Computer Literacy (Code: 201207) – ২০২১ প্রশ্ন ও উত্তর
ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফাজিল স্নাতক (সম্মান) ২য় বর্ষ পরীক্ষা ২০২১ এর আল-কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের Computer Literacy (কম্পিউটার লিটারেসি) বিষয়ের সম্পূর্ণ উত্তরমালা।
বিঃদ্রঃ পরীক্ষার্থীদের আগামী পরীক্ষার সর্বোচ্চ প্রস্তুতির সুবিধার্থে মূল প্রশ্নপত্রের ক ও খ উভয় বিভাগের বিকল্প সবগুলোর (অথবা) প্রশ্নের ১০০% নির্ভুল ও তথ্যবহুল উত্তর নিচে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো।
ক বিভাগ — রচনামূলক প্রশ্ন (Group-A)
[১. কম্পিউটার বলতে কী বুঝ? এর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা কর।]
কম্পিউটার কী:
‘কম্পিউটার’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘Compute’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হিসাব বা গণনা করা। সুতরাং শাব্দিক অর্থে কম্পিউটার হলো গণনাকারী যন্ত্র। কিন্তু বর্তমানে কম্পিউটার শুধু হিসাবই করে না, এটি এমন একটি অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্র যা ব্যবহারকারীর দেওয়া ডেটা বা নির্দেশাবলি (Input) গ্রহণ করে, মেমোরিতে সংরক্ষণ করে, গাণিতিক ও যুক্তিমূলক প্রক্রিয়াকরণ (Process) করে এবং অত্যন্ত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে ফলাফল (Output) প্রদান করে।
কম্পিউটারের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ (Origin and Development):
কম্পিউটারের ইতিহাস দীর্ঘ এবং ঘটনাবহুল। এটি এক দিনে বা একজনের হাত ধরে আবিষ্কার হয়নি। এর ক্রমবিকাশকে নিচে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করা হলো:
- অ্যাবাকাস (Abacus): এটিই পৃথিবীর প্রথম গণনাকারী যন্ত্র, যা প্রায় ৫০০০ বছর আগে চীনে বা ব্যাবিলনে তৈরি হয়েছিল। এটি একটি কাঠের ফ্রেমে তার ও পুঁতি দিয়ে তৈরি, যা দিয়ে যোগ-বিয়োগ করা যেত।
- নেপিয়ার্স বোন ও স্লাইড রুল: ১৬১৪ সালে স্কটিশ গণিতবিদ জন নেপিয়ার এবং ১৬২০ সালে উইলিয়াম অটরেড এগুলো আবিষ্কার করেন, যা দিয়ে গুণ ও ভাগের কাজ সহজে করা যেত।
- প্যাসকেলাইন (Pascaline): ১৬৪২ সালে ফরাসি বিজ্ঞানী ব্লেইজ প্যাসকেল গিয়ার ও চাকা যুক্ত প্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর তৈরি করেন, যা যান্ত্রিক গণনার যুগে বিপ্লব আনে।
- চার্লস ব্যাবেজ ও অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন: ১৮৩৩ সালে ব্রিটিশ গণিতবিদ চার্লস ব্যাবেজ ‘অ্যানালিটিক্যাল ইঞ্জিন’ নামক একটি স্বয়ংক্রিয় মেকানিক্যাল কম্পিউটারের নকশা করেন। এর গঠনে ইনপুট, মেমোরি, প্রসেসর ও আউটপুটের ধারণা ছিল, যা আজকের আধুনিক কম্পিউটারের মূল ভিত্তি। এ কারণেই তাকে ‘আধুনিক কম্পিউটারের জনক’ বলা হয়। লেডি অ্যাডা লাভলেস এই ইঞ্জিনের জন্য পৃথিবীর প্রথম প্রোগ্রাম রচনা করেন।
- মার্ক-১ ও ইউনিভ্যাক: ১৯৪৪ সালে হাওয়ার্ড এ্যাইকেনের তৈরি ‘মার্ক-১’ ছিল প্রথম ইলেকট্রোমেকানিক্যাল কম্পিউটার। এরপর ১৯৪৬ সালে ENIAC এবং ১৯৫১ সালে UNIVAC তৈরি হয়। এগুলো ছিল বিশাল আকারের (কক্ষ সমান) এবং এতে হাজার হাজার ভ্যাকিউম টিউব ব্যবহৃত হতো।
- ট্রানজিস্টর ও আইসি (IC) যুগ: ১৯৪৮ সালে ট্রানজিস্টর এবং ১৯৫৮ সালে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) আবিষ্কৃত হলে কম্পিউটারের আকার অনেক ছোট হতে শুরু করে এবং কাজের গতি ও ধারণক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়।
- মাইক্রোপ্রসেসর ও আধুনিক যুগ: ১৯৭১ সালে ইন্টেল কোম্পানি ‘মাইক্রোপ্রসেসর’ (Intel 4004) আবিষ্কারের পর কম্পিউটারের আকার নাটকীয়ভাবে ছোট হয়ে আসে। এর ফলে পার্সোনাল কম্পিউটার (PC), ল্যাপটপ এবং পরবর্তীতে স্মার্টফোনের যুগ শুরু হয়, যা আজ আমাদের হাতের মুঠোয় পৌঁছেছে।
[২. সফটওয়্যার-এর সংজ্ঞা দাও। এর প্রকারভেদ সংক্ষেপে আলোচনা কর।]
সফটওয়্যার (Software) এর সংজ্ঞা:
কম্পিউটার নিজে থেকে কোনো কাজ করতে পারে না। সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের বোধগম্য প্রোগ্রামিং ভাষায় লিখিত কিছু নির্দেশমালার সমষ্টি (Set of instructions), যা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে নিয়ন্ত্রণ করে, সচল রাখে এবং কোনো নির্দিষ্ট কাজ বা সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করে। সফটওয়্যার একটি লজিক্যাল বস্তু, একে স্পর্শ করা যায় না।
সফটওয়্যারের প্রকারভেদ (Classification of Software):
কাজের ধরন ও ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে সফটওয়্যারকে প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করা যায়:
- সিস্টেম সফটওয়্যার (System Software):
যে সফটওয়্যার কম্পিউটারের ভেতরের হার্ডওয়্যারগুলোর কাজ নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় করে এবং অন্যান্য সফটওয়্যার চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করে দেয়, তাকে সিস্টেম সফটওয়্যার বলে। এটি ছাড়া কম্পিউটার চালু হতে বা চলতে পারে না।
এর প্রধান উদাহরণ হলো- অপারেটিং সিস্টেম (যেমন- Windows 10, Android, macOS), ডিভাইস ড্রাইভার এবং ইউটিলিটি প্রোগ্রাম (যেমন- অ্যান্টিভাইরাস, ডিস্ক ক্লিনআপ)। - অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (Application Software):
যে সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন নির্দিষ্ট কোনো কাজ বা ব্যবহারিক সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়, তাকে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার বলে। এটি মূলত ২ প্রকার:
* প্যাকেজ সফটওয়্যার (Package Software): যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করে বাজারে বিক্রি করা হয়। যেমন- MS Word, MS Excel, Adobe Photoshop, Google Chrome ইত্যাদি।
* কাস্টমাইজড সফটওয়্যার (Customized Software): যা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব কাজের সুবিধার জন্য প্রোগ্রামার দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করে নেয়। যেমন- ব্যাংকের লেনদেনের সফটওয়্যার, রেলওয়ের টিকিট বুকিং সিস্টেম বা কোনো সুপারশপের বিলিং সফটওয়্যার।
[৩. মাইক্রোসফট অফিস-এর আওতাভুক্ত প্রোগ্রামগুলো কী কী? আলোচনা কর।]
মাইক্রোসফট অফিস (MS Office) এর প্রোগ্রামসমূহ:
মাইক্রোসফট অফিস হলো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার প্যাকেজ। এটি মূলত অফিসের দৈনন্দিন কাজের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর আওতাভুক্ত প্রধান প্রোগ্রামগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
- মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (Microsoft Word): এটি একটি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত ওয়ার্ড প্রসেসিং প্রোগ্রাম। এর সাহায্যে যেকোনো ধরনের টেক্সট বা লেখালেখির কাজ করা হয়। যেমন- চিঠি, দরখাস্ত, প্রশ্নপত্র, বই বা যেকোনো ধরনের ডকুমেন্ট টাইপ করা, এডিট করা, দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন করা এবং প্রিন্ট করা যায়।
- মাইক্রোসফট এক্সেল (Microsoft Excel): এটি একটি শক্তিশালী স্প্রেডশিট অ্যানালাইসিস প্রোগ্রাম। এর সাহায্যে জটিল গাণিতিক ও আর্থিক হিসাব-নিকাশ, কর্মচারীদের স্যালারি শিট, শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট শিট, বাজেট তৈরি এবং বিপুল পরিমাণ ডেটাকে সুন্দর চার্ট বা গ্রাফের মাধ্যমে উপস্থাপন করা যায়।
- মাইক্রোসফট পাওয়ারপয়েন্ট (Microsoft PowerPoint): এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রেজেন্টেশন প্রোগ্রাম। কোনো নির্দিষ্ট বিষয়কে দর্শক বা শ্রোতাদের সামনে আকর্ষণীয় স্লাইড, ছবি, অ্যানিমেশন, অডিও ও ভিডিওর মাধ্যমে উপস্থাপন করার জন্য এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
- মাইক্রোসফট এক্সেস (Microsoft Access): এটি একটি রিলেশনাল ডাটাবেস ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম (RDBMS)। এর সাহায্যে কোনো বড় প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ ডেটা বা তথ্য সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ, পরিচালনা এবং সহজে খুঁজে বের করার জন্য ডাটাবেস তৈরি করা যায়।
- মাইক্রোসফট আউটলুক (Microsoft Outlook): এটি মূলত একটি ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপক এবং ই-মেইল ক্লায়েন্ট প্রোগ্রাম। এর সাহায্যে পেশাদার ই-মেইল আদান-প্রদান করা, ক্যালেন্ডার মেনটেইন করা, কন্টাক্ট সেভ করে রাখা এবং মিটিংয়ের শিডিউল বা রিমাইন্ডার তৈরি করা যায়।
[৪. Microsoft Excel-এ কী কী কাজ করা যায়? একটি আদর্শ worksheet তৈরি কর।]
Microsoft Excel-এ যেসব কাজ করা যায়:
এক্সেল হলো রো ও কলামের সমন্বয়ে তৈরি একটি শক্তিশালী স্প্রেডশিট সফটওয়্যার। এর সাহায্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা যায়, যেমন:
- গাণিতিক হিসাব-নিকাশ: যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ এবং বিল্ট-ইন ফর্মুলা (Formula) বা ফাংশন (Function) ব্যবহার করে অত্যন্ত জটিল গাণিতিক ও পরিসংখ্যানগত হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা।
- পে-রোল বা স্যালারি শিট তৈরি: বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের মূল বেতন, বাড়ি ভাড়া, ভাতা ও কর কর্তনের হিসাব করে স্বয়ংক্রিয় স্যালারি শিট তৈরি করা।
- রেজাল্ট শিট তৈরি: শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর ইনপুট করে মোট নম্বর, জিপিএ (GPA) ও লেটার গ্রেড বের করা এবং মেধাতালিকা তৈরি করা।
- ডেটা অ্যানালাইসিস: বিপুল পরিমাণ ডেটা শর্টিং (Sorting) এবং নির্দিষ্ট শর্তের ওপর ভিত্তি করে ফিল্টারিং (Filtering) করে আলাদা করা।
- চার্ট বা গ্রাফ তৈরি: ডেটাকে আকর্ষণীয় পাই চার্ট, বার চার্ট বা লাইন চার্টের মাধ্যমে দৃশ্যমান করে বিশ্লেষণ বা তুলনা করা।
- বাজেট তৈরি: ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা প্রাতিষ্ঠানিক আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ এবং বার্ষিক বাজেট তৈরি করা।
একটি আদর্শ ওয়ার্কশিট (An Ideal Worksheet):
নিম্নে এক্সেল ব্যবহার করে ৫ জন শিক্ষার্থীর একটি আদর্শ রেজাল্ট শিট বা মার্কশিট তৈরি করে দেখানো হলো (এটি একটি ডেমো ওয়ার্কশিট):
| Roll | Name | Bangla | English | Math | Total Marks | GPA |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 101 | Rahim | 80 | 75 | 90 | 245 | A+ |
| 102 | Karim | 70 | 65 | 80 | 215 | A |
| 103 | Sumon | 60 | 55 | 70 | 185 | A- |
| 104 | Rafiq | 45 | 50 | 60 | 155 | B |
| 105 | Hasan | 30 | 40 | 35 | 105 | F |
(উপরের ছকটিতে Roll, Name, বিষয়ভিত্তিক নম্বর ইনপুট করা হয়েছে এবং Total Marks ও GPA বের করার জন্য এক্সেলে ফর্মুলা ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হয়েছে)।
[৫. সংখ্যা পদ্ধতির অংক ও বেস বলতে কী বুঝ? বিভিন্ন প্রকার সংখ্যা পদ্ধতির বর্ণনা দাও।]
সংখ্যা পদ্ধতির অংক ও বেস:
* অংক (Digit): কোনো সংখ্যা পদ্ধতি লিখে প্রকাশ বা তৈরি করার জন্য যে সকল মৌলিক চিহ্ন বা প্রতীক ব্যবহার করা হয়, তাকে অংক বলে। যেমন- দশমিক পদ্ধতিতে ০, ১, ২, ৩… ৯ পর্যন্ত মোট ১০টি অংক ব্যবহৃত হয়।
* বেস বা ভিত্তি (Base): কোনো একটি সংখ্যা পদ্ধতিতে মোট যতগুলো অংক বা মৌলিক প্রতীক ব্যবহার করা হয়, তার মোট সংখ্যাকেই ওই পদ্ধতির বেস বা ভিত্তি বলে। যেমন- বাইনারি পদ্ধতিতে শুধু ০ এবং ১ ব্যবহৃত হয়, তাই এর বেস বা ভিত্তি হলো ২।
বিভিন্ন প্রকার সংখ্যা পদ্ধতির বর্ণনা:
বেস বা ভিত্তির ওপর নির্ভর করে পজিশনাল সংখ্যা পদ্ধতিকে মূলত ৪ ভাগে ভাগ করা যায়:
- দশমিক বা ডেসিমাল সংখ্যা পদ্ধতি (Decimal):
যে সংখ্যা পদ্ধতিতে মোট ১০টি অংক (০, ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ۷, ৮, ৯) ব্যবহৃত হয়, তাকে দশমিক পদ্ধতি বলে। এর বেস হলো ১০। এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক হিসাব-নিকাশের পদ্ধতি। - বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি (Binary):
যে সংখ্যা পদ্ধতিতে মাত্র ২টি অংক (০ এবং ১) ব্যবহৃত হয়, তাকে বাইনারি পদ্ধতি বলে। এর বেস হলো ২। কম্পিউটার এবং সকল ডিজিটাল ইলেকট্রনিক ডিভাইস অভ্যন্তরীণ কাজ করার জন্য শুধু এই পদ্ধতি ব্যবহার করে। (এখানে ০ মানে অফ, আর ১ মানে অন বোঝায়)। - অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতি (Octal):
যে সংখ্যা পদ্ধতিতে মোট ৮টি অংক (০ থেকে ৭ পর্যন্ত: ০,১,২,৩,৪,৫,৬,৭) ব্যবহৃত হয়, তাকে অক্টাল পদ্ধতি বলে। এর বেস হলো ৮। এটি একসময় কম্পিউটিংয়ে ব্যবহৃত হতো। - হেক্সাডেসিমাল সংখ্যা পদ্ধতি (Hexadecimal):
যে সংখ্যা পদ্ধতিতে মোট ১৬টি অংক বা প্রতীক ব্যবহৃত হয়, তাকে হেক্সাডেসিমাল পদ্ধতি বলে। এর বেস হলো ১৬। এতে ব্যবহৃত প্রতীকগুলো হলো- ০ থেকে ৯ পর্যন্ত ১০টি অংক এবং A, B, C, D, E, F এই ৬টি ইংরেজি বর্ণ (যেখানে A=10, B=11, C=12, D=13, E=14, F=15 বোঝায়)। কম্পিউটারের মেমোরি অ্যাড্রেস ও রঙের কোড প্রকাশে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
[৬. ইন্টারনেট কী? এর প্রয়োজনীয়তা ও বহুমাত্রিক ব্যবহার আলোচনা কর।]
ইন্টারনেট কী (Internet):
ইন্টারনেট হলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য ছোট-বড় কম্পিউটার নেটওয়ার্কের একটি বিশাল আন্তঃসংযোগ ব্যবস্থা, যাকে সংক্ষেপে ‘Network of networks’ বলা হয়। এটি TCP/IP প্রোটোকল ব্যবহার করে সারা বিশ্বের কম্পিউটার, সার্ভার ও মোবাইল ডিভাইসগুলোকে তারের মাধ্যমে বা তারবিহীন ব্যবস্থায় একে অপরের সাথে যুক্ত করে তথ্যের এক বিশ্বব্যাপী জাল তৈরি করেছে।
ইন্টারনেটের প্রয়োজনীয়তা ও বহুমাত্রিক ব্যবহার:
বর্তমান যুগে ইন্টারনেট ছাড়া আধুনিক জীবন কল্পনা করা অসম্ভব। এর বহুমাত্রিক ব্যবহার নিচে আলোচনা করা হলো:
- যোগাযোগ (Communication): ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মুহূর্তের মধ্যে ই-মেইল, মেসেজ এবং অডিও বা ভিডিও কল করা যায়। হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, জুম (Zoom) এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। এতে যোগাযোগ অত্যন্ত সস্তা ও দ্রুত হয়েছে।
- তথ্য অনুসন্ধান ও গবেষণা: গুগল (Google) বা ইয়াহু এর মতো সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে যেকোনো বিষয়ের ওপর অসীম তথ্য নিমিষেই খুঁজে বের করা যায়, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও বিজ্ঞানীদের গবেষণায় অপরিহার্য।
- শিক্ষা ও ই-লার্নিং (E-learning): ইন্টারনেটের মাধ্যমে এখন ঘরে বসেই বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোর্স করা যায়, ই-বুক পড়া যায় এবং শিক্ষামূলক ভিডিও দেখা যায়। করোনাকালে অনলাইন ক্লাস ইন্টারনেটের কল্যাণেই সম্ভব হয়েছে।
- ই-কমার্স বা অনলাইন কেনাকাটা: ইন্টারনেটের বদৌলতে ঘরে বসেই দেশ-বিদেশের যেকোনো পণ্য কেনাবেচা, ট্রেনের টিকিট কাটা বা বিল পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে (যেমন- আমাজন, দারাজ, বিকাশ)।
- বিনোদন (Entertainment): অনলাইনে সিনেমা দেখা (Netflix), গান শোনা, অনলাইন গেম খেলা এবং সোশ্যাল মিডিয়া (Facebook, YouTube) ব্যবহার বিনোদনের এক বিশাল জগত উন্মোচন করেছে।
- ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং: ইন্টারনেটের মাধ্যমে তরুণ সমাজ ঘরে বসে বিদেশের বিভিন্ন কোম্পানির কাজ (যেমন- ওয়েব ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রি) করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, যা বেকারত্ব দূর করতে বিশাল ভূমিকা রাখছে।
- চিকিৎসা সেবা: টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীরা ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে শহরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারছেন।
খ বিভাগ — সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (Group-B)
[৭. (ক) আগামী দিনের কম্পিউটার সম্পর্কে তোমার ধারণা লেখ।]
আগামী দিনের কম্পিউটার:
আগামী দিনের বা ভবিষ্যতের কম্পিউটার হবে বর্তমানের চেয়ে হাজার গুণ বেশি শক্তিশালী, অতি দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence বা AI) সম্পন্ন। কোয়ান্টাম কম্পিউটিং (Quantum Computing) এবং ন্যানো টেকনোলজির বিকাশের ফলে কম্পিউটারের আকার একদম ছোট (বোতাম বা চশমার গ্লাসের মতো) হয়ে যাবে, অথচ এর প্রসেসিং ক্ষমতা হবে অভাবনীয়। আগামী দিনের কম্পিউটার মানুষের ভাষাও মানুষের মতো চিন্তাভাবনা বুঝতে পারবে, নিজে থেকে নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং মানুষের অনেক জটিল কাজ রোবট ও মেশিনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে করে দেবে। এছাড়া মানুষের ব্রেইনের সাথে কম্পিউটারের সরাসরি সংযোগ (Brain-computer interface) ঘটার সম্ভাবনাও রয়েছে।
[(খ) OCR ও OMR এর মধ্যে পার্থক্য লেখ।]
OCR এবং OMR এর পার্থক্য:
- পূর্ণরূপ: OCR এর পূর্ণরূপ হলো Optical Character Reader, আর OMR এর পূর্ণরূপ হলো Optical Mark Reader।
- কাজের ধরন: OCR এমন একটি স্ক্যানার প্রযুক্তি, যা কাগজে প্রিন্ট করা বা হাতে লেখা যেকোনো টেক্সট বা অক্ষরকে চিনে তা কম্পিউটারে এডিটযোগ্য টেক্সট বা ওয়ার্ড ফাইলে রূপান্তর করতে পারে। অন্যদিকে, OMR হলো এমন একটি ডিভাইস যা কাগজে পেনসিল বা কালির দ্বারা তৈরি করা নির্দিষ্ট বৃত্তাকার দাগ বা চিহ্ন (Mark) চিনতে পারে।
- ব্যবহার: OCR মূলত পুরোনো বই, ডকুমেন্ট বা চিঠিপত্র স্ক্যান করে ডিজিটাল করার কাজে ব্যবহৃত হয়। আর OMR মূলত বহুনির্বাচনি (MCQ) পরীক্ষার উত্তরপত্র দ্রুত ও নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
[(গ) কীভাবে ডাটাকে তথ্যে রূপান্তর করা যায়?]
ডাটাকে তথ্যে রূপান্তর (Data to Information):
ডাটা হলো অবিন্যস্ত কিছু কাঁচামাল। ডাটাকে তথ্যে বা ইনফরমেশনে রূপান্তর করার জন্য কম্পিউটারের মাধ্যমে মূলত তিনটি ধারাবাহিক ধাপ অনুসরণ করতে হয়:
১. ইনপুট (Input): প্রথমে এলোমেলো ও অবিন্যস্ত ডাটাগুলোকে কীবোর্ড, মাউস বা স্ক্যানারের মাধ্যমে কম্পিউটারের মেমোরিতে প্রবেশ করাতে হয়।
২. প্রসেসিং (Processing): এরপর কম্পিউটারের সিপিইউ (CPU) সেই ডাটাগুলোর ওপর বিভিন্ন গাণিতিক বা যৌক্তিক প্রক্রিয়া (যেমন- সাজানো, যোগ-বিয়োগ করা, তুলনা করা) চালায় এবং সেগুলোকে সুশৃঙ্খল করে।
৩. আউটপুট (Output): প্রসেসিংয়ের পর যে সুশৃঙ্খল, গোছানো ও অর্থপূর্ণ ফলাফল পাওয়া যায়, তা-ই হলো তথ্য বা ইনফরমেশন, যা মনিটর বা প্রিন্টারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর কাছে প্রদর্শিত হয়।
[(ঘ) মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে একটি টেবিল তৈরি করার ধাপগুলো লেখ।]
MS Word-এ টেবিল তৈরির ধাপসমূহ:
১. প্রথমে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড (MS Word) ওপেন করে একটি নতুন বা বিদ্যমান ডকুমেন্ট খুলতে হবে।
২. মেনুবার বা ওপরের রিবন (Ribbon) থেকে ‘Insert’ ট্যাবে ক্লিক করতে হবে।
৩. এরপর ‘Tables’ গ্রুপ থেকে ‘Table’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। একটি ড্রপডাউন মেনু আসবে।
৪. সেখান থেকে ছোট ছোট ঘরগুলোতে মাউস ড্র্যাগ করে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কলাম (Column) এবং রো (Row) নির্বাচন করে দিলেই ডকুমেন্টে একটি স্বয়ংক্রিয় টেবিল তৈরি হয়ে যাবে।
৫. বিকল্প পদ্ধতি: ‘Table’ অপশন থেকে ‘Insert Table’ এ ক্লিক করলে একটি ডায়ালগ বক্স আসবে। সেখানে প্রয়োজনীয় কলাম ও রো এর সংখ্যা (যেমন- 5 columns, 3 rows) লিখে ‘OK’ বাটনে ক্লিক করলেও টেবিল তৈরি হবে।
[(ঙ) স্প্রেডশীট বিশ্লেষণের ব্যবহার লেখ।]
স্প্রেডশীট বিশ্লেষণের ব্যবহার (Use of Spreadsheet Analysis):
স্প্রেডশীট অ্যানালাইসিস প্রোগ্রাম (যেমন- MS Excel) মূলত বিপুল পরিমাণ গাণিতিক ডাটা সংরক্ষণ, হিসাব ও বিশ্লেষণের কাজে ব্যবহৃত হয়। এর প্রধান ব্যবহারগুলো হলো:
১. স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষার ফলাফল, জিপিএ এবং মেধাতালিকা খুব সহজে ও নির্ভুলভাবে তৈরি করা।
২. ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব, বার্ষিক বাজেট এবং কর্মচারীদের স্যালারি শিট বা পে-রোল তৈরি করা।
৩. বিশাল ডেটাবেস থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সর্টিং (Sorting) বা ফিল্টারিং (Filtering) করে সহজেই খুঁজে বের করা।
৪. বিভিন্ন ডাটাকে দৃষ্টিনন্দন চার্ট ও গ্রাফের (যেমন- পাই চার্ট, বার চার্ট) মাধ্যমে উপস্থাপন করে তাদের মধ্যে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা।
[(চ) অপারেটিং সিস্টেমের কাজ কী?]
অপারেটিং সিস্টেমের কাজ (Functions of Operating System):
অপারেটিং সিস্টেম (OS) হলো কম্পিউটারের প্রাণ। এর প্রধান কাজগুলো হলো:
১. হার্ডওয়্যার ম্যানেজমেন্ট: কম্পিউটারের প্রসেসর, মেমোরি, কীবোর্ড, মাউস, প্রিন্টারসহ সকল হার্ডওয়্যার ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রণ, সমন্বয় ও পরিচালনা করা।
২. ইউজার ইন্টারফেস তৈরি: ব্যবহারকারী (User) এবং কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের মধ্যে যোগাযোগের জন্য একটি সহজ মাধ্যম বা ইউজার ইন্টারফেস (UI) তৈরি করে দেওয়া।
৩. ফাইল ম্যানেজমেন্ট: মেমোরিতে ফাইল ও ফোল্ডার তৈরি, সেভ করা, কপি করা, মুছে ফেলা এবং সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ করার কাজ করা।
৪. সফটওয়্যার পরিচালনা: কম্পিউটারে ইনস্টল করা বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার (যেমন- ওয়ার্ড, ক্রোম, গেমস) যেন নির্বিঘ্নে চলতে পারে, তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ, র্যাম (RAM) ও প্রসেসরের সময় (Time slot) সরবরাহ করা।
৫. নিরাপত্তা প্রদান: পাসওয়ার্ড প্রটেকশন এবং আনঅথোরাইজড এক্সেস থেকে কম্পিউটারকে সুরক্ষিত রাখা।






