Alim Bangla 2nd Paper Question & Answer 2026 | আলিম ২০২৬ বাংলা ২য় প্রশ্নপত্র সমাধান

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
alim bangla 2nd paper question answer 2026
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

আলিম পরীক্ষা, ২০২৬

বাংলা — দ্বিতীয় পত্র

[নিয়মিত] | বিষয় কোড: 2 3 7
সময়: ৩ ঘণ্টা | পূর্ণমান: ১০০

Abswer.com

[দ্রষ্টব্য: ডান পাশের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।]

১। (ক) বাংলা ভাষায় ‘ব’-ফলা উচ্চারণের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লেখ।

উত্তর (ক): ‘ব’-ফলা উচ্চারণের ৫টি নিয়ম:
১. পদের শুরুতে: পদের আদ্য ব্যঞ্জনবর্ণে ‘ব’-ফলা যুক্ত হলে সেটির উচ্চারণ হয় না, তবে ওই ব্যঞ্জনবর্ণের উচ্চারণে সামান্য ঝোঁক পড়ে। যেমন: স্বর (শর্‌), স্বাধীন (শাধিন্)।
২. পদের মধ্যে বা শেষে: পদের মধ্যে বা শেষে ‘ব’-ফলা যুক্ত হলে সংযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণটির দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়। যেমন: বিশ্ব (বিশ্‌শো), অশ্ব (অশ্‌শো)।
৩. সন্ধিজাত শব্দে: সন্ধিজাত শব্দে ‘ব’-ফলা যুক্ত হলে ‘ব’-এর উচ্চারণ বজায় থাকে। যেমন: দিগ্বিজয় (দিগ্‌বিজয়), উদ্‌বাস্তু (উদ্‌বাস্তু)।
৪. ‘ম’-এর সাথে যুক্ত হলে: ‘ম’-এর সাথে ‘ব’-ফলা যুক্ত হলে ‘ব’-এর উচ্চারণ অবিকৃত থাকে। যেমন: লম্ব (লম্‌বো), কম্বল (কম্‌বোল্)।
৫. উত্ উপসর্গের সাথে: ‘উত্’ বা ‘উদ্’ উপসর্গের সাথে ‘ব’-ফলা যুক্ত হলে ‘ব’-এর উচ্চারণ বহাল থাকে। যেমন: উদ্বেল (উদ্‌বেল্), উদ্‌বোধক।

অথবা,

(খ) যে কোনো পাঁচটি শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ লেখ:
অনুসর্গ, আবৃত্তি, গ্রহণ, ব্যতীত, ধার্য, মন্তব্য, শাশ্বত, স্মরণ।

উত্তর (খ): শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ:
অনুসর্গ = ওনুশর্‌গো
আবৃত্তি = আব্‌রিত্তি
গ্রহণ = গ্রোহোন্
ব্যতীত = ব্যাতিতো
ধার্য = ধার্‌জো
মন্তব্য = মোন্‌তোব্‌বো
শাশ্বত = শাশ্‌শতো
স্মরণ = শঁরোন্

২। (ক) আধুনিক বাংলা বানানের পাঁচটি নিয়ম উদাহরণসহ লেখ।

উত্তর (ক): আধুনিক বাংলা বানানের ৫টি নিয়ম:
১. রেফের ব্যবহার: রেফ (র্ )-এর পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। যেমন: কর্ম, ধর্ম, সূর্য।
২. অতৎসম শব্দ: সকল অতৎসম শব্দে (তদ্ভব, দেশি, বিদেশি ও মিশ্র) কেবল হ্রস্ব-ই (ি) এবং হ্রস্ব-উ (ু) কার হবে। যেমন: গাড়ি, পাখি, চুন, দিঘি।
৩. ‘আলী’ প্রত্যয়: ‘আলী’ প্রত্যয়যুক্ত শব্দে সবসময় হ্রস্ব-ই (ি) কার হবে। যেমন: সোনালি, রুপালি, মিতালি।
৪. বিদেশি শব্দ: বিদেশি শব্দে ‘ষ’ বা ‘ণ’ ব্যবহৃত হবে না। যেমন: স্টেশন, কর্নার, ফার্নিচার, হর্ন।
৫. সন্ধির নিয়ম: সন্ধির ক্ষেত্রে ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পূর্ব পদের অন্তস্থিত ‘ম’ স্থানে অনুস্বার (ং) হবে। যেমন: অহম্ + কার = অহংকার, সম্ + গীত = সংগীত।

অথবা,

(খ) যে কোনো পাঁচটি শব্দের বানান শুদ্ধ করে লেখ:
ইতিপূর্বে, সম্বর্ধনা, পিপিলিকা, অতিথী, সন্যাসি, ঐকতান, অন্তপুর, মূহুর্ত।

উত্তর (খ): শুদ্ধ বানান:
ইতিপূর্বে ➔ ইতঃপূর্বে
সম্বর্ধনা ➔ সংবর্ধনা
পিপিলিকা ➔ পিপীলিকা
অতিথী ➔ অতিথি
সন্যাসি ➔ সন্ন্যাসী
ঐকতান ➔ ঐকতান (শব্দটি শুদ্ধই আছে)
অন্তপুর ➔ অন্তঃপুর
মূহুর্ত ➔ মুহূর্ত

৩। (ক) যোজক কাকে বলে? যোজক কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ সংজ্ঞা দাও।

উত্তর (ক):
যোজক: যে শব্দ একটি বাক্যাংশের সাথে অন্য একটি বাক্যাংশের অথবা একটি শব্দের সাথে আরেকটি শব্দের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে যোজক বলে। যেমন: ও, এবং, আর, কিন্তু, অথবা।

যোজক প্রধানত ৫ প্রকার। নিচে উদাহরণসহ সংজ্ঞা দেওয়া হলো:
১. সাধারণ যোজক: যে যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে শুধু যুক্ত করে। যেমন: রহিম করিম বাজারে গেছে।
২. বৈকল্পিক যোজক: যে যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে। যেমন: চা কিংবা কফি খান।
৩. বিরোধমূলক যোজক: যে যোজক দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোগ ঘটিয়ে দ্বিতীয় বাক্যটির দ্বারা প্রথম বাক্যের বক্তব্যের বিরোধ বা সংকোচন বোঝায়। যেমন: সে মেধাবী কিন্তু অলস।
৪. কারণবাচক যোজক: যে যোজক এমন দুটি বাক্যের মধ্যে সংযোগ ঘটায়, যার একটি অন্যটির কারণ। যেমন: আমি যাব না, কারণ আমার শরীর খারাপ।
৫. সাপেক্ষ যোজক: যে যোজকগুলো একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন: যদি তুমি আসো, তবে আমি যাব।

অথবা,

(খ) নিম্নরেখ যে কোনো পাঁচটি শব্দের ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি নির্দেশ কর:

(i) ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী।
(ii) বেশ, তুমি যা বলবে তাই হবে।
(iii) তারা পরস্পর আত্মীয়।
(iv) বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দৃশ্য কতই না সুন্দর।
(v) পারিব না এ কথাটি বলিও না আর।
(vi) ধীরে ধীরে বায়ু বয়।
(vii) দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?
(viii) এত বৃষ্টি হলো তবু গরম কমলো না।

উত্তর (খ): ব্যাকরণিক শব্দশ্রেণি:
(i) ঢাকা ➔ বিশেষ্য
(ii) বেশ ➔ আবেগ শব্দ
(iii) পরস্পর ➔ সর্বনাম
(iv) প্রাকৃতিক ➔ বিশেষণ
(v) বলিও ➔ ক্রিয়া
(vi) ধীরে ধীরে ➔ ক্রিয়াবিশেষণ
(vii) বিনা ➔ অনুসর্গ
(viii) তবু ➔ যোজক

৪। (ক) ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় কর: (যে কোনো পাঁচটি):
লোকান্তর, সপ্তাহ, দম্পতি, কবিগুরু, পলান্ন, হজযাত্রা, ছাগদুগ্ধ, আশীবিষ।

উত্তর (ক): ব্যাসবাক্যসহ সমাস:
লোকান্তর = অন্য লোক (নিত্য সমাস)
সপ্তাহ = সপ্ত (সাত) অহের সমাহার (দ্বিগু সমাস)
দম্পতি = জায়া ও পতি (দ্বন্দ্ব সমাস)
কবিগুরু = কবিদের গুরু (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
পলান্ন = পল (মাংস) মিশ্রিত অন্ন (মধ্যপদলোপী কর্মধারয় সমাস)
হজযাত্রা = হজের নিমিত্তে যাত্রা (চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস)
ছাগদুগ্ধ = ছাগীর দুগ্ধ (ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস)
আশীবিষ = আশীতে (দাঁতে) বিষ যার (বহুব্রীহি সমাস)

অথবা,

(খ) প্রত্যয়ের নামসহ প্রকৃতি ও প্রত্যয় নির্ণয় কর (যে কোনো পাঁচটি):
উক্তি, বাঙালি, পার্থিব, দর্শনীয়, মিতালি, খ্যাতি, ঘাতক, মাধুর্য।

উত্তর (খ): প্রকৃতি ও প্রত্যয়:
উক্তি = √বচ্ + তি (কৃৎ প্রত্যয়)
বাঙালি = বাংলা + ই (তদ্ধিত প্রত্যয়)
পার্থিব = পৃথিবী + ষ্ণ (অ) (তদ্ধিত প্রত্যয়)
দর্শনীয় = √দৃশ্ + অনীয় (কৃৎ প্রত্যয়)
মিতালি = মিতা + আলি (তদ্ধিত প্রত্যয়)
খ্যাতি = √খ্যা + তি (কৃৎ প্রত্যয়)
ঘাতক = √হন্ + ণক (অক) (কৃৎ প্রত্যয়)
মাধুর্য = মধুর + ষ্ণ্য (য) (তদ্ধিত প্রত্যয়)

৫। (ক) বাক্য কাকে বলে? একটি সার্থক বাক্যের গুণাবলি আলোচনা কর।

উত্তর (ক):
বাক্য: যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।

একটি সার্থক বাক্যের ৩টি গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকে:
১. আকাঙ্ক্ষা: বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে ইচ্ছা, তাকে আকাঙ্ক্ষা বলে। যেমন: “আমি ভাত খেয়ে…” বললে আকাঙ্ক্ষা নিবৃত্ত হয় না। “আমি ভাত খেয়ে স্কুলে যাব” বললে বাক্যটি সার্থক হয়।
২. আসত্তি: বাক্যের অর্থসঙ্গতি রক্ষার জন্য পদগুলোকে যথাযথ স্থানে সুশৃঙ্খলভাবে সাজানোর নামই আসত্তি। যেমন: “মাঠে কাল খেলব আমরা ফুটবল”— বাক্যটিতে পদগুলো অবিন্যস্ত। সঠিক আসত্তিসম্পন্ন বাক্য হবে: “কাল আমরা মাঠে ফুটবল খেলব।”
৩. যোগ্যতা: বাক্যের পদগুলোর মধ্যে অর্থগত ও ভাবগত মিলবন্ধনের নাম যোগ্যতা। যেমন: “হাতি আকাশে ওড়ে”— বাক্যটির পদগুলোর অর্থগত মিল থাকলেও ভাবগত যোগ্যতা নেই। সঠিক বাক্য হবে: “পাখি আকাশে ওড়ে।”

অথবা,

(খ) নির্দেশনা অনুসারে বাক্যান্তর কর: (যে কোনো পাঁচটি):

(i) মিথ্যাবাদীকে কেউ পছন্দ করে না। (অস্তিবাচক)
(ii) মানব সেবাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। (নেতিবাচক)
(iii) যিনি জ্ঞানী, তিনিই সত্যিকারের ধনী। (সরল)
(iv) দেশ প্রেমিকরা দেশকে ভালোবাসে। (জটিল)
(v) গুণবান ব্যক্তি বিনয়ী হয়। (যৌগিক)
(vi) ফুল সকলেই ভালোবাসে। (প্রশ্নবাচক)
(vii) কঠিন সময়েও সত্যে অবিচল থাকা উচিত। (অনুজ্ঞাসূচক)
(viii) দৃশ্যটি সুন্দর। (বিস্ময়সূচক)

উত্তর (খ): বাক্যান্তর:
(i) মিথ্যাবাদীকে সবাই অপছন্দ করে।
(ii) মানব সেবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ধর্ম আর নেই।
(iii) জ্ঞানী ব্যক্তিই সত্যিকারের ধনী।
(iv) যারা দেশপ্রেমিক, তারা দেশকে ভালোবাসে।
(v) ব্যক্তি গুণবান এবং বিনয়ী হয়।
(vi) ফুল কে না ভালোবাসে? (বা, ফুল কি কেউ অপছন্দ করে?)
(vii) কঠিন সময়েও সত্যে অবিচল থাকো।
(viii) বাহ, কী সুন্দর দৃশ্যটি!

৬। (ক) যে কোনো পাঁচটি বাক্য শুদ্ধ করে লেখ:

(i) তুমি সম্পূর্ণ নির্দোষী নও。
(ii) আসছে আগামীকাল মাদ্রাসা বন্ধ থাকবে。
(iii) দৈন্যতা সব সময় প্রশংসনীয় নয়。
(iv) দিনে দিনে পরিবেশ দূষণ হচ্চে。
(v) এক পৌষে শীত যায় না。
(vi) চিন্তা করিয়া দেখলাম, তোমার কথাই ঠিক。
(vii) আইনের বিধি লঙ্ঘন হয়েছে。
(viii) উপরোক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।

উত্তর (ক): শুদ্ধ বাক্য:
(i) তুমি সম্পূর্ণ নির্দোষ নও।
(ii) আগামীকাল মাদ্রাসা বন্ধ থাকবে।
(iii) দীনতা (বা দৈন্য) সব সময় প্রশংসনীয় নয়।
(iv) দিনে দিনে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। (বা, পরিবেশ দূষণ ঘটছে)
(v) এক মাঘে শীত যায় না।
(vi) ভেবে দেখলাম, তোমার কথাই ঠিক। (বা, চিন্তা করে দেখলাম, তোমার কথাই ঠিক)
(vii) আইনের বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে। (বা, বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে)
(viii) উপরিউক্ত বাক্যটি শুদ্ধ নয়।

অথবা,

(খ) নিচের অনুচ্ছেদের অপপ্রয়োগগুলো শুদ্ধ করে লেখ:
ছেলেটি ভয়ানক মেধাবী ও বিনয়ী। তার মেধা পরিদর্শন করে সবাই মুগ্ধ। সকল শিক্ষকবৃন্দ মনে করেন, আগামী ভবিষ্যতে সে অসাধারণ সাফল্য বয়ে আনবে যা ইতিপূর্বে এ প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষার্থীর পক্ষে সম্ভব হয়নি।

উত্তর (খ): শুদ্ধ অনুচ্ছেদ:
ছেলেটি অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী। তার মেধা দেখে সবাই মুগ্ধ। সকল শিক্ষক (বা শিক্ষকবৃন্দ) মনে করেন, ভবিষ্যতে সে অসাধারণ সাফল্য বয়ে আনবে যা ইতঃপূর্বে এ প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীর পক্ষে সম্ভব হয়নি।

৭। (ক) যে কোনো দশটি শব্দের পারিভাষিক রূপ লেখ: ১০

Beverage, Intellectual, Skill, Neutral, Agent, Deposit, Oath, Ability, Campus, Expert, Goods, Hood, Claim, Data, Veterinary.

উত্তর (ক): পারিভাষিক রূপ:
Beverage ➔ পানীয়
Intellectual ➔ বুদ্ধিজীবী / বৌদ্ধিক
Skill ➔ দক্ষতা
Neutral ➔ নিরপেক্ষ
Agent ➔ প্রতিনিধি
Deposit ➔ আমানত / জমা
Oath ➔ শপথ
Ability ➔ সামর্থ্য / ক্ষমতা
Campus ➔ শিক্ষাঙ্গন / ক্যাম্পাস
Expert ➔ বিশেষজ্ঞ
Goods ➔ পণ্য / দ্রব্য
Hood ➔ ঢাকনা / ফণা
Claim ➔ দাবি
Data ➔ উপাত্ত
Veterinary ➔ পশুচিকিৎসা

অথবা,

(খ) নিচের অনুচ্ছেদটি বাংলায় অনুবাদ কর:
Modern science is teaching us that no one can live alone. Co-operation between individual and between the families is essential to the life of a man. Greater co-operation between nations is essential for continuing life on earth.

উত্তর (খ): বঙ্গানুবাদ:
আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের শিক্ষা দিচ্ছে যে, কেউ একা বাস করতে পারে না। মানুষের জীবনের জন্য ব্যক্তি ও পরিবারের মধ্যে সহযোগিতা অপরিহার্য। পৃথিবীতে জীবনধারা অব্যাহত রাখার জন্য জাতিগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সহযোগিতা আবশ্যক।

৮। (ক) তোমার মাদ্রাসার বার্ষিক শিক্ষা সফর সম্পর্কে অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর। ১০

উত্তর (ক): মাদ্রাসার বার্ষিক শিক্ষা সফর (দিনলিপি/অভিজ্ঞতা)

তারিখ: ১৫ মার্চ ২০২৬, সোমবার।
সময়: রাত ৯টা।

আজকের দিনটি আমার ছাত্রজীবনের অন্যতম স্মরণীয় একটি দিন। আজ আমাদের মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বার্ষিক শিক্ষা সফরে আমরা কুমিল্লার ময়নামতি ও শালবন বিহারে গিয়েছিলাম। সকাল ৭টায় মাদ্রাসার মাঠ থেকে আমাদের বাস ছাড়ে। শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে বাসে বসে আনন্দ করতে করতে কখন যে গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম, টেরই পেলাম না।

সেখানে পৌঁছে প্রাচীন বাংলার বৌদ্ধ সভ্যতার বিশাল ধ্বংসাবশেষ দেখে আমি বিস্মিত হই। জাদুঘরে সংরক্ষিত অষ্টম শতকের বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, মুদ্রা ও পোড়ামাটির ফলকগুলো বইয়ে পড়া ইতিহাসের জীবন্ত রূপ আমার চোখের সামনে তুলে ধরে। শিক্ষকরা প্রতিটি নিদর্শনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আমাদের বুঝিয়ে বলেন। দুপুরের খাওয়া-দাওয়া ও বন্ধুদের সাথে ছবি তোলার পর বিকেলে আমরা মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হই। এই সফর আমাকে কেবল আনন্দই দেয়নি, বরং ইতিহাস সম্পর্কে অনেক নতুন জ্ঞান দান করেছে।

অথবা,

(খ) “পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজন বৃক্ষরোপণ।” এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রতিবেদন রচনা কর।

উত্তর (খ): সংবাদ প্রতিবেদন

পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজন বৃক্ষরোপণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ২০ মার্চ ২০২৬:
ক্রমবর্ধমান উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সারা বিশ্ব আজ হুমকির মুখে। বাংলাদেশেও এর বিরূপ প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধে সারা দেশে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।

সম্প্রতি এক সেমিনারে পরিবেশ বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেন যে, একটি দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে মোট ভূখণ্ডের অন্তত ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে বর্তমানে বনভূমির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। যথেচ্ছভাবে গাছ কাটার ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ অবস্থায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে প্রতিটি পতিত জমি, বাড়ির আঙিনা ও রাস্তার দু’পাশে গাছ লাগানোর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তবেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।

৯। (ক) পরীক্ষায় ভালো ফলাফল লাভের উপায় সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে তোমার ছোট ভাইকে একটি ই-মেইল রচনা কর। ১০

উত্তর (ক): ই-মেইল রচনা

To: rafik2026@email.com
Subject: পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার পরামর্শ প্রসঙ্গে।

স্নেহের রফিক,
আশা করি ভালো আছিস। গতকাল তোর চিঠি পেলাম। জেনে খুশি হলাম যে সামনেই তোর বার্ষিক পরীক্ষা। তুই পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার উপায় জানতে চেয়েছিস, তাই কিছু পরামর্শ দিচ্ছি।

পরীক্ষায় ভালো করতে হলে প্রথমত একটি রুটিন তৈরি করে নিয়মিত পড়াশোনা করবি। কোনো বিষয় জমিয়ে রাখবি না। পাঠ্যবই পড়ার পাশাপাশি বারবার রিভিশন দেওয়া খুব জরুরি। যেসব বিষয়ে তুই দুর্বল, সেগুলোতে একটু বেশি সময় দিবি এবং প্রয়োজনে শিক্ষকদের সাহায্য নিবি। এছাড়া, মুখস্থ করার চেয়ে বুঝে পড়ার চেষ্টা করবি। মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থেকে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করবি।

আশা করি আমার পরামর্শগুলো মেনে চললে তুই পরীক্ষায় দারুণ ফলাফল করবি। নিজের শরীরের যত্ন নিস। মা-বাবাকে আমার সালাম জানাবি।

ইতি,
তোর বড় ভাই,
শফিক।

অথবা,

(খ) তোমার এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিরসনে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংবাদপত্রে প্রকাশের উপযোগী একটি পত্র লেখ।

উত্তর (খ): সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য পত্র

বরাবর,
সম্পাদক,
দৈনিক ইত্তেফাক,
কারওয়ান বাজার, ঢাকা।

বিষয়: সংযুক্ত পত্রটি আপনার বহুল প্রচারিত পত্রিকায় প্রকাশের আবেদন।

জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকার ‘চিঠিপত্র’ কলামে জনগুরুত্বপূর্ণ নিচের পত্রটি প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে সহায়তা করলে বাধিত হব।

নিবেদক,
ক.খ.গ.।
গ্রাম: রূপনগর, উপজেলা: বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।


রূপনগরে অসহনীয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট: কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ

আমরা চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার রূপনগর গ্রামের অধিবাসী। দীর্ঘ এক মাস ধরে আমাদের এলাকায় চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। দিনে ও রাতে মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। এই অসহনীয় লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

সামনে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, বিদ্যুতের অভাবে তাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা সেচ কাজ করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। গরমে শিশু ও বয়স্করা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। বারবার স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

এমতাবস্থায়, আমরা অবিলম্বে এই এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এলাকাবাসীর পক্ষে,
ক.খ.গ.।

১০। (ক) সারাংশ লেখ: ১০
অনেকের ধারণা এই যে, মহৎব্যক্তি শুধু উচ্চবংশেই জন্মগ্রহণ করিয়া থাকেন; নীচকুলে মহতের জন্ম হয় না। কিন্তু প্রকৃতির দিকে দৃষ্টিপাত করিলেই দেখা যায় যে, মানুষের ধারণা অতিশয় ভ্রান্তায়ক। পদ্মফুল ফুলের রাজা। রূপ-গন্ধে সে অতুলনীয়। কিন্তু ইহার জন্ম হয় পানের অযোগ্য পানিভরা এঁদো পুকুরে। পক্ষান্তরে বটবৃক্ষ বৃক্ষের মধ্যে বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন বটে, অথচ বহু বৃক্ষের ফল আমরা আস্বাদন করি, এত খ্যাতনামা যে বটগাছ তাহার ফল আমাদের অখাদ্য।

উত্তর (ক): সারাংশ:
মহত্ত্ব কেবল উচ্চবংশে জন্মের ওপর নির্ভর করে না; নিচু বংশে জন্মগ্রহণ করেও মানুষ নিজ কর্মগুণে মহৎ হতে পারে। যেমন পঙ্কিল পুকুরে জন্মেও পদ্মফুল সবার কাছে আদরণীয়, তেমনি বংশপরিচয় নয়, বরং মানুষের সৎ গুণাবলি ও মহৎ কর্মই তার প্রকৃত মর্যাদার মাপকাঠি।

অথবা,

(খ) ভাব-সম্প্রসারণ কর:
প্রয়োজনে যে মরিতে প্রস্তুত বাঁচিবার অধিকার তাহারই।

উত্তর (খ): ভাব-সম্প্রসারণ:

মূলভাব: জীবন অত্যন্ত মূল্যবান, কিন্তু সেই জীবনকে সার্থক ও মর্যাদাপূর্ণ করতে হলে প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার মতো সৎসাহস থাকতে হয়। যারা অন্যায়ের প্রতিবাদে মৃত্যুকে ভয় পায় না, প্রকৃত অর্থে পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার কেবল তাদেরই।

সম্প্রসারিত ভাব: পৃথিবীতে প্রতিটি প্রাণীই বাঁচতে চায়। কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকা আর অন্যান্য প্রাণীর বেঁচে থাকার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মানুষকে বাঁচতে হয় আত্মমর্যাদা, অধিকার ও সম্মান নিয়ে। যুগে যুগে স্বাধীনতা, অধিকার ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। যারা কাপুরুষ, তারা মৃত্যুকে ভয় পেয়ে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে। তাদের এই বেঁচে থাকার মধ্যে কোনো সম্মান বা অধিকার থাকে না; তারা পরাধীনতার শৃঙ্খলেই ধুঁকে ধুঁকে মরে। অন্যদিকে, যারা দেশ, জাতি ও সত্যের জন্য অকাতরে প্রাণ বিলিয়ে দিতে পারে, বীরদর্পে অন্যায়ের মোকাবিলা করে, তারাই প্রকৃত সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকে। মৃত্যুর ভয় যাদের টলাতে পারে না, পৃথিবীতে টিকে থাকার এবং স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার প্রকৃতি তাদেরই দিয়ে থাকে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বা বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাঁরা মরেও আমাদের মাঝে অমর হয়ে আছেন।

মন্তব্য: আত্মত্যাগ ছাড়া পৃথিবীতে কোনো অধিকার অর্জিত হয় না। তাই আত্মমর্যাদা নিয়ে বাঁচতে হলে প্রয়োজনে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার মানসিকতা থাকতে হবে।

১১। (ক) ছাত্রজীবনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের সুফল ও কুফল নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে সংলাপ রচনা কর। ১০

উত্তর (ক): সংলাপ রচনা

রাকিব: কিরে শফিক, কেমন আছিস? আজকাল তোকে সব সময় ফেসবুকে অনলাইনে দেখি। পড়াশোনা কেমন চলছে?
শফিক: ভালো রে। হ্যাঁ, একটু বেশিই ফেসবুক ব্যবহার করা হচ্ছে আজকাল। কিন্তু কী করব, এতে তো অনেক দরকারী তথ্যও পাওয়া যায়।
রাকিব: তা ঠিক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অনেক সুফল আছে। এর মাধ্যমে আমরা ঘরে বসেই দেশ-বিদেশের খবর জানতে পারি, বন্ধুদের সাথে সহজেই যোগাযোগ রাখতে পারি এবং পড়াশোনার অনেক নোটস ও শিক্ষামূলক ভিডিও পেতে পারি।
শফিক: একদম ঠিক বলেছিস। করোনাকালে তো এর মাধ্যমেই আমাদের অনেক পড়াশোনা হয়েছে।
রাকিব: কিন্তু এর কুফলগুলোও তো আমাদের ভাবতে হবে। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে এবং চোখেরও ক্ষতি হচ্ছে।
শফিক: হ্যাঁ, আমিও ইদানীং বুঝতে পারছি। মাঝে মাঝে পড়তে বসলেও মন চায় একটু ফেসবুক বা ইউটিউব ঘুরে আসি। এতে মনোযোগ নষ্ট হয়।
রাকিব: এটাই তো সমস্যা! তাই আমাদের উচিত রুটিন করে নির্দিষ্ট সময়ে এগুলো ব্যবহার করা। প্রযুক্তির দাস না হয়ে একে আমাদের প্রয়োজনে কাজে লাগানো উচিত।
শফিক: তুই একদম ঠিক বলেছিস বন্ধু। আজ থেকেই আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের সময় কমিয়ে দেব এবং পড়াশোনায় বেশি মনোযোগ দেব। ধন্যবাদ তোকে।
রাকিব: তোকেও ধন্যবাদ। চল এখন ক্লাসে যাই।

অথবা,

(খ) ‘নগর জীবন’ শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা কর。

উত্তর (খ): খুদে গল্প

নগর জীবন

রফিক সাহেব গ্রাম থেকে শহরে এসেছেন মাত্র ছয় মাস হলো। গ্রামে থাকতে প্রতিদিন সকালে পাখির ডাকে ঘুম ভাঙত, উঠোনে হাঁটাহাঁটি করতেন, প্রতিবেশীদের সাথে কুশল বিনিময় করতেন। কিন্তু শহরের জীবন একদম ভিন্ন। এখানে সবাই যেন ঘড়ির কাঁটার সাথে দৌড়াচ্ছে।

তাঁর ফ্ল্যাটের ঠিক পাশের দরজায় কে থাকেন, তা আজও তিনি জানেন না। একদিন রফিক সাহেবের স্ত্রী হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন। রাত তখন দুটো। গ্রাম হলে এতক্ষণে পুরো পাড়া ভেঙে পড়ত, কিন্তু এখানে রফিক সাহেব একা। তিনি অনেক কষ্টে অ্যাম্বুলেন্স ডেকে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন।

পরদিন সকালে বাসায় ফেরার সময় লিফটে পাশের ফ্ল্যাটের লোকটির সাথে দেখা হলো। লোকটি শুধু একটা যান্ত্রিক হাসি দিয়ে চলে গেল, কেউ জিজ্ঞেসও করল না যে কী হয়েছে। রফিক সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবলেন, এই ইট-পাথরের শহরে মানুষের বাড়িগুলো অনেক বড় হলেও, মনগুলো বোধহয় চার দেয়ালের মাঝেই বন্দি হয়ে গেছে। এখানে যান্ত্রিকতা আছে, কিন্তু প্রাণের স্পন্দন নেই।

১২। যে কোনো একটি বিষয়ে প্রবন্ধ রচনা কর: ২০
(ক) নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ
(খ) পরিবেশ রক্ষায় বনায়নের ভূমিকা
(গ) যুদ্ধ নয় শান্তি
(ঘ) আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও বাংলাদেশ
(ঙ) বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প।

উত্তর ১২: প্রবন্ধ রচনা (যেকোনো একটি)

(ক) নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ

ভূমিকা: মানুষের সাথে পশুর মূল পার্থক্য হলো জ্ঞান ও বিবেক। আর এই বিবেক জাগ্রত হয় নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের মাধ্যমে। যে শিক্ষা মানুষকে ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে শেখায়, অন্যায় থেকে দূরে রেখে ন্যায়ের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে, তাকেই নৈতিক শিক্ষা বলে। একটি সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের চর্চা অপরিহার্য।

নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ কী: নীতি ও আদর্শের সমন্বিত রূপই হলো নৈতিকতা। সততা, ন্যায়পরায়ণতা, সহমর্মিতা, শিষ্টাচার, সত্যবাদিতা এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ—এগুলোই হলো মূল্যবোধের মূল ভিত্তি। যে শিক্ষা এই গুণাবলি অর্জন করতে সাহায্য করে, সেটিই নৈতিক শিক্ষা।

নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব: একটি জাতির মেরুদণ্ড কেবল পুথিগত শিক্ষায় মজবুত হয় না, এর জন্য প্রয়োজন নৈতিক শিক্ষার। নৈতিকতাবিবর্জিত শিক্ষিত মানুষ সমাজের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। দুর্নীতি, চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি অপরাধের মূলে রয়েছে নৈতিক শিক্ষার অভাব। সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মানবিক গুণাবলির বিকাশে নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

মূল্যবোধের অবক্ষয় ও কারণ: বর্তমান সমাজে মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় দেখা যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব। পরিবার হলো নৈতিক শিক্ষার প্রথম পাঠশালা। কিন্তু আজকাল অভিভাবকরা সন্তানদের ভালো মানুষ গড়ার চেয়ে জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় বেশি ব্যস্ত। এছাড়া আকাশ সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব এবং অন্ধ অনুকরণ যুবসমাজের মূল্যবোধ ধ্বংস করছে।

নৈতিকতা গঠনে পরিবারের ভূমিকা: একটি শিশুর চরিত্র গঠনে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। বাবা-মায়ের উচিত শৈশব থেকেই সন্তানকে সততা, বিনয় ও গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার শিক্ষা দেওয়া। পরিবার থেকে পাওয়া এই শিক্ষাই পরবর্তী জীবনে তাকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে।

উপসংহার: “বিদ্যা সহজ, শিক্ষা কঠিন; বিদ্যা আবরণে, শিক্ষা আচরণে।” কেবল বড় বড় ডিগ্রি অর্জন করলেই প্রকৃত মানুষ হওয়া যায় না, যদি না তার মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ থাকে। তাই দেশ ও জাতিকে অবক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে সর্বস্তরে নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে।


[পরীক্ষায় যেকোনো ১টি প্রবন্ধ লিখতে হবে। বাকিগুলোর (খ, গ, ঘ, ঙ) ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা, মূল বিষয়বস্তুর বিস্তারিত বর্ণনা, গুরুত্ব এবং উপসংহার দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রচনা লিখতে হবে।]

Abswer.com — আলিম বাংলা ২য় পত্র (৮ই জুন, ২০২৬) সম্পূর্ণ সমাধান

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now
Tags: