ইসলামি সভ্যতার ইতিহাস (৫০২১০৬) প্রশ্ন ও সমাধান – কামিল মাস্টার্স (আল হাদীস) পরীক্ষা ২০২২ | Tarikhul Hadaratil Islamiyyah (502106) QnA – Kamil Hadith 2022

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২২: ইসলামি সভ্যতার ইতিহাস (৫০২১০৬) প্রশ্ন ও সমাধান – Kamil Masters 2022 Tarikhul Hadaratil Islamiyyah (502106) Solution
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة) ، لعام ٢٠٢٢

[কামিল মাস্টার্স (এক বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২২]

الحديث والدراسات الإسلامية [আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

تاريخ الحضارة الإسلامية [তারীখুল হাদারাতিল ইসলামিয়্যাহ] | বিষয় কোড: ۵ ۰ ۲ ۱ ۰ ۶

الوقت— ٤ ساعات [সময়— ৪ ঘণ্টা] | الدرجة الكاملة— ١٠٠ [পূর্ণমান— ১০০]

الملاحظة : أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب)-
[দ্রষ্টব্য: (ক) বিভাগ হতে ৪টি এবং (খ) বিভাগ হতে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও।]

مجموعة (أ) [ক-বিভাগ] (الدرجة— ٨٠=٤×٢٠)

١- كيف كان النظام الاقتصادي والإداري للمسلمين في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم؟ بين مفصلا-

[রাসুল (স) এর যুগে মুসলমানদের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা কেমন ছিল? বিস্তারিতভাবে বর্ণনা কর।]

✅ উত্তর:
অর্থনৈতিক ব্যবস্থা: রাসুল (স) এর যুগে মদিনায় একটি সুশৃঙ্খল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপিত হয়। এর প্রধান উৎসগুলো ছিল: ১. যাকাত ও সাদাকাহ: মুসলমানদের উদ্বৃত্ত সম্পদের ওপর নির্ধারিত কর। ২. গনিমত ও ফায়: যুদ্ধে প্রাপ্ত সম্পদ এবং বিনা যুদ্ধে অর্জিত সম্পদ। ৩. জিযিয়া: অমুসলিম নাগরিকদের নিরাপত্তার বিনিময়ে গৃহীত কর। ৪. খারাজ: ভূমির উৎপন্নের ওপর কর। এই সম্পদগুলো ‘বায়তুল মাল’ বা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হতো এবং জনকল্যাণে ব্যয় হতো।
প্রশাসনিক ব্যবস্থা: নবীজি (স) ছিলেন একাধারে রাষ্ট্রপ্রধান, সেনাপতি ও প্রধান বিচারপতি। তাঁর প্রশাসন ‘শূরা’ বা পারস্পরিক পরামর্শের (وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ) ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হতো। বিভিন্ন প্রদেশে (যেমন ইয়েমেনে মুয়ায বিন জাবাল রা.) তিনি গভর্নর (ওয়ালী) ও কর আদায়কারী (আমিল) নিয়োগ দিয়েছিলেন।

٢- ما ميثاق المدينة؟ تحدث عن أهميته في تحقيق التعايش السلمي في المجتمع الإسلامي-

[মদিনার সনদ কী? মুসলিম সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিতকরণে এর গুরুত্ব আলোচনা কর।]

✅ উত্তর:
মদিনার সনদ: হিজরতের পর মদিনায় বসবাসরত মুসলিম, ইহুদি, পৌত্তলিক ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাসুল (স) ৬২২ খ্রিস্টাব্দে যে ৪৭ (বা ৫২) ধারার লিখিত চুক্তি সম্পাদন করেন, তা-ই ইতিহাসে ‘মيثاق المدينة’ বা মদিনার সনদ নামে পরিচিত। এটি পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান।
শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে এর গুরুত্ব: এই সনদের মাধ্যমে মদিনাকে একটি স্বাধীন ‘হারাম’ বা পবিত্র নগরী ঘোষণা করা হয়। এতে বলা হয়, মদিনার সকল সম্প্রদায় এক জাতি (উম্মাহ) হিসেবে গণ্য হবে এবং মদিনা আক্রান্ত হলে সবাই মিলে তা প্রতিহত করবে। ইহুদিদের নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়। এর ফলে রক্তক্ষয়ী গোত্রীয় সংঘাতের অবসান ঘটে এবং মদিনায় একটি স্থিতিশীল, অসাম্প্রদায়িক ও শান্তিপূর্ণ কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

٣- تحدث عن دور الرسول صلى الله عليه وسلم في محو الأمية ونشر العلم موضحا-

[নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও শিক্ষার বিস্তারে রাসুল (স) এর ভূমিকা বিশদভাবে আলোচনা কর।]

✅ উত্তর:
নিরক্ষরতা দূরীকরণে রাসুল (স) যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। প্রথম ওহীই ছিল “اقْرَأْ” (পড়ুন)। শিক্ষার বিস্তারে তাঁর ভূমিকা নিচে দেওয়া হলো:
১. বদর যুদ্ধের বন্দীদের শিক্ষকতা: বদর যুদ্ধে শিক্ষিত যুদ্ধবন্দীদের মুক্তিপণ হিসেবে নির্ধারণ করা হয় যে, তারা প্রত্যেকে ১০ জন মুসলিম শিশুকে লেখাপড়া শেখাবে।
২. দারুল আরকাম ও সুফফা: মক্কায় ‘দারুল আরকাম’ ছিল প্রথম শিক্ষাকেন্দ্র। মদিনায় মসজিদে নববীর পাশে ‘সুফফা’ নামক আবাসিক শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলেন, যেখানে সাহাবীরা দিনরাত ইলম চর্চা করতেন।
৩. নারী শিক্ষার প্রসার: নবীজি (স) নারীদের শিক্ষার জন্যও সপ্তাহে একটি দিন নির্ধারণ করেছিলেন। আয়েশা (রা.) ছিলেন তৎকালীন যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকীহ ও মুহাদ্দিস।

٤- اذكر التداعيات الدينية والاضطرابات السياسية التي حدثت في المجتمع الإسلامي بعد استشهاد عثمان بن عفان رضي الله عنه-

[হযরত উসমান বিন আফফান (রা) এর শাহাদতের পর মুসলিম সমাজে যে ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছিল তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা কর।]

✅ উত্তর:
হযরত উসমান (রা.)-এর শাহাদাত (৩৫ হিজরী) ইসলামী ইতিহাসের সবচেয়ে মর্মান্তিক ও বিভেদ সৃষ্টিকারী ঘটনা, যাকে ‘আল-ফিতনাতুল কুবরা’ (প্রথম ফিতনা) বলা হয়।
রাজনৈতিক অস্থিরতা: তাঁর মৃত্যুর পর আলীকে (রা.) খলিফা নির্বাচিত করা হলেও মুয়াবিয়া (রা.) উসমানের হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁর আনুগত্য করতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে মুসলিম উম্মাহ বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং উটের যুদ্ধ (জঙ্গে জামাল) ও সিফফিনের মতো রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
ধর্মীয় প্রতিক্রিয়া: এই রাজনৈতিক সংঘাত থেকেই পরবর্তীতে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ধর্মীয় দলের উদ্ভব ঘটে। সিফফিনের যুদ্ধে শালিসির (তাহকীম) প্রস্তাব মেনে নেওয়ার কারণে একদল লোক আলী (রা.)-এর দল ত্যাগ করে, যাদের ‘খাওয়ারিজ’ বলা হয়। অন্যদিকে আলীর (রা.) কট্টর সমর্থকদের মধ্য থেকে ‘শিয়া’ মতবাদের জন্ম হয়।

٥- تحدث عن الأحوال الاجتماعية والثقافية في العصر الأموي-

[উমাইয়া যুগের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থা আলোচনা কর।]

✅ উত্তর:
সামাজিক অবস্থা: উমাইয়া যুগে সমাজে মূলত দুটি শ্রেণির উদ্ভব ঘটে— আরব এবং অনারব মুসলিম (মাওয়ালী)। উমাইয়া শাসকরা সাধারণত আরবদের বেশি সুযোগ-সুবিধা দিতেন, ফলে সমাজে কিছুটা বৈষম্য দেখা দেয়। এই যুগে দাসপ্রথা প্রচলিত থাকলেও তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করা হতো। নারীরা সমাজে সম্মানজনক অবস্থানে ছিলেন এবং শিক্ষা ও সাহিত্যে অংশ নিতেন।
সাংস্কৃতিক অবস্থা: এ যুগে শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ব্যাপক বিকাশ ঘটে। বিশেষ করে আরবি কবিতা তার প্রাচীন ঐতিহ্য ফিরে পায় (যেমন- জারির, ফারাজদাক, আখতাল)। এছাড়া ইসলামি স্থাপত্যের চমৎকার বিকাশ ঘটে; খলিফা ওয়ালিদের সময় দামেস্কের উমাইয়া মসজিদ এবং জেরুজালেমে ‘কুব্বাতুস সাখরা’ (Dome of the Rock) নির্মিত হয়, যা ইসলামি স্থাপত্যশিল্পের অমর কীর্তি।

٦- متى فتح المسلمون الأندلس وكيف؟ تحدث عن تطور الشعر العربي في الأندلس-

[মুসলমানরা কখন, কীভাবে স্পেন বিজয় করে? স্পেনে আরবি কাব্য-সাহিত্যের বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর।]

✅ উত্তর:
স্পেন বিজয়: ৭১১ খ্রিস্টাব্দে (৯২ হিজরী) উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদের শাসনামলে সেনাপতি তারিক বিন যিয়াদের নেতৃত্বে মাত্র ৭,০০০ সৈন্যের একটি বাহিনী জিব্রাল্টার প্রণালী পার হয়ে স্পেনে (আন্দালুস) প্রবেশ করে। গুয়াদালেতের যুদ্ধে স্পেনের অত্যাচারী রাজা রডারিককে পরাজিত করে তারা স্পেন বিজয় সম্পন্ন করেন।
স্পেনে আরবি কাব্য-সাহিত্যের বিকাশ: স্পেনের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রাচ্যের সাহিত্য রীতির মিশ্রণে স্পেনে আরবি কবিতার এক নতুন রূপের জন্ম হয়। স্প্যানিশ মুসলিমরা কবিতায় নতুন ছন্দ ও আঙ্গিক নিয়ে আসেন, যার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো ‘মুওয়াশশাহ’ (الموشح) এবং ‘যাজাল’ (الزجل)। ইবনে যিয়াদুন, ইবনে আবদি রাব্বিহ এবং ইবনুল খতীব ছিলেন আন্দালুসের বিশ্ববিখ্যাত কবি।

٧- تحدث عن مساهمة العلماء المسلمين في علم الطب وعلم الفلك-

[চিকিৎসা ও মহাকাশ বিজ্ঞানে মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান আলোচনা কর।]

✅ উত্তর:
চিকিৎসা বিজ্ঞানে অবদান: মধ্যযুগে মুসলিম চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা সারা বিশ্বকে পথ দেখিয়েছেন। ইবনে সিনা রচিত “আল-কানুন ফি আত-তিব্ব” শত শত বছর ধরে ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মূল পাঠ্যবই ছিল। আবু বকর আর-রাযী সর্বপ্রথম গুটিবসন্ত ও হামের মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করেন। শল্য চিকিৎসায় (সার্জারি) আবুল কাসিম আয-যাহরাভীর আবিষ্কারগুলো আজও চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যবহৃত হয়।
মহাকাশ বিজ্ঞানে অবদান: মুসলিম বিজ্ঞানীরা নক্ষত্রের গতিবিধি, গ্রহণ এবং দিক নির্ণয়ের জন্য মানমন্দির স্থাপন করেছিলেন। আল-বাত্তানী সৌরবছরের দৈর্ঘ্য নিখুঁতভাবে পরিমাপ করেন। আল-খাওয়ারিজমি এবং আল-বিরুনী অ্যাস্ট্রোলোব (Astrolabe) যন্ত্রের উন্নয়ন করেন এবং পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ও আহ্নিক গতি নিয়ে যুগান্তকারী তত্ত্ব প্রদান করেন।

٨- كيف تطورت الحضارة الإسلامية في العهد العباسي؟ بين مع ذكر العلوم والفنون المستحدثة في هذا العهد مفصلا-

[আব্বাসী যুগে ইসলামি সভ্যতা কীভাবে বিকশিত হয়েছিল? এ যুগে সৃষ্ট বিভিন্ন শাস্ত্র ও শিল্পসমূহ উল্লেখপূর্বক বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

✅ উত্তর:
আব্বাসী যুগ (৭৫০-১২৫৮ খ্রি.) ইসলামি সভ্যতার ‘সুবর্ণ যুগ’ (Golden Age) হিসেবে পরিচিত। এ সময় রাজনৈতিক স্থিরতা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি খলিফাদের পৃষ্ঠপোষকতার কারণে ইসলামি সভ্যতা তার চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছায়।
সৃষ্ট শাস্ত্র ও শিল্পসমূহ:
১. বায়তুল হিকমাহ ও অনুবাদ আন্দোলন: খলিফা আল-মামুন বাগদাদে ‘বায়তুল হিকমাহ’ বা জ্ঞানগৃহ প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে গ্রিক, পারসিক ও ভারতীয় দর্শন ও বিজ্ঞানের অমূল্য বইগুলো আরবিতে অনুবাদ করা হয়।
২. ইসলামি শাস্ত্রের বিকাশ: এই যুগেই হাদীস সংকলনের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ ‘সিহাহ সিত্তাহ’ সংকলিত হয়। ফিকহের চারটি প্রধান মাযহাব (হানাফী, মালেকী, শাফেয়ী, হাম্বলী) এ সময়েই সুবিন্যস্ত হয়।
৩. গণিত ও বিজ্ঞান: আল-খাওয়ারিজমি ‘অ্যালজেবরা’ বা বীজগণিত আবিষ্কার করেন। আল-কিন্দি, আল-ফারাবী প্রমুখ দর্শনে অসামান্য অবদান রাখেন। কাগজ তৈরি, ক্যালিগ্রাফি এবং কারুশিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটে।

مجموعة (ب) [খ-বিভাগ] (الدرجة— ٢٠=٥×٤)

٩- كيف تولى معاوية بن أبي سفيان رضي الله عنه الخلافة؟ اكتب مختصراً-

[হযরত মুয়াবিয়া (রা) কীভাবে খেলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন? সংক্ষেপে লেখ।]

✅ উত্তর: হযরত আলী (রা.)-এর শাহাদাতের পর কুফাবাসী তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ইমাম হাসান (রা.)-এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন। কিন্তু মুসলমানদের মাঝে যেন আর কোনো রক্তপাত না হয়, সেই মহান উদ্দেশ্যে ইমাম হাসান (রা.) ৪০ হিজরীতে (৬৬১ খ্রি.) একটি সন্ধি চুক্তির মাধ্যমে হযরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর অনুকূলে খেলাফত ত্যাগ করেন। মুয়াবিয়া (রা.) সর্বসম্মতভাবে খলিফা নির্বাচিত হন এবং উমাইয়া বংশের শাসনের গোড়াপত্তন করেন। এই বছরকে ইতিহাসে ‘আম আল-জামাআহ’ (ঐক্যের বছর) বলা হয়।

١٠- اذكر إصلاحات الخليفة الأموي عبد الملك بن مروان موجزًا-

[উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের সংস্কারসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

✅ উত্তর: উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক বিন মারওয়ানকে উমাইয়া সাম্রাজ্যের ‘প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা’ বলা হয়। তাঁর প্রধান সংস্কারগুলো হলো: ১. আরবিকরণ: তিনি সাম্রাজ্যের সকল সরকারি নথিপত্র ও দাপ্তরিক কাজ (দিওয়ান) গ্রিক ও ফার্সির পরিবর্তে আরবি ভাষায় বাধ্যতামূলক করেন। ২. ইসলামি মুদ্রার প্রচলন: তিনিই সর্বপ্রথম রোমান মুদ্রার পরিবর্তে খাটি ইসলামি স্বর্ণমুদ্রা (দিনার) ও রৌপ্যমুদ্রা (দিরহাম) চালু করেন, যাতে কালিমা খচিত ছিল। ৩. ডাক ব্যবস্থার উন্নতি এবং জেরুজালেমে ‘কুব্বাতুস সাখরা’ নির্মাণ।

١١- من الموالي؟ تحدث عن دورهم السياسي في الدولة الأموية باختصار-

[মাওয়ালী কারা? উমাইয়া সাম্রাজ্যে তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

✅ উত্তর: মাওয়ালী কারা: ‘মাওয়ালী’ বলতে মূলত সেই সব অনারব লোকদের বোঝানো হতো, যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং আরব গোত্রগুলোর সাথে চুক্তির মাধ্যমে যুক্ত হয়েছিল (যেমন- পারসিক, তুর্কি, বারবার)।
রাজনৈতিক ভূমিকা: উমাইয়া যুগে মাওয়ালীরা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। আরবদের শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তারা উচ্চ পদ থেকে বঞ্চিত ছিল এবং অনেক সময় অতিরিক্ত কর দিতে বাধ্য হতো। এর ফলে মাওয়ালীদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এই মাওয়ালীরাই (বিশেষ করে পারসিকরা) আব্বাসী আন্দোলনে মূল শক্তি হিসেবে যোগ দেয় এবং উমাইয়া সাম্রাজ্যের পতনে প্রধান ভূমিকা রাখে।

١٢- كيف كان النظام التعليمي في مصر في عهد الفاطميين؟ اكتب موجزًا-

[ফাতেমীদের যুগে মিশরের শিক্ষাব্যবস্থা কেমন ছিল? সংক্ষেপে লেখ।]

✅ উত্তর: ফাতেমী যুগে মিশরের শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাপক সমৃদ্ধি লাভ করে, তবে এর মূল উদ্দেশ্য ছিল শিয়া ইসমাইলী মতবাদের প্রসার ঘটানো। এই যুগে ৯৭০ খ্রিস্টাব্দে জওহর সিসিলী বিখ্যাত ‘আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল ফাতেমীদের প্রধান শিক্ষাকেন্দ্র। পরবর্তীতে খলিফা আল-হাকিম ১০০৪ খ্রিস্টাব্দে ‘দারুল হিকমাহ’ (বিজ্ঞান একাডেমি) স্থাপন করেন, যেখানে গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের ওপর উচ্চতর গবেষণার সুযোগ ছিল।

١٣- تحدث عن حركة الشعوبية وآثارها السياسية-

[শুউবিয়া আন্দোলন ও এর রাজনৈতিক প্রভাব আলোচনা কর।]

✅ উত্তর: শুউবিয়া আন্দোলন: শুউবিয়া হলো উমাইয়া ও প্রথম আব্বাসী যুগে অনারব (মূলত পারসিক) বুদ্ধিজীবীদের একটি সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন। তারা দাবি করত যে, আরবরা অনারবদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়, বরং শিল্প, সংস্কৃতি ও সভ্যতায় অনারবরা আরবদের চেয়ে উত্তম।
রাজনৈতিক প্রভাব: এই আন্দোলনের ফলে আব্বাসী খিলাফতে পারসিক প্রভাব ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়। উচ্চপদগুলোতে পারসিকদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয় (যেমন- বারমাকি বংশ)। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি আরব-অনারব দ্বন্দ্বকে উসকে দেয়, যা মুসলিম সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক অখণ্ডতায় ফাটল ধরায়।

١٤- تحدث عن التأثير الفارسي في العهد العباسي-

[আব্বাসী যুগে পারস্য-প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা কর।]

✅ উত্তর: আব্বাসী খিলাফত মূলত পারসিকদের (মাওয়ালী) সামরিক ও রাজনৈতিক শক্তির ওপর ভর করেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাই এ যুগে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে পারস্য প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। খলিফারা পারস্যের রাজকীয় প্রথা, পোশাক ও দরবারী আদব-কায়দা গ্রহণ করেন। ‘উজির’ (প্রধান মন্ত্রী) পদটি পারস্য অনুকরণেই সৃষ্টি হয় এবং বারমাকিদের মতো শক্তিশালী পারসিক পরিবারগুলো রাষ্ট্রের প্রকৃত চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়। সাহিত্য, স্থাপত্য ও সংস্কৃতিতেও পারসিক রীতি প্রবল আকার ধারণ করে।

١٥- ما الصوفية؟ تحدث عن انتشار الصوفية في العهد العباسي-

[সুফীবাদ কী? আব্বাসী যুগে সুফীবাদের বিকাশ সম্পর্কে আলোচনা কর।]

✅ উত্তর: সুফীবাদ: সুফীবাদ বা তাসাওউফ হলো ইসলামের একটি আত্মিক সাধনার পথ, যার মূল লক্ষ্য হলো নফস বা প্রবৃত্তিকে দমন করে আত্মার পরিশুদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর প্রেম ও নৈকট্য লাভ করা।
আব্বাসী যুগে বিকাশ: আব্বাসী যুগে দুনিয়াদারী, ভোগবিলাস ও গ্রিক দর্শনের প্রসারের প্রতিক্রিয়া হিসেবে সুফীবাদের প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ ঘটে। এই যুগে হাসান বসরী, রাবেয়া বসরী, জুনাইদ বাগদাদী এবং মনসুর হাল্লাজের মতো বিশ্ববিখ্যাত সুফী সাধকদের আবির্ভাব ঘটে। তাঁরা মানুষকে ইখলাস, যিকির ও যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা)-এর শিক্ষা দেন। পরবর্তীতে এটি বিভিন্ন তরিকায় (যেমন কাদেরিয়া) রূপ লাভ করে।

١٦- من الإدريسي؟ تحدث عن مساهمته في علم الجغرافيا بإيجاز-

[ইদ্রিসী কে? ভূগোল শাস্ত্রে তাঁর অবদান সংক্ষেপে আলোচনা কর।]

✅ উত্তর: ইদ্রিসী: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ আল-ইদ্রিসী (১১০০-১১৬৫ খ্রি.) ছিলেন মধ্যযুগের একজন বিশ্ববিখ্যাত আন্দালুসীয় (স্পেনিশ) মুসলিম ভূগোলবিদ, কার্টোগ্রাফার (মানচিত্রকর) এবং পর্যটক।
অবদান: ভূগোল শাস্ত্রে তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হলো রাজা দ্বিতীয় রজারের আদেশে বিশ্বের একটি অত্যন্ত নিখুঁত মানচিত্র তৈরি করা। তিনি “নুযহাতুল মুশতাক” (তাবুলা রোজেরিয়ানা) নামক একটি বিশ্বকোষ রচনা করেন, যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ, সমুদ্র, জলবায়ু অঞ্চল ও দূরত্বের নিখুঁত বিবরণ ছিল। কলম্বাস ও ভাস্কো দা গামার মতো ইউরোপীয় নাবিকরা তাঁর মানচিত্র দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন।

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now