উলূমুল কুরআন প্রশ্ন ও সমাধান – কামিল মাস্টার্স পরীক্ষা ২০২৪ | Ulumul Quran (501105) QnA – Kamil Masters Exam 2024

Join Our Telegram Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
admin
UlumulQuran501105QnA
Join Our WhatsApp Channel
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Join Now
📋 সূচিপত্র (Table of Contents)

পরীক্ষা কোড: ৫ ০ ১        প্রশ্নপত্র কোড: ৯ ০ ৫

اختبار الكامل الماجستير (مدة سنة واحدة)، لعام ٢٠٢٤

[কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২৪]

القرآن والدراسات الاسلامية

[আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ]

علوم القرآن

[উলূমুল কুরআন]

বিষয় কোড: ৫ ০ ১ ১ ০ ৫

الوقت – ٤ ساعات

[সময় – ৪ ঘণ্টা]

الدرجة الكاملة – ١٠٠

[পূর্ণমান – ১০০]

[الملاحظة: أجب عن أربعة من مجموعة (أ) وعن أربعة من مجموعة (ب).]

مجموعة (أ)

الدرجة – ٢٠×٤ = ٨٠

١. ما المقصود بأسباب النزول؟ وما أهمية معرفتها؟ هل العبرة بعموم اللفظ أم بخصوص السبب؟ بين مفصلا مدللا.

[أسباب النزول দ্বারা কী বোঝায়? আসবাবুন নুযূল জানা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? কুরআনের শব্দের সাধারণ অর্থ বিবেচ্য, নাকি বিশেষ سبب النزول বিবেচ্য? দলিলসহ বিস্তারিত বর্ণনা কর।]

উত্তর:
আসবাবুন নুযূল (أسباب النزول): ‘আসবাব’ শব্দটি ‘সবব’ এর বহুবচন, যার অর্থ কারণ বা প্রেক্ষাপট। পরিভাষায়, পবিত্র কুরআনের কোনো আয়াত বা সূরা যে বিশেষ ঘটনা বা প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে অবতীর্ণ হয়েছে, তাকে আসবাবুন নুযূল বলা হয়।

আসবাবুন নুযূল জানার গুরুত্ব: তাফসির শাস্ত্রের জন্য আসবাবুন নুযূল জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে আয়াতের সঠিক মর্মার্থ অনুধাবন করা যায়, আয়াতের হুকুম বা বিধানের অন্তর্নিহিত রহস্য জানা যায়, এবং কোনো আয়াতের অর্থ বুঝতে গিয়ে সৃষ্ট সন্দেহ বা অস্পষ্টতা দূর হয়।

শব্দের সাধারণ অর্থ বিবেচ্য নাকি বিশেষ কারণ বিবেচ্য (هل العبرة بعموم اللفظ أم بخصوص السبب): জমহুর বা অধিকাংশ উসূলবিদদের মতে, “الْعِبْرَةُ بِعُمُومِ اللَّفْظِ لا بِخُصُوصِ السَّبَبِ” অর্থাৎ, হুকুমের ক্ষেত্রে শব্দের ব্যাপকতাই ধর্তব্য, প্রেক্ষাপটের নির্দিষ্টতা নয়।
দলিল: সূরা নূরে বর্ণিত ‘লিআন’ এর আয়াতটি নির্দিষ্টভাবে সাহাবী হিলাল ইবনে উমাইয়্যার (রা.) ঘটনার প্রেক্ষিতে অবতীর্ণ হলেও, এর বিধান কিয়ামত পর্যন্ত সকল মুসলিমের জন্য প্রযোজ্য। সুতরাং প্রমাণিত হয় যে, নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে আয়াত অবতীর্ণ হলেও এর শব্দ ও বিধানের ব্যাপকতাই গ্রহণযোগ্য।

٢. ما المحكم والمتشابه؟ وما خصائصهما؟ وهل يمكن أن تكون الآية محكمة من وجه ومتشابهة من وجه آخر؟ بين بالإيضاح.

[মুহকাম ও মুতাশাবিহ কাকে বলে? এগুলোর বৈশিষ্ট্য কী? একটি আয়াত কি এক দিক থেকে মুহকাম এবং অন্য দিক থেকে মুতাশাবিহ হতে পারে? বিশদভাবে বর্ণনা কর।]

উত্তর:
মুহকাম ও মুতাশাবিহ: ‘মুহকাম’ (المحكم) বলতে বোঝায় ওই সকল আয়াত যার অর্থ সম্পূর্ণ সুস্পষ্ট এবং তা বুঝতে অন্য কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে ‘মুতাশাবিহ’ (المتشابه) হলো ওই সকল আয়াত যার একাধিক অর্থ হতে পারে বা যার প্রকৃত অর্থ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নিশ্চিতভাবে জানেন না (যেমন আল্লাহর গুণাবলি সম্পর্কিত আয়াত)।

বৈশিষ্ট্য: মুহকাম আয়াতগুলো হলো দীনের মূল ভিত্তি (উম্মুল কিতাব), এর ওপর আমল করা বাধ্যতামূলক এবং এগুলোতে কোনো অস্পষ্টতা থাকে না। মুতাশাবিহ আয়াতগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো এগুলোতে রূপক অর্থ বা গূঢ় রহস্য লুকিয়ে থাকে এবং এর প্রকৃত রূপ শুধু আল্লাহই জানেন; মুমিনরা এর প্রতি কেবল ঈমান আনে।

একটি আয়াত কি উভয় দিক থেকে হতে পারে: হ্যাঁ, একটি আয়াত এক দিক থেকে মুহকাম এবং অন্য দিক থেকে মুতাশাবিহ হতে পারে। একে আপেক্ষিক বা ‘ইযাফি’ বলা হয়। যেমন কোনো আয়াতের সাধারণ বিধান হয়তো সবার কাছে স্পষ্ট (তাই সেটি মুহকাম), কিন্তু এর প্রয়োগের নির্দিষ্ট সীমা বা এর ভেতরের গূঢ় রহস্য সাধারণ মানুষের কাছে অস্পষ্ট হতে পারে (যা মুতাশাবিহ)। যেমন সালাত কায়েমের নির্দেশ মুহকাম, কিন্তু এর অভ্যন্তরীণ রূপ বা পদ্ধতি কুরআনে বিস্তারিত না থাকায় তা মুতাশাবিহ হতে পারে যতক্ষণ না হাদিস দ্বারা স্পষ্ট হয়।

٣. ما المقصود بالناسخ والمنسوخ؟ وما أنواع النسخ؟ اذكر مثالا مشهورا للناسخ والمنسوخ مع الشرح.

[নাসিখ ও মানসুখ দ্বারা কী বোঝায়? নাসখের প্রকারগুলো কী? নাসিখ ও মানসুখের একটি প্রসিদ্ধ উদাহরণ ব্যাখ্যাসহ উল্লেখ কর।]

উত্তর:
নাসিখ ও মানসুখ: ‘নাসখ’ অর্থ রহিত করা বা পরিবর্তন করা। শরীয়তের পরিভাষায়, পূর্ববর্তী কোনো বিধানকে পরবর্তীতে অবতীর্ণ কোনো প্রমাণ বা বিধান দ্বারা রহিত করাকে নাসখ বলে। রহিতকারী নতুন বিধানকে ‘নাসিখ’ এবং রহিতকৃত পুরোনো বিধানকে ‘মানসুখ’ বলা হয়।

নাসখের প্রকারভেদ: নাসখ প্রধানত তিন প্রকার:
১. তেলাওয়াত ও হুকুম উভয়ই রহিত হওয়া।
২. হুকুম রহিত হওয়া কিন্তু তেলাওয়াত অবশিষ্ট থাকা (কুরআনে এর উদাহরণই বেশি)।
৩. তেলাওয়াত রহিত হওয়া কিন্তু হুকুম অবশিষ্ট থাকা।

প্রসিদ্ধ উদাহরণ: বিধবা নারীর ইদ্দত পালনের বিধান। প্রথমে সূরা বাকারার ২৪০ নং আয়াতে বিধান ছিল যে, স্বামী মারা গেলে স্ত্রী এক বছর পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে এবং তাকে ঘর থেকে বের করা যাবে না (এটি মানসুখ)। পরবর্তীতে সূরা বাকারার ২৩৪ নং আয়াত দ্বারা এই বিধান রহিত করা হয়, যেখানে বিধবার ইদ্দত চার মাস দশ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে (এটি নাসিখ)।

٤. ما الحقيقة والمجاز؟ وما أهمية التمييز بينهما في التفسير؟ اذكر مثالا على آية حقيقية وآية مجازية مع توضيح السبب.

[হাকিকত ও মাজায কাকে বলে? তাফসিরের দৃষ্টিতে আলাদা করার গুরুত্ব কী? হাকিকি অর্থ ও মাজাযি অর্থবিশিষ্ট দুটি আয়াত উল্লেখ কর এবং কারণ ব্যাখ্যা কর।]

উত্তর:
হাকিকত ও মাজায: ‘হাকিকত’ (الحقيقة) হলো কোনো শব্দের মূল বা আভিধানিক অর্থ, যে অর্থে শব্দটি প্রাথমিকভাবে গঠিত হয়েছে। আর ‘মাজায’ (المجاز) হলো রূপক বা ব্যবহারিক অর্থ, যেখানে কোনো বিশেষ সম্পর্কের কারণে শব্দটি তার মূল অর্থ বাদ দিয়ে অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়।

তাফসিরের দৃষ্টিতে গুরুত্ব: তাফসিরের ক্ষেত্রে হাকিকত ও মাজাযের মধ্যে পার্থক্য করতে না পারলে অনেক আয়াতের অর্থ বিকৃত হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে আল্লাহর সিফাত (গুণাবলি) সম্পর্কিত আয়াতে মাজায না বুঝলে আল্লাহর সাথে সৃষ্টির সাদৃশ্য (তাশবীহ) করার মারাত্মক ভুল হতে পারে।

উদাহরণ:
হাকিকি আয়াতের উদাহরণ: “وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ” (আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন)। এখানে ‘বেচাকেনা’ বা ‘ব্যবসা’ শব্দটি তার মূল আভিধানিক অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে।
মাজাযি আয়াতের উদাহরণ: “يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ” (তাদের হাতের ওপর আল্লাহর হাত)। এখানে আল্লাহর ‘হাত’ (يَدُ) শব্দটি হাকিকি বা আক্ষরিক অর্থে ব্যবহৃত হয়নি, কারণ আল্লাহর কোনো শারীরিক অঙ্গ নেই। বরং এখানে ‘হাত’ রূপক অর্থে (মাজায) আল্লাহর ক্ষমতা, সাহায্য বা রহমতকে বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

٥. عرف إعجاز القرآن ثم بين أقسامه مفصلا.

[إعجاز القرآن এর সংজ্ঞা দাও। ইজাযুল কুরআন এর প্রকারগুলো বিস্তারিত আলোচনা কর।]

উত্তর:
ইজাযুল কুরআনের সংজ্ঞা: ‘ইজায’ (إعجاز) অর্থ অক্ষম বা অপারগ করে দেওয়া। পরিভাষায় ইজাযুল কুরআন বলতে পবিত্র কুরআনের সেই অলৌকিক ও বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্যকে বোঝায়, যার ফলে তৎকালীন ও পরবর্তী যুগের শ্রেষ্ঠ ভাষাবিদ ও পণ্ডিতরা এর সমকক্ষ কোনো গ্রন্থ বা একটি ছোট সূরাও রচনা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত ব্যর্থ থাকবে। এটি কুরআনের ঐশী প্রমাণ।

প্রকারভেদ: ইজাযুল কুরআন বা কুরআনের অলৌকিকত্ব মূলত কয়েকটি প্রধান ভাগে বিভক্ত:
১. ভাষাগত ও আলংকারিক ইজায (الإعجاز البياني): কুরআনের শব্দচয়ন, বাক্য গঠন এবং ভাষা ও অলংকার এতই নিখুঁত এবং অতুলনীয় যে তা মানবীয় সীমার ঊর্ধ্বে।
২. বৈজ্ঞানিক ইজায (الإعجاز العلمي): কুরআনে এমন অনেক মহাকাশ, ভ্রূণতত্ত্ব এবং প্রকৃতির নিখুঁত বর্ণনা রয়েছে যা ১৪০০ বছর আগের কোনো মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব ছিল না, যা আধুনিক বিজ্ঞানের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়।
৩. অদৃশ্য বিষয়ের ইজায (الإعجاز الغيبي): অতীত কালের ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর সঠিক ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কুরআনের নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী।
৪. আইনগত ইজায (الإعجاز التشريعي): কুরআনে প্রদত্ত পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় বিধানসমূহ এতই সুষম এবং ভারসাম্যপূর্ণ যে তা সর্বকালের জন্য নিখুঁত সমাধান।

٦. ما المراد بطبقات المفسرين؟ وما أهمية دراستها؟ بين أبرز خصائص المفسرين من الصحابة والتابعين.

[মুফাসসিরদের স্তর বলতে কী বোঝায়? তা অধ্যয়ন কেন গুরুত্বপূর্ণ? সাহাবি ও তাবিঈন মুফাসসিরগণের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা কর।]

উত্তর:
মুফাসসিরদের স্তর (طبقات المفسرين): এর দ্বারা যুগ বা কালানুক্রমে তাফসিরকারকগণের (মুফাসসিরদের) শ্রেণি বা পর্যায়কে বোঝায়। যেমন- প্রথম স্তরে সাহাবায়ে কেরাম, দ্বিতীয় স্তরে তাবিঈন, তৃতীয় স্তরে তাবে-তাবিঈন, এরপর পরবর্তী যুগের মুফাসসিরগণ।

অধ্যয়নের গুরুত্ব: তাফসিরের স্তরগুলো জানা জরুরি কারণ এর মাধ্যমে কোন তাফসিরটি অধিক নির্ভরযোগ্য তা নিরূপণ করা যায়। তাফসিরের সূত্র বা সনদ যাচাই করতে এবং তাফসিরের ক্রমবিকাশ বুঝতে ইলমে তাবাকাতুল মুফাসসিরীন জানা আবশ্যক।

সাহাবি মুফাসসিরগণের বৈশিষ্ট্য:
১. তাঁরা অহী নাজিল হতে দেখেছেন এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।
২. তাঁরা বিশুদ্ধ আরবি ভাষার অধিকারী ছিলেন।
৩. তাঁরা অপ্রয়োজনীয় দার্শনিক বা ভাষাতাত্ত্বিক বিতর্কে যেতেন না।
৪. তাঁরা শুধু আমলের উদ্দেশ্যে তাফসির শিখতেন।

তাবিঈন মুফাসসিরগণের বৈশিষ্ট্য:
১. তাঁরা সাহাবীদের কাছ থেকে সরাসরি তাফসির গ্রহণ করেছেন।
২. তাঁদের যুগে তাফসিরের বিভিন্ন স্কুল বা ধারা (মক্কা, মদীনা, ইরাক কেন্দ্রিক) গড়ে ওঠে।
৩. তাঁদের তাফসিরের মধ্যে কিছু কিছু ইসরাইলি রেওয়াতের অনুপ্রবেশ ঘটতে শুরু করে।

مجموعة (ب)

الدرجة – ٥×٤ = ٢٠

٧. علق على أربعة من الموضوعات التالية:

[যেকোনো চারটি বিষয়ের ওপর টীকা লেখ (আপনার সুবিধার্থে সবগুলোর উত্তর নিচে দেওয়া হলো):]

(أ) عدد السور والآيات:

[(ক) সূরা ও আয়াতের সংখ্যা]

উত্তর: পবিত্র কুরআনের মোট সূরার সংখ্যা সর্বসম্মতভাবে ১১৪টি। তবে আয়াতের সংখ্যা নিয়ে ক্বারীগণের মাঝে গণনা পদ্ধতির ভিন্নতার কারণে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কুফাবাসীদের গণনা অনুযায়ী (যা বর্তমানে বিশ্বে সর্বাধিক প্রচলিত) কুরআনের মোট আয়াত সংখ্যা ৬২৩৬টি।

(ب) فواتح السور:

[(খ) সূরার প্রারম্ভিকা]

উত্তর: ‘ফাওয়তিহুস সুয়ার’ বলতে সূরাসমূহের শুরুর অংশকে বোঝায়। পবিত্র কুরআনের সূরাগুলো বিভিন্নভাবে শুরু হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘হুরুফে মুকাত্তাআত’ (যেমন আলিফ-লাম-মীম, ইয়াসীন), আল্লাহর প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ), শপথ (ওয়াদ-দুহা, ওয়াল-আসর), এবং আহ্বানের (ইয়া আইয়্যুহান নাস) মাধ্যমে সূরার সূচনা।

(ج) مناسبة الآيات:

[(গ) আয়াতের পারস্পরিক সম্পর্ক]

উত্তর: ‘মুনাসাবাতুল আয়াত’ হলো কুরআনের এক আয়াতের সাথে পরবর্তী আয়াতের বা এক সূরার সাথে অন্য সূরার যৌক্তিক ও কাঠামোগত সম্পর্ক। কুরআন সুদীর্ঘ ২৩ বছরে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হলেও এর আয়াতগুলোর মধ্যে এমন চমৎকার শৃঙ্খলা ও যোগসূত্র বিদ্যমান যা প্রমাণ করে যে এটি আল্লাহর বাণী।

(د) أقسام القرآن:

[(ঘ) কুরআনে বর্ণিত শপথসমূহ]

উত্তর: ‘আকসাম’ হলো কসম বা শপথের বহুবচন। মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং কোনো বিষয়ের সত্যতা ও গুরুত্ব বোঝাতে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে নিজের সত্তা, সৃষ্টির বিভিন্ন নিদর্শন (যেমন সূর্য, চাঁদ, সময়, ডুমুর ও জয়তুন) ইত্যাদির শপথ করেছেন। একে উলূমুল কুরআনের ভাষায় আকসামুল কুরআন বলা হয়।

(ه) آداب المفسر:

[(ঙ) মুফাসসিরের শিষ্টাচার]

উত্তর: একজন মুফাসসিরের তাফসির করার যোগ্যতার পাশাপাশি কিছু বিশেষ শিষ্টাচার বা আদব থাকা আবশ্যক। যেমন: নিয়তের বিশুদ্ধতা, উত্তম চরিত্র, তাকওয়া বা আল্লাহভীতি অর্জন, দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করা, বিনয়ী হওয়া, এবং নিজের মনগড়া মতবাদের ওপর ভিত্তি করে কুরআনের ব্যাখ্যা না করা।

(و) الإتقان في علوم القرآن:

[(চ) আল-ইতকান ফী উলূমিল কুরআন]

উত্তর: এটি উলূমুল কুরআন বা কুরআন বিজ্ঞান বিষয়ক একটি অত্যন্ত বিখ্যাত ও প্রামাণ্য গ্রন্থ। গ্রন্থটির রচয়িতা হলেন প্রখ্যাত ইসলামি স্কলার হাফেজ জালালুদ্দীন সুয়ূতী (রহ.)। এই গ্রন্থে তিনি উলূমুল কুরআনের প্রায় ৮০টি শাখা নিয়ে অত্যন্ত বিস্তারিত ও সুশৃঙ্খল আলোচনা করেছেন।

Follow Our Facebook Page
দ্রুত নতুন বই পেতে যুক্ত থাকুন
Follow Now