বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (Bangladesh Madrasah Education Board – BMEB) কর্তৃক প্রণীত দাখিল পরীক্ষা (Dakhil Exam), যা সাধারণ শিক্ষার এস.এস.সি (SSC)-এর সমমান, একজন শিক্ষার্থীর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। ভালো ফলাফলের জন্য সঠিক সিলেবাস এবং মানবণ্টন (Marks Distribution) সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকা অপরিহার্য।
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের (২ নং অরফানেজ রোড, বকশিবাজার, ঢাকা ১২১১) প্রকাশিত দাখিল পরীক্ষার জন্য শিক্ষাক্রমের কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
দাখিল পর্যায়ে মূলত ৪টি বিভাগ রয়েছে:
- সাধারণ বিভাগ (General Group)
- বিজ্ঞান বিভাগ (Science Group)
- মুজাব্বিদ বিভাগ (Mujabbid Group)
- হিফজুল কুরআন বিভাগ (Hifzul Quran Group)
চলুন, প্রতিটি বিভাগের আবশ্যিক (Compulsory) ও ঐচ্ছিক (Optional) বিষয়সমূহ এবং মানবণ্টন বিস্তারিত জেনে নিই।
১. সাধারণ বিভাগ (General Department)
সাধারণ বিভাগের শিক্ষার্থীদের মোট ১৪০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। এর মধ্যে আবশ্যিক বিষয় ১৩০০ নম্বর এবং অতিরিক্ত বা ঐচ্ছিক বিষয় ১০০ নম্বর।
আবশ্যিক বিষয়সমূহ (১৩০০ নম্বর):
| ক্র.নং | বিষয়ের নাম | নম্বর |
|---|---|---|
| ১ | কুরআন মাজীদ ও তাজভীদ (Quran Majeed & Tajweed) | ১০০ |
| ২ | হাদীস শরীফ (Hadith Sharif) | ১০০ |
| ৩ | আরবি প্রথম পত্র (Arabic 1st Paper) | ১০০ |
| ৪ | আরবি দ্বিতীয় পত্র (Arabic 2nd Paper) | ১০০ |
| ৫ | আকাইদ ও ফিকহ (Aqaid & Fiqh) | ১০০ |
| ৬ | বাংলা প্রথম পত্র | ১০০ |
| ৭ | বাংলা দ্বিতীয় পত্র | ১০০ |
| ৮ | ইংরেজি প্রথম পত্র | ১০০ |
| ৯ | ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র | ১০০ |
| ১০ | গণিত (Mathematics) | ১০০ |
| ১১ | ইসলামের ইতিহাস (Islamic History) | ১০০ |
| ১২ | তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) | ৫০ |
| ১৩ | শারীরিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও খেলাধুলা (ধারাবাহিক মূল্যায়ন) | ৫০ |
| ১৪ | ক্যারিয়ার শিক্ষা (ধারাবাহিক মূল্যায়ন) | ৫০ |
| মোট | ১৩০০ | |
অতিরিক্ত বিষয়: ঐচ্ছিক (যে-কোনো ১টি) – ১০০ নম্বর:
| বিষয়সমূহ (যে-কোনো ১টি নির্বাচন করতে হবে) | নম্বর |
|---|---|
| ক. পৌরনীতি ও নাগরিকতা, খ. গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, গ. কৃষিশিক্ষা, ঘ. উচ্চতর গণিত, ঙ. ইসলামি ইতিহাস, চ. ফারসি, ছ. বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়। | ১০০ |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সাধারণ বিভাগে বোর্ড পরীক্ষা ১২৫০ নম্বরের এবং ধারাবাহিক মূল্যায়ন (Continuous Assessment) ১৫০ নম্বরের অনুষ্ঠিত হয়। সর্বমোট = ১৪০০ নম্বর।
২. বিজ্ঞান বিভাগ (Science Department)
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদেরও সর্বমোট ১৪০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। তবে এদের কোনো ধারাবাহিক মূল্যায়ন থাকে না।
আবশ্যিক বিষয়সমূহ (১৩০০ নম্বর):
| ক্র.নং | বিষয়ের নাম | নম্বর |
|---|---|---|
| ১ | কুরআন মাজীদ ও তাজভীদ | ১০০ |
| ২ | হাদীস শরীফ | ১০০ |
| ৩ | আরবি প্রথম পত্র | ১০০ |
| ৪ | আরবি দ্বিতীয় পত্র | ১০০ |
| ৫ | আকাইদ ও ফিকহ | ১০০ |
| ৬ | বাংলা প্রথম পত্র | ১০০ |
| ৭ | বাংলা দ্বিতীয় পত্র | ১০০ |
| ৮ | ইংরেজি প্রথম পত্র | ১০০ |
| ৯ | ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র | ১০০ |
| ১০ | গণিত | ১০০ |
| ১১ | পদার্থবিজ্ঞান (Physics) | ১০০ |
| ১২ | রসায়ন (Chemistry) | ১০০ |
| ১৩ | নৈর্বাচনিক বিষয় (যে-কোনো ১টি): ক. উচ্চতর গণিত (Higher Math) অথবা খ. জীববিজ্ঞান (Biology) | ১০০ |
| মোট | ১৩০০ | |
অতিরিক্ত বিষয়: ঐচ্ছিক (যে-কোনো ১টি) – ১০০ নম্বর:
| বিষয়সমূহ (যে-কোনো ১টি নির্বাচন করতে হবে) | নম্বর |
|---|---|
| ক. কৃষিশিক্ষা, খ. উচ্চতর গণিত, গ. জীববিজ্ঞান, ঘ. বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়। | ১০০ |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: বিজ্ঞান বিভাগে বোর্ড পরীক্ষা ১৪০০ নম্বরের। বিজ্ঞান বিভাগে কোনো ধারাবাহিক মূল্যায়ন (Continuous Assessment) থাকবে না।
৩. মুজাব্বিদ বিভাগ (Mujabbid Department)
ইলমে কিরাত ও তাজভীদে পারদর্শী হওয়ার জন্য মুজাব্বিদ বিভাগের বিকল্প নেই। এই বিভাগেরও মোট নম্বর ১৪০০।
আবশ্যিক বিষয়সমূহ (১৩০০ নম্বর):
| ক্র.নং | বিষয়ের নাম | নম্বর |
|---|---|---|
| ১ | কুরআন মাজীদ ও তাজভীদ | ১০০ |
| ২ | হাদীস শরীফ | ১০০ |
| ৩ ও ৪ | আরবি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র | ২০০ |
| ৫ | আকাইদ ও ফিকহ | ১০০ |
| ৬ ও ৭ | বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র | ২০০ |
| ৮ ও ৯ | ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র | ২০০ |
| ১০ | গণিত | ১০০ |
| ১১ | তাজভীদ নসর ও নজম | ১০০ |
| ১২ | কিরাআতে তারতীল ও হাদর (মৌখিক) | ১০০ |
| ১৩ | তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি | ৫০ |
| ১৪ | ক্যারিয়ার শিক্ষা (ধারাবাহিক মূল্যায়ন) | ৫০ |
| মোট | ১৩০০ | |
অতিরিক্ত বিষয়: ঐচ্ছিক (যে-কোনো ১টি) – ১০০ নম্বর:
| বিষয়সমূহ (যে-কোনো ১টি নির্বাচন করতে হবে) | নম্বর |
|---|---|
| ক. ইসলামের ইতিহাস, খ. গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, গ. কৃষিশিক্ষা, ঘ. বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ঙ. ফারসি। | ১০০ |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: মুজাব্বিদ বিভাগে বোর্ড পরীক্ষা ১৩৫০ নম্বর এবং ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৫০ নম্বর। সর্বমোট = ১৪০০ নম্বর।
৪. হিফজুল কুরআন বিভাগ (Hifzul Quran Department)
যাঁরা হাফেজে কুরআন (حَافِظُ القُرْآن), তাঁদের জন্য এই বিভাগটি নির্ধারিত। এখানে হিফজ রিভিশন ও তাজভীদের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
আবশ্যিক বিষয়সমূহ (১৩০০ নম্বর):
| ক্র.নং | বিষয়ের নাম | নম্বর |
|---|---|---|
| ১ | কুরআন মাজীদ ও তাজভীদ | ১০০ |
| ২ | হাদীস শরীফ | ১০০ |
| ৩ ও ৪ | আরবি (১ম ও ২য় পত্র) | ২০০ |
| ৫ | আকাইদ ও ফিকহ | ১০০ |
| ৬ ও ৭ | বাংলা (১ম ও ২য় পত্র) | ২০০ |
| ৮ ও ৯ | ইংরেজি (১ম ও ২য় পত্র) | ২০০ |
| ১০ | গণিত | ১০০ |
| ১১ | তাজভীদ (লিখিত ৭৫, মৌখিক ২৫) | ১০০ |
| ১২ | হিফজুল কুরআন দাওর (মৌখিক) | ১০০ |
| ১৩ | তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি | ৫০ |
| ১৪ | ক্যারিয়ার শিক্ষা (ধারাবাহিক মূল্যায়ন) | ৫০ |
| মোট | ১৩০০ | |
অতিরিক্ত বিষয়: ঐচ্ছিক (যে-কোনো ১টি) – ১০০ নম্বর:
| বিষয়সমূহ (যে-কোনো ১টি নির্বাচন করতে হবে) | নম্বর |
|---|---|
| ক. ইসলামের ইতিহাস, খ. গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, গ. কৃষিশিক্ষা, ঘ. বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ঙ. ফারসি। | ১০০ |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই বিভাগেও বোর্ড পরীক্ষা ১৩৫০ নম্বর এবং ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৫০ নম্বর। সর্বমোট = ১৪০০ নম্বর।
দাখিল পরীক্ষা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
প্রশ্ন: দাখিল পরীক্ষায় মোট কত নম্বরের পরীক্ষা হয়?
উত্তর: বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় সকল বিভাগের (General, Science, Mujabbid, Hifzul Quran) শিক্ষার্থীদের সর্বমোট ১৪০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।
প্রশ্ন: দাখিল বিজ্ঞান বিভাগে কি কোনো ধারাবাহিক মূল্যায়ন আছে?
উত্তর: না, দাখিল বিজ্ঞান বিভাগে কোনো ধারাবাহিক মূল্যায়ন থাকে না। সম্পূর্ণ ১৪০০ নম্বরই বোর্ড পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়।
প্রশ্ন: দাখিল পরীক্ষায় ঐচ্ছিক বা অতিরিক্ত বিষয় (Optional Subject) কয়টি নেওয়া যায়?
উত্তর: দাখিল পরীক্ষায় প্রতিটি বিভাগেই নির্দিষ্ট তালিকা থেকে যে-কোনো ১টি (One) বিষয় ঐচ্ছিক বা অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যার মান ১০০ নম্বর।
প্রশ্ন: হিফজুল কুরআন বিভাগে তাজভীদ বিষয়ের মানবণ্টন কেমন?
উত্তর: হিফজুল কুরআন বিভাগে ‘তাজভীদ’ বিষয়ের ১০০ নম্বরের মধ্যে লিখিত পরীক্ষা হয় ৭৫ নম্বরের এবং মৌখিক পরীক্ষা (Viva) হয় ২৫ নম্বরের।
শেষ কথা
مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَلْتَمِسُ فِيهِ عِلْمًا سَهَّلَ اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا إِلَى الْجَنَّةِ
“যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।” (সহিহ মুসলিম)
দাখিল স্তরের শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। Abswer.com-এর এই গাইডলাইনটি আশা করি আপনাদের সিলেবাস ও মানবণ্টন বুঝতে সাহায্য করবে। আপনার নির্দিষ্ট বিভাগ অনুযায়ী রুটিন করে পড়াশোনা শুরু করুন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আপনাদের সবাইকে কামিয়াবি দান করুন। আমীন!
মাদরাসা শিক্ষা সংক্রান্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, স্কলারশিপ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন Abswer.com। পোস্টটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে তাঁদেরও জানার সুযোগ করে দিন। জাযাকাল্লাহু খাইরান!






