাটি রাখতেন, তা ছিল তাঁর ব্যক্তিগত ইজতিহাদ।

مجموعة (ب) [খ-বিভাগ]

١١- اكتب ترجمة الإمام البخاري رحمه الله تعالى ثم مع بيان مزايا صحيحه-

[১১. ইমাম বুখারী (রহ.) এর জীবনী এবং তাঁর সহীহ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যগুলো লেখ।]

উত্তর:
জীবনী: তাঁর পুরো নাম মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারী। তিনি ১৯৪ হিজরিতে উজবেকিস্তানের বুখারা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন হাদিস শাস্ত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস ও হাফিজ। দীর্ঘ ১৬ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে তিনি তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ সংকলন করেন। তিনি ২৫৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

সহীহ বুখারীর বৈশিষ্ট্য: ১. এটি পবিত্র কুরআনের পর পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ গ্রন্থ। ২. এর প্রতিটি হাদিস সংকলনের আগে তিনি গোসল করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে ইস্তিখারা করতেন। ৩. এতে রাবীদের বিশ্বস্ততার ব্যাপারে সবচেয়ে কঠোর শর্ত (সাক্ষাৎ প্রমাণিত হওয়া) আরোপ করা হয়েছে। ৪. এর অধ্যায় ও শিরোনামগুলোর (তরাজিমুল আবওয়াব) মধ্যেই ইমাম বুখারীর গভীর ফিকহি জ্ঞান লুকিয়ে আছে।

١٢- اذكر نبذة من حياة الإمام النسائي رحمه الله تعالى مع بيان خصائص سننه ومنزلته بين الصحاح الستة-

[১২. ইমাম নাসায়ী (রহ.) এর সংক্ষিপ্ত জীবনী, তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থের বৈশিষ্ট্য এবং সিহাহ সিত্তাহর মধ্যে এর অবস্থান বর্ণনা কর।]

উত্তর:
জীবনী: তাঁর নাম আহমাদ ইবনে শুয়াইব আবু আব্দুর রহমান আন-নাসায়ী। তিনি ২১৫ হিজরিতে খোরাসানের নাসা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাদিস শাস্ত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম ছিলেন। তিনি ৩০৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

বৈশিষ্ট্য ও অবস্থান: তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থের নাম “সুনানে নাসায়ী” বা আল-মুজতাবা। এর বৈশিষ্ট্য হলো, এতে ফিকহি অধ্যায়গুলো অত্যন্ত চমৎকারভাবে সাজানো হয়েছে এবং হাদিসের ইল্লাত (সূক্ষ্ম ত্রুটি) নিয়ে সূক্ষ্ম আলোচনা করা হয়েছে। রাবী বা বর্ণনাকারীদের যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি ইমাম মুসলিম ও আবু দাউদের চেয়েও কঠোর ছিলেন। সিহাহ সিত্তাহ বা ছয়টি বিশুদ্ধ গ্রন্থের মধ্যে সহীহ বুখারী ও মুসলিমের পরই সুনানে নাসায়ীর অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ়।


القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

الفرق الإسلامية وعقائدها [আল-ফিরাকুল ইসলামিয়্যাহ ওয়া আক্বায়িদুহা] – বিষয় কোড: ۲۰۱۳۰٥ (201305)

مجموعة (الف) [ক-বিভাগ]

١- ما معنى العقيدة؟ تحدث عن أهميتها وحاجة الناس إليها-

[১. আক্বীদাহ এর অর্থ কী? আক্বীদাহর গুরুত্ব ও মানব জীবনে এর প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর।]

উত্তর: ‘আক্বীদাহ’ শব্দটি ‘আকদ’ থেকে নির্গত, যার অর্থ দৃঢ়ভাবে বাঁধা বা বিশ্বাস করা। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহ, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, নবী-রাসূল, আখেরাত এবং তাকদিরের ওপর সন্দেহমুক্ত ও সুদৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করাকে আকিদা বলে。

গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা: আকিদা হলো একটি বহুতল ভবনের মূল ভিত বা ফাউন্ডেশনের মতো। ভিত নড়বড়ে হলে যেমন ভবন টেকে না, তেমনি আকিদা বিশুদ্ধ না হলে মানুষের নামাজ, রোজা বা কোনো আমল আল্লাহর কাছে কবুল হয় না। সঠিক আকিদা মানুষকে কুসংস্কার, শিরক ও মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্ত করে এবং জীবনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যপানে পরিচালিত করে। মানবজীবনের চূড়ান্ত মুক্তি কেবল বিশুদ্ধ আকিদার ওপর নির্ভরশীল।

٢- بين خلفية نشأة فرقة الخوارج ثم تحدث عن عقيدتهم فى صاحب الكبيرة مفصلا-

[২. খারিজি সম্প্রদায়ের আত্মপ্রকাশের প্রেক্ষাপট বর্ণনা কর। অতঃপর কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির ব্যাপারে তাদের বিশ্বাস বিস্তারিতভাবে আলোচনা কর।]

উত্তর:
প্রেক্ষাপট: ‘সিফফিনের যুদ্ধে’ হযরত আলী (রা.) এবং মুয়াবিয়া (রা.)-এর মাঝে যখন রক্তপাত বন্ধ করার জন্য একটি মীমাংসা চুক্তি (তাহকিম) হচ্ছিল, তখন আলী (রা.)-এর সেনাবাহিনী থেকে প্রায় বারো হাজার লোক এই চুক্তির বিরোধিতা করে দলত্যাগ করে। তারা স্লোগান দেয় “বিধান দেওয়ার মালিক কেবল আল্লাহ”। এরাই ইসলামের ইতিহাসের প্রথম ভ্রান্ত দল ‘খারিজি’ (দলত্যাগী) নামে আত্মপ্রকাশ করে।

কবিরা গুনাহগার সম্পর্কে বিশ্বাস: খারিজিদের সবচেয়ে জঘন্য বিশ্বাস হলো, তারা মনে করে ঈমান ও আমল অবিচ্ছেদ্য। তাই কোনো মুসলিম যদি কবিরা গুনাহ করে (যেমন- মিথ্যা বলা, ব্যভিচার করা), তবে সে কাফির ও মুরতাদ হয়ে যায়। তার রক্ত হালাল এবং সে চিরকাল জাহান্নামে থাকবে। এটি কুরআনের আয়াতের চরমপন্থী অপব্যাখ্যা, যা আহলে সুন্নাতের আকিদার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

٣- متى وكيف ظهرت فرقة الشيعة؟ تحدث عن فروعها وعقائدها الأساسية-

[৩. কখন, কীভাবে শিয়া সম্প্রদায়ের আত্মপ্রকাশ ঘটে? শিয়া সম্প্রদায়ের বিভিন্ন শাখা ও মৌলিক বিশ্বাসসমূহ আলোচনা কর।]

উত্তর:
আত্মপ্রকাশ: ‘শিয়া’ অর্থ অনুসারী বা দল। হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাতের পর যখন মুসলিম উম্মাহর মাঝে ফিতনা শুরু হয়, তখন আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা নামক এক মুনাফিক ইহুদি হযরত আলী (রা.)-এর প্রতি অতিভক্তির ধুয়া তুলে এই রাজনৈতিক দলটির জন্ম দেয়।

শাখা ও বিশ্বাস: শিয়াদের প্রধান তিনটি শাখা হলো- ১. যায়দিয়্যাহ (সবচেয়ে নরমপন্থী), ২. ইসনা আশারিয়া (বারো ইমামিয়া, যা ইরানে প্রচলিত) এবং ৩. ইসমাইলিয়া (চরমপন্থী ও ভ্রান্ত)। মৌলিক বিশ্বাস: তারা বিশ্বাস করে যে রাসূল (সা.)-এর পর খেলাফতের একমাত্র হকদার ছিলেন হযরত আলী (রা.)। প্রথম তিন খলিফা (আবু বকর, উমর ও উসমান রা.) খেলাফত দখলকারী। তারা তাদের ইমামদেরকে নবীদের মতো মাসুম (নিষ্পাপ) এবং গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞানী বলে বিশ্বাস করে।

٤- ما موقف أهل السنة والجماعة فى الشيعة؟ بين مدللاً ومفصلاً-

[৪. শিয়াদের ব্যাপারে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অবস্থান কী? দলিল-প্রমাণসহ বিস্তারিত আলোচনা কর।]

উত্তর: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের অবস্থান হলো শিয়াদের ভ্রান্ত আকিদাকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করা। শিয়াদের কিছু চরমপন্থী দল (যেমন ইসমাইলিয়া বা নুসাইরিয়া) যারা আলীকে ইলাহ বা প্রভু মানে অথবা কুরআন বিকৃত হওয়ার বিশ্বাস রাখে, তারা সর্বসম্মতিক্রমে ইসলাম থেকে খারিজ (কাফির)। তবে সাধারণ শিয়ারা, যারা সাহাবীদের গালমন্দ করে কিন্তু মূল আকিদায় কুফরি করে না, তাদেরকে কাফির বলা হয় না, বরং ‘ফাসিক’ বা বিদআতি বলা হয়।
দলিল: কুরআন সাহাবীদের প্রশংসায় বলেছে, “আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট” (সূরা বাইয়্যিনাহ: ৮)। অথচ শিয়ারা সাহাবীদের মুরতাদ বলে। তাই শিয়াদের আকিদা কুরআনের অকাট্য আয়াতের বিরোধী।

٥- تحدث عن مسألة خلق القرآن وتداعياتها السياسية مفصلا-

[৫. কুরআন সৃষ্টি কি না এ মাসআলা ও এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা কর।]

উত্তর: আব্বাসীয় খলিফা মামুন-অর-রশিদের আমলে মু’তাযিলা সম্প্রদায়ের প্ররোচনায় ‘কুরআন আল্লাহর সৃষ্ট (মাখলুক)’- এই ভ্রান্ত আকিদাটি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা হলো— কুরআন আল্লাহর কালাম বা গুণ, এটি সৃষ্ট নয়।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: খলিফা মামুন, মু’তাসিম এবং ওয়াসিক বিল্লাহ এই ভ্রান্ত মতবাদকে রাষ্ট্রীয় মতবাদ হিসেবে চাপিয়ে দেন। যারা এর বিরোধিতা করেছিল, তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়, যা ইতিহাসে ‘মিহনা’ নামে পরিচিত। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ.)-কে এই সত্য আকিদায় অটল থাকার কারণে দীর্ঘদিন কারাবরণ ও নির্মম চাবুকের আঘাত সহ্য করতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত খলিফা মুতাওয়াক্কিলের আমলে এই ফিতনার অবসান ঘটে।

٦- اكتب تاريخ نشأة القاديانية- ثم فند عقيدتها في ختم النبوة مدعما بالأدلة من القرآن والسنة-

[৬. কাদিয়ানি সম্প্রদায়ের আত্মপ্রকাশের ইতিহাস লেখ। অতঃপর ‘খতমে নবুওয়াত’ বিষয়ে তাদের আকিদা কুরআন ও হাদিসের দলিলের মাধ্যমে খণ্ডন কর।]

উত্তর: উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের কাদিয়ান নামক গ্রামে ‘মির্জা গোলাম আহমাদ’ নিজেকে নবী দাবি করার মাধ্যমে এই ভ্রান্ত সম্প্রদায়ের জন্ম দেয়। মূলত ব্রিটিশদের মদদপুষ্ট হয়ে মুসলমানদের জিহাদের চেতনা ধ্বংস করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।

খণ্ডন: কাদিয়ানিরা বিশ্বাস করে যে নবুওয়াতের দরজা এখনো খোলা আছে এবং মির্জা গোলাম আহমাদ একজন ছায়ানবী। এটি সম্পূর্ণ কুফরি আকিদা। আল্লাহ কুরআনে স্পষ্ট বলেছেন, “মুহাম্মদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী” (সূরা আহযাব: ৪০)। রাসূল (সা.) বলেছেন, “আমিই শেষ নবী, আমার পর আর কোনো নবী নেই” (মুসলিম)। তাই কাদিয়ানিরা সর্বসম্মতিক্রমে অমুসলিম।

٧- ما الفرقة الناجية؟ تحدث عن خصائصها وسماتها في ضوء القرآن والسنة-

[৭. আল-ফিরকাতুন নাজিয়াহ (নাজাতপ্রাপ্ত দল) কী? কুরআন ও হাদিসের আলোকে তাদের বৈশিষ্ট্য ও পরিচায়কসমূহ আলোচনা কর।]

উত্তর: রাসূল (সা.) ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে তাঁর উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, যার মধ্যে কেবল একটি দলই জান্নাতে যাবে। এই জান্নাতি বা নাজাতপ্রাপ্ত দলকেই ‘আল-ফিরকাতুন নাজিয়াহ’ বলা হয়, যারা ইতিহাসে ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত’ নামে পরিচিত।

বৈশিষ্ট্যসমূহ: ১. তারা রাসূল (সা.) এবং তাঁর সাহাবীদের সুন্নাহ বা আদর্শের ওপর অটল থাকে। ২. তারা দ্বীনের মধ্যে কোনো নতুন প্রথা বা বিদআত তৈরি করে না। ৩. তারা চরমপন্থা (খারিজি) এবং শিথিলতা (মুরজিয়া) পরিহার করে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে। ৪. তারা আল্লাহর গুণাবলিকে বিকৃত করে না এবং ৫. সাহাবীদের যথাযথ সম্মান করে।

٨- تحدث عن فتنة أهل القرآن في الوقت الحاضر- ثم اذكر واجبات الدعاة في الرد عليهم-

[৮. বর্তমান সময়ে ‘আহলে কুরআন’ এর ফিতনা সম্পর্কে আলোচনা কর। অতঃপর তাদের মোকাবেলায় দাঈদের করণীয় বর্ণনা কর।]

উত্তর: ‘আহলে কুরআন’ বা কুরআনিস্ট হলো এমন একটি ভ্রান্ত দল, যারা ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় প্রধান উৎস ‘হাদিস’-কে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এবং দাবি করে যে হেদায়েতের জন্য কেবল কুরআনই যথেষ্ট। দাঈদের করণীয়: দাঈদের দায়িত্ব হলো পবিত্র কুরআনের আয়াত দিয়েই তাদের খণ্ডন করা। যেমন আল্লাহ বলেছেন, “রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো” (সূরা হাশর: ৭)। হাদিস ছাড়া কুরআনের নামাজ, রোজা বা যাকাতের বিস্তারিত নিয়ম জানা অসম্ভব, এ বিষয়টি যৌক্তিকভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরা দাঈদের প্রধান দায়িত্ব।

مجموعة (ب) [খ-বিভাগ]

٩- تحدث عن أهمية الإيمان بالقدر في ضوء القرآن والسنة موجزا-

[৯. ‘তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস’ এর গুরুত্ব সম্পর্কে কুরআন ও হাদিসের আলোকে সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

উত্তর: তাকদির বা ভাগ্যের ভালো-মন্দের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা ঈমানের ৬ষ্ঠ রোকন। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, “আমি সবকিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত তাকদির অনুযায়ী” (সূরা ক্বামার: ৪৯)। রাসূল (সা.) বলেছেন, “কোনো বান্দা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না সে তাকদিরের ওপর ঈমান আনবে।” তাকদিরে বিশ্বাসের গুরুত্ব হলো, এটি মানুষকে বিপদে ধৈর্যশীল হতে এবং সফলতায় অহংকারমুক্ত হতে শেখায়। মুমিন বিশ্বাস করে যা ঘটেছে তা আল্লাহর ইচ্ছাতেই ঘটেছে, তাই সে হতাশ হয় না।

١٠- اكتب ثلاثة نصوص من القرآن والسنة في ذم الافتراق والاختلاف مع ترجمتها بالبنغالية-

[১০. বাংলা অনুবাদসহ অনৈক্য ও বিভেদের প্রতি নিন্দাসূচক কুরআন ও হাদিসের তিনটি উদ্ধৃতি লেখ।]

উত্তর:
১. কুরআন: “وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعًا وَلَا تَفَرَّقُوا” অর্থ: তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রশি (কুরআন/ইসলাম) শক্তভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। (সূরা আল-ইমরান: ১০৩)
২. কুরআন: “إِنَّ الَّذِينَ فَرَّقُوا دِينَهُمْ وَكَانُوا شِيَعًا لَسْتَ مِنْهُمْ فِي شَيْءٍ” অর্থ: নিশ্চয়ই যারা তাদের দ্বীনকে বিভক্ত করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের সাথে আপনার কোনো সম্পর্ক নেই। (সূরা আনআম: ১৫৯)
৩. হাদিস: রাসূল (সা.) বলেছেন, “وَلَا تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ” অর্থ: তোমরা নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ করো না, অন্যথায় তোমাদের অন্তরগুলো বিভক্ত হয়ে পড়বে। (সহীহ মুসলিম)

١١- من مؤسس فرقة المعتزلة؟ اكتب نبذة من حياته-

[১১. মু’তাযিলা সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা কে? তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী লেখ।]

উত্তর: মু’তাযিলা সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ওয়াসিল ইবনে আতা। তিনি ৮০ হিজরিতে মদীনায় জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে বসরার অধিবাসী হন। তিনি বিখ্যাত তাবেয়ী হাসান বসরী (রহ.)-এর ছাত্র ছিলেন। যখন কবিরা গুনাহগার ব্যক্তির বিধান নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, তখন ওয়াসিল দাবি করেন যে সে মুমিনও নয়, কাফিরও নয়, বরং দুই স্তরের মাঝামাঝি। এই কথা বলে তিনি হাসান বসরীর মজলিস ত্যাগ করে আলাদা হয়ে যান, এজন্য তাদের ‘মু’তাযিলা’ (আলাদা হয়ে যাওয়া দল) বলা হয়। তিনি ১৩১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

١٢- ما المراد بالشيعة الاسماعيلية؟ بين أصول عقائدهم-

[১২. ‘ইসমাইলিয়া শিয়া’ বলতে কী বোঝায়? তাদের মৌলিক বিশ্বাসসমূহ বর্ণনা কর।]

উত্তর: শিয়াদের একটি উগ্র উপদল হলো ইসমাইলিয়া। ৬ষ্ঠ ইমাম জাফর আস-সাদিক (রহ.)-এর মৃত্যুর পর তারা তাঁর বড় ছেলে ইসমাইলকে ৭ম ইমাম হিসেবে সাব্যস্ত করে, এ কারণে তাদের ইসমাইলিয়া বা ‘সপ্তইমামিয়া’ বলা হয়। মৌলিক বিশ্বাস: তারা বিশ্বাস করে যে কুরআনের আয়াতের প্রকাশ্য অর্থের পাশাপাশি একটি গোপন বা ‘বাতিন’ অর্থ রয়েছে, যা কেবল তাদের ইমামরাই জানেন (তাই তাদের বাতিনিয়াও বলা হয়)। তারা ইসলামি শরিয়তের প্রকাশ্য বিধান (যেমন নামাজ, রোজা) অস্বীকার করে এর আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যার নামে দ্বীনকে বিকৃত করেছে।

١٣- عرف بالأشعرية والماتريدية بإيضاح-

[১৩. বিশদভাবে আশআরিয়্যাহ ও মাতুরিদিয়্যাহ এর পরিচয় দাও।]

উত্তর: মু’তাযিলাদের ভ্রান্ত আকিদা এবং গ্রিক দর্শনের আগ্রাসন থেকে ইসলামি আকিদাকে রক্ষা করার জন্য হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে আহলে সুন্নাতের দুজন মহান ইমাম যৌক্তিক ও কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক যে মতবাদ প্রতিষ্ঠা করেন, তা-ই আশআরিয়্যাহ ও মাতুরিদিয়্যাহ নামে পরিচিত। ইমাম আবুল হাসান আল-আশআরির অনুসারীদের আশআরি এবং ইমাম আবু মনসুর আল-মাতুরিদির অনুসারীদের মাতুরিদি বলা হয়। উভয় দলই মৌলিক আকিদায় সম্পূর্ণ এক ও অভিন্ন, কেবল কিছু সূক্ষ্ম শাখাগত বিষয়ে (যেমন- তাকদিরের খুঁটিনাটি) তাদের মধ্যে সামান্য পার্থক্য রয়েছে।

١٤- اشرح موقف الخوارج من مسألة ‘الحاكمية’-

[১৪. হাকিমিয়্যাহ বা বিচারে খারিজি সম্প্রদায়ের অবস্থান ব্যাখ্যা কর।]

উত্তর: ‘হাকিমিয়্যাহ’ বা বিধান দেওয়ার মালিকানা একমাত্র আল্লাহর— এটি একটি অকাট্য সত্য। কিন্তু খারিজিরা সূরা মায়িদার ৪৪নং আয়াত (“যারা আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই কাফির”) এর চরমপন্থী অপব্যাখ্যা করে। সিফফিনের যুদ্ধে যখন হযরত আলী (রা.) মানুষের মধ্য থেকে সালিশ নিযুক্ত করেন, তখন খারিজিরা “ইনিল হুকমু ইল্লা লিল্লাহ” (আল্লাহ ছাড়া কারো বিধান দেওয়ার অধিকার নেই) স্লোগান দিয়ে আলী (রা.)-কে কাফির ফতোয়া দেয়। তারা সামান্য গুনাহ বা রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে মুসলিমদের কাফির সাব্যস্ত করত।

١٥- تحدث عن عقيدة أهل السنة والجماعة في الإيمان بالرسل والملائكة-

[১৫. রসুলগণ ও ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান বিষয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদাহ আলোচনা কর।]

উত্তর: রাসূলদের প্রতি ঈমান: আহলে সুন্নাতের আকিদা হলো, রাসূলগণ রক্তমাংসের মানুষ ছিলেন, তবে তারা সকল প্রকার গুনাহ (সগিরা ও কবিরা) থেকে সম্পূর্ণ মাসুম বা নিষ্পাপ। তাঁরা আল্লাহর প্রেরিত ওহী মানুষের নিকট বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ছাড়াই পৌঁছে দিয়েছেন এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ নবী।
ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান: ফেরেশতারা আল্লাহর আজ্ঞাবহ এবং নূর বা আলো দিয়ে সৃষ্ট প্রাণী। তাদের নিজস্ব কোনো কামনা-বাসনা নেই, তারা কখনো আল্লাহর অবাধ্য হন না এবং দিনরাত আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত থাকেন।

١٦- علق على واحد مما يلى : (الف) الجبرية (ب) البهائية (ج) المرجئة-

[১৬. যে কোনো একটি বিষয়ে টীকা লেখ: (ক) জাবরিয়া (খ) বাহাইয়া (গ) মুরজিয়া।]

উত্তর (ক) জাবরিয়া: জাবরিয়া হলো ইসলামের ইতিহাসের একটি ভ্রান্ত আকিদাবলম্বী সম্প্রদায়। তাদের মূল বিশ্বাস হলো— মানুষের নিজস্ব কোনো ইচ্ছা বা ক্ষমতা নেই; মানুষ তার কাজকর্মে সম্পূর্ণরূপে বাধ্য (মাজবুর)। তারা মনে করে, বাতাসের ধাক্কায় গাছের পাতা যেমন নিজের ইচ্ছার বাইরে নড়াচড়া করে, মানুষও তেমনি তাকদিরের হাতে পুতুল মাত্র। তাদের এই আকিদা সম্পূর্ণ কুরআন পরিপন্থী, কারণ আল্লাহ মানুষকে ভালো-মন্দের পার্থক্য বোঝার বিবেক ও স্বাধীন ইচ্ছা (Free will) দান করেছেন।

القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

دفع الشبهات حول القرآن الكريم [দাফউশ শুবুহাতিল মাউহূমাহ হাওলাল কুরআনিল কারিম] – বিষয় কোড: ۲۰۱۳۰٦ (201306)

مجموعة (الف) [ক-বিভাগ]

١- عرف الشبهة حول القرآن الكريم- ثم اكتب نشأتها وتطورها عبر العصور-

[১. পবিত্র কুরআন বিষয়ক সংশয়ের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে লেখ।]

উত্তর:
সংশয়ের পরিচয়: ‘শুবহাহ’ বা সংশয় বলতে সত্যকে মিথ্যার আবরণে বা মিথ্যাকে সত্যের আবরণে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাকে বোঝায়। কুরআন বিষয়ক সংশয় হলো পবিত্র কুরআনের ঐশী মর্যাদা, সংকলন বা আয়াতের অর্থ নিয়ে ইচ্ছাকৃত সন্দেহ তৈরি করা।
উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ: এর উৎপত্তি ঘটে স্বয়ং রাসূল (সা.)-এর যুগে, যখন মক্কার মুশরিকরা কুরআনকে ‘যাদু’, ‘কবিতা’ বা ‘পূর্ববর্তীদের রূপকথা’ বলে আখ্যায়িত করত। এরপর মধ্যযুগে খ্রিষ্টান মিশনারিরা এবং আধুনিক যুগে প্রাচ্যবিদরা (Orientalists) একে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয় এবং কুরআনের উৎস ও সংকলন নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক সংশয় ছড়াতে শুরু করে।

٢- يزعم المستشرقون أن القرآن الكريم جمع في عهد عثمان رضى الله عنه- لذا فى مجال الشبهة، فما جوابك؟

[২. প্রাচ্যবিদরা ধারণা করেন যে, পবিত্র কুরআন হযরত উসমান (রা) এর আমলে সংকলিত হয়েছে। তাই এতে সংশয়ের অবকাশ আছে। তোমার উত্তর কী?]

উত্তর: প্রাচ্যবিদদের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পবিত্র কুরআন মূলত রাসূল (সা.)-এর জীবদ্দশাতেই ওহী লেখকদের মাধ্যমে সম্পূর্ণ লিখিত আকারে সংরক্ষিত ছিল। হযরত আবু বকর (রা.)-এর যুগে তা একটি গ্রন্থ বা ‘সুহুফ’ আকারে একত্রিত করা হয়। হযরত উসমান (রা.) নতুন করে কুরআন রচনা বা সংকলন করেননি; বরং তিনি মুসলিম সাম্রাজ্য সম্প্রসারিত হওয়ার পর পঠনপদ্ধতির (কিরাআত) ভিন্নতা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে, আবু বকর (রা.)-এর মূল কপিটি থেকে কুরাইশি উপভাষায় একাধিক কপি তৈরি করে বিভিন্ন প্রদেশে পাঠিয়েছিলেন। সুতরাং এতে বিন্দুমাত্র সংশয়ের অবকাশ নেই।

٣- هل الاختلاف في قراءة القرآن الكريم ينكر كونه كتابا إلهيا؟ أجب مدللا-

[৩. পবিত্র কুরআনের পঠনপদ্ধতির ভিন্নতা কি এর আল্লাহর কিতাব হওয়াকে অস্বীকার করে? দালিলিক উত্তর দাও।]

উত্তর: না, পঠনপদ্ধতির (কিরাআত) ভিন্নতা এর ঐশী কিতাব হওয়াকে অস্বীকার করে না। বরং এটি কুরআনের একটি মুজিযা। রাসূল (সা.) বলেছেন, “এই কুরআন সাতটি হরফে (পঠনপদ্ধতিতে) অবতীর্ণ হয়েছে, সুতরাং তোমাদের জন্য যা সহজ হয় সেভাবেই পড়ো” (বুখারী)। আরবের বিভিন্ন গোত্রের উচ্চারণভঙ্গি ভিন্ন ছিল, তাদের সুবিধার্থেই আল্লাহ এই ভিন্নতার অনুমতি দিয়েছেন। এই ভিন্ন কিরাআতগুলো অর্থের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য তৈরি করে না, বরং আয়াতের অর্থের পরিধিকে আরও প্রসারিত করে।

٤- يزعم المستشرقون بأن آيات في القرآن الكريم متناقضة، فاذكر خمسة منها ثم أثبت أنها ليست متناقضة فى الحقيقة-

[৪. প্রাচ্যবিদরা ধারণা করেন যে, পবিত্র কুরআনে অনেক বিপরীতার্থক আয়াত আছে। সেগুলো থেকে পাঁচটি আয়াত উল্লেখপূর্বক প্রমাণ কর যে, এগুলো বাস্তবে বিপরীতার্থক নয়।]

উত্তর: প্রাচ্যবিদরা না বুঝে কিছু আয়াতকে সাংঘর্ষিক মনে করে। যেমন:
১. মানুষ সৃষ্টির উপাদান: এক আয়াতে ‘মাটি’, অন্য আয়াতে ‘কাদা’ বা ‘শুষ্ক ঠনঠনে মাটি’। খণ্ডন: এগুলো সাংঘর্ষিক নয়, বরং সৃষ্টির বিভিন্ন স্তরের বর্ণনা।
২. আসমান-যমীন সৃষ্টির সময়: সূরা আরাফে ৬ দিনে সৃষ্টির কথা আছে, আবার সূরা হা-মীম সিজদায় ২+৪+২=৮ দিনের হিসাব মনে হয়। খণ্ডন: আরবি ভাষারীতি অনুযায়ী মাঝের ৪ দিনের মধ্যে প্রথম ২ দিন অন্তর্ভুক্ত। মোট ৬ দিনই।
৩. কিয়ামতের দিন কথা বলা: এক আয়াতে তারা কথা বলতে পারবে না, অন্য আয়াতে তারা বিতর্ক করবে। খণ্ডন: কিয়ামতের দিনটি অনেক দীর্ঘ হবে। এর বিভিন্ন পর্যায়ে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে।

٥- يذكر المستشرقون الشبهات حول التكرار- هل التكرار عيب؟ بين حكمة التكرار-

[৫. প্রাচ্যবিদরা উল্লেখ করেছেন যে, পবিত্র কুরআনে এক আয়াত বার বার এসেছে। বার বার আসা কি দোষ? বার বার উল্লেখ করার রহস্য বর্ণনা কর।]

উত্তর: কুরআনে আয়াতে বা ঘটনার পুনরাবৃত্তি কোনো দোষ বা ত্রুটি নয়; বরং আরবি অলংকারশাস্ত্র (বালাগাত) অনুযায়ী এটি চমৎকার একটি পদ্ধতি। এর রহস্য হলো: ১. গুরুত্ব আরোপ: কোনো বিষয় বারবার বলে মানুষের অন্তরে তা দৃঢ়ভাবে গেঁথে দেওয়া। ২. উপদেশ ও স্মরণ: মানুষ স্বভাবতই ভুলে যায়, তাই বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া। ৩. ভিন্ন দৃষ্টিকোণ: নবীদের ঘটনা বিভিন্ন সূরায় ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, যা প্রতিবারই নতুন শিক্ষণীয় দিক উন্মোচন করে।

٦- يدعى المستشرقون الخطأ النحوى في القرآن الكريم، هات خمسا من الأخطاء النحوية التى ذكروها، ثم أثبت أنها ليست بخطاء-

[৬. প্রাচ্যবিদরা দাবি করেন যে, পবিত্র কুরআনে নাহভি (ব্যাকরণগত) ভুল আছে। তাদের উল্লিখিত এমন পাঁচটি ভুল উল্লেখ করে প্রমাণ কর যে, এগুলো ভুল নয়।]

উত্তর: প্রাচ্যবিদদের নাহভি ভুলের দাবি অজ্ঞতাপ্রসূত। কারণ আরবি ব্যাকরণ তৈরিই হয়েছে কুরআন থেকে। যেমন:
১. সূরা ত্বা-হা: ৬৩ আয়াতে “إِنْ هَذَانِ لَسَاحِرَانِ” বলা হয়েছে। তারা বলে “إن” এর পর “هذين” হওয়ার কথা। খণ্ডন: আরবের বনু হারিস গোত্রের ব্যাকরণ অনুযায়ী ‘মুসান্না’ (দ্বিবচন) সবসময় ‘আলিফ’ দ্বারা গঠিত হয়, যা একটি বিশুদ্ধ আরবি ভাষারীতি।
২. সূরা বাকারাহ: ১৭৭ আয়াতে “وَالصَّابِرِينَ” ব্যবহার করা হয়েছে, যা رفع এর জায়গায় نصب হয়েছে। খণ্ডন: এটি বিশেষ গুরুত্ব (الاختصاص) বোঝানোর জন্য نصب হয়েছে, যা আরবরা প্রশংসার ক্ষেত্রে ব্যবহার করত। এগুলো ব্যাকরণের উচ্চতর অলংকারশাস্ত্র।

٧- اذكر الشبهات حول عصمة الأنبياء للمستشرقين ثم فندها-

[৭. ইসমাতুল আম্বিয়া (নবীদের নিষ্পাপত্ব) সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের সংশয়গুলো উল্লেখপূর্বক এগুলো খণ্ডন কর।]

উত্তর: প্রাচ্যবিদরা আদম (আ.)-এর নিষিদ্ধ ফল খাওয়া, মূসা (আ.)-এর হাতে কিবতি নিহত হওয়া এবং দাউদ (আ.)-এর ঘটনা উল্লেখ করে দাবি করে যে নবীরা নিষ্পাপ নন।
খণ্ডন: আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আকিদা হলো নবীরা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কবিরা বা সগিরা গুনাহ করেন না। আদম (আ.) ভুলে ফল খেয়েছিলেন, ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা থেকে নয়। মূসা (আ.) কিবতিকে হত্যা করতে চাননি, কেবল থাপ্পড় দিয়ে শাসন করতে চেয়েছিলেন, যা অনিচ্ছাকৃত মৃত্যু ছিল। নবীদের এ ধরনের কিছু কাজকে ‘খাতায়ে ইজতিহাদী’ (সিদ্ধান্তগত ভুল) বলা হয়, যা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত নয়।

٨- اكتب شبهات الزاعمين حول العلوم الكونية فى القرآن الكريم، ثم فندها بالدلائل-

[৮. আল-কুরআনে বর্ণিত বিশ্বজগৎ সৃষ্টির বিষয়ে সন্দেহবাদীদের সংশয়সমূহ উল্লেখ করে তাদের সংশয়ের দালিলিকভাবে খণ্ডন কর।]

উত্তর: সন্দেহবাদীরা বলে যে কুরআন পৃথিবী স্থির থাকা বা সূর্য ঘোরা নিয়ে অবৈজ্ঞানিক কথা বলেছে। খণ্ডন: কুরআন বিজ্ঞানের বই নয়, এটি হেদায়েতের বই। তবে কুরআনের বৈজ্ঞানিক আয়াতগুলো আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। আল্লাহ বলেছেন, “সবকিছুই একটি কক্ষপথে সাঁতার কাটছে” (সূরা ইয়াসিন: ৪০)। আধুনিক বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে সূর্যও তার সৌরজগত নিয়ে গ্যালাক্সির চারপাশে ঘুরছে এবং মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে, যা কুরআনে ১৪০০ বছর আগেই উল্লেখিত হয়েছে।

مجموعة (ب) [খ-বিভাগ]

٩- ما المراد بإعجاز القرآن الكريم؟ اذكر ثلاثة أوجه من الإعجاز-

[৯. ইজাযুল কুরআন বলতে কী বুঝায়? ইজায এর তিনটি দিক উল্লেখ কর।]

উত্তর: ‘ইজায’ অর্থ অক্ষম করা। ইজাযুল কুরআন বলতে পবিত্র কুরআনের এমন এক অলৌকিক বৈশিষ্ট্যকে বোঝায়, যার সমকক্ষ কোনো বাণী বা গ্রন্থ রচনা করতে মানুষ ও জিন জাতি চিরকাল অক্ষম। তিনটি দিক: ১. ভাষাগত ও অলংকারিক মুজিযা (উচ্চাঙ্গের সাহিত্যমান)। ২. গায়েব বা অদৃশ্যের সংবাদ প্রদান (ভবিষ্যতের নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী)। ৩. বৈজ্ঞানিক মুজিযা (আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য)।

١٠- “أنزل القرآن على سبعة أحرف” لمن هذا القول؟ وما المراد به؟

[১০. “কুরআন সাতটি হরফে অবতীর্ণ হয়েছে” এটি কার উক্তি? এর দ্বারা উদ্দেশ্য কী?]

উত্তর: এই উক্তিটি স্বয়ং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর। “সাতটি হরফ” দ্বারা আরবের প্রসিদ্ধ সাতটি গোত্রের (যেমন: কুরাইশ, হুযাইল, সাকিফ, হাওয়াযিন, কিনানাহ, তামীম ও ইয়ামান) সাতটি উপভাষা বা পঠনপদ্ধতিকে (Dialects) বোঝানো হয়েছে। যেহেতু আরবদের উচ্চারণভঙ্গি ভিন্ন ছিল, তাই তাদের সুবিধার্থে আল্লাহ এই ছাড় দিয়েছিলেন।

١١- “ما أعطى القرآن الكريم حقوق النساء المناسبة” – فند هذا الزعم للمستشرقين باختصار-

[১১. “পবিত্র কুরআন নারীদের যথাযথ অধিকার দেয়নি”—প্রাচ্যবিদদের এই ধারণা খণ্ডন কর।]

উত্তর: এই ধারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ইসলামের আগে নারীদের জীবন্ত কবর দেওয়া হতো এবং উত্তরাধিকারের কোনো অধিকার ছিল না। কুরআনই সর্বপ্রথম নারীদের সম্পত্তির অধিকার, মোহরানা পাওয়ার অধিকার, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার এবং তালাক বা খুলা করার আইনি অধিকার প্রদান করেছে। কুরআন পুরুষ ও নারীকে আধ্যাত্মিক দিক থেকে সমান মর্যাদা দিয়েছে।

١٢- اذكر مزعومات المستشرقين حول الناسخ والمنسوخ، ثم رددها باختصار-

[১২. নাসিখ ও মানসুখ সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের ধারণা উল্লেখ করে সেগুলোর সংক্ষেপে উত্তর দাও।]

উত্তর: প্রাচ্যবিদরা দাবি করে যে, কুরআনে নাসিখ-মানসুখ (রহিতকরণ) থাকা প্রমাণ করে যে আল্লাহর মত পরিবর্তন হয়, যা ঐশী গ্রন্থের পরিপন্থী। খণ্ডন: আল্লাহর জ্ঞান অসীম, তাঁর মত পরিবর্তন হয় না। নাসিখ-মানসুখ মূলত মানুষের অবস্থার ক্রমবিকাশের কারণে করা হয়েছে। যেমন রোগীর অবস্থার উন্নতির সাথে সাথে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র পরিবর্তন হয়, তেমনি তৎকালীন সমাজের অবস্থার উন্নতির সাথে সাথে পূর্বের কিছু বিধান রহিত করে নতুন চূড়ান্ত বিধান দেওয়া হয়েছে।

١٣- اكتب خمسة أسماء الكتب التى ألفت فى رد الشبهات حول القرآن الكريم مع ذكر مؤلفيها-

[১৩. পবিত্র কুরআন বিষয়ক সংশয় খণ্ডন করেছে এমন পাঁচটি গ্রন্থ এবং এগুলোর লেখকের নাম লেখ।]

উত্তর: পবিত্র কুরআন বিষয়ক সংশয় খণ্ডন করে রচিত পাঁচটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো:
১. মাবাহিস ফি উলুমিল কুরআন — লেখক: মান্না আল-কাত্তান।
২. আল-মুসতাশরিকুন ওয়াল কুরআন — লেখক: উমর ইবনে ইব্রাহিম।
৩. দিফা আনিল কুরআন — লেখক: ড. আব্দুর রহমান বাদাবী।
৪. আল-ইসলাম ওয়াল মুসতাশরিকুন — লেখক: মাহমুদ যাকযুক।
৫. আল-ওয়াহয়ুল মুহাম্মাদী — লেখক: আল্লামা রশিদ রিদা।

١٤- علق على اثنين مما يلى : (الف) الاستشراق والمستشرقون (ب) تواتر القرآن والمستشرقون…

[১৪. যে কোনো দুটি বিষয়ে টীকা লেখ: (ক) প্রাচ্যবিদ্যা ও প্রাচ্যবিদ (খ) কুরআনের মুতাওয়াতির হওয়া ও প্রাচ্যবিদ…]

উত্তর (ক) الاستشراق والمستشرقون: ‘ইস্তিশরাক’ বা প্রাচ্যবিদ্যা বলতে পাশ্চাত্যের পণ্ডিতদের দ্বারা প্রাচ্যের ভাষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণাকে বোঝায়। আর যারা এ গবেষণা করেন, তাদের ‘মুসতাশরিক’ বা প্রাচ্যবিদ বলা হয়। এদের অনেকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ইসলামের মৌলিক আকিদা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করার চেষ্টা করেছেন。
উত্তর (খ) تواتر القرآن والمستشرقون: কুরআন যে রাসূল (সা.) থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত অসংখ্য মানুষের মাধ্যমে অবিচ্ছিন্ন সনদে (মুতাওয়াতিরভাবে) বর্ণিত হয়েছে, এটি একটি অকাট্য সত্য। কিন্তু প্রাচ্যবিদরা একে অস্বীকার করে বিভিন্ন দুর্বল বর্ণনার আশ্রয় নিয়ে দাবি করে যে কুরআনের বিভিন্ন পাঠ ছিল, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

١٥- ماذا قال المستشرقون فى نسيان النبى صلى الله عليه وسلم؟

[১৫. রসুল (স) এর ভুলে যাওয়ার সম্পর্কে প্রাচ্যবিদদের মন্তব্য কী?]

উত্তর: প্রাচ্যবিদরা দাবি করে যে, মুহাম্মদ (সা.) যেহেতু রক্তমাংসের মানুষ ছিলেন, তাই তার পক্ষে কুরআনের আয়াত ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক ছিল, যার ফলে কুরআনের অনেক অংশ হারিয়ে গেছে। খণ্ডন: তাদের এই দাবি কুরআনের আয়াত দ্বারা প্রত্যাখ্যাত। আল্লাহ নিজেই ওয়াদা করেছেন, “আমি আপনাকে পড়াব, ফলে আপনি আর ভুলবেন না” (সূরা আ’লা: ৬)। রাসূল (সা.) কখনো ওহীর কোনো অংশ চিরস্থায়ীভাবে ভুলে যাননি।

١٦- اذكر الشبهات حول الزيادة والنقصان فى القرآن الكريم ثم فندها باختصار-

[১৬. পবিত্র কুরআনে সংযোজন-বিয়োজন সম্পর্কে সংশয়গুলো উল্লেখ করে সংক্ষেপে খণ্ডন কর।]

উত্তর: প্রাচ্যবিদ এবং শিয়াদের একটি উপদল দাবি করে যে, সাহাবীদের যুগে রাজনৈতিক কারণে পবিত্র কুরআনে অনেক আয়াত যোগ করা হয়েছে বা বাদ দেওয়া হয়েছে। খণ্ডন: এটি সম্পূর্ণ বাতিল ধারণা। আল্লাহ নিজেই কুরআনের সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই আমি এই যিকির (কুরআন) নাযিল করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক” (সূরা হিজর: ৯)। চৌদ্দশ বছরে কুরআনের একটি হরফ বা নুকতাও পরিবর্তন হয়নি।

القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

علم السياسة والإدارة العامة [রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও লোক প্রশাসন] – বিষয় কোড: ۲۰۱۳۰٧ (201307)

مجموعة (الف) [ক-বিভাগ: রাষ্ট্রবিজ্ঞান]

١- ما المراد بالمجتمع الإسلامى؟ تحدث عن أوصاف المجتمع الإسلامى فى ضوء القرآن والسنة-

[১. ইসলামি সমাজ বলতে কী বুঝ? কুরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামি সমাজের বৈশিষ্ট্য আলোচনা কর।]

উত্তর: ‘ইসলামি সমাজ’ বলতে এমন এক সমাজব্যবস্থাকে বোঝায়, যার ভিত্তি হলো তাওহীদ বা একত্ববাদ এবং যার সার্বিক কার্যাবলি কুরআন ও সুন্নাহর বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

বৈশিষ্ট্যসমূহ: ১. তাওহীদ ভিত্তিক: এই সমাজের মূলভিত্তি হলো আল্লাহর একত্ববাদ। ২. ইসলামি ভ্রাতৃত্ব: বর্ণ, গোত্র বা ভাষার ভেদাভেদ ভুলে সকল মুসলিম এক ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। ৩. ন্যায়বিচার: এখানে ধনী-গরিব, শাসক-শাসিত সবার জন্য আইনের শাসন সমান থাকে। ৪. পরামর্শ ভিত্তিক (শূরা): সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে গৃহীত হয়। ৫. সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ: এটি ইসলামি সমাজের অন্যতম রক্ষাকবচ।

٢- عرف الدستور- وكم قسما له؟ بين طرق وضع الدستور مع ذكر الخصائص الدستور الجيد-

[২. دستور বা সংবিধান এর পরিচয় দাও। উহা কত প্রকার? উত্তম সংবিধানের পরিচয় উল্লেখপূর্বক সংবিধান প্রণয়নের পদ্ধতি আলোচনা কর।]

উত্তর: পরিচয়: রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নিয়ম-কানুন, আইন এবং কাঠামোর সমষ্টিকে সংবিধান বা দস্তুর বলা হয়। এটি রাষ্ট্রের দর্পণস্বরূপ।
প্রকারভেদ: সংবিধান মূলত ২ প্রকার: ১. লিখিত সংবিধান এবং ২. অলিখিত সংবিধান (যেমন ব্রিটেনের সংবিধান)। সংশোধনের ভিত্তিতে আবার ২ প্রকার: সুপরিবর্তনীয় এবং দুষ্পরিবর্তনীয়।
প্রণয়নের পদ্ধতি: সংবিধান সাধারণত ৪টি পদ্ধতিতে প্রণীত হয়— ক. রাজার অনুমোদন বা অনুদান, খ. গণপরিষদ বা আইনসভা কর্তৃক, গ. বিপ্লব বা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এবং ঘ. ক্রমবিবর্তনের মাধ্যমে।
উত্তম সংবিধানের বৈশিষ্ট্য: একটি উত্তম সংবিধান হবে সুস্পষ্ট, সংক্ষিপ্ত, মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তাপ্রদানকারী এবং যুগের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

٣- ما المراد بالقانون الإسلامى؟ بين مصادره مفصلا-

[৩. ইসলামি আইন বলতে কী বোঝায়? এর উৎসসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

উত্তর: পরিচয়: মানুষের দৈনন্দিন জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনা, বিচারব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সা.) প্রদত্ত বিধানাবলিকে ইসলামি আইন বা শরিয়াহ বলা হয়।

উৎসসমূহ: ইসলামি আইনের প্রধান উৎস ৪টি:
১. আল-কুরআন: এটি ইসলামি আইনের চূড়ান্ত ও অকাট্য উৎস।
২. আল-সুন্নাহ (হাদিস): রাসূল (সা.) এর কথা, কাজ ও সম্মতি, যা কুরআনের ব্যাখ্যাস্বরূপ।
৩. ইজমা (ঐকমত্য): কোনো আইনি বিষয়ে কুরআন-সুন্নাহর সরাসরি নির্দেশনা না পেলে যুগের শ্রেষ্ঠ মুজতাহিদদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তকে ইজমা বলে।
৪. কিয়াস (যুক্তি বা সাদৃশ্য): পূর্ববর্তী কোনো অকাট্য আইনের সাথে সাদৃশ্য রেখে নতুন উদ্ভূত সমস্যার যৌক্তিক সমাধান বের করা।

٤- ما هى الخلافة؟ تحدث عن مسئوليات الخليفة فى الدولة الإسلامية-

[৪. খিলাফত কী? ইসলামি রাষ্ট্রে খলিফার দায়িত্ব ও কর্তব্য আলোচনা কর।]

উত্তর: খিলাফত: ‘খিলাফত’ অর্থ প্রতিনিধিত্ব। ইসলামি পরিভাষায়, রাসূল (সা.) এর ইন্তেকালের পর মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব দেওয়া এবং পৃথিবীতে আল্লাহর আইন বাস্তবায়ন করার জন্য যে রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম হয়, তাকে খিলাফত বলে। এর প্রধানকে খলিফা বলা হয়।

খলিফার দায়িত্ব ও কর্তব্য: ১. দ্বীনের সংরক্ষণ করা এবং ইসলামি বিধান (শরিয়াহ) পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা। ২. রাষ্ট্রের সীমানা রক্ষা করা এবং অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। ৩. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করা। ৪. বাইতুল মাল (রাষ্ট্রীয় কোষাগার) সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা এবং ৫. যোগ্য ও আমানতদার ব্যক্তিদের বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দেওয়া।

مجموعة (ب) [খ-বিভাগ: রাষ্ট্রবিজ্ঞান]

٥- بين جوانب المساواة فى الدولة المثالية-

[৫. আদর্শ রাষ্ট্রে সমতার দিকসমূহ বর্ণনা কর।]

উত্তর: একটি আদর্শ ইসলামি রাষ্ট্রে সমতা (মুসাওয়াত) এর প্রধান দিকগুলো হলো: ১. আইনগত সমতা: খলিফা থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক সবার জন্য একই আইন প্রযোজ্য। ২. সামাজিক সমতা: বর্ণ, গোত্র বা বংশের ভিত্তিতে কাউকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয় না, শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মাপকাঠি হলো ‘তাকওয়া’। ৩. অর্থনৈতিক সমতা: যাকাত ও উশরের মাধ্যমে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে বৈষম্য কমানো হয়।

٦- ما المراد بالمسئولية الإجتماعية؟ بين موجزا-

[৬. সামাজিক দায়বদ্ধতা বলতে কী বোঝায়? সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

উত্তর: সামাজিক দায়বদ্ধতা (Social Accountability) বলতে সমাজের প্রতি রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের প্রতি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণকে বোঝায়। ইসলামে একে ‘মাসউলিয়্যাহ’ বলা হয়। রাসূল (সা.) বলেছেন, “তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককে তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে।” সমাজ থেকে অন্যায় দূর করা, দুস্থদের সাহায্য করা এবং জনকল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করাই হলো সামাজিক দায়বদ্ধতা।

٧- بين مزايا دستور العام ١٩٧٢م بإيجاز-

[৭. ১৯৭২ সালের সংবিধানের বৈশিষ্ট্যাবলি সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

উত্তর: ১৯৭২ সালে প্রণীত বাংলাদেশের মূল সংবিধানের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো: ১. এটি একটি লিখিত সংবিধান। ২. এটি দুষ্পরিবর্তনীয় (সংশোধনের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন)। ৩. রাষ্ট্র পরিচালনার ৪টি মূলনীতি (জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা) গ্রহণ। ৪. সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং ৫. জনগণের মৌলিক অধিকারের সাংবিধানিক স্বীকৃতি।

٨- اذكر صفات أهل الشورى موجزا-

[৮. أهل الشورى (পরামর্শদাতা মজলিস) এর গুণাবলি সংক্ষেপে উল্লেখ কর।]

উত্তর: আহলুশ শূরা বা পরামর্শ সভার সদস্যদের গুণাবলি হলো: ১. তাদের গভীর ইসলামি জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থাকতে হবে। ২. তারা অত্যন্ত তাকওয়াবান ও আমানতদার হবেন। ৩. তারা ন্যায়পরায়ণ এবং সত্য কথা বলতে নির্ভীক হবেন। ৪. জনগণের কাছে তারা বিশ্বস্ত ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে পরিচিত হবেন।

مجموعة (ج) [গ-বিভাগ: লোক প্রশাসন]

٩- ما النظرية الإسلامية فى الإدارة العامة؟ تحدث عن الهيكل الإدارى لخلافة ابى بكر رضى الله تعالى عنه-

[৯. লোক প্রশাসন সম্পর্কে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি কী? হযরত আবু বকর (রা) এর খেলাফতের প্রশাসনিক কাঠামো আলোচনা কর।]

উত্তর: ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি: ইসলামি লোক প্রশাসনের মূলভিত্তি হলো ‘আমানত’ ও ‘খিদমত’। ইসলাম মনে করে ক্ষমতা মানুষের কোনো অধিকার নয়, বরং এটি আল্লাহর দেওয়া পবিত্র আমানত, যার হিসাব আখেরাতে দিতে হবে। এখানে শাসক জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করেন।

আবু বকর (রা)-এর প্রশাসনিক কাঠামো: হযরত আবু বকর (রা.) তাঁর ছোট শাসনকালে এক অপূর্ব প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করেন। তিনি সমগ্র আরব উপদ্বীপকে কয়েকটি প্রশাসনিক প্রদেশে বিভক্ত করেন। প্রদেশের প্রধান হিসেবে যোগ্য ‘ওয়ালী’ বা গভর্নর নিয়োগ দেন (যেমন মক্কায় আত্তাব বিন আসিদ)। তিনি প্রশাসনকে সম্পূর্ণ শূরা বা পরামর্শভিত্তিক করেন, বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে স্বাধীন রাখেন এবং রাষ্ট্রের কোষাগার বা বাইতুল মাল অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে পরিচালনা করেন।

١٠- ما السيادة؟ وما صفاتها؟ وما الفرق بين القيادة الإستبدادية والقيادة الجمهورية؟ بين-

[১০. নেতৃত্ব কী? নেতৃত্বের গুণাবলি কী কী? একনায়কতান্তিক নেতৃত্ব ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের মধ্যে পার্থক্য কী? বর্ণনা কর।]

উত্তর: নেতৃত্ব: নেতৃত্ব (Leadership) হলো কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি দল বা জনসমষ্টিকে প্রভাবিত করা এবং সঠিক পথে পরিচালিত করার ক্ষমতা।
গুণাবলি: উত্তম নেতার গুণাবলি হলো— সততা, দূরদর্শিতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা, সাহস, নিরপেক্ষতা এবং যোগাযোগের দক্ষতা।
পার্থক্য: একনায়কতান্তিক (Autocratic) নেতৃত্বে নেতা একাই সব সিদ্ধান্ত নেন, অধীনস্থদের মতামত গ্রাহ্য করেন না এবং ভয়ের মাধ্যমে কাজ আদায় করেন। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক (Democratic) নেতৃত্বে নেতা সবার সাথে পরামর্শ করেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করেন এবং সম্মানের সাথে কাজ আদায় করেন।

١١- اكتب الشروط اللازمة للقضاة المسلمين والإداريين فى منظور الشريعة الإسلامية مفصلا-

[১১. মুসলিম বিচারক ও প্রশাসকদের আবশ্যক শর্তাবলি ইসলামি শরিয়াহর আলোকে বিস্তারিত লিপিবদ্ধ কর।]

উত্তর: ইসলামি রাষ্ট্রে একজন বিচারক (কাজী) বা প্রশাসকের যে শর্তগুলো থাকা আবশ্যক: ১. ইসলাম: তাকে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে। ২. আকিল ও বালিগ: তাকে সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন ও প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে। ৩. আদালত (ন্যায়পরায়ণতা): তাকে ব্যক্তিগত জীবনে সৎ, মুত্তাকি এবং কবিরা গুনাহ থেকে মুক্ত হতে হবে। ৪. ইলম: বিচারককে অবশ্যই কুরআন, হাদিস, ইজমা ও ফিকহের বিষয়ে অগাধ পাণ্ডিত্য থাকতে হবে। ৫. শারীরিক সুস্থতা: দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি ও বাকশক্তি সম্পন্ন হতে হবে, যাতে বিচারকার্য বাধাগ্রস্ত না হয়।

١٢- اكتب مزايا الخلافة لأمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضى الله عنه مفصلا-

[১২. আমিরুল মু’মিনীন ওমর বিন খাত্তাব (রা) এর খিলাফতের বৈশিষ্ট্যসমূহ বিশদভাবে লেখ।]

উত্তর: হযরত উমর (রা.) এর খিলাফতকালকে ইসলামি প্রশাসনের ‘স্বর্ণযুগ’ বলা হয়। এর বৈশিষ্ট্যসমূহ: ১. মজলিসে শূরা গঠন: তিনি আনসার ও মুহাজিরদের নিয়ে শক্তিশালী পরামর্শ সভা গঠন করেছিলেন। ২. প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ: বিশাল রাষ্ট্রকে তিনি ১৪টি প্রদেশে বিভক্ত করে গভর্নর নিয়োগ দেন। ৩. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা: তিনি শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ আলাদা করেন এবং বিখ্যাত সাহাবীদের বিচারক নিযুক্ত করেন। ৪. জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র: বিশ্বে তিনিই প্রথম জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র (Welfare State) প্রতিষ্ঠা করেন, পুলিশ বিভাগ তৈরি করেন, আদমশুমারি করেন এবং বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করেন।

مجموعة (د) [ঘ-বিভাগ: লোক প্রশাসন]

١٣- أوضح الفرق بين الإدارة العامة الإسلامية والإدارة العامة الغربية-

[১৩. ইসলামি লোক প্রশাসন ও পশ্চিমা লোক প্রশাসনের মধ্যকার পার্থক্য নির্ণয় কর।]

উত্তর: ১. ভিত্তি: ইসলামি প্রশাসনের ভিত্তি হলো ওহী ও জবাবদিহিতা (আখেরাতের ভয়)। আর পশ্চিমা প্রশাসনের ভিত্তি হলো ধর্মনিরপেক্ষতা ও বস্তুগত দর্শন। ২. উদ্দেশ্য: ইসলামি প্রশাসনের লক্ষ্য জনকল্যাণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি। পশ্চিমা প্রশাসনের লক্ষ্য কেবল পার্থিব ও বস্তুগত উন্নয়ন। ৩. নৈতিকতা: ইসলামি প্রশাসনে নৈতিকতা ও সততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। পশ্চিমা প্রশাসনে দক্ষতার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়, নৈতিকতা গৌণ।

١٤- اكتب مزايا الإدارة فى عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم-

[১৪. রাসুল (স) এর যুগে প্রশাসনের বৈশিষ্ট্যসমূহ লেখ।]

উত্তর: মদিনায় রাসূল (সা.) এর প্রতিষ্ঠিত প্রশাসনের বৈশিষ্ট্য ছিল: ১. ঐশী আইনের শাসন: সব প্রশাসনিক কাজের মাপকাঠি ছিল ওহী। ২. পরামর্শ (শূরা): ওহীর বাইরে সব কাজে রাসূল (সা.) সাহাবীদের পরামর্শ নিতেন। ৩. যোগ্যতার মূল্যায়ন: বংশের পরিবর্তে যোগ্যতা দেখে সেনাপতি বা গভর্নর (যেমন উসামা বিন যায়েদকে) নিয়োগ দেওয়া। ৪. মানবাধিকার ও মদিনা সনদ: অমুসলিমদের সমান নাগরিক অধিকার প্রদান করে পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান প্রণয়ন।

١٥- ما هى أهمية المنظمة فى تكوين المجتمع الصالح؟ بين بإيجاز-

[১৫. সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে সংগঠনের গুরুত্ব কী? সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

উত্তর: একটি সুস্থ সমাজ গঠনে সংগঠনের (Organization) গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষ সামাজিক জীব, একাকী কোনো বড় কাজ করা সম্ভব নয়। সংগঠন বিক্ষিপ্ত শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে, কাজের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে এবং নেতৃত্বের বিকাশ ঘটায়। ইসলামেও সংঘবদ্ধ জীবনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, “তিনজন লোক সফরে বের হলে একজনকে আমির বা নেতা বানিয়ে নাও।”

١٦- بين تطور الإدارة العامة موجزا-

[১৬. লোক প্রশাসনের ক্রমবিকাশ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

উত্তর: লোক প্রশাসন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের একটি শাখা হিসেবে প্রাচীনকাল থেকে থাকলেও, একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে এর উদ্ভব ঘটে ১৮৮৭ সালে। উড্রো উইলসনের ‘The Study of Administration’ প্রবন্ধের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯২৭ থেকে ১৯৩৭ সালের মধ্যে এটি একটি বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আধুনিক যুগে লোক প্রশাসন কেবল আইন প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি জনকল্যাণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি প্রায়োগিক বিদ্যায় পরিণত হয়েছে।

القرآن والدراسات الإسلامية [আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

الإسلام والأديان الأخرى [আল-ইসলাম ওয়াল আদইয়ানুল উখরা] – বিষয় কোড: ۲۰۱۳۰٨ (201308)

مجموعة (الف) [ক-বিভাগ]

١- ما معنى الدين لغة وإصطلاحا؟ بين أهمية دراسة مقارنة الأديان مفصلا-

[১. الدين এর শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থ কী? তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব পাঠের গুরুত্ব আলোচনা কর।]

উত্তর: অর্থ: ‘দ্বীন’ শব্দের আভিধানিক অর্থ আনুগত্য করা, প্রতিদান দেওয়া বা জীবনব্যবস্থা। ইসলামি পরিভাষায়, মানুষের ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনের সার্বিক কল্যাণ লাভের জন্য আল্লাহ কর্তৃক মনোনীত পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থাই হলো দ্বীন।

তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব পাঠের গুরুত্ব: এটি পাঠ করার গুরুত্ব অপরিসীম। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মের তুলনামূলক আলোচনার দ্বারা ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও যৌক্তিকতা প্রমাণ করা যায়। ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের ভ্রান্ত ধারণা দূর করা যায়। দাঈ ইলাল্লাহ (ইসলামের পথে আহ্বানকারী) এর জন্য অন্যান্য ধর্মের মৌলিক বিশ্বাস জানা জরুরি, যাতে তিনি যৌক্তিকভাবে তাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে পারেন।

٢- عرف الإسلام- ثم تحدث عن محاسن الإسلام الأسرية والأقتصادية-

[২. الإسلام এর পরিচয় দাও। অতঃপর ইসলামে পারিবারিক ও অর্থনৈতিক সৌন্দর্য আলোচনা কর।]

উত্তর: ইসলাম: ‘ইসলাম’ অর্থ আত্মসমর্পণ করা বা শান্তি লাভ করা। পরিভাষায়, আল্লাহর তাওহীদে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাঁর রাসূলের প্রদর্শিত পথে নিজের ইচ্ছাকে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করার নামই ইসলাম।

পারিবারিক সৌন্দর্য: ইসলাম পরিবারকে সমাজের ভিত্তি মনে করে। বিবাহকে ইবাদত ও পবিত্র চুক্তি হিসেবে সাব্যস্ত করেছে, পিতা-মাতার সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করেছে এবং স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার নিখুঁতভাবে বণ্টন করেছে।
অর্থনৈতিক সৌন্দর্য: ইসলাম সুদ (রিবা) সম্পূর্ণ হারাম করে ব্যবসাকে হালাল করেছে। যাকাত, সদকা ও উত্তরাধিকার আইনের মাধ্যমে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করেছে, যেন সম্পদ শুধু ধনীদের হাতে পুঞ্জীভূত না থাকে।

٣- أثبت أن الإسلام صالح لكل زمان ومكان-

[৩. প্রমাণ কর যে, ইসলাম প্রত্যেক যুগ ও স্থানের জন্য উপযুক্ত।]

উত্তর: ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা গোত্রের জন্য আসেনি, বরং এটি সর্বজনীন। এর প্রমাণ হলো: ১. মৌলিকত্ব ও নমনীয়তা: ইসলামের মূলনীতিগুলো (যেমন- নামাজ, রোজা) অপরিবর্তনীয়, তবে এর প্রায়োগিক ক্ষেত্রে যুগোপযোগী গবেষণা বা ইজতিহাদের দরজা খোলা রাখা হয়েছে। ২. বিজ্ঞানসম্মত: ১৪০০ বছর আগের কুরআন আজ অব্দি কোনো বৈজ্ঞানিক সত্যের সাথে সাংঘর্ষিক হয়নি, বরং বিজ্ঞান কুরআনের সত্যতা প্রমাণ করছে। ৩. মানবপ্রকৃতির অনুকূল: ইসলাম এমন কোনো বিধান চাপিয়ে দেয়নি যা মানুষের সাধ্যের বাইরে। এটি মানুষের স্বভাবধর্ম বা ফিতরাত।

٤- أكتب خصائص الإسلام العقدية والشرعية بالتفصيل-

[৪. ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসগত ও বিধানগত সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য বিস্তারিত আলোচনা কর।]

উত্তর: বিশ্বাসগত (আক্বীদাগত) সৌন্দর্য: ইসলামের আক্বীদা অত্যন্ত স্পষ্ট ও যুক্তিযুক্ত। এর মূলভিত্তি তাওহীদ, যেখানে আল্লাহকে নিরাকার, একক এবং সকল অংশীদারিত্ব থেকে মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে ঈশ্বরের কোনো পুত্র, স্ত্রী বা অবতার হওয়ার কুসংস্কার নেই।
বিধানগত (শরিয়াহ) সৌন্দর্য: ইসলামি শরিয়তের বিধান ভারসাম্যপূর্ণ। এটি মানুষের ইহকাল ও পরকাল উভয়ের কল্যাণ নিশ্চিত করে। শরিয়ত মানুষের ৫টি মৌলিক বিষয় সংরক্ষণ করে— ধর্ম, জীবন, বুদ্ধি, বংশ এবং সম্পদ। এর বিধানগুলো চরমপন্থা বা শিথিলতার ঊর্ধ্বে।

٥- أثبت بالأدلة بأن الإسلام هو الدين والدستور الوحيد للحياة الانسانية-

[৫. প্রমাণ কর যে, ইসলাম মানব জীবনের একমাত্র ধর্ম ও সংবিধান।]

উত্তর: ইসলামই যে মানুষের একমাত্র মনোনীত ধর্ম, তার অকাট্য দলিল আল্লাহ নিজেই কুরআনে দিয়েছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মনোনীত ধর্ম হলো ইসলাম” (সূরা আল-ইমরান: ১৯)। আল্লাহ আরও বলেছেন, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জীবনব্যবস্থা হিসেবে মনোনীত করলাম” (সূরা মায়িদা: ৩)। মানুষের তৈরি কোনো সংবিধান কখনোই ত্রুটিমুক্ত হতে পারে না, কারণ মানুষের জ্ঞান সীমাবদ্ধ। একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর দেওয়া সংবিধানই (কুরআন ও সুন্নাহ) মানুষের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারে।

٦- عرف البوذية ثم بين تاريخ نشأتها وعقائدها الأساسية-

[৬. বৌদ্ধ ধর্মের পরিচয় দাও। অতঃপর এর উৎপত্তি ও মৌলিক আকিদাসমূহ বর্ণনা কর।]

উত্তর: পরিচয় ও উৎপত্তি: খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে প্রাচীন ভারতে নেপালের লুম্বিনি কাননে জন্মগ্রহণকারী রাজপুত্র সিদ্ধার্থ গৌতম (গৌতম বুদ্ধ) এর দ্বারা বৌদ্ধ ধর্মের উৎপত্তি ঘটে। হিন্দু ধর্মের বর্ণপ্রথা ও যজ্ঞের নামে জীবহত্যার প্রতিবাদে তিনি দীর্ঘ ধ্যানের পর ‘বোধি’ (জ্ঞান) লাভ করেন এবং এই নতুন ধর্মের প্রচার শুরু করেন।
মৌলিক আকিদা: এর মূল ভিত্তি হলো ‘চারটি আর্য সত্য’ (Four Noble Truths): ১. পৃথিবী দুঃখময়, ২. বাসনাই দুঃখের কারণ, ৩. বাসনা ত্যাগ করলেই দুঃখ দূর হয়, ৪. দুঃখ নিবৃত্তির উপায় হলো ‘অষ্টাঙ্গিক মার্গ’ (Eightfold Path) অনুসরণ করা। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ‘নির্বাণ’ বা পুনর্জন্মের চক্র থেকে মুক্তি লাভ করা।

٧- ماذا تعرف عن الكتب المقدسة عند النصرانية وما اعتراها من تحريف؟ بين مفصلا-

[৭. খ্রিষ্টান ধর্মের পবিত্র গ্রন্থসমূহ এবং এগুলোর বিকৃতি সম্পর্কে যা জান বিশদভাবে আলোচনা কর।]

উত্তর: খ্রিষ্টানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের নাম ‘বাইবেল’। এর দুটি প্রধান অংশ: ‘ওল্ড টেস্টামেন্ট’ (পুরনো নিয়ম বা তাওরাত) এবং ‘নিউ টেস্টামেন্ট’ (নতুন নিয়ম বা ইঞ্জিল)।
বিকৃতি (তাহরিফ): বর্তমান বাইবেল ঈসা (আ.) এর ওপর অবতীর্ণ হওয়া সেই আদি ও অকৃত্রিম ‘ইঞ্জিল’ নয়। ঈসা (আ.) এর বিদায়ের শত শত বছর পর বিভিন্ন ব্যক্তি এটি রচনা করেছে। এতে মানুষের রচিত অনেক পৌরাণিক কাহিনী, ত্রিত্ববাদ (Trinity) এবং বৈজ্ঞানিক ভুল তথ্যের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। আল্লাহ কুরআনে স্পষ্ট বলেছেন যে, তারা নিজ হাতে কিতাব রচনা করে বলে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে।

٨- إلى كم فرقة افترقت اليهود؟ بين أشهرها وأظهرها مع بيان أهم معتقدات لتلك الفرق-

[৮. ইহুদি জাতি কতগুলো দলে বিভক্ত হয়েছে? তার মধ্য হতে প্রসিদ্ধ দলগুলো ও তাদের বিশ্বাসের বর্ণনা তুলে ধর।]

উত্তর: ইহুদিরা ঐতিহাসিক ও আকিদাগতভাবে অসংখ্য দলে বিভক্ত। এদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ৩টি দল হলো:
১. ফরীশী (Pharisees): এরা ইহুদিদের সবচেয়ে গোঁড়া দল। এরা লিখিত তাওরাতের পাশাপাশি মৌখিক আইন বা তালমুদে তীব্রভাবে বিশ্বাস করে। এরা পরকাল ও পুনরুত্থান মানে।
২. সাদুকী (Sadducees): এরা অভিজাত শ্রেণির ইহুদি। এরা কেবল লিখিত তাওরাত মানে, কিন্তু পরকাল, ফেরেশতা বা পুনরুত্থানে বিশ্বাস করে না।
৩. এসেনিস (Essenes): এরা সন্ন্যাসী প্রকৃতির দল, যারা বিবাহ পরিহার করে এবং পাহাড়-গুহায় ইবাদত করে জীবন কাটায়।

مجموعة (ب) [খ-বিভাগ]

٩- ما الفرق بين الدين والشريعة؟

[৯. الشريعة ও الدين এর মধ্যে পার্থক্য কী? আলোচনা কর।]

উত্তর: ‘দ্বীন’ বলতে ধর্মের মূলভিত্তি তথা তাওহীদ, রিসালাত ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাসকে বোঝায়। আদম (আ.) থেকে মুহাম্মদ (সা.) পর্যন্ত সকল নবীর ‘দ্বীন’ এক ও অভিন্ন ছিল। অন্যদিকে ‘শরিয়াহ’ হলো ইবাদত ও সমাজ পরিচালনার সুনির্দিষ্ট আইন-কানুন বা নিয়মপদ্ধতি। যুগ, সমাজ ও পরিবেশের ভিন্নতার কারণে বিভিন্ন নবীর ‘শরিয়াহ’ ভিন্ন ভিন্ন ছিল।

١٠- ماذا تعرف عن الكتب المقدسة لليهودية؟ اكتب موجزا-

[১০. ইহুদি ধর্মের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ সম্পর্কে তুমি কী জান সংক্ষেপে লেখ।]

উত্তর: ইহুদি ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থকে ‘তানাখ’ (হিব্রু বাইবেল) বলা হয়, যার সবচেয়ে পবিত্র অংশ হলো ‘তোরাহ’ (তাওরাত), যা মুসা (আ.) এর ওপর অবতীর্ণ হয়েছিল বলে তারা বিশ্বাস করে। এর পাশাপাশি তাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলো ‘তালমুদ’, যা মূলত ইহুদি রাব্বিদের (পুরোহিতদের) মৌখিক আলোচনা, আইন ও লোককাহিনীর একটি বিশাল সংকলন।

١١- بين مؤامرات اليهود ضد الاسلام باختصار-

[১১. মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইহুদি জাতির ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

উত্তর: ইহুদিদের ষড়যন্ত্রের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। মদীনায় হিজরতের পর বনু নাদির ও বনু কুরাইজার ইহুদিরা মদীনা সনদের বিশ্বাসঘাতকতা করে রাসূল (সা.) কে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ ইবনে সাবার মতো ইহুদিরা মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে শিয়া মতবাদের জন্ম দেয়। আধুনিক যুগে ‘জায়োনিজম’ বা ইহুদিবাদের নামে তারা ফিলিস্তিন জবরদখল করেছে এবং বিশ্বব্যাপী ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে বহুমুখী মিডিয়া ও অর্থনৈতিক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।

١٢- ما المراد بالتناسخ عند الهندوسية؟ بين-

[১২. হিন্দুধর্মের নিকট পুনর্জন্মবাদ দ্বারা কী উদ্দেশ্য? আলোচনা কর।]

উত্তর: হিন্দু ধর্মে ‘তানাসুখ’ বা পুনর্জন্মবাদ (Reincarnation) বলতে মানুষের কর্মফল অনুযায়ী মৃত্যুর পর আত্মা পুনরায় নতুন দেহ ধারণ করে জন্ম নেওয়াকে বোঝায়। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষ যদি পুণ্য কাজ করে তবে সে উঁচু বর্ণের মানুষ বা দেবতা হিসেবে জন্ম নেয়, আর পাপ করলে সে পশু, কীট-পতঙ্গ বা নিচু স্তরের জীব হয়ে জন্ম নেয়। এই জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্তি পাওয়াকে তারা ‘মোক্ষ’ বলে।

١٣- من هم أشهر الرجال عند النصرانية؟ تحدث عنهم بإيجاز-

[১৩. খ্রিষ্টানদের নিকট প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব কারা? তাদের সম্পর্কে আলোচনা কর।]

উত্তর: খ্রিষ্টান ধর্মে ঈসা (আ.) বা যিশু খ্রিষ্টের পর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ব্যক্তি হলেন ‘পল’ (Paul) এবং ‘পিটার’ (Peter)। পল মূলত প্রথমে খ্রিষ্টানদের চরম শত্রু ছিলেন, পরে তিনি নিজেকে যিশুর প্রেরিত দূত দাবি করেন। বর্তমান খ্রিষ্টান ধর্মের ত্রিত্ববাদ, যিশুকে ঈশ্বরের পুত্র মানা এবং পূর্ববর্তী শরিয়ত (খতনা ও হালাল-হারামের বিধান) রহিত করার মতো ভ্রান্ত বিশ্বাসগুলো মূলত পলের দ্বারাই সংযোজিত হয়েছিল।

١٤- ما هى عقيدة المسلمين فى عيسى بن مريم؟ بين موجزا-

[১৪. ঈসা (আ) সম্পর্কে মুসলমানদের বিশ্বাস কী? সংক্ষেপে বর্ণনা কর।]

উত্তর: মুসলিমদের বিশ্বাস হলো, ঈসা ইবনে মারইয়াম (আ.) হলেন আল্লাহর প্রেরিত একজন মহান নবী এবং রাসূল। তিনি আল্লাহর আদেশে কুমারী মাতা মারইয়ামের গর্ভে বিনা পিতায় অলৌকিকভাবে জন্মগ্রহণ করেছেন। তিনি ঈশ্বরের পুত্র নন বা ঈশ্বরও নন। ইহুদিরা তাকে ক্রুশবিদ্ধ করে হত্যা করতে পারেনি, বরং আল্লাহ তাকে জীবিত অবস্থায় আসমানে তুলে নিয়েছেন এবং কিয়ামতের আগে তিনি উম্মতে মুহাম্মাদীর একজন হিসেবে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।

١٥- ماذا تعرف عن اليعقوبية عند النصرانية؟ بين-

[১৫. খ্রিষ্টান ধর্মের নিকট اليعقوبية (জেকোবাইট) সম্প্রদায় সম্পর্কে তুমি কী জান? আলোচনা কর।]

উত্তর: খ্রিষ্টানদের একটি প্রাচীন উপদলের নাম ‘আল-ইয়াকুবিয়্যাহ’ (Jacobites)। সিরিয়ার ইয়াকুব বারাদায়ি এর প্রতিষ্ঠাতা। এদের মূল বিশ্বাস হলো ‘Monophysitism’ বা এক-প্রকৃতিবাদ। তারা বিশ্বাস করে যে, যিশু খ্রিষ্টের মানবীয় ও ঐশ্বরিক সত্তা আলাদা নয়, বরং উভয়ে মিলে একটি অবিচ্ছেদ্য ঐশ্বরিক সত্তায় পরিণত হয়েছে। এটি অর্থডক্স ও ক্যাথলিকদের (যিশুর দ্বৈত সত্তার বিশ্বাস) বিপরীত একটি মতবাদ।

١٦- كيف نشأت السيخية فى الهند؟ بين بالاختصار-

[১৬. ভারতবর্ষে কীভাবে শিখ ধর্মের উৎপত্তি হলো? সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

উত্তর: পঞ্চদশ শতাব্দীতে ভারতবর্ষে গুরু নানকের মাধ্যমে শিখ ধর্মের উৎপত্তি হয়। গুরু নানক ইসলাম ও হিন্দু ধর্মের কাছাকাছি একটি নতুন ঐক্যের ধর্ম প্রচার করতে চেয়েছিলেন। তিনি ইসলামের একত্ববাদ (নিরাকার ঈশ্বরের ধারণা) এবং হিন্দু ধর্মের পুনর্জন্মবাদের একটি মিশ্রণ তৈরি করেন। পরবর্তীতে তাদের দশম গুরু ‘গোবিন্দ সিং’ শিখদের একটি সামরিক ও সুসংগঠিত সম্প্রদায়ে (খালসা) রূপান্তর করেন।
Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now