Qawaidul Lughatil Arabiyyah (Code: 201203) – ২০২০ প্রশ্ন ও উত্তর
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২০ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের قواعد اللغة العربية (আরবি ব্যাকরণ) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।
বিঃদ্রঃ পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে মূল প্রশ্নপত্রের আরবি প্রশ্ন ও এর বাংলা অনুবাদসহ প্রতিটি প্রশ্নের ১০০% নির্ভুল উত্তর বিস্তারিতভাবে নিচে দেওয়া হলো।
۱- اجب عن ثلاثة من الأسئلة التالية: [যেকোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও]
[ক. كلمة এর আভিধানিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা দাও। ইহা কত প্রকার? উদাহরণসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
الكلمة (কালিমাহ) এর সংজ্ঞা:
আভিধানিক অর্থ: الكلمة শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো শব্দ, কথা, বাক্য, ভাষণ ইত্যাদি।
পারিভাষিক অর্থ: নাহু শাস্ত্রবিদদের মতে- اللفظ الموضوع لمعنى مفرد (একক অর্থবোধক শব্দকে কালিমাহ বলে)। অর্থাৎ মানুষের মুখ থেকে উচ্চারিত অর্থবোধক একক শব্দই হলো কালিমাহ। যেমন- رَجُلٌ (একজন মানুষ), ضَرَبَ (সে প্রহার করল)।
কালিমাহর প্রকারভেদ:
কালিমাহ প্রধানত ৩ প্রকার। যথা:
১. الاسم (বিশেষ্য): যে শব্দ অন্য শব্দের সাহায্য ছাড়া নিজের অর্থ নিজেই প্রকাশ করতে পারে এবং যার মধ্যে তিন কালের (অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ) কোনো কাল পাওয়া যায় না। যেমন- زَيْدٌ (যায়েদ), مَكَّةُ (মক্কা), قَلَمٌ (কলম)।
২. الفعل (ক্রিয়া): যে শব্দ নিজের অর্থ নিজেই প্রকাশ করতে পারে এবং যার মধ্যে তিন কালের কোনো একটি কাল পাওয়া যায়। যেমন- كَتَبَ (সে লিখেছে – অতীতকাল), يَكْتُبُ (সে লিখছে/লিখবে – বর্তমান/ভবিষ্যৎ কাল)।
৩. الحرف (অব্যয়): যে শব্দ অন্য কোনো ইসিম বা ফি’লের সাথে মিলিত না হয়ে নিজের অর্থ স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারে না। যেমন- مِنْ (হতে), إِلَى (দিকে), فِى (মধ্যে)।
[খ. الجملة এর সংজ্ঞা দাও। অতঃপর উদাহরণসহ الجملة এর প্রকারভেদ বর্ণনা কর।]
الجملة (জুমলাহ) এর সংজ্ঞা:
الجملة أو الكلام هو اللفظ المركب المفيد بالوضع (জুমলাহ বা কালাম হলো এমন একাধিক শব্দের সমষ্টি, যা শ্রোতাকে একটি পরিপূর্ণ অর্থ প্রদান করে)। অর্থাৎ, বক্তা কথা বলে থামলে শ্রোতা যখন একটি পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য বা অর্থ বুঝতে পারে, তখন তাকে জুমলাহ বা বাক্য বলে। যেমন- زَيْدٌ عَالِمٌ (যায়েদ জ্ঞানী)।
জুমলাহ এর প্রকারভেদ:
গঠনের দিক থেকে জুমলাহ প্রধানত ২ প্রকার। যথা:
১. জুমলাহ ইসমিয়্যাহ (الجملة الاسمية): যে জুমলাহ বা বাক্যের প্রথম অংশ ইসিম (বিশেষ্য) হয়, তাকে জুমলাহ ইসমিয়্যাহ বলে। এর প্রথম অংশকে মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং দ্বিতীয় অংশকে খবর (বিধেয়) বলে। যেমন- اَللهُ خَالِقٌ (আল্লাহ সৃষ্টিকর্তা)। এখানে ‘আল্লাহু’ মুবতাদা এবং ‘খালিকুন’ খবর।
২. জুমলাহ ফি’লিয়্যাহ (الجملة الفعلية): যে জুমলাহ বা বাক্যের প্রথম অংশ ফি’ল (ক্রিয়া) হয়, তাকে জুমলাহ ফি’লিয়্যাহ বলে। এটি সাধারণত ফি’ল ও ফায়েল দ্বারা গঠিত হয়। যেমন- خَلَقَ اللهُ (আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন)। এখানে ‘খালাকা’ ফি’ল এবং ‘আল্লাহু’ ফায়েল।
[গ. الاسم المعرب এর সংজ্ঞা দাও। ইহা কত প্রকার? প্রত্যেক প্রকারের বিস্তারিত উদাহরণসহ বর্ণনা কর।]
الاسم المعرب (ইসমে মু’রাব) এর সংজ্ঞা:
ইসমে মু’রাব হলো ওই ইসিম, যা অন্য শব্দের সাথে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয় এবং যার শেষাক্ষরের অবস্থা বা ই’রাব বাক্যে ব্যবহৃত আমেল (عامل) পরিবর্তনের কারণে পরিবর্তিত হয়। একে ‘ইসমে মুমাক্কিন’ও বলা হয়। যেমন-
جَاءَ زَيْدٌ (যায়েদ আসল – রফআ’ অবস্থা)
رَأَيْتُ زَيْدًا (আমি যায়েদকে দেখলাম – নসব অবস্থা)
مَرَرْتُ بِزَيْدٍ (আমি যায়েদের পাশ দিয়ে গেলাম – যার অবস্থা)। এখানে عامل পরিবর্তনের কারণে زيد শব্দের শেষের হরকতে পেশ, যবর ও যের হয়েছে।
ইসমে মু’রাব এর প্রকারভেদ:
ই’রাব বা পরিবর্তন গ্রহণের দিক থেকে ইসমে মু’রাব ২ প্রকার। যথা:
১. মুনসারিফ (المنصرف): যে ইসমে মু’রাব এর মধ্যে গায়রে মুনসারিফ হওয়ার ৯টি কারণের (اسباب منع الصرف) কোনো দুটি অথবা দুটির স্থলাভিষিক্ত একটি কারণ পাওয়া যায় না, তাকে মুনসারিফ বলে। এটি কাসরাহ (যের) এবং তানউইন গ্রহণ করে। যেমন- مُحَمَّدٌ, رَجُلٌ।
২. গায়রে মুনসারিফ (غير المنصرف): যে ইসমে মু’রাব এর মধ্যে গায়রে মুনসারিফ হওয়ার ৯টি কারণের দুটি অথবা দুটির স্থলাভিষিক্ত একটি কারণ পাওয়া যায়। এটি কাসরাহ (যের) এবং তানউইন গ্রহণ করে না, বরং যেরের জায়গায় যবর হয়। যেমন- أَحْمَدُ (احمدٍ বা احمدٌ হবে না), عَائِشَةُ, عُمَرُ।
[ঘ. الأسماء المرفوعات কী কী? এগুলো কত প্রকার? উদাহরণসহ লেখ।]
الأسماء المرفوعات (মারফুআত ইসিমসমূহ):
যে সকল ইসিমের ওপর ব্যাকরণগত নিয়মে ই’রাব হিসেবে রফআ’ (পেশ বা পেশের স্থলাভিষিক্ত কিছু যেমন- ওয়াও, আলিফ) প্রদান করা হয়, তাদেরকে আসমায়ে মারফুআত বলে।
মারফুআত এর প্রকারভেদ:
মারফুআত মোট ৮ প্রকার। যথা:
১. الفاعل (ফায়েল বা কর্তা): যেমন- ضَرَبَ زَيْدٌ (যায়েদ প্রহার করল)। এখানে زَيْدٌ ফায়েল।
২. نائب الفاعل (নায়েবে ফায়েল বা কর্মবাচ্যের কর্তা): যেমন- ضُرِبَ زَيْدٌ (যায়েদকে প্রহার করা হলো)।
৩. المبتدأ (মুবতাদা বা উদ্দেশ্য): যেমন- زَيْدٌ قَائِمٌ (যায়েদ দণ্ডায়মান)। এখানে زَيْدٌ মুবতাদা।
৪. الخبر (খবর বা বিধেয়): যেমন- زَيْدٌ قَائِمٌ। এখানে قَائِمٌ খবর।
৫. اسم كان واخواتها (কানা ও তার সমগোত্রীয় ফি’লের ইসিম): যেমন- كَانَ زَيْدٌ قَائِمًا। এখানে زَيْدٌ ইসিম।
৬. خبر ان واخواتها (ইন্না ও তার সমগোত্রীয় হরফের খবর): যেমন- إِنَّ زَيْدًا قَائِمٌ। এখানে قَائِمٌ খবর।
৭. خبر لا النافية للجنس (‘লা’ নাফিয়ে জিনস-এর খবর): যেমন- لَا رَجُلَ قَائِمٌ (কোনো পুরুষ দণ্ডায়মান নয়)।
۸. اسم ما ولا المشبهتين بليس (মা ও লা মুসাবাহা বি-লাইসা এর ইসিম): যেমন- مَا زَيْدٌ قَائِمًا (যায়েদ দণ্ডায়মান নয়)।
[ঙ. الحال এর সংজ্ঞা দাও। حال ও ذو الحال এর হুকুম কী? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
الحال (হাল) এর সংজ্ঞা:
الحال هو اسم منصوب نكرة يبين هيئة الفاعل أو المفعول به أو هما معا (হাল হলো এমন মানসুব বা যবর বিশিষ্ট নাকেরা ইসিম, যা ফায়েল (কর্তা) অথবা মাফউলে বিহি (কর্ম) অথবা উভয়ের অবস্থা বর্ণনা করে)। আর যার অবস্থা বর্ণনা করা হয়, তাকে যুল-হাল (ذوالحال) বলে। যেমন- جَاءَ زَيْدٌ رَاكِبًا (যায়েদ আরোহী অবস্থায় এল)। এখানে زَيْدٌ হলো যুল-হাল এবং رَاكِبًا হলো হাল।
হাল ও যুল-হাল এর হুকুম:
১. হালের হুকুম: হাল সবসময় মানসুব (যবর বিশিষ্ট) হবে এবং সাধারণত নাকেরা (অনির্দিষ্ট) হবে। এটি বাক্যের মূল অংশ (উমদাহ) নয়, বরং অতিরিক্ত অংশ (ফাযলাহ)।
২. যুল-হাল এর হুকুম: যুল-হাল সাধারণত মা’রিফা (নির্দিষ্ট) হয়। তবে যদি যুল-হাল কোনো কারণে নাকেরা (অনির্দিষ্ট) হয়, তবে হালকে যুল-হালের পূর্বে নিয়ে আসা ওয়াজিব। যুল-হাল বাক্যের ফায়েল, মাফউল বা মুবতাদা হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে এবং এর ই’রাব (হরকত) আমেল অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
۲- اجب عن اثنين من الأسئلة التالية: [যেকোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও]
[ক. علم الصرف এর সংজ্ঞা দাও। অতঃপর এর আলোচ্য বিষয় ও উদ্দেশ্য বর্ণনা কর।]
علم الصرف (ইলমুস সরফ) এর সংজ্ঞা:
الصرف لغة التغيير والتحويل (সরফ এর আভিধানিক অর্থ হলো পরিবর্তন করা, রূপান্তর করা)। পারিভাষিক অর্থে, علم الصرف هو أصول تعرف بها أحوال أبنية الكلمة التي ليست بإعراب (ইলমুস সরফ হলো এমন নিয়মনীতির সমষ্টি, যার মাধ্যমে কালিমাহ বা শব্দের মূল গঠনের পরিবর্তনগুলো জানা যায়, যা ই’রাব বা বাক্যের শেষের হরকতের সাথে সম্পর্কিত নয়)। অর্থাৎ এক শব্দ থেকে অন্য শব্দ গঠনের নিয়মাবলিকে ইলমুস সরফ বা রূপতত্ত্ব বলে।
আলোচ্য বিষয় (موضوعه):
ইলমুস সরফের প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো ‘ইসমে মুমাক্কিন’ (পরিবর্তনশীল বিশেষ্য) এবং ‘ফি’লে মুতাসাররিফ’ (রূপান্তরশীল ক্রিয়া)। অব্যয় (হরফ) এবং অপরিবর্তনশীল ইসিম ও ফি’ল (যেমন- মাবনী) নিয়ে এই শাস্ত্র আলোচনা করে না।
উদ্দেশ্য (غرضه):
এই শাস্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো, আরবি শব্দসমূহকে ভুল উচ্চারণ ও ভুল গঠন থেকে রক্ষা করা এবং কাঙ্ক্ষিত অর্থ প্রকাশের জন্য একটি মূল ধাতু (মাসদার) থেকে বিভিন্ন রূপ বা সীগাহ তৈরি করতে শেখা।
[খ. الاسم المشتق এর সংজ্ঞা দাও। অতঃপর الأسماء المشتقة গুলো উদাহরণসহ লেখ।]
الاسم المشتق (ইসমে মুশতাক) এর সংজ্ঞা:
মুশতাক শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘নিঃসৃত’ বা ‘উৎপন্ন’। পারিভাষিক অর্থে, যে ইসিম অন্য কোনো শব্দ (মূলত মাসদার) থেকে গঠিত বা নির্গত হয় এবং যার অর্থের মধ্যে মূল শব্দের অর্থের সাথে মিল থাকে, তাকে ইসমে মুশতাক বলে। যেমন- نَصْرٌ (মাসদার) থেকে نَاصِرٌ (সাহায্যকারী)।
الاسماء المشتقة (নিঃসৃত ইসিমসমূহ) মোট ৭টি। যথা:
১. ইসমে ফায়েল (اسم الفاعل): যেমন- نَاصِرٌ (সাহায্যকারী)।
২. ইসমে মাফউল (اسم المفعول): যেমন- مَنْصُوْرٌ (সাহায্যপ্রাপ্ত)।
৩. সিফাতে মুশাব্বাহ (الصفة المشبهة): যেমন- حَسَنٌ (সুন্দর)।
৪. ইসমে তাফযীল (اسم التفضيل): যেমন- أَكْبَرُ (সবচেয়ে বড়)।
৫. ইসমে যরফ (اسم الظرف): যেমন- مَسْجِدٌ (সিজদার স্থান/সময়)।
৬. ইসমে আলাহ (اسم الآلة): যেমন- مِفْتَاحٌ (খোলার যন্ত্র/চাবি)।
৭. ইসমে মুবালালাহ (اسم المبالغة): যেমন- غَفَّارٌ (অধিক ক্ষমাশীল)।
[গ. الإعلال এর সংজ্ঞা দাও। ইহা কত প্রকার? বিস্তারিত বর্ণনা কর।]
الإعلال (ই’লাল/তা’লীল) এর সংজ্ঞা:
ই’লাল শব্দের আভিধানিক অর্থ পরিবর্তন করা বা রোগাক্রান্ত করা। ইলমুস সরফের পরিভাষায়, শব্দের মধ্যে হরফে ইল্লত (ا، و، ي – আলিফ, ওয়াও, ইয়া) থাকলে উচ্চারণের সুবিধার্থে সেগুলো পরিবর্তন, বিলোপ বা হরকত স্থানান্তরের মাধ্যমে যে রূপান্তর করা হয়, তাকে ই’লাল বা তা’লীল (التعليل) বলে। যেমন- قَوَلَ থেকে قَالَ হওয়া।
প্রকারভেদ: ই’লাল প্রধানত ৩ প্রকার। যথা:
১. الإعلال بالقلب (পরিবর্তনের মাধ্যমে ই’লাল): একটি হরফে ইল্লতকে অন্য হরফে ইল্লত দ্বারা পরিবর্তন করা। যেমন- بَيَعَ থেকে بَاعَ (এখানে ইয়া-কে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে)।
২. الإعلال بالنقل/التسكين (হরকত স্থানান্তরের মাধ্যমে ই’লাল): হরফে ইল্লতের হরকতকে তার পূর্ববর্তী সাকিন হরফে স্থানান্তর করা। যেমন- يَقْوُلُ থেকে يَقُوْلُ (ওয়াও এর পেশ ক্বাফ-কে দেওয়া হয়েছে)।
۳. الإعلال بالحذف (বিলোপের মাধ্যমে ই’লাল): শব্দের মধ্য থেকে হরফে ইল্লতকে সম্পূর্ণ বিলোপ বা বাদ দেওয়া। যেমন- يَعِدُ (মূলত ছিল يَوْعِدُ, এখানে ওয়াও বিলোপ হয়েছে)।
[ঘ. الإبدال কী? الإبدال এর স্থানসমূহ উদাহরণসহ লেখ।]
الإبدال (ইবদাল) এর সংজ্ঞা:
ইবদাল অর্থ পরিবর্তন বা বিনিময় করা। পরিভাষায়, শব্দের মধ্যে একটি সহিহ হরফ (হরফে ইল্লত ব্যতীত অন্য হরফ) এর স্থানে অন্য একটি হরফ বসিয়ে পরিবর্তন করাকে ইবদাল বলে।
مواضع الإبدال (ইবদালের স্থানসমূহ):
বাবে ইফতিআলের (باب الافتعال) ক্ষেত্রে ইবদালের প্রধান ৩টি স্থান রয়েছে:
১. যদি বাবে ইফতিআলের ‘ফা’ কালিমা (প্রথম মূল হরফ) ص، ض، ط، ظ এর কোনো একটি হয়, তবে ইফতিআলের ‘তা’ (ت) কে ‘ত্বা’ (ط) দ্বারা পরিবর্তন (ইবদাল) করা ওয়াজিব। যেমন- صَبَرَ থেকে اِصْتَبَرَ না হয়ে اِصْطَبَرَ হবে। ضَرَبَ থেকে اِضْطَرَبَ হবে।
২. যদি ‘ফা’ কালিমা د، ذ، ز এর কোনো একটি হয়, তবে ইফতিআলের ‘তা’ (ت) কে ‘দাল’ (د) দ্বারা পরিবর্তন করা ওয়াজিব। যেমন- زَحَمَ থেকে اِزْتَحَمَ না হয়ে اِزْدَحَمَ হবে।
৩. যদি ‘ফা’ কালিমা و، ي، ث হয়, তবে উক্ত হরফকে ‘তা’ (ت) দ্বারা পরিবর্তন করে ইফতিআলের ‘তা’-এর সাথে ইদগাম করা হয়। যেমন- وَقَيَ থেকে اِوْتَقَى না হয়ে اِتَّقَى হবে।
الترجمة والمقالة والرسالة [অনুবাদ, প্রবন্ধ ও পত্রলিখন]
[৩. নিচের অনুচ্ছেদটি বিশুদ্ধ আরবিতে অনুবাদ কর:]
“বাংলাদেশ একটি স্বাধীন মুসলিম দেশ। বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি। এ দেশকে আমরা অনেক ভালবাসি। এ দেশের জনগণের মাতৃভাষা বাংলা। ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার জন্য অনেকে জীবন দান করেছেন। একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এটা বাংলা ভাষার জন্য বিরাট গৌরব।”
আরবি অনুবাদ:
أو
اكتب طلبا إلى مدير المدرسة تطلب منه الدراسة مجانا-
[৪. পরীক্ষায় তোমার সফলতার খবর জানিয়ে পিতার নিকট একটি পত্র লেখ। অথবা, বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ চেয়ে মাদরাসার অধ্যক্ষের নিকট একটি আবেদনপত্র লেখ।]
পরীক্ষায় সফলতার খবর জানিয়ে পিতার নিকট পত্র:
المكان: دكا، بنغلاديش
التاريخ: ۱۲ يونيو ۲۰۲٦م
والدي العزيز،
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
أرجو أن تكون بصحة وعافية. أكتب إليك هذه الرسالة لأبشرك بخبر سعيد. لقد ظهرت نتيجة امتحاني السنوي اليوم، وبفضل الله تعالى ثم بدعائكم الصالح لقد نجحت في الامتحان بتفوق وحصلت على الدرجة الممتازة. أنا سعيد جدا بهذا النجاح.
أرجو أن تستمر في الدعاء لي بالتوفيق في مستقبلي لمواصلة دراستي بجد واجتهاد.
أبلغ سلامي الحار إلى والدتي العزيزة وإخوتي.
ابنك المطيع،
[اسمك/عبد الله]
বিনা বেতনে অধ্যয়নের জন্য আবেদনপত্র (বিকল্প উত্তর):
إلى
فضيلة مدير المدرسة المحترم
مدرسة دار العلوم، دكا.
الموضوع: طلب للدراسة مجانا.
سيدي المحترم،
بكل احترام وتقدير، أود أن أحيط سيادتكم علما بأنني طالب في الصف الفاضل في مدرستكم الموقرة. أبي فلاح فقير ودخله محدود جدا، وله أسرة كبيرة يعولها. لذلك، فإنه لا يستطيع تحمل نفقات دراستي ورسوم المدرسة.
ولكني طالب مجتهد وأرغب بشدة في مواصلة تعليمي الديني وحفظ القرآن الكريم.
لذا، أرجو من سيادتكم التكرم بالموافقة على إعفائي من الرسوم الدراسية والسماح لي بالدراسة مجانا. سأكون ممتنا لكم طوال حياتي.
طالبكم المطيع،
[اسمك]
الصف: الفاضل (السنة الثانية)
(أ) حب الوطن
(ب) واجبات الطلاب
(ج) الجامعة الإسلامية العربية
[৫. নিচের যেকোনো একটি বিষয়ের ওপর আরবিতে প্রবন্ধ লেখ: (ক) স্বদেশপ্রেম (খ) ছাত্রদের কর্তব্য (গ) ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়]
(ক) حب الوطن (স্বদেশপ্রেম) এর ওপর প্রবন্ধ:
حُبُّ الْوَطَنِ
حب الوطن غريزة فطرية أودعها الله في قلب كل إنسان. يقال في مأثور القول: “حب الوطن من الإيمان”. الوطن هو المكان الذي ولدنا فيه ونشأنا على أرضه، وترعرعنا تحت سمائه، وأكلنا من خيراته وثماره، وشربنا من مياهه العذبة. نحن نحب وطننا من صميم قلوبنا كما نحب أمهاتنا، بل هو الملاذ الآمن الذي نشعر فيه بالانتماء والطمأنينة.
لقد من الله علينا بوطن جميل ومستقل وهو بنغلاديش. يتميز وطننا بمناظره الطبيعية الخلابة، وأنهاره الكثيرة، وثرواته الزراعية المتنوعة. تاريخ بلادنا مليء بالتضحيات والبطولات، فقد ضحى آباؤنا وأجدادنا بدمائهم وأرواحهم من أجل استقلاله وحريته في عام 1971م. لذا فإن حب هذا الوطن يجري في عروقنا.
من واجبنا كمواطنين صالحين أن نحافظ على حرية وطننا ونعمل من أجل تقدمه وازدهاره في جميع المجالات؛ العلمية والاقتصادية والاجتماعية والثقافية. يجب علينا أن نتحد ونتعاون في بناء مجتمع قوي متماسك. كما يجب أن ندافع عن وطننا بكل ما نملك من قوة وأموال وأنفس ضد أي عدوان خارجي أو فساد داخلي.
حب الوطن لا يعني فقط التغني باسمه بالشعارات، بل هو العمل المخلص الدؤوب والتضحية من أجله، واحترام قوانينه، والحفاظ على ممتلكاته العامة. نسأل الله تعالى أن يحفظ وطننا بنغلاديش ويديم عليه نعمة الأمن والأمان والاستقرار والازدهار إلى يوم القيامة.
(খ) واجبات الطلاب (ছাত্রদের কর্তব্য) এর ওপর প্রবন্ধ:
وَاجِبَاتُ الطُّلَّابِ
الطلاب هم عماد الأمة وأمل المستقبل، وبناة الغد المشرق. ولذلك تقع على عاتقهم مسؤوليات كبيرة وواجبات عظيمة تجاه أنفسهم ومجتمعهم ودينهم ووطنهم. فترة الشباب والطلب هي أثمن فترات العمر، فيجب استغلالها فيما ينفع.
أولاً وقبل كل شيء، واجب الطالب الأساسي هو الاجتهاد في طلب العلم. يجب عليه أن يكرس وقته وجهده لاكتساب المعرفة النافعة، وأن يحضر دروسه بانتظام، ويستمع إلى أساتذته بانتباه واحترام. فالعلم هو السلاح الذي يواجه به تحديات العصر، وهو النور الذي يضيء دروب الحياة. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: “طلب العلم فريضة على كل مسلم”.
ثانياً، من واجبات الطالب التحلي بالأخلاق الكريمة والآداب الحسنة. يجب أن يكون صادقاً في أقواله وأفعاله، أميناً، متواضعاً، ومحترماً لوالديه ومعلميه وزملائه. فالطالب الذي يجمع بين العلم والخلق هو الذي يفيد مجتمعه حقاً.
ثالثاً، يجب على الطالب أن يهتم بصحته البدنية والعقلية، وأن يبتعد عن رفقاء السوء والعادات الضارة التي تضيع الوقت والجهد، مثل الإفراط في استخدام الأجهزة الإلكترونية دون فائدة.
أخيراً، يجب على الطلاب أن يدركوا أن ما يتعلمونه اليوم هو من أجل خدمة مجتمعهم ووطنهم غداً. فعليهم أن يستعدوا لتحمل المسؤولية في مختلف المجالات، وأن يكونوا مواطنين صالحين يسهمون في نهضة بلادهم ورفعتها.
(গ) الجامعة الإسلامية العربية (ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়) এর ওপর প্রবন্ধ:
اَلْجَامِعَةُ الْإِسْلَامِيَّةُ الْعَرَبِيَّةُ
الجامعة الإسلامية العربية (Islamic Arabic University) هي مؤسسة تعليمية عليا ذات أهمية بالغة في بنغلاديش. تأسست هذه الجامعة المباركة في عام 2013م بقرار من حكومة بنغلاديش، لتكون المركز الرئيسي لتطوير وتحديث وتنظيم التعليم الإسلامي العالي (المدارس العالية) في البلاد.
تلعب هذه الجامعة دوراً قيادياً في توحيد مناهج التعليم في المدارس الإسلامية (الفاضل والكامل) على مستوى الدولة، وضمان جودتها وتوافقها مع متطلبات العصر الحديث مع الحفاظ على الأصالة الإسلامية. من خلال هذه الجامعة، يتم التركيز على نشر تعليم القرآن الكريم، والسنة النبوية الشريفة، والفقه الإسلامي، واللغة العربية، إلى جانب العلوم الحديثة والتكنولوجيا.
تهدف الجامعة الإسلامية العربية إلى تخريج علماء دين مؤهلين، ومثقفين واعين، قادرين على تقديم التوجيه الصحيح للمجتمع، ومواجهة التحديات الفكرية والثقافية المعاصرة. كما تسعى الجامعة إلى تعزيز البحث العلمي في مختلف فروع المعرفة الإسلامية، ونشر قيم التسامح والوسطية والسلام التي يدعو إليها الإسلام.
إن إنشاء هذه الجامعة كان حلماً طويلاً لعلماء بنغلاديش وطلاب المدارس الإسلامية. واليوم، بفضل الله، تعمل الجامعة جاهدة للارتقاء بمستوى التعليم الديني، وبناء جيل جديد من القادة والعلماء الذين يخدمون الدين والوطن بكل إخلاص وتفانٍ.






