১৩৮
মেঘনা-৪৩
দাখিল পরীক্ষা, ২০২৬
মানতিক
[নিয়মিত]
বিষয় কোড: ১ ১ ২
সময়— ৩ ঘণ্টা
পূর্ণমান— ১০০
[দ্রষ্টব্য: ডান পাশের সংখ্যা প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক। ১নং, ৮নং এবং অপর যে কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও।]
১। এক কথায়/একবাক্যে উত্তর দাও (যে কোনো পঁচিশটি):
নম্বর
২x২৫=৫০
(ক) মানতিক শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মানতিক (Logic/যুক্তিবিদ্যা) শব্দের আভিধানিক অর্থ কথা বলা, বাকশক্তি, চিন্তাশক্তি বা যুক্তি।
(খ) ميزان [মীযান/পরিমাপক] শব্দটি মূলে কী ছিল?
উত্তর: ‘মীযান’ (ميزان) শব্দটি মূলে مِوْزَان (মিউযান) ছিল।
(গ) মানতিক শাস্ত্রের জনক কে?
উত্তর: মানতিক শাস্ত্রের জনক হলেন গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল (Aristotle)।
(ঘ) المنطق معيار العلم [মানতিক হলো জ্ঞানের মাপকাঠি] উক্তিটি কার?
উত্তর: উক্তিটি বিখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ইমাম আবু হামিদ আল-গাজ্জালী (র.)-এর।
(ঙ) منطق [মানতিক] কোন صيغة [সীগাহ/রূপ] ?
উত্তর: ‘মানতিক’ (منطق) শব্দটি সীগাহ এর দিক থেকে ‘ইসমে যরফ’ (اسم ظرف) বা স্থান/কালের বিশেষ্য এবং অনেক ব্যাকরণবিদের মতে এটি ‘মাসদারে মিমী’ (مصدر ميمى)।
(চ) علم [ইলম/জ্ঞান] কত প্রকার?
উত্তর: মানতিক শাস্ত্রের পরিভাষায় ‘ইলম’ (জ্ঞান) প্রধানত দুই প্রকার: ১. তাসাওয়ুর (تصور) এবং ২. তাসদীক (تصديق)।
(ছ) ذهن [যিহন] শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: যিহন (ذهن) শব্দের অর্থ মেধা, স্মরণশক্তি, স্মৃতি বা মস্তিষ্ক।
(জ) تصديق [তাসদীক/সত্যায়ন] শব্দটি কোন باب [বাব] এর مصدر [মাসদার/মূলধাতু] ?
উত্তর: ‘তাসদীক’ (تصديق) শব্দটি ‘বাবে তাফয়ীল’ (باب تفعيل) এর মাসদার।
(ঝ) إسناد [ইসনাদ] শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ইসনাদ (إسناد) শব্দের অর্থ সম্পৃক্ত করা, সম্বন্ধ যুক্ত করা বা নির্ভর করা। মানতিকে একটি পদকে অপর পদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করাকে ইসনাদ বলে।
(ঞ) دلالة [দালালত] শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: দালালত বা দালালোত (دلالة) শব্দের অর্থ পথপ্রদর্শন করা, প্রমাণ করা বা নির্দেশ করা।
(ট) إلتزام [ইলতিযাম] শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ইলতিযাম (إلتزام) শব্দের অর্থ অপরিহার্য হওয়া, অবধারিত হওয়া বা অবিচ্ছেদ্য হওয়া।
(ঠ) دلالة [দালালত] শব্দটি কোন باب [বাব] এর مصدر [মাসদার/মূলধাতু] ?
উত্তর: ‘দালালাহ’ (دلالة) শব্দটি ‘বাবে নাসারা-ইয়ানসুরু’ (نصر ينصر) এর মাসদার।
(ড) مفرد [মুফরাদ/একক শব্দ] শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মুফরাদ (مفرد) শব্দের অর্থ একক, বিচ্ছিন্ন বা একা।
(ঢ) مركب [মুরাক্কাব/যৌগিক শব্দ] কাকে বলে?
উত্তর: যে শব্দ একাধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয় এবং তার অংশ বিশেষ অর্থের অংশ বিশেষকে নির্দেশ করে, তাকে মুরাক্কাব (مركب) বা যৌগিক শব্দ বলে।
(ণ) منقول [মানকূল/স্থানান্তরিত শব্দ] কাকে বলে?
উত্তর: যে শব্দ তার প্রথম বা আদি অর্থ থেকে স্থানান্তরিত করে অন্য কোনো অর্থে ব্যবহার করা হয় এবং উভয়ের মাঝে কোনো সম্পর্ক থাকে, তাকে মানকূল (منقول) বলে।
(ত) مجاز [মাজায] শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মাজায (مجاز) শব্দের অর্থ রূপক, অপ্রকৃত বা ধার করা অর্থ।
(থ) مشترك [মুশতারাক] শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: মুশতারাক (مشترك) শব্দের অর্থ অংশীদারী, সাধারণ বা এমন শব্দ যার একাধিক ভিন্ন অর্থ রয়েছে (বহুর্থক শব্দ)।
(দ) صلاة [সালাত] শব্দটি কীসের উদাহরণ?
উত্তর: ‘সালাত’ (صلاة) শব্দটি ‘মানকূলুশ শারয়ী’ (منقول شرعى) বা শরীয়ত কর্তৃক স্থানান্তরিত শব্দের উদাহরণ। (আভিধানিক অর্থ দোয়া, শরয়ী অর্থ নামায)।
(ধ) مفهوم [মাফহুম/অনুধাবিত অর্থ] কত প্রকার?
উত্তর: মাফহুম (مفهوم) বা অনুধাবিত অর্থ প্রধানত দুই প্রকার: ১. মাফহুমে কুল্লী (مفهوم كلى) এবং ২. মাফহুমে জুযয়ী (مفهوم جزئى)।
(ন) حيوان [হাইওয়ান/প্রাণী] কোন শ্রেণির কুল্লি?
উত্তর: ‘হাইওয়ান’ (حيوان) বা প্রাণী হলো ‘জিনস’ (جنس) বা জাতিবাচক কুল্লী।
(প) زيد [যাইদ] কোন প্রকারের جزئى [জুযয়ী/খণ্ডাংশ] ?
উত্তর: ‘যাইদ’ (زيد) শব্দটি ‘জুযয়ী হাকীকী’ (جزئى حقيقى) বা প্রকৃত খণ্ডাংশের উদাহরণ।
(ফ) تعريف [তা’রীফ/সংজ্ঞা] কত প্রকার?
উত্তর: তা’রীফ (تعريف) বা সংজ্ঞা প্রধানত চার প্রকার: ১. হদ্দে তাম, ২. হদ্দে নাকিস, ৩. রসমু তাম এবং ৪. রসমু নাকিস।
(ব) كلى [কুল্লী/সার্বিক পদ] কাকে বলে?
উত্তর: যে ধারণা বা মাফহুম এর অর্থ অনেকগুলো একক বা ব্যক্তির উপর প্রয়োগ করা যায়, তাকে কুল্লী (كلى) বা সার্বিক পদ বলে। (যেমন- মানুষ)।
(ভ) الجوهر [আল-জাওহার] শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: জাওহার (الجوهر) শব্দের অর্থ সারবস্তু, মূল উপাদান বা অবিনশ্বর দ্রব্য।
(ম) مفهوم [মাফহুম/অনুধাবিত অর্থ] শব্দের মূল অক্ষর কী?
উত্তর: মাফহুম (مفهوم) শব্দের মূল অক্ষর বা মাদ্দা হলো ফা-হা-মীম (ف – ه – م)।
(য) قضية [কাযিয়্যাহ] শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: কাযিয়্যাহ (قضية) শব্দের অর্থ বিচার, সিদ্ধান্ত, ফয়সালা বা যুক্তিবিদ্যায় বচন/যুক্তিবাক্য (Proposition)।
(র) نوع [নাও’/উপজাতি] কত প্রকার?
উত্তর: নাও’ (نوع) বা উপজাতি প্রধানত দুই প্রকার: ১. নাও’ হাকীকী (نوع حقيقى) এবং ২. নাও’ ইযাফী (نوع إضافى)।
(ল) الشمس طالعة [আশ-শামসু তালিআতুন] এর অর্থ কী?
উত্তর: ‘আশ-শামসু তালিআতুন’ (الشمس طالعة) এর অর্থ হলো “সূর্য উদিত” (The sun is rising/has risen)।
(শ) مفهوم [মাফহুম/অনুধাবিত অর্থ] কাকে বলে?
উত্তর: কোনো শব্দ শ্রবণ করার পর মস্তিষ্ক বা ব্রেইনে যে অর্থের প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে বা যে অর্থ অনুধাবন করা হয়, তাকে মাফহুম (مفهوم) বলে।
(ষ) مركب [মুরাক্কাব/যৌগিক শব্দ] প্রধানত কত প্রকার?
উত্তর: মুরাক্কাব (مركب) প্রধানত দুই প্রকার: ১. মুরাক্কাবে তাম (مركب تام) বা পূর্ণ বাক্য এবং ২. মুরাক্কাবে নাকিস (مركب ناقص) বা অপূর্ণ বাক্য।
(স) أسد [আসাদ/সিংহ] শব্দের মাজাযী অর্থ কী?
উত্তর: ‘আসাদ’ (أسد) শব্দের প্রকৃত অর্থ সিংহ, কিন্তু এর মাজাযী বা রূপক অর্থ হলো ‘বীর পুরুষ’ বা সাহসী ব্যক্তি।
(হ) قضية حملية [কাযিয়্যাহ হামলিয়্যাহ/নিরূপক বচন] কাকে বলে?
উত্তর: যে কাযিয়্যাহ বা বাক্যে একটি বিষয় বা বস্তুর উপর অপর একটি বিষয় বা বস্তুর হুকুম বা বিধান আরোপ করা হয় (ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে), তাকে কাযিয়্যাহ হামলিয়্যাহ (قضية حملية) বা নিরূপক বচন বলে।
(ড়) تناقض [তানাকুয/বিরোধিতা] কাকে বলে?
উত্তর: তানাকুয (تناقض) বা বিরোধিতার অর্থ হলো দুটি বাক্যের মধ্যে এমনভাবে মতানৈক্য বা বৈপরীত্য থাকা, যার কারণে একটি সত্য হলে অপরটি আপনা-আপনি মিথ্যা হয়ে যায়।
(ঢ়) تناقض [তানাকুয/বিরোধিতা] এর শর্ত কয়টি?
উত্তর: তানাকুয (تناقض)-এর জন্য সাধারণত আটটি (৮টি) ঐক্যের শর্ত রয়েছে (যেমন- বিষয়, উদ্দেশ্য, স্থান, সময় ইত্যাদির ঐক্য)।
(য়) قياس [কিয়াস/অনুমান] কাকে বলে?
উত্তর: কিয়াস (قياس) বা অনুমান হলো এমন একটি যৌক্তিক প্রক্রিয়া, যেখানে একাধিক জানা বাক্যের (কাযিয়্যার) উপর ভিত্তি করে একটি নতুন অজানা সিদ্ধান্ত বা বাক্য গ্রহণ করা হয়।
২। علم المنطق [ইলমুল মানতিক] এর সংজ্ঞা দাও। উহার আলোচ্য বিষয় ও উদ্দেশ্য বর্ণনা কর।
১২
উত্তর:
ইলমুল মানতিক এর সংজ্ঞা: ইলমুল মানতিক বা যুক্তিবিদ্যা হলো এমন একটি সূত্র বা কানুন সম্বলিত বিজ্ঞান, যা মানুষকে চিন্তা-ভাবনার ক্ষেত্রে ভুল-ভ্রান্তি থেকে রক্ষা করে।
আলোচ্য বিষয় (মওযু): ইলমুল মানতিকের প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো ‘মা’লুমাতে তাসাওয়ুরিয়্যাহ’ (জ্ঞাত ধারণাসমূহ) এবং ‘মা’লুমাতে তাসদীকিয়্যাহ’ (জ্ঞাত সত্যসমূহ)। অর্থাৎ, জানা বিষয় থেকে অজানা বিষয়ে পৌঁছানোর যৌক্তিক পদ্ধতিই এর মূল আলোচ্য বিষয়।
উদ্দেশ্য (গারয): এই শাস্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো মানব মস্তিষ্ককে চিন্তা ও গবেষণার ক্ষেত্রে ভুল-ভ্রান্তি থেকে রক্ষা করা এবং সঠিক ও নির্ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সাহায্য করা।
৩। تصور [তাসাওয়ুর/ধারণা] কাকে বলে? উহা কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ লেখ।
১২
উত্তর:
তাসাওয়ুর এর সংজ্ঞা: তাসাওয়ুর (تصور) বলতে বোঝায় কোনো বস্তুর রূপ বা আকৃতি মস্তিষ্কে এমনভাবে উপস্থিত হওয়া, যার সাথে কোনো হুকুম বা রায় (ইতিবাচক বা নেতিবাচক) যুক্ত থাকে না।
প্রকারভেদ: তাসাওয়ুর প্রধানত দুই প্রকার:
১. তাসাওয়ুরে বাদীহী (تصور بديهى): যে ধারণা অর্জনের জন্য কোনো চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন হয় না। যেমন: আলো বা তাপের ধারণা।
২. তাসাওয়ুরে নাযারী (تصور نظرى): যে ধারণা অর্জনের জন্য গভীর চিন্তা-ভাবনা বা পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়। যেমন: রুহ, ফেরেশতা বা জিনের ধারণা।
৪। دلالة [দালালত/নির্দেশনা] এর পরিচয় দাও। উহা কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ লেখ।
১২
উত্তর:
দালালত এর পরিচয়: দালালত (دلالة) শব্দের অর্থ হলো কোনো কিছুর নির্দেশ করা। পরিভাষায়, একটি বস্তুর অবস্থা এমন হওয়া যে, তা জানা থাকলে অন্য একটি বস্তু সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। নির্দেশকারীকে দাল (دال) এবং নির্দেশিত বস্তুকে মাদলুল (مدلول) বলে।
প্রকারভেদ: দালালত প্রধানত দুই প্রকার:
১. দালালতে লাফযিয়্যাহ (دلالة لفظية): যা উচ্চারিত শব্দের মাধ্যমে নির্দেশ করে। এটি আবার তিন প্রকার: ওয়াজয়িয়্যাহ, তবায়িয়্যাহ, আকলিয়্যাহ। উদাহরণ: ‘মানুষ’ শব্দটি উচ্চারণ করলে একটি নির্দিষ্ট প্রাণীর রূপ মস্তিষ্কে আসা।
২. দালালতে গায়র লাফযিয়্যাহ (دلالة غير لفظية): যা শব্দ ছাড়া অন্য কিছুর মাধ্যমে নির্দেশ করে। এটিও তিন প্রকার। উদাহরণ: ট্রাফিক সিগন্যাল দেখে থামা (ওয়াজয়িয়্যাহ), ধোঁয়া দেখে আগুনের অস্তিত্ব বোঝা (আকলিয়্যাহ)।
৫। النسبة بين الكليتين [আন-নিসবা বাইনাল কুল্লিয়াতাইন] বা দুই কুল্লীর মধ্যে সম্পর্ক কয়টি ও কী কী? বিস্তারিত বর্ণনা কর।
১২
উত্তর:
দুই কুল্লীর মধ্যে সম্পর্ক: দুটি সার্বিক পদের (কুল্লী) মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে এদের অনুপাত বা নিসবত প্রধানত চারটি:
১. তাসাবী (تساوى – সমতা): দুটি কুল্লীর পরিধি যখন সম্পূর্ণ এক হয়। যেমন: ‘মানুষ’ এবং ‘চিন্তাশীল প্রাণী’—উভয়ের পরিধি সমান।
২. তাবায়ুন (تباين – ভিন্নতা): দুটি কুল্লীর মধ্যে যখন কোনো সাধারণ বিষয় বা মিল থাকে না। যেমন: ‘মানুষ’ এবং ‘পাথর’।
৩. উমুম ও খুসুস মুতলাক (عموم و خصوص مطلق – শর্তহীন ব্যাপক ও বিশেষ): একটি কুল্লী ব্যাপক হবে এবং অন্যটি তার সম্পূর্ণ অন্তর্ভুক্ত হবে। যেমন: ‘প্রাণী’ (ব্যাপক) এবং ‘মানুষ’ (বিশেষ)।
৪. উমুম ও খুসুস মিন ওয়াজহিন (عموم و خصوص من وجه – শর্তযুক্ত ব্যাপক ও বিশেষ): দুটি কুল্লী কিছু ক্ষেত্রে একীভূত হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে আলাদা থাকে। যেমন: ‘সাদা বস্তু’ এবং ‘পাখি’ (কিছু পাখি সাদা, কিছু সাদা বস্তু পাখি, আবার অনেক সাদা বস্তু পাখি নয়)।
৬। قضية [কাযিয়্যাহ/বচন] এর সংজ্ঞা দাও। قضية এর প্রকারগুলো উদাহরণসহ লেখ।
১২
উত্তর:
কাযিয়্যাহ এর সংজ্ঞা: কাযিয়্যাহ (قضية) বা বচন হলো এমন একটি বাক্য, যার বক্তাকে সত্যবাদী বা মিথ্যাবাদী বলা যায়। অর্থাৎ এটি একটি বিবৃতিমূলক বাক্য।
প্রকারভেদ: কাযিয়্যাহ প্রধানত দুই প্রকার:
১. কাযিয়্যাহ হামলিয়্যাহ (قضية حملية): যেখানে একটি বস্তুর উপর আরেকটি বস্তুর হুকুম লাগানো হয় কোনো শর্তহীনভাবে। যেমন: ‘যাইদ দণ্ডায়মান’ (زيد قائم)।
২. কাযিয়্যাহ শর্তিয়্যাহ (قضية شرطية): যেখানে একটি হুকুম অপর একটি হুকুমের উপর শর্তযুক্ত থাকে। যেমন: ‘যদি সূর্য উদিত হয়, তবে দিন হবে’ (إن طلعت الشمس فالنهار موجود)।
৭। قياس [কিয়াস/অনুমান] কাকে বলে? উহা কত প্রকার ও কী কী? উদাহরণসহ লেখ।
১২
উত্তর:
কিয়াসের সংজ্ঞা: কিয়াস (قياس) হলো এমন একটি বাক্যসমষ্টি (যুক্তি), যেখানে দুটি কাযিয়্যাহ (বচন)-কে এমনভাবে সাজানো হয় যে, সেগুলো মেনে নিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৃতীয় একটি বচন বা সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসে।
প্রকারভেদ: গঠনের দিক থেকে কিয়াস প্রধানত দুই প্রকার:
১. কিয়াসে ইকতিরানী (قياس اقترانى): যে কিয়াসে সিদ্ধান্তের ফলাফল বা তার বিপরীত রূপ সরাসরি مقدمات (পূর্ববর্তী বচন)-এর মধ্যে উল্লেখ থাকে না, বরং প্রচ্ছন্ন থাকে। যেমন: ১. পৃথিবী পরিবর্তনশীল। ২. প্রতিটি পরিবর্তনশীল বস্তু সৃষ্ট। সিদ্ধান্ত: সুতরাং, পৃথিবী সৃষ্ট।
২. কিয়াসে ইস্তিসনায়ী (قياس استثنائى): যে কিয়াসে সিদ্ধান্তের ফলাফল বা তার বিপরীত রূপ সরাসরি উল্লেখিত থাকে ‘কিন্তু’ (لكن) বা অনুরূপ অব্যয় দ্বারা। যেমন: ‘যদি সে মানুষ হয়, তবে সে প্রাণী। কিন্তু সে মানুষ। সিদ্ধান্ত: সুতরাং সে প্রাণী।’
৮। টীকা লেখ (যে কোনো দু’টি):
৭x২=১৪
(ক) إنشاء [ইনশা/অবিবৃতিমূলক বাক্য]
উত্তর: ইনশা (إنشاء): ইনশা হলো এমন বাক্য যার বক্তাকে সত্য বা মিথ্যা কোনোটারই আখ্যা দেওয়া যায় না। যেমন: আদেশ, নিষেধ, প্রশ্ন, আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি। ‘তুমি কাজটি কর’ – এটি একটি ইনশায়ী বাক্য, কারণ একে সত্য বা মিথ্যা বলা যায় না।
(খ) تصديق [তাসদীক/সত্যায়ন]
উত্তর: তাসদীক (تصديق): তাসদীক বলতে বোঝায় কোনো বিষয়কে সত্য বা মিথ্যা বলে রায় দেওয়া। মানতিকের ভাষায়, দুটি ধারণার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে হুকুম প্রদান করাকে তাসদীক বলে। যেমন: ‘আগুন উত্তপ্ত’ – এটি একটি তাসদীক।
(গ) مفرد [মুফরাদ/একক শব্দ]
উত্তর: মুফরাদ (مفرد): মুফরাদ হলো এমন একক শব্দ, যা কেবল একটি অর্থ প্রদান করে এবং যার অংশ তার অর্থের কোনো অংশকে নির্দেশ করে না। যেমন: ‘যাইদ’, ‘কলম’ ইত্যাদি।
(ঘ) منقول [মানকূল/স্থানান্তরিত শব্দ]
উত্তর: মানকূল (منقول): যে শব্দটি তার মূল বা আভিধানিক অর্থ থেকে স্থানান্তরিত হয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থে ব্যবহৃত হয়। এটি হতে পারে শরয়ী (যেমন সালাত বা নামাজ), উরফি (প্রচলিত) বা ইস্তিলাহী (পারিভাষিক)।
(ঙ) جنس [জিনস/জাতি]
উত্তর: জিনস (جنس): জিনস বা জাতি হলো এমন একটি কুল্লী (সার্বিক পদ), যা বিভিন্ন প্রকারের বা হাকীকতের অসংখ্য ব্যক্তির উপর প্রয়োগ করা হয় প্রশ্নের উত্তরে। যেমন: ‘প্রাণী’ একটি জিনস, যা মানুষ, ঘোড়া, গরু ইত্যাদির উপর প্রয়োগ করা যায়।





