(কামিল মাস্টার্স (১ বছর মেয়াদি) পরীক্ষা, ২০২৪)
القرآن والدراسات الإسلامية
(আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ)
دراسة التفسير -٢
(দিরাসাত আত-তাফসীর-২)
الوقت – ٤ ساعات | (সময় — ৪ ঘণ্টা)
الدرجة الكاملة – ١٠٠ | (পূর্ণমান — ১০০)
[الملاحظة: الأعداد بالهامش تدل على الدرجة الكاملة.]
([বিশেষ দ্রষ্টব্য: ডান পাশের সংখ্যাগুলো প্রশ্নের পূর্ণমান জ্ঞাপক।])
(মান — ২০×২=৪০)
ঈমানের আভিধানিক অর্থ: বিশ্বাস স্থাপন করা, সত্যায়ন করা (التصديق), নিরাপত্তা দেওয়া।
শরয়ী অর্থ: অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা, মুখে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সে অনুযায়ী আমল করার নামই হলো ঈমান।
ঈমান ও ইসলামের মধ্যে পার্থক্য: ইসলাম হলো বাহ্যিক আনুগত্য এবং আত্মসমর্পণ, আর ঈমান হলো অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাস। প্রতিটি মুমিন মুসলিম, কিন্তু প্রতিটি মুসলিম মুমিন নাও হতে পারে (যেমন মুনাফিকরা মুখে ইসলাম গ্রহণ করলেও অন্তরে ঈমান আনে না)।
‘উলাইকা’ (أولئك) শব্দটির পুনরাবৃত্তির হিকমত: মুত্তাকীদের বিশেষ মর্যাদা, সম্মান এবং তাদের সফলতার বিষয়টি জোরালোভাবে (তাকিদ) বোঝানোর জন্য শব্দটি বারবার আনা হয়েছে। এটি তাদের সুউচ্চ মর্যাদার দিকে ইঙ্গিত করে।
‘আলা হুদাম’ (على هدى) এর উদ্দেশ্য: ‘আলা’ অব্যয়টি দৃঢ়তা বোঝায়। অর্থাৎ তারা তাদের রবের দেওয়া হিদায়াত বা সঠিক পথের ওপর মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত। এটি যেন তারা হিদায়াতের বাহনের ওপর আরোহণ করে আছে এমন এক অবিচল অবস্থার চিত্র তুলে ধরে।
অন্তরে মোহর মারা (ختم): এর অর্থ হলো কাফিরদের অবাধ্যতা ও সত্য প্রত্যাখ্যানের কারণে তাদের অন্তরে এমন এক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে যে, সেখানে আর সত্য প্রবেশ করতে পারে না।
চোখের ওপর আবরণ (غشاوة): এর অর্থ হলো তাদের চোখের সামনে আল্লাহর নিদর্শনাবলি থাকলেও তা থেকে তারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না, যেন তাদের চোখে পর্দা পড়ে আছে। এটি তাদের আধ্যাত্মিক অন্ধত্বের রূপক বর্ণনা।
আভিধানিক অর্থ: উচ্চ মর্যাদা, প্রাচীর, বেষ্টনী।
পারিভাষিক অর্থ: আল-কুরআনের এমন একটি নির্দিষ্ট অংশ, যার একটি প্রারম্ভ ও সমাপ্তি রয়েছে এবং যা নির্দিষ্ট কয়েকটি আয়াতের সমন্বয়ে গঠিত।
এই আয়াতে আরবের সেরা ভাষাবিদদের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে কুরআনের সমকক্ষ একটি সূরা রচনার জন্য। যেহেতু তারা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে, তাই এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে কুরআন কোনো মানুষের রচনা নয়; বরং এটি মহান আল্লাহর বাণী। আর যিনি এই বাণী নিয়ে এসেছেন, সেই মুহাম্মদ ﷺ নিঃসন্দেহে আল্লাহর সত্য নবী। এটি তাঁর নবুওয়াতের অন্যতম বড় মুজিযা।
আল্লামা বায়যাবী (রহ.) এর তাফসীর অনুযায়ী, এই আয়াতে ‘আবদিনা’ বা ‘আমার বান্দা’ বলে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। আয়াতটির মর্ম হলো, মক্কার কাফিররা যদি এই কোরআনের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ নয়, তবে তারা যেন নিজেদের ভাষাগত পাণ্ডিত্য দিয়ে এর সমকক্ষ কিছু তৈরি করে দেখায়। বায়যাবী এখানে কোরআনের অলৌকিকতা (ই’জাজ) এবং কাফিরদের অক্ষমতার দিকটি চমৎকারভাবে বিশ্লেষণ করেছেন।
আভিধানিক অর্থ: দোয়া, প্রার্থনা, রহমত।
শরয়ী অর্থ: নির্দিষ্ট শর্তাবলি ও নিয়ম-কানুন সহকারে তাকবীরে তাহরীমা দিয়ে শুরু এবং সালামের মাধ্যমে শেষ হওয়া বিশেষ ইবাদতের নাম সালাত।
গুরুত্ব: সালাত ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ। দলীল: “নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত রাখে” (সূরা আনকাবুত: ৪৫)। রাসূল (সা.) বলেছেন, “মুমিন এবং কুফর ও শিরকের মাঝে পার্থক্য হলো সালাত বর্জন করা” (সহিহ মুসলিম)।
এই আয়াতের মাধ্যমে বনী ইসরাইলের আলেমদের ভণ্ডামির তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। তারা সাধারণ মানুষকে তাওরাতের বিধিবিধান মানতে এবং সৎ পথে চলতে বলত, অথচ নিজেরাই তা আমল করত না। এটি শুধু তাদের জন্যই নয়, বরং কিয়ামত পর্যন্ত আসা সকল আলেম ও জ্ঞানীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা যে, ইলম অনুযায়ী আমল না করা চরম নির্বুদ্ধিতা ও অপরাধ।
সালাতে খুশু বা বিনম্রতা তখনই পরিপূর্ণতা লাভ করে, যখন একজন বান্দার মনে এই দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে তাকে মৃত্যুর পর আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে এবং নিজের আমলের হিসাব দিতে হবে। পরকালের সাক্ষাৎ ও জবাবদিহিতার ভয় অন্তরে থাকলেই দুনিয়াবী চিন্তা দূর হয় এবং সালাতে একাগ্রতা ও খুশু অর্জিত হয়।
জীবনী: ইমাম নাসিরুদ্দীন আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ ইবনে উমর আল-বায়যাবী (রহ.)। তিনি পারস্যের ‘বায়যা’ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শাফেয়ী মাযহাবের একজন প্রখ্যাত ফকিহ, মুহাদ্দিস ও মুফাসসির ছিলেন। হিজরি ৬৮৫ সনে তিনি ইন্তেকাল করেন।
তাফসীর শাস্ত্রে তাঁর অবদান: তাফসীর শাস্ত্রে তাঁর অবিস্মরণীয় কীর্তি হলো “আনোয়ারুত তানযিল ওয়া আসরারুত তাবি’ল”, যা ‘তাফসীরে বায়যাবী’ নামে সর্বাধিক সমাদৃত। তিনি ভাষা, ব্যাকরণ, ফিকহ এবং কালাম শাস্ত্রের অপূর্ব সমন্বয়ে এই তাফসীর রচনা করেছেন। সারা বিশ্বের মাদরাসাসমূহের সর্বোচ্চ স্তরে এটি পাঠ্যভুক্ত।
(অ) কিতাবের নাম: এর মূল নাম “আনোয়ারুত তানযিল ওয়া আসরারুত তাবি’ল”।
(আ) রচনার সময়কাল: এটি হিজরি সপ্তম শতাব্দীর শেষের দিকে রচিত হয়েছে।
(ই) বৈশিষ্ট্যসমূহ: এই তাফসীরটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ। এতে তাফসীরে কাশশাফের ভাষাগত সৌন্দর্য গ্রহণ করা হয়েছে কিন্তু মুতাযিলাদের ভ্রান্ত আকিদা বর্জন করে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এতে কিরাত এবং শানে নুযুলও আলোচনা করা হয়েছে।
(ঈ) মর্যাদা: তাফসীর গ্রন্থগুলোর মধ্যে তাফসীরে বায়যাবী এক অনন্য উচ্চতায় আসীন। সুন্নি উলামাদের কাছে এটি সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য একটি তাফসীর গ্রন্থ এবং এর ওপর অনেক মূল্যবান ব্যাখ্যাগ্রন্থ (হাশিয়া) রচিত হয়েছে।
(মান — ২০×২=৪০)
নামকরণের কারণ: ‘ফাতিহা’ শব্দের অর্থ হলো উন্মুক্তকারী বা প্রারম্ভিকা। যেহেতু আল-কুরআনের শুরু এই সূরা দিয়ে করা হয়েছে এবং সালাতের তিলাওয়াতও এই সূরা দিয়েই শুরু করা হয়, তাই এর নাম সূরা আল-ফাতিহা।
পাঁচটি নাম: ১. উম্মুল কিতাব (কুরআনের সারমর্ম), ২. আস-সাবউল মাসানী (বারবার পঠিত সাতটি আয়াত), ৩. সূরাতুশ শিফা (আরোগ্য লাভের সূরা), ৪. সূরাতুদ দোয়া (প্রার্থনার সূরা), ৫. আল-হামদ (প্রশংসার সূরা)।
হামদ-এর অর্থ: স্বেচ্ছায় কারো গুণাবলি ও পরিপূর্ণতার প্রশংসা করা।
পার্থক্য: ‘হামদ’ হলো ব্যাপকতর শব্দ। কারো কাছ থেকে অনুগ্রহ প্রাপ্ত হয়ে বা না হয়ে, কেবল তার জন্মগত বা স্থায়ী গুণের কারণে প্রশংসা করাকে হামদ বলে। অপরদিকে ‘শুকর’ হলো কারো দেওয়া নিয়ামত বা অনুগ্রহের বিনিময়ে যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ, সকল শুকরই হামদ হতে পারে, কিন্তু সকল হামদ শুকর নয়।
সিরাতাল মুস্তাকীম: এর দ্বারা ইসলাম ধর্ম, কুরআন এবং রাসূল (সা.)-এর প্রদর্শিত সত্য ও সরল পথকে বোঝানো হয়েছে।
যাদের ওপর অনুগ্রহ করা হয়েছে: এর দ্বারা সেসব ভাগ্যবান ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে যাদেরকে আল্লাহ হিদায়েত দান করেছেন। এর দলীল সূরা নিসার ৬৯ নং আয়াতে রয়েছে: “আল্লাহ যাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন তারা হলেন—নবীগণ, সিদ্দীকগণ, শহীদগণ এবং সৎকর্মশীল ব্যক্তিগণ।”
ওয়ালী এর পরিচয়: ওয়ালী অর্থ হলো বন্ধু, সাহায্যকারী, অভিভাবক বা অন্তরঙ্গ সাথী।
বিধান: ইসলামে মুমিনদের বাদ দিয়ে কাফিরদেরকে অন্তরঙ্গ বন্ধু বা রাজনৈতিক ও সামরিক অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করা সম্পূর্ণ হারাম। আয়াতে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, যারা এমন করবে আল্লাহর রহমতের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তবে হ্যাঁ, স্বাভাবিক ব্যবসায়িক লেনদেন, প্রতিবেশীর অধিকার আদায় বা শান্তির সময় সাধারণ সদাচরণ করা বৈধ। আর চরম বিপদের সময় জান বাঁচানোর স্বার্থে বাহ্যিকভাবে সখ্যতা দেখানো (তাকিয়্যাহ) জায়েজ রাখা হয়েছে।
কুফরের অর্থ: আভিধানিক অর্থ ঢেকে রাখা বা অস্বীকার করা। শরীয়তের পরিভাষায়, আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং ইসলামের অকাট্য বিষয়গুলোকে অস্বীকার করাকে কুফর বলে।
পার্থক্য: কুফর হলো আল্লাহকে বা ইসলামের মৌলিক বিষয়াবলিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করা। আর শিরক হলো আল্লাহর অস্তিত্ব বা শক্তিতে অন্য কাউকে অংশীদার বা সমকক্ষ সাব্যস্ত করা। প্রত্যেক শিরকই কুফরের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু প্রত্যেক কুফর শিরক নয়।
তাকওয়া: তাকওয়া হলো আল্লাহর ভয়ে সকল প্রকার গুনাহ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা এবং তাঁর আদেশসমূহ যথাযথভাবে পালন করা।
উপকারিতা: মানবজীবনে তাকওয়ার অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে। এটি আত্মিক প্রশান্তি আনে, সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমায় এবং পারস্পরিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে। তাকওয়াবান ব্যক্তিকে আল্লাহ বিপদ থেকে উদ্ধার করেন এবং ধারণাতীত উৎস থেকে রিযিক দান করেন। পরকালে এর প্রতিদান হলো জান্নাত।
মানতকারী মহিলা: তিনি ছিলেন ইমরানের স্ত্রী ‘হান্নাহ বিনতে ফাকূয’। তিনি হযরত মারইয়াম (আ.) এর মাতা।
মানতের ঘটনা: তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। একদিন তিনি একটি পাখিকে তার ছানাকে খাওয়াতে দেখে সন্তানের আকাঙ্ক্ষা করেন এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। তিনি মানত করেন যে, আল্লাহ তাকে সন্তান দিলে সেই সন্তানকে তিনি দুনিয়াবী কাজ থেকে মুক্ত করে বায়তুল মুকাদ্দাসের খিদমতের জন্য উৎসর্গ করবেন। আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন। কিন্তু তার গর্ভ থেকে একটি কন্যা সন্তান (মারইয়াম) জন্মলাভ করে।
এই কথাটি পিতা-মাতার সন্তানের আধ্যাত্মিক ও দ্বীনি সুরক্ষার প্রতি তীব্র আগ্রহ ও দায়িত্বশীলতার প্রমাণ বহন করে। শুধু সন্তানের শারীরিক যত্ন বা দুনিয়াবী ভবিষ্যৎ নিয়েই নয়, বরং শয়তানের প্ররোচনা থেকে সন্তানের ঈমান ও চরিত্র রক্ষার্থে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা পিতা-মাতার অন্যতম প্রধান কর্তব্য, যা এখানে ফুটে উঠেছে।
মারইয়াম (আ.) এর ঘটনার মাধ্যমে ইসলামে নারীর শ্রেষ্ঠত্ব অসামান্যভাবে ফুটে উঠেছে। তৎকালীন সমাজে বায়তুল মুকাদ্দাসের খিদমত শুধু পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা একজন নারীকে (মারইয়ামকে) সেই মহান মর্যাদার জন্য কবুল করেন। আল্লাহ তাঁকে পুরুষদের চেয়েও অধিক সম্মানিত করেছেন, ফেরেশতাদের মাধ্যমে তাঁকে সুসংবাদ দিয়েছেন এবং তাঁর নামে পবিত্র কুরআনে একটি পূর্ণাঙ্গ সূরা নাযিল করেছেন। এটি প্রমাণ করে আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতায় নারীরাও অনন্য মর্যাদার অধিকারী।
জীবনী: আবু কাসিম মাহমুদ ইবনে উমর আল-যামাখশারী (রহ.)। তিনি ‘জারুল্লাহ’ (আল্লাহর প্রতিবেশী) উপাধিতে পরিচিত। তিনি ৪৬৭ হিজরিতে খাওয়ারিজমের যামাখশার নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৩৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তিনি আরবি ভাষা, ব্যাকরণ এবং অলংকার শাস্ত্রে (বালাগাত) অদ্বিতীয় পণ্ডিত ছিলেন। তবে আকিদাগতভাবে তিনি মুতাযিলা সম্প্রদায়ের অনুসারী ছিলেন।
তাফসীর শাস্ত্রে অবদান: তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান হলো “তাফসীরে কাশশাফ” রচনা। কুরআনের অলৌকিকতা, ভাষাগত সৌন্দর্য ও ব্যাকরণগত জটিলতাগুলো তিনি এত নিপুণভাবে বিশ্লেষণ করেছেন যা এর আগে কেউ করতে পারেনি। পরবর্তী প্রায় সকল মুফাসসির ভাষাগত বিশ্লেষণে তাঁর তাফসীরের ওপর নির্ভর করেছেন।
কিতাবের নাম: এর পূর্ণ নাম “আল-কাশশাফ আন হাকায়িকি গাওয়ামিযিত তানযিল” (الكشاف عن حقائق غوامض التنزيل)।
বৈশিষ্ট্যসমূহ: ১. এটি আরবি বালাগাত (অলংকার শাস্ত্র) ও নাহু-সরফের দিক থেকে সবচেয়ে সমৃদ্ধ তাফসীর। ২. কুরআনের ই’জাজ বা অলৌকিকত্বের চমৎকার বিবরণ এতে রয়েছে। ৩. এতে মুতাযিলা আকিদার সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে অত্যন্ত সুনিপুণ ভাষায়।
মর্যাদা: আকিদাগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ভাষাগত ও সাহিত্যিক শ্রেষ্ঠত্বের কারণে আহলুস সুন্নাহর বড় বড় উলামায়ে কিরাম তাফসীরে কাশশাফকে অত্যন্ত উঁচুমানে মূল্যায়ন করেছেন। অলংকার শাস্ত্রে এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো তাফসীর আজ পর্যন্ত রচিত হয়নি বলে গণ্য করা হয়।






